‘অক্ষর’ পড়তে না পেরে পর্যুদস্ত অস্ট্রেলিয়া, কুইন্সল্যান্ডে এগলো ভারত
নিজস্ব সংবাদদাতা, নতুন পয়গাম
অস্ট্রেলিয়ার পিচ বরাবরই গতিময়।কিন্তু সেই গতির পিচে অস্ট্রেলিয়ার হার লিখলেন অক্ষর প্যাটেল।ব্যাটে-বলে দুরন্ত পারফরম্যান্স করলেন তিনি।
যদিও শুরুটা দেখে একবারের জন্যও মনে হয়নি, ম্যাচটা শেষ পর্যন্ত ৪৮ রানে হারবে অস্ট্রেলিয়া। ১৬৮ তাড়া করতে নেমে একটা সময় ক্যাঙারু বাহিনী ৯ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে তুলে ফেলেছিল ৬৭ রান।
ঘরের মাঠে বিপুল দর্শক সমর্থন। ক্যাপ্টেন মিচেল মার্শ রীতিমতো জেঁকে বসেছেন ক্রিজে। টিম ইন্ডিয়া ব্যাকফুটে। নতুন বলে বুমরাহ কিংবা অর্শদীপ সেভাবে ছাপ ফেলতে পারেননি। তারই ফায়দা নেয় অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু তারপরেই পট পরিবর্তন। ভেলকি দেখালেন অক্ষর। তারই কীর্তিতে দুরন্ত জয়ে সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ভারত। বাকি আর একটা ম্যাচ। শনিবার ব্রিসবেনে সিরিজ জয়ের হাতছানি গিল-সূর্যকুমারদের সামনে।
ম্যাথিউ শর্টকে ফিরিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ওপেনিং জুটি ভাঙেন অক্ষর প্যাটেল। প্রাথমিক ধাক্কা সামলে মার্শ ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে পাল্টা চাপ তৈরির চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তিনিও ব্যর্থ। অজিরা শেষ পর্যন্ত ১১৯ রানে গুটিয়ে যায়। তার পুরো কৃতিত্বই ভারতীয় বোলারদের। শুধু ব্যাট হাতে অপরাজিত ২১ নয়, বোলিংয়েও নজর কাড়লেন অক্ষর। তাঁর দ্বিতীয় শিকার জস ইংলিশ (১২)। জোড়া ধাক্কা দিয়ে লড়াইয়ে ফেরার মঞ্চটা গড়ে দিয়েছিলেন বাঁ হাতি অলরাউন্ডারই। সেই ভিতে টিম ইন্ডিয়ার জয়ের স্বপ্ন জাগিয়ে তোলেন শিবম দুবে। ব্যাটিংয়ে উন্নতি চোখে না পড়লেও বল হাতে সফল তিনি। দুটো মূল্যবান উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড ভেঙে দিলেন তিনি। দুবের প্রথম শিকার দুরন্ত ফর্মে থাকা মিচেল মার্শ (৩০)। কিছুক্ষণের মধ্যে টিম ডেভিডও (১৪) তাঁর বলে এক্সট্রা কভারে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন।
ট্রাভিস হেডের না থাকার অভাব স্পষ্ট অজিদের ব্যাটিংয়ে। পরের বছর রয়েছে টি-২০ বিশ্বকাপ। সেদিকে তাকিয়েই দল নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা চালাচ্ছে ক্যাঙারু বাহিনী। চতুর্থ টি-২০’তে তাদের ব্যাটিং বিপর্যয়ে এটা স্পষ্ট যে, বিশ্বকাপের জন্য মোটেও তৈরি নন মার্শ-ডেভিডরা। অস্ট্রেলিয়ার শেষ ন’টি উইকেটের পতন হল মাত্র ৫২ রানে। তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে তাদের ব্যাটিং-লাইন। মূলত স্পিন খেলতে গিয়ে হিমশিম খেয়েছে অজিরা। অক্ষরের দেখানো পথে মিডল অর্ডারে ধস নামান ওয়াশিংটন সুন্দর। এদিন ১.২ ওভার হাত ঘুরিয়ে ৩ রানে নিলেন ৩ উইকেট। কামব্যাক সুখের হল না ম্যাক্সওয়েলের (২)। অজিদের ইনিংস গুঁড়িয়ে গেল ১১৯ রানে।
গোল্ড কোস্টে প্রথম খেলল টিম ইন্ডিয়া। অস্ট্রেলিয়াও খুব বেশি ম্যাচ খেলেনি এই মাঠে। তাই পিচ নিয়ে দুই শিবিরেই ছিল চাপা উত্তেজনা। টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং নেয় আয়োজক দেশ। ভারতের শুরুটা খারাপ হয়নি। গিল ও অভিষেক যোগ করেন ৫৬ রান। অভিষেক ২৮ রানে ফেরেন। চার রানের জন্য হাফ-সেঞ্চুরি হাতছাড়া হয় গিলের (৪৬)। তবে তাঁর রান পাওয়া ভারতীয় শিবিরে স্বস্তি এনেছে। দুবে ২২ রানে আউট হন। শুরুটা ভালো করেও উইকেট ছুড়ে দেন সূর্যকুমার। তা সত্ত্বেও একটা সময় মনে হয়েছিল, ভারত দুশোর দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে। শেষ পর্যন্ত ওঠে ৮ উইকেটে ১৬৭।
শনিবার ব্রিসবেনে অন্তিম তথা শেষ টি-২০। ম্যাচটা ভারত হারলেও সিরিজ ২-২ হবে। ফলে সূর্যরা রয়েছেন ফুরফুরে মেজাজে। বরং সিরিজ বাঁচানোর চাপ থাকবে অস্ট্রেলিয়ার ঘাড়ে।
তাই ওয়ান ডে সিরিজ হারলেও আপাতত চাপমুক্ত সূর্যরা।শুধু দরকার আর একবার অক্ষরদের জ্বলে ওঠা।তাহলেই একদিনের বদলার পাশাপাশি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাবে সূর্য, শুভমানরা।







