অনলাইন রিয়েল-মানি গেমিং-বেটিং দক্ষতা থাকলে রাস্তা খুলে যাবে: সুপ্রিম কোর্ট
নতুন পয়গাম, কলকাতা:
মোবাইল স্ক্রিনে চোখ রেখে বসে এক তরুণ একবারের সাফল্য আশায় “প্লে”বোতাম চেপেছেন। পর্দার আড়ালে টাকা ধরার খাবি, সময়ের উত্তেজনা, হারার ভয় — আর এক ধরনের নতুন ঘোর। এই খেলাটি যদি হয় রিয়েল-মানিভিত্তিক, তাহলে এখন ভারতীয় যুব সমাজের জন্য তা শুধু বিনোদন নয়, বরং তা এক ভয়াবহ চ্যালেঞ্জের নাম।
এই চ্যালেঞ্জের মুখে এবার সরাসরি এগিয়ে এসেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট-এর জেবি পাদ্রিওয়ালা ও কেভি বিশ্বনাথন-এর বেঞ্চ ৪ নভেম্বরের শুনানিতে বলেছে, দক্ষতা-ভিত্তিক অনলাইন টুর্নামেন্টগুলো হয়ত নিষিদ্ধ আইনের আওতায় আসবে না। আদালত বলেছে, “আমরা এমন গেম-সেক্টরের কথা শুনতে পছন্দ করি না, যেখানে শর্টকাটে টাকা আসে, কিন্তু মানুষের জীবন যায়।”এই মন্তব্যে শুধু এক আইনগত দৃষ্টিকোণ নয়, সামাজিক ও মানবিক দিকটাও স্পষ্ট।

আইন-প্রসঙ্গ সংক্ষেপে: ২০২৫ সালে সংসদে পাশ হওয়া Promotion and Regulation of Online Gaming Act, 2025 অনুযায়ী রিয়েল-মানি গেমিং (যেখানে টাকা উত্থান-পতন থাকে) সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু আদালতে সুযোগ হিসেবে দেখা যাচ্ছে দক্ষতাভিত্তিক গেম বা ই-সপার্টস টুর্নামেন্ট। “কাউন্টার স্ট্রাইক-এর মতো গেমই করো, বাজি থাকলে নয়”, এই নির্দেশ স্পষ্ট।
মানবিক প্রভাব ও তরুণদের অবস্থান: অনলাইন গেমিং-বেটিংয়ের কারণে এখন যুব সমাজে এক নতুন ভয়-মডেল তৈরি হয়েছে, যাকে বলা হচ্ছে “fear psychosis”। অনেকেই জানেন না, ফর্মাল তালিকায় কী জোগাড় দেয়া হলো, তবু হাইপ-ভিত্তিক গুজবের কারণে নিজেকে নিরাপদ ভাবতে পারছেন না। “আমি তো শুধু একটু খেলা করেছিলাম — আজ দেখা গেল, সেই ছোট অংশে হারিয়ে গেছে সঞ্চয়, ঘর, মন”– এমনই এক যুবকের অভিযোগ।
বিচারপতির পর্যবেক্ষণ ও পরবর্তী পদক্ষেপ: আদালত স্পষ্ট করেছে, দক্ষতা-ভিত্তিক গেম-টুর্নামেন্টগুলো নিষিদ্ধ আইনের আওতায় না আসতে পারে। কেন্দ্র সরকারকে দ্রুত বিস্তারিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত হয়েছে ২৬ নভেম্বর।
যেখানে একপাশে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা, অন্যদিকে মানুষের ক্ষতবিক্ষত মন, সেখানে সুপ্রিম কোর্টের রায় এক নির্দেশনা মাত্র নয়, এক সামাজিক আহ্বান। যে গেমে তুমি জয় খুঁজছ, তুমি যদি হারার ভয়ই খুঁজছ — তাহলে সেটা আর খেলা নয়। এই মুহূর্তে দরকার সচেতনতা, দ্বিমাত্রিক নিয়ন্ত্রক পরিবেশ ও মানবিক উদারতা, যাতে খেলোয়াড়রা শুধু স্কোর না বাড়ায়, তাদের জীবনও সমৃদ্ধ হয়।








