দে পরিবারের ৩২ বছরের ঐতিহ্য মাত্র ১ টাকায় চপ
দুর্মূল্যের বাজারেও সিউড়ির কোমা গ্রামে মাত্র ১ টাকায় চপ, ভিড় উপচে পড়ে
খান সাহিল মাজহার, নতুন পয়গাম, বীরভূমঃ
বীরভূমের সিউড়ি ২ নম্বর ব্লকের কোমা গ্রাম। এই ছোট গ্রামটি আজ পরিচিত এক বিশেষ কারণে মাত্র ১ টাকায় চপ। দে পরিবারের এই অনন্য ঐতিহ্য চলছে দীর্ঘ ৩২ বছর ধরে। আজ যখন বাজারে সব কিছুর দাম আকাশছোঁয়া, তখনও এই পরিবার সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে তাদের দাম প্রায় অপরিবর্তিতই রেখেছে।
এই তেলেভাজার দোকানের সূত্রপাত করেন পবিত্রোবালা দে। একসময় মাত্র ২৫ পয়সা ও ৫০ পয়সা দামেই চপ-বেগুনি বিক্রি করতেন তিনি। নিজের হাতে বানানো খাবার, হাসিমুখে মানুষকে খাওয়ানোর আনন্দ—এই সবকিছু মিলে তাঁকে এলাকায় এক পরিচিত মুখ করে তোলে। সময়ের সঙ্গে তাঁর বয়স বাড়লেও মানুষের প্রতি তাঁর ভালোবাসা কমেনি।
এখন অবশ্য পবিত্রোবালা দেবী বয়সজনিত কারণে দোকানে বসতে পারেন না। কিন্তু তাঁর যে আদর্শ, মানুষকে স্বল্পমূল্যে তাজা ও ভালো খাবার দেওয়া। সেই আদর্শ বহন করে চলেছেন তাঁর পুত্র। আজ যখন পথে-ঘাটে চপের দাম ১০ টাকা থেকে ১৫ টাকা, তখনও তিনি শুধু মানুষের মুখের হাসির জন্য ১ টাকায় চপ বিক্রি করে চলেছেন।
এই খবর বহু দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। পাশের গ্রাম চাঁদপাড়া, নগর, রাজডাঙ্গা, এমনকি সিউড়ি শহর থেকেও লোকজন আসেন কোমা গ্রামে শুধু ১ টাকার চপ খেতে। বিকেলের সময় দোকানের সামনে লম্বা লাইন দেখা যায়, অনেকে আবার আগেভাগেই এসে দাঁড়িয়ে পড়েন যাতে চপ ফুরিয়ে না যায়।
স্থানীয় মানুষের মতে, “এ এক অন্যরকম অনুভূতি। শুধু খাওয়ার স্বাদ নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানুষের প্রতি ভালোবাসা, মানবিকতার মশলা।”
দে পরিবারের পরিবারিক ভাবনা খুবই স্পষ্ট-লাভ নয়, মানুষের সন্তুষ্টিই সবচেয়ে বড়। তাই দেরিতে হলেও এই দোকান খুললে মানুষ অপেক্ষা করে। তাদের কাছে এই ১ টাকার চপ শুধু খাবার নয়, বরং এক মানবিকতার গল্প।
গ্রামের প্রবীণরা বলেন, “৩২ বছর ধরে এই পরিবার আমাদের পাশে আছে। পবিত্রোবালা দেবী না থাকলেও তাঁর পুত্র সেই ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন। আজকের দিনে এ এক বড় উদাহরণ।”
কোমা গ্রামের এই ১ টাকার চপ এখন শুধু খাবার নয়—মানুষের ভালোবাসা, ঐতিহ্য, মানবিকতা আর সেবার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।







