মন্দির মসজিদ গীর্জা সহ সকল ধর্মীয়স্থানে লাউডস্পিকার বন্ধের নির্দেশিকা জারি
নতুন পয়গাম, এস রোজলিন, কলকাতা: ধর্মীয় স্থানগুলিতে শব্দদূষণ রোধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে চলেছে প্রশাসন। বৃহস্পতিবার ফালাকাটা থানার আয়োজনে দক্ষিণ দেওগাঁও গ্রামে একটি সচেতনতামূলক প্রচার অভিযান পরিচালিত হয়। এই অভিযানে পুলিশ আধিকারিকরা স্পষ্ট জানান, মন্দির, মসজিদ, গির্জা এবং অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে অনিয়ন্ত্রিত ও অপ্রয়োজনীয় লাউডস্পিকার বা সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করা আইনত অনুমোদিত নয়।
প্রশাসনিক নির্দেশিকা অনুযায়ী, ধর্মীয় প্রয়োজনে লাউডস্পিকার ব্যবহার করলে সেই শব্দ যেন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সীমানার বাইরে বিস্তার না ঘটে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি করতে হবে। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া শব্দবর্ধক যন্ত্র ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে সাধারণ মানুষকে। পুলিশ জানায়, অতিরিক্ত শব্দদূষণ শুধুমাত্র সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে অসুবিধা সৃষ্টি করে না, বরং পরিবেশের সামগ্রিক ভারসাম্যও নষ্ট করে। দীর্ঘস্থায়ী উচ্চশব্দে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।
এদিনের প্রচার অভিযানে শব্দদূষণসংক্রান্ত আইন ছাড়াও গো-হত্যা সংক্রান্ত আইন ও প্রশাসনিক বিধি-নিষেধ সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা হয়। পুলিশ আধিকারিকরা জানান, আইন ভঙ্গ করে কেউ যদি অযাচিত শব্দদূষণ ঘটায় বা গো-হত্যার মতো বেআইনি কাজে লিপ্ত হয়, তবে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গ্রামবাসীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে পোস্টার, লিফলেট ও সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে বিভিন্ন বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই প্রশাসনের এই উদ্যোগকে ইতিবাচক বলে অভিহিত করেছেন। তাঁদের মতে, ধর্মীয় সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন রাখা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সরকারি নির্দেশিকা মেনে চলা প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব। প্রশাসন জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও নিয়মিত তদারকি ও সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হবে, যাতে শব্দদূষণমুক্ত ও সুস্থ পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব হয়।








