লোকালয়ে বন্য হাতির হানা, রাতভর তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত ধানক্ষেত ও বাড়িঘর
প্রীতিময় সরখেল, নতুন পয়গাম, বানারহাটঃ
প্রতিদিন রাতেই খাবারের সন্ধানে গভীর জঙ্গল থেকে বেরিয়ে নুনাই নদী পেরিয়ে চানাডিপা, মধ্য শালবাড়ি, উত্তর চানাডিপা ও ডাঙ্গাপাড়া এলাকায় হানা দিচ্ছে বন্য হাতির দল। লোকালয়ে ঢুকে তারা বীঘের পর বীঘে ধানক্ষেত নষ্ট করছে, পাশাপাশি একাধিক বাড়িঘরও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাশেই রয়েছে বানারহাট ব্লকের মরারঘাট রেঞ্জের খট্টিমারি ও তোতাপাড়া জঙ্গল। সেখান থেকেই নুনাই নদী পেরিয়ে হাতিরা লোকালয়ে প্রবেশ করছে। প্রায় প্রতিদিনই রাতভর এই তাণ্ডব চলছে।
কৃষকদের দাবি, রাত জেগে পাহারা দিয়েও ফসল রক্ষা করা যাচ্ছে না। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হাতিদের জঙ্গলে ফেরানোর চেষ্টা করলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা আবার ফিরে আসছে। বনকর্মীদের ফোন করলেও সময়মতো না আসায় ক্ষতির পরিমাণ আরও বেড়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ।
এলাকার একাধিক কৃষক জানান, মোরাঘাট রেঞ্জ অফিসে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ জানানো হলেও ক্ষতিপূরণের ন্যায্য অর্থ পাওয়া যায়নি। বরং অভিযোগ করতে গিয়েই হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁদের। ফলে অনেকেই এখন ক্ষতিপূরণের আশা ছেড়ে দিয়েছেন।
এক কৃষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “অতীতে হাতির হামলায় বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তবুও বনকর্মীরা নীরব। খবর দিলেও তারা সময়মতো আসে না, যার ফলে দুর্ঘটনা বেড়েই চলেছে।”
অন্যদিকে বনদপ্তরের কর্মীরা জানিয়েছেন, লোকালয়ে হাতি ঢোকার খবর পেলেই তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হাতিদের জঙ্গলে ফেরানোর ব্যবস্থা করে থাকেন। এছাড়াও যেসব কৃষক ক্ষতির লিখিত অভিযোগ করেছেন, নিয়ম অনুযায়ী তাঁদের ক্ষতিপূরণও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি দপ্তরের।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, শীতের শুরুতেই হাতিদের এই আগ্রাসন আরও বাড়তে পারে। তাই প্রশাসনের তরফে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে বড়সড় বিপদের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।








