সিএএ নিয়ে নতুন বিতর্ক ‘আমরা কি তবে হিন্দু নই?’— প্রশ্ন মতুয়াদের
নতুন পয়গাম, ঠাকুরনগর:
ঠাকুরনগর ঠাকুরবাড়িতে ফের চাঞ্চল্য। নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) নিয়ে পুনরায় গতি আসতেই মতুয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা ও বিতর্ক। নাগরিকত্বের আবেদনের সঙ্গে সঙ্গে ‘হিন্দু শংসাপত্র’ জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক বলে খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভ দানা বাঁধছে মতুয়া ভক্তদের মধ্যে।
সাম্প্রতিক দিনে ঠাকুরবাড়িতে ভিড় বেড়েছে মতুয়া কার্ড নেওয়া নিয়ে। কিন্তু ‘হিন্দু শংসাপত্র’ নিতে বলা মাত্রই দেখা যাচ্ছে ব্যাপক অনীহা। অনেকেই ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলছেন, “আমরা তো জন্মগতভাবেই হিন্দু। আমাদের নাম-পদবিই তার প্রমাণ। তাহলে কেন আবার হিন্দুত্বের সার্টিফিকেট নিতে হবে?”
ঠাকুরবাড়ির দুটি শিবিরে চলছে নাগরিকত্ব আবেদন সংক্রান্ত কাজ। একদিকে শান্তনু ঠাকুর, অন্যদিকে তাঁর ভাই সুব্রত ঠাকুর— দুই শিবিরেই সকাল থেকে চলছে কার্ড ও শংসাপত্র তৈরির কাজ। যদিও বৃহস্পতিবার ভিড় কিছুটা কম ছিল, তবু বিতর্ক থামেনি। শান্তনুর স্ত্রী সোমা ঠাকুরও এসে ভক্তদের সঙ্গে কথা বলেন, আশ্বাস দেন দ্রুত সমাধানের।
কিন্তু বাস্তবে মতুয়া সমাজের একাংশের মধ্যে বিভাজন স্পষ্ট। কেউ কেউ বলছেন, নাগরিকত্ব পেতে যা লাগে, তাই দেবেন— আবার অনেকে তা মানছেন না। কাকদ্বীপ থেকে আসা কাকলি হালদার বলেন, “গতকাল সারাদিন দাঁড়িয়ে থেকেও কাজ হয়নি। আজ যদি না হয়, কাউকে না শুনিয়ে যাব না। আমরা হিন্দুই, তবু শংসাপত্র চাই কেন?”
একই সুর রানাঘাটের সুদীপ ও দেবী বিশ্বাসের গলায়, “১০০ টাকা খরচ করে হিন্দু প্রমাণ করব কেন? আমাদের পরিচয় তো কার্ডেই লেখা আছে।”
এদিকে গাইঘাটার বিজেপি বিধায়ক ও অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের নতুন সংঘাধিপতি সুব্রত ঠাকুরের বক্তব্য, “হিন্দু শংসাপত্র থাকলে আবেদন প্রক্রিয়ায় সুবিধা হয়। এতে বোঝা যায় কেউ হিন্দু না মুসলমান।”
সব মিলিয়ে ঠাকুরনগরে ফের উথলে উঠেছে নাগরিকত্ব ও পরিচয় রাজনীতি। সিএএ, এসআইআর আর নেতাদের অন্তর্দ্বন্দ্ব— তিনে মিলে ঠাকুরবাড়ির আঙিনায় আবারও তৈরি হয়েছে নাগরিকত্ব রাজনীতি ও সামাজিক চাপানউতর।








