বীরভূমের খয়রাশোলে শোরগোল, স্বাধীনতা সংগ্রামী পরিবারের নাম নেই ভোটার লিস্টে!
নতুন পয়গাম, সিউড়ি:
বীরভূম জেলার দুবরাজপুর বিধানসভার খয়রাশোল গ্রামের ১৩৬জন বৈধ ভোটারের নামই নেই। তার থেকেও আশ্চর্যজনক হল, ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন এলাকার বিশিষ্ট স্বাধীনতা সংগ্রামী সুরেন্দ্রনাথ সরকারের পরিবারের সদস্যরাও। বুধবার এসআইআর প্রক্রিয়ার খোঁজখবর নিতে খয়রাশোলে এসেছিলেন স্থানীয় সাংসদ শতাব্দী রায়। বিষয়টি তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানান। জানা গিয়েছে, ভোটার তালিকায় নাম না থাকা এই পরিবারগুলিকে ফর্ম ফিলআপ করতে নিষেধ করা হয়েছে।
জানা যায়, ১৯২৬ সালে জেলা কংগ্রেসের সম্পাদক ছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামী সুরেন্দ্রনাথ সরকার। স্বাধীনতার ৩-৪ বছর আগে কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে বীরভূম জেলা বোর্ডের সভাপতিও হন সুরেন্দ্রনাথবাবু। স্বাধীনতা সংগ্রাম আন্দোলন করতে গিয়ে ব্রিটিশের রোষে পড়ে একাধিকবার জেলও খেটেছেন। তাঁর পক্ষে মামলা করতে উকিল পাঠিয়েছিলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। সুরেন্দ্রনাথ সরকারকে শুভেচ্ছাবার্তা পাঠিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। অথচ, এই পরিবারের সদস্যদের নাম নেই ২০০২ সালের ভোটার তালিকায়! এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় হতভম্ব স্থানীয়রা। এই জন্য দায়ী অফিসারদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
সুরেন্দ্রনাথ বাবুর ছেলে প্রাক্তন শিক্ষক সাম্যসাধক সরকার জানান, তাঁর বাবা স্বাধীনতা সংগ্রামী ছিলেন। তারা ১৯৫৭ সাল থেকে ভোট দিয়ে আসছেন। তিনি নিজেও দীর্ঘদিন স্থানীয় পঞ্চায়েতের সদস্য ছিলেন। ১০ বছর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ছিলেন সম্যকবাবু। ১৫ বছর জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ ছিলেন। অথচ আমার ও আমাদের সরকার পরিবারের সদস্যদের কারও নাম নেই। এর থেকে আশ্চর্যজনক কী হতে পারে, হতাশ সরকার পরিবার। শুধু সরকার পরিবারই নয়, ভোটার তালিকায় নাম নেই এই গ্রামের ১৩৬ জন ভোটদাতার।








