লালকেল্লা বিস্ফোরণ: স্বচ্ছ তদন্ত ও ক্ষতিপূরণের দাবি জামাআতে ইসলামীর
নতুন পয়গাম, নয়া দিল্লি, ১৩ নভেম্বর:
লালকেল্লার নিকট বিস্ফোরণের ঘটনায় স্বচ্ছ তদন্ত, নিরাপত্তা ত্রুটির সঠিক অনুসন্ধান ও ক্ষতিগ্রস্তদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের দাবি জানালেন জামাআতে ইসলামী হিন্দ-এর সর্বভারতীয় সভাপতি সাইয়েদ সাদাতুল্লাহ হুসাইনী। গভীর শোক প্রকাশ করে তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, “সোমবার সন্ধ্যায় দিল্লির লালকেল্লার নিকটে সংঘটিত ভয়াবহ বিস্ফোরণে বহু প্রাণহানি ও আহতের ঘটনা আমাদের ব্যথিত করেছে। আমরা নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্যের জন্য দোয়া করি। এই শোক ও কষ্টের সময়ে আমরা দিল্লির জনগণের পাশে আছি।”
সাইয়েদ সাদাতুল্লাহ হুসাইনী আরো বলেন, “প্রাথমিক গণমাধ্যম সূত্রে জানা যাচ্ছে, এটি সন্ত্রাসী ঘটনা হতে পারে। যদি তদন্ত সংস্থাগুলি তা নিশ্চিত করে, তবে আমরা এই জঘন্য অপরাধের তীব্র নিন্দা জানাই এবং অপরাধীদের দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানাচ্ছি। দেশের রাজধানীর হৃদয়স্থলে এমন এক মর্মান্তিক ঘটনা নিরাপত্তা ব্যবস্থার চরম ব্যর্থতা নির্দেশ করে। জননিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা আবশ্যক। নাগরিকদের জীবন ও নিরাপত্তা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং সরকারকে তার সাংবিধানিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “ঘটনার পর কিছু গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভ্রান্তিকর তথ্য ও সাম্প্রদায়িক বিভাজন সৃষ্টিকারী প্রচার চালানো অত্যন্ত দুঃখজনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ। সংকটের সময়ে নাগরিক ঐক্য ও সংহতি সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। যারা এমন নিন্দনীয় ঘটনার সুযোগ নিয়ে আদর্শগত বা রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছে, তাদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দেওয়া উচিত। এই ঘটনার নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও সময়সীমাবদ্ধ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন, যাতে প্রতিটি প্রমাণ সততার সঙ্গে বিশ্লেষণ করে তদন্তের ফলাফল জনগণের সামনে প্রকাশ করা হয়।”
বিবৃতির শেষাংশে সাইয়েদ সাদাতুল্লাহ হুসাইনী বলেন, “সন্ত্রাস কখনো কোনো ধর্মের প্রকাশ নয়, বরং তা ধর্মেরই বিশ্বাসঘাতকতা। যে কোনো পতাকার নিচে সংঘটিত সহিংস কর্মকাণ্ডের সমানভাবে নিন্দা করা উচিত। আসুন, সব ধর্মের মানুষ একত্রিত হই, অন্ধ উগ্রবাদ ও ঘৃণার রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করি এবং সমাজ থেকে সন্ত্রাসের মূলোৎপাটনে একসঙ্গে কাজ করি। কেবল ঐক্যবদ্ধ সমাজই দেশের বহুত্ববাদ, শান্তি ও ভবিষ্যৎকে রক্ষা করতে পারে।”








