‘আমার সোনার বাংলা’ গাওয়া কি অপরাধ?
প্রতিবাদে সাংবাদিক সম্মেলন বাংলা পক্ষের
নতুন পয়গাম, কলকাতা, ১১ নভেম্বর: মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় কলকাতা প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত হলো বাংলা পক্ষ সংগঠনের সাংবাদিক সম্মেলন। উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক গর্গ চট্টোপাধ্যায়, সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতি, শীর্ষ পরিষদ সদস্য অরিন্দম চট্টোপাধ্যায় ও সম্রাট কর, জেলা সম্পাদক সৌম্য বেরা, সহ সম্পাদক সুরজিত সেনগুপ্ত, দপ্তর সম্পাদক সৌগত মজুমদার প্রমুখ।
সভায় সংগঠনের নেতৃত্ব অভিযোগ করেন, বর্তমান বিজেপি-নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলি “বাঙালির জাতীয় সত্তা, ভাষা ও সংস্কৃতির উপর পরিকল্পিত আঘাত” হানছে।
তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাষ্ট্রীয় স্তোত্র “বন্দে মাতরম”-এর শব্দ বিকৃতি ঘটানো হয়েছে, এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর “আমার সোনার বাংলা” গাওয়াকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা বা হুমকির ঘটনা ঘটছে—যা বাঙালির সাংবিধানিক অধিকারের সরাসরি লঙ্ঘন।
অধ্যাপক গর্গ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “যদি ‘আমার সোনার বাংলা’ গান গাওয়াকে রাষ্ট্রদ্রোহ বলা হয়, তবে যুক্তির খাতিরে রবীন্দ্রনাথকেও দেশদ্রোহী গণ্য করতে হয়—যা চরম অবিবেচনাপ্রসূত।” তিনি দাবি করেন, বন্দে মাতরম-এর যে অংশ বিকৃত করা হয়েছে, তা বাঙালি জাতীয়চেতনার প্রতীক; তাই এই বিকৃতি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
কৌশিক মাইতি বলেন, বাংলায় কথা বললেই ‘বাংলাদেশি’ তকমা দেওয়া হচ্ছে—যা সাংস্কৃতিক বৈরিতার পরিচয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, “রবীন্দ্রনাথের গানে সামান্য পরিবর্তন হলেই আগে প্রতিবাদ উঠত, আজ সম্পূর্ণ বিকৃতি সত্ত্বেও শিল্পী সমাজ নীরব।”
অরিন্দম চট্টোপাধ্যায় ও সম্রাট কর বলেন, এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়—বরং একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিকল্পনার অংশ, যার লক্ষ্য বাঙালির জনসংখ্যা, সংস্কৃতি ও ইতিহাসকে মুছে দেওয়া। সৌম্য বেরা যোগ করেন, “বাঙালিকে ক্রমে কোণঠাসা করার চেষ্টা চলছে—এখনই ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।”
শেষে সংগঠনের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয় ভবিষ্যৎ কর্মসূচি — রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদ সভা, সাংবিধানিক অভিযান, ছাত্র–যুব ফ্রন্টের প্রচার, ও সামাজিক মাধ্যমে গণতথ্য প্রচারণা।
বাংলা পক্ষ জানায়, “বাঙালিকে অপমান করা হলে তার প্রতিবাদ হবে আরও সংগঠিত, আরও তীব্র।”








