বিহারে ৯০ শতাংশ বিধায়ক কোটিপতি, ফৌজদারি মামলা রয়েছে ১০২ জনের নামে
নতুন পয়গাম, পাটনা:
বিহারে বিধানসভা নির্বাচনে ধরাশায়ী হয়েছে বিরোধীদের মহাজোট। পুনরায় বিপুল ভোটে জিতেছে ক্ষমতাসীন এনডিএ জোট। ফলাফল নিয়ে শুক্র ও শনিবার নানান তর্ক, বিতর্ক, অভিযোগ ও বিশ্লেষণ চলেছে। এবার চর্চায় উঠে এসেছে বিহারে যারা সদ্য জয়ী হলেন, তাদের আর্থ-সামাজিক বা অন্যান্য পরিচয় ও অবস্থান। নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সময় কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হলফনামা থেকে জানা যাচ্ছে, নবনির্বাচিত ২৪৩ বিধায়কের ৯০ শতাংশই ধনকুবের বা কোটিপতি। গতবারের তুলনায় যা প্রায় ১০ শতাংশ বেশি। এছাড়া ১০২ জন বিধায়কের বিরুদ্ধে রয়েছে গুরুতর অভিযোগ এবং ফৌজদারি মামলা। যেহেতু এবার সবথেকে বেশি আসনে জিতেছে বিজেপি, তাই তাদের বিধায়কদের বিরুদ্ধেই ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্তের সংখ্যা সবথেকে বেশি। এই তথ্য জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েশন অব ডেমোক্র্যাটিক রিফর্মস ও ইলেকশন ওয়াচের বিশ্লেষণ রিপোর্ট।

২১৮ জন বিধায়কের অর্থ ও সম্পদের পরিমাণ সর্বনিম্ন এক কোটি টাকারও বেশি। গতবার এই সংখ্যা ছিল ১৯৪। এবারের জয়ী বিধায়কদের গড় সম্পদের পরিমাণ আগের বারের তুলনায় বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। ২০২০ সালের জয়ী প্রার্থীদের গড় সম্পদের পরিমাণ ছিল ৪.৩২ কোটি টাকা, এবার হয়েছে ৯.২ কোটি টাকা। নীতীশ কুমারের জেডিইউ দলের ৮৫জন বিধায়কের মধ্যে ৭৮ জন কোটিপতি। বিজেপির ৮৯ বিধায়কের মধ্যে কোটিপতি ৭৭ জন। আরজেডির ২৫ বিধায়কের মধ্যে ২৪, চিরাগ পাসোয়ানের এলজেপি-র ১৯ বিধায়কের মধ্যে ১৬ এবং জিতনরাম মাঝির হ্যাম পার্টির ৫ বিধায়কের মধ্যে ৪ জনের সম্পত্তির পরিমাণ কোটি টাকার বেশি। এছাড়াও কংগ্রেসের ৬, মিম-এর ৫, রাষ্ট্রীয় লোকমোর্চার ৪ বিধায়কের প্রত্যেকেই কোটিপতি। বামেদের তিন বিধায়কের মধ্যে দুজন কোটিপতি।

এবার সবথেকে ধনকুবের বিধায়ক হলেন মুঙ্গের থেকে নির্বাচিত বিজেপির প্রার্থী মুঙ্গেশ কুমার। তাঁর সম্পদের পরিমাণ ১০৭ কোটি টাকারও বেশি। এরপর রয়েছেন মোকামার জেডিইউ বিধায়ক অনন্ত সিং, ১০০ কোটি টাকা। নবনির্বাচিত ২৯৩ বিধায়কদের মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২১৯৩ কোটি টাকা।
সদ্য নির্বাচিত বিধায়কদের মধ্যে ১০২ জনের বিরুদ্ধে গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে ৬ জনের বিরুদ্ধে রয়েছে খুনের অভিযোগ। ১৯ জনের বিরুদ্ধে রয়েছে খুনের চেষ্টার অভিযোগ। ৯ জনের বিরুদ্ধে রয়েছে মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধের মতো গুরুতর অভিযোগ। আর এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে বিজেপির বিধায়করা। এই দলের ৪৩জন বিধায়কের নামে ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ বা মামলা রয়েছে। এরপরেই রয়েছে জেডিইউ-এর ২৩ এবং আরজেডি-র ১৪।








