এসআইআর আতঙ্কে ঘুম উড়েছে বহু মানুষের
দলিল-নথি হাতে সহায়তা শিবিরে ভিড় জমাচ্ছেন
উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়, নতুন পয়গাম, জয়নগর:
তিন-চার পুরুষ ধরে এই দেশে বসবাস। কারও কাছে ৮০ বছরের জমির দলিল, কারও কাছে শতাব্দী প্রাচীন নথি। তবুও এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটাধিকার হারানোর আশঙ্কায় কাঁপছেন জয়নগর ২ ব্লকের জয়নগর বিধানসভার বকুলতলা থানার গড়দেওয়ানি পঞ্চায়েতের মোল্লার চক, বামনের চক ও ঠাকুরের চক গ্রামের শতাধিক বাসিন্দা।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, অজ্ঞাত কারণে ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম নেই। অথচ তার আগের ও পরের সকল তালিকায় তাঁদের নাম বিদ্যমান। ২০০২ সালের তালিকার এই অদৃশ্যকরণের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও এক বিপত্তি—প্রয়োজনীয় ১১টি নথির একটিও তাঁদের কারও কাছে নেই। ফলে এসআইআর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হওয়ার আশঙ্কায় দিশেহারা সাধারণ মানুষ।
সমাধানের আশায় প্রতিদিন সকালেই হাতে কাগজপত্র নিয়ে স্থানীয় এসআইআর সহায়তা শিবিরে ভিড় জমাচ্ছেন তাঁরা। উদ্বেগ-আতঙ্কে অনেকের চোখের জল বাঁধ মানছে না।
গ্রামবাসী সিরাজুল মোল্লা, রসনা মণ্ডল, আবদুল মালেক গাজি, লক্ষ্মী বর ও শাহাহান মণ্ডলরা জানান, তাঁদের ১৯৯৫ সালের ভোটার কার্ড রয়েছে। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটেও ভোট দিয়েছেন তাঁরা। এমনকি তাঁদের ভাই বা নিকট আত্মীয়দের নাম ২০০২ সালের তালিকায় রয়েছে। “তাহলে আমাদেরই ভোটাধিকার কীভাবে যাবে?”—এই প্রশ্ন তুলছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে জয়নগর ২ নম্বর ব্লক তৃণমূল সংখ্যালঘু সেলের সভাপতি, শিক্ষক সাহাবুদ্দিন শেখ বলেন, “যোগ্য মানুষের ভোটাধিকার আমরা কোনওভাবেই হারাতে দেব না। প্রয়োজন হলে গ্রামবাসীদের সঙ্গে নিয়ে প্রশাসনের দরবারে বিক্ষোভ কর্মসূচি হবে।”
এসআইআর আতঙ্কে গোটা এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে চরম অস্থিরতা।







