“লুট করে খেতে দেব না কান্দিওয়ালাদের”— নতুন দল গড়ার হুঁশিয়ারি হুমায়ুনের
এজাজ আহম্মেদ, নতুন পয়গাম, কান্দি:
ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর বৃহস্পতিবার একটি উৎসাহী সাংবাদিক সম্মেলনে দলীয় নেতৃত্বকে বারবার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিলেন। তিনি ঘোষণা করেন, “তৃণমূলে আর নয়— ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে আমি নতুন দল গড়ব,” এবং নিজেকে সেই দলের চেয়ারম্যান হিসেবেও উন্মোচন করেন।
হুমায়ুন বলেন, তিনি যদি রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন ফর্মেশন করেন তবে তৃণমূলে তার অনুপস্থিতি মুর্শিদাবাদ জেলায় বড় ধাক্কা দেয়। “আমি না থাকলে মুর্শিদাবাদে তৃণমূল ১০টিও আসন পাবে না,” মন্তব্য করেন তিনি। তিনি আরও জানান যে নতুন দল ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে মুর্শিদাবাদ, মালদা ও উত্তর দিনাজপুরে প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা করছে এবং বামফ্রন্ট ও আইএসএফের সঙ্গে জোট করে নদিয়া ও উত্তর ২৪ পরগনায়ও অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
নাম না করে কান্দির তৃণমূল বিধায়ক অপূর্ব সরকারকে কটাক্ষ করে হুমায়ুন বলেন, “লুট করে খেয়ে নেতা হবে, আর ভোটের সময় তিন নম্বর — এইসব মানবেন না।” তিনি অভিযোগ করে বলেন, কিছু নেতারা “জমি লুঠ” করে নিজেদের ব্যস্ত রাখছেন এবং যারা নির্বাচনে অনৈতিকভাবে দলীয় প্রক্রিয়া ব্যাহত করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর হস্তক্ষেপ করবে তার আগামী কর্মসূচি।
সাম্প্রতিক সময়ে হুমায়ুন বারবার দল ও নেতৃত্বকে নিয়েও উচ্চস্বরে কথা বলেছেন এবং নতুন দল গঠনের কথাও আগে উল্লেখ করেছিলেন; পরে সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছিলেন। তবে এবার তার কণ্ঠে যে আক্রোশ সেটি স্পষ্ট, এবং বিষয়টি কিভাবে শেষ হয় তা নিয়েই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে। ঠিকই, হুমায়ুনকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের শৃঙ্খলাকমিটির বৈঠকও ইতিমধ্যেই অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিন ভরতপুরে তৃণমূলে এসআইআর (SIR) বিষয়ক ওয়াররুমের উদ্বোধন করতে গিয়ে হুমায়ুন আরও তীক্ষ্ণ ভাষায় সতর্ক করেন দলের হাইকমান্ডকে। “সম্মান দিয়ে নেতৃত্বের জন্য এখনও অপেক্ষা করছি — আমাদের লেজে পা দিলে, আমরাও ছোবল মারতে জানি,” তিনি বলেন। সভায় তিনি আরও বলেন, “আমরা কাউকে আগে আঙুল দেখাব না; কিন্তু কেউ এক আঙুল তুললে আমরা দুই আঙুল তুলব। ইট ছুঁড়লে পাথরে জবাব দেব।”
ভরা সাধারণাভাষায় তিনি ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচন প্রসঙ্গ টেনে এনে অভিযোগ তুলেন, টাকার বিনিময়ে গণনাকেন্দ্রে অরাজকতা সৃষ্টি করে কোনো কিছু—তার ফল আজও বোধগম্য। “দুঃখের বিষয়, আজ পর্যন্ত সেইসব প্রধানদের সঙ্গে আমাদের কোনও যোগাযোগ নেই; তারা শুধু জমি লুট করেই ব্যস্ত,” হুমায়ুন বলেন। শেষে তিনি বার্তা দেন, “তোমাকে এখানে লুট করে খেতে দেব না।”
স্থানীয় রাজনৈতিক মহল এবং তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে হুমায়ুনের এই বক্তব্য ছড়িয়ে পড়েছে; ভবিষ্যতে দলীয় বিবেচনা ও স্থানীয় রাজনৈতিক পরিবেশে তার প্রভাব কতোটা হবে— সেটাই এখন দেখার বিষয়।








