জমি কেলেঙ্কারির পর্দাফাঁস মহারাষ্ট্রে, জড়িত উপমুখ্যমন্ত্রীর ছেলে-সহ একাধিক মন্ত্রী, ১৮০০ কোটির জমি মাত্র ৩০০ কোটিতে
নতুন পয়গাম, মুম্বইঃ
কৃষকের জমি কেড়ে নিয়ে কর্পোরেট শিল্পপতি বন্ধুদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে হাজার হাজার একর জমি। তাও আবার মাত্র ১ টাকা লিজে। অতি সম্প্রতি বিহার-সহ বেশ কয়েকটি ডাবল ইঞ্জিন রাজ্য থেকে এমন অভিযোগ উঠেছে। এবার পর্দাফাঁস হল আরেক ডাবল ইঞ্জিন রাজ্য মহারাষ্ট্রে। এখানে ১৮০০ কোটি টাকা মূল্যের জমি মাত্র ৩০০ কোটি টাকায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এক্ষেত্রে নাটের গুরু হিসেবে উঠে এসেছে মহারাষ্ট্রের বিজেপি জোট সরকারের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের ছেলে পার্থর নাম।
বিরোধীদের অভিযোগ, জমি হাঙর হয়ে ঘুরছেন শাসক শিবিরের নেতা-মন্ত্রীরাই। তাই উঠছে একের পর এক ঘোটালা বা কেলেঙ্কারির অভিযোগ। দেশের অর্থনৈতিক রাজধানী বলে পরিচিতি মহারাষ্ট্রে এসব হাজার হাজার কোটি টাকার কেলেঙ্কারিতে জড়াচ্ছেন সেখানকার মন্ত্রী, মন্ত্রীর ছেলে ও ঘনিষ্ঠরা। সম্প্রতি পুনে জৈন বোর্ডিং মামলায় জড়িয়েছে বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মুরলীধর মহলের নাম। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের ছেলে পার্থ পাওয়ার এবং তাঁর সংস্থার বিরুদ্ধে সামনে এসেছে গুরুতর কেলেঙ্কারির অভিযোগ। অগত্যা, বিপাকে পড়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ।

উপমুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে অজিত পাওয়ারের ইস্তফার দাবি তুলেছে বিরোধী মহাবিকাশ আঘাড়ি বা এমভিএ। প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা ও কংগ্রেস বিধায়ক ওয়াড়েত্তিওয়ারের দাবি, পরিবহণমন্ত্রী প্রতাপ সরনায়েক নিজের এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরির নামে ২০০ কোটি টাকা মূল্যের ৪ একর জমি দখল করেছেন মাত্র ৩ কোটি টাকায়। বিজেপির শরিক শিবসেনার একনাথ সিন্ধে শিবিরের নেতা সরনায়েক। একের পর এক জমি কেলেঙ্কারি ও দুর্নীতি নিয়ে ক্ষমতাসীন শিবিরের উপর চাপ বাড়িয়ে চলেছে বিরোধী শিবির।
উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারকে ভাঙিয়ে কাকা শারদ পাওয়ারের দল এনসিপিতে ভাঙন ধরিয়ে এনডিএ সরকারে টেনেছিল বিজেপি। তাঁর পুত্রের বিরুদ্ধেই এখন জমি কেলেঙ্কারির বিশাল অভিযোগ। উপমুখ্যমন্ত্রীর দাবি, বিতর্কিত ওই জমি চুক্তি নিয়ে তাঁর কিছুই জানা নেই। ছেলে বড়ে হয়ে গেলে তারা নিজের মতো চলে। বিড়ম্বনা এড়াতে অজিত জানিয়েছেন, তাঁর ছেলের সংস্থার সঙ্গে বিতর্কিত ওই জমি চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। এর জন্য পার্থর সংস্থাকে ৪২ কোটি টাকার স্ট্যাম্প ডিউটি দিতে হবে।

সম্প্রতি মহারাষ্ট্রের আইজি অফ রেজিস্ট্রেশনের এক রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, পুণের মুন্ধওয়া এলাকায় সরকারের ৪৩ একর জমি বিক্রি করা হয়েছে। ১৮০০ কোটি টাকা মূল্যের এই জমি মাত্র ৩০০ কোটি টাকায় বিক্রি করা হয়েছে Amedia Enterprises LLP নামে এক সংস্থাকে। এই সংস্থার অন্যতম পার্টনার উপমুখ্যমন্ত্রীর ছেলে পার্থ পাওয়ার। অথচ নিম্নবর্গের মাহার সম্প্রদায়ের জন্য সংরক্ষিত ছিল এই জমি। যা প্রথমে Botanical Survey-কে ১৫ বছরের জন্য লিজ দেওয়া হয় বার্ষিক ১ টাকা মূল্যে। সেই লিজের মেয়াদ ছিল ২০৩৮ সাল পর্যন্ত। কিন্তু তার এক যুগ আগেই অনুমতি ছাড়া এই সরকারি জমি বিক্রি কার্যত অসম্ভব। সেই জমি বিক্রি হয়ে যাওয়ায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
রীতিমতো রেজিস্ট্রি করে বিক্রি করা হয়েছে ওই জমি, ১৮০০ কোটি টাকা মূল্যের ৪ একর জমি বিক্রি করতে স্ট্যাম্প ডিউটি লেগেছে মাত্র ৫০০ টাকা। অথচ এটা হওয়া উচিত ছিল ২১ কোটি টাকা। রিপোর্ট বলছে, চুক্তির ২ দিন পর পর স্ট্যাম্প ডিউটি মুকুব করে দেওয়ার নির্দেশ আসে সরকারের তরফে।








