বিহারে এগজিট পোলে এগিয়ে এনডিএ ১৪ নভেম্বর বুথফেরত সমীক্ষার অগ্নিপরীক্ষা
নতুন পয়গাম, নয়াদিল্লি:
বিহারে বিধানসভা নির্বাচনে দ্বিতীয় ও শেষদফা ভোট হয়ে গেল আজ মঙ্গলবার। প্রাক নির্বাচনী সমীক্ষায় বিরোধীদের মহাজোট এবং মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তেজস্বী যাদবকে এগিয়ে রেখেছিল বিভিন্ন সংস্থা। কিন্তু ভোটরে পর দেখা গেল সেই পূর্বাভাস সম্পূর্ণ বদলে গেছে। মঙ্গলবারের বুথফেরত সমীক্ষা বা এগজিট পোলে ধরাশায়ী তেজস্বী যাদব ও রাহুল গান্ধীর ইন্ডিয়া জোট। বিহারে পুনরায় গরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গড়তে চলেছে এনডিএ জোটই — এমনই ছবি তুলে ধরেছে সমীক্ষা।
এদিন বিহারে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে নির্বিঘ্নেই। কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত ২০ জেলার ১২২ কেন্দ্রে মোট ৬৮.৭ শতাংশ ভোট পড়েছে। বিহারে যা সর্বকালের রেকর্ড। আগামী ১৪ নভেম্বর গণনা এবং ফলপ্রকাশ হওয়ার কথা। এদিন সন্ধ্যায় প্রকাশিত বুথফেরত সমীক্ষা বলছে, এনডিএ জোট পুনরায় ক্ষমতায় ফিরতে চলেছে। মোট ২৪৩ আসনের বিহার ভোটে সরকার গড়ার ম্যাজিক ফিগার ১২২।
কয়েকটি সমীক্ষক সংস্থা বলছে, মহাজোট ১০০ থেকে ১১০টি আসন পেতে পারে। অন্য কয়েকটি সংস্থা বলছে, বিরোধীদের জোট আটকে যাবে ৯০-এর মধ্যেই। কেউ আবার বিজেপি-জেডিইউ জোটকে ২০০ পার করে দিয়েছে। এখন দেখায় বিষয় হল, ১৪ নভেম্বর প্রকাশিত ফলাফলের সঙ্গে এসব সমীক্ষা কতটা মেলে।
তেজস্বী যাদব বুথফেরত সমীক্ষা রিপোর্ট উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, যারা এনডিএকে জয়ী বলছে, তারা গতবছর লোকসভা ভোটে এগজিট পোলে বিজেপিকে ৪০০ পার করিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু প্রকৃত ফলাফলে ধরাশায়ী হয় সব বুথফেরত সমীক্ষাই। বিজেপি একক গরিষ্ঠতা হারায় লোকসভায়। এর কয়েকমাসের মধ্যে ছিল হরিয়ানা বিধানসভা নির্বাচন। সেবারও এই এগজিট পোল সংস্থাগুলির পূর্বাভাস ছিল, কংগ্রেস এককভাবে গরিষ্ঠতা পেয়ে নিশ্চিত সরকার গড়ছে। কিন্তু প্রকৃত ফলাফল হয় সম্পূর্ণ উলটো।
তাই এগজিট পোল সংস্থাগুলির কাছে ১৪ নভেম্বর বড় রকমের অগ্নিপরীক্ষা। যদিও এবার সব সমীক্ষাতেই দেখা গিয়েছে, গতবারের তুলনায় আসন কমছে বিজেপির। অথচ নীতীশের আসন এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়তে চলেছে বলছে সংস্থাগুলো। তাই যদি স্যতি হয়, তবে কি বিহারে বিজেপির একক শক্তি কমছে? আর নীতীশের জনপ্রিয়তা একই আছে এবং উত্তরোত্তর বাড়ছে?
এগজিট পোলের রেজাল্ট মিলে গেলে প্রমাণ হবে, বিহারে ২০ বছর মুখ্যমন্ত্রী পদে থেকেও নীতীশের জনপ্রিয়টা অটুট। তার গ্রহণযোগ্যতা কমেনি। পাশাপাশি এও প্রমাণ হবে, ইন্ডিয়া জোটের তুলনায় মানুষ এখনও এনডিএ জোটের ওপরেই আস্থা রাখছে। এখন অপেক্ষা ১৪ তারিখ পর্যন্ত। তারপর বোঝা যাবে এক্সিট পোল কতখানি সত্য প্রমাণ হয়।








