বাংলায় সিএএ-র গাজর!
৬ বছরে মাত্র ৮ জনকে নাগরিকত্ব
নতুন পয়গাম, কলকাতা:
এসআইআর-এ রাজ্যের কারো নাম বাদ পড়লে ভয়ের কিছু নেই। পরে সিএএ বা সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনে দেওয়া হবে নাগরিকত্ব। এভাবেই ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে ফের নাগরিকত্বের টোপ দিল বিজেপি। এক্ষেত্রে টার্গেট মূলত মতুয়া সম্প্রদায়। কিন্তু এসআইআরে বাদ পড়াদের সিএএ-তে নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি যে সর্বৈব মিথ্যা, তা প্রমাণ করছে সরকারি পরিসংখ্যানই। দেখতে দেখতে সিএএ আইন লাগু হয়েছে ৬ বছর হয়ে গেল। অথচ দীর্ঘ ৭২ মাসে এরাজ্যে সিএএ আইনে নাগরিকত্ব পেয়েছে মাত্র ৮ জন।
বিজেপি তথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের আশ্বাসে বিশ্বাস করে নাগরিকত্ব পেতে এরাজ্য থেকে সিএএ-তে ৩২ হাজারেরও বেশি আবেদন জমা পড়েছে। কিন্তু নাগরিকত্ব পেয়েছেন মাত্র ৮জন। তাই ফের নাগরিকত্বের গাজর ঝোলালেও বিশ্বাস করতে পারছেন না অনুপ্রবেশকারী মতুয়া, রাজবংশী ইত্যাদি সম্প্রদায়ের মানুষরা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনেক আগেই বলেছেন, এসআইআর আসলে ঘুরপথে এনআরসি ও সিএএর পথ প্রশস্ত করছে। আর সিএএ হল বিজেপির ঝোলানো নাগরিকত্বের গাজর। ওরা একদিকে নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার জুজু দেখাচ্ছে, অন্যদিকে সিএএ-র গাজর ঝুলিয়ে নির্বাচনী বৈতরণী পেরোতে চাইছে।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে সিএএ আইন করা হলেও রুলস জারি করতে আরও পাঁচ বছর কাটিয়ে দিয়েছিল কেন্দ্র। কিন্তু তারপরও সিএএ নিয়ে ধোঁয়াশা কাটাতে পারেনি কেন্দ্র সরকার। বিরোধীদের অভিযোগ, সবটাই চমক ও পরিকল্পনা বিহীন। তাই সব ইস্যুতেই কেন্দ্র সরকার লেজে-গোবরে হচ্ছে।
এদিকে, মতুয়া নেত্রী ঠাকুরবাড়ির সংঘাধিপতি ও সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর বলেন, ‘এসআইআর পর্বে নিঃশর্ত নাগরিকত্বের দাবিতে মতুয়াদের অনশন ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। তাই সিএএ নিয়ে নতুন করে টোপ দিচ্ছে বিজেপি। কিন্তু এতে লাভ হবে না। মতুয়ারা বিজেপির জুমলা ধরে ফেলেছে। এসআইআর ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করায় সিএএ-র টোপই এখন বিজেপির একমাত্র অস্ত্র হয়েছে। এই প্রেক্ষিতে আজ মঙ্গলবার ঠাকুরনগরে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী।








