শিশু দিবসে সুরক্ষা প্লাস ডায়াগনস্টিক সেন্টারের উদ্যোগে অঙ্কন প্রতিযোগিতা
এম নাজমুস সাহাদাত, নতুন পয়গাম, মালদা:
শিশু দিবস উপলক্ষে আলোর রঙে, আঁকিবুঁকির সুরে মুখর হয়ে উঠল কালিয়াচক। নানা বয়সের শিশুদের ভিড়ে উচ্ছ্বাসে জমে উঠল সুরক্ষা প্লাস ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রাঙ্গণ। শিশুদের সৃজনশীলতা বিকাশ ও স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই সুরক্ষা প্লাসের উদ্যোগে এবং এলাকার পরিচিত শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জাহাঙ্গীর আলমের পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠিত হয় বর্ণাঢ্য অঙ্কন প্রতিযোগিতা। সকালের শুরুতেই প্রতিযোগিতা স্থলে ভিড় জমায় ছোটদের দল। রংতুলি হাতে নিয়ে তারা কাগজে ফুটিয়ে তোলে নিজের মনের রঙিন জগত। প্রকৃতি, স্বাধীনতা, পরিবার, স্কুল, বন্ধুত্ব থেকে শুরু করে শিশুদের নির্দোষ কল্পনায় উঠে আসে নানা বিষয়। অভিভাবকেরা পাশে দাঁড়িয়ে সন্তানদের উৎসাহ দিতে থাকেন। পুরো পরিবেশ যেন একদিনের জন্য শিশুদেরই হয়ে ওঠে। প্রতিযোগিতা শেষে বিচারকদের সিদ্ধান্তে বাছাই করা হয় শ্রেষ্ঠ আঁকাগুলি। বিজয়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় পুরস্কার ও সনদপত্র। তবে শুধু বিজয়ী নয় সকল অংশগ্রহণকারী শিশুদেরই মিষ্টিমুখ করানো হয় এবং উৎসাহমূলক সনদ প্রদান করা হয়। সুরক্ষা প্লাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শিশুদের মুখের হাসিই আমাদের বড় অর্জন। এই ধরনের আয়োজন তাদের মানসিক বিকাশে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জাহাঙ্গীর আলমের বক্তব্য। তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, শিশুরা জাতির ভবিষ্যৎ। তাদের শারীরিক, মানসিক ও সৃজনশীল উন্নতির সব দিকেই নজর রাখা জরুরি। শিশুদের নিয়মিত টিকাকরণ, সুষম খাদ্য, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন অভ্যাস এবং পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান ডিজিটাল প্রজন্ম আগে থেকে বেশি সময় মোবাইল ও স্ক্রিনে কাটায়। তাই তাদের বাইরের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা ও সৃজনশীল কার্যকলাপে যুক্ত করা খুবই প্রয়োজন। অঙ্কন প্রতিযোগিতা সেই কারণেই শিশুদের বিকাশে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
ডা. আলম শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়েও আলোচনা করেন। তিনি বলেন, শিশুকে কখনো তুলনামূলক চাপ দেওয়া উচিত নয়। প্রত্যেক শিশুর আলাদা প্রতিভা রয়েছে। তাদের কথা শুনুন, সময় দিন এবং ভুল করলেও আগলে নিন তাহলেই তারা আত্মবিশ্বাসী হয়ে বড় হবে।
এছাড়া তিনি শিশুর খাদ্যাভ্যাস, স্থূলতা প্রতিরোধ, সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা এবং মৌসুমি রোগ প্রতিরোধ নিয়ে দিকনির্দেশনা দেন।
সুরক্ষা প্লাস ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্মকর্তারা জানান, শুধুমাত্র স্বাস্থ্য পরিষেবা নয় সমাজের উন্নয়নমূলক কাজে এগিয়ে আসাই তাদের লক্ষ্য। ভবিষ্যতেও শিশুদের জন্য আরও কর্মসূচি ও সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এ ধরনের উৎসবমুখর ও শিক্ষামূলক আয়োজন শিশুদের উৎসাহিত করে এবং সমাজেও ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দেয়। শিশু দিবসে এমন উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।








