তোপসিয়ার তিলজলা এলাকায় বুলডোজার চালাল রাজ্য
নতুন পয়গাম, কলকাতা: কলকাতার তোপসিয়া থানার তিলজলা এলাকায় সম্প্রতি চামড়ার কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে দুই শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় সরব হয় রাজ্য সরকার। অভিযোগ, ওই কারখানা ও আশপাশের বেশ কিছু নির্মাণ ছিল সম্পূর্ণ অবৈধ ও পরিকল্পনাবিহীন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কঠোর নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে ১৩ মে বুধবার সন্ধ্যায় কলকাতা পুরসভা ও কলকাতা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (কেএমডিএ) যৌথ উদ্যোগে তিলজলার জি জে খান রোড ও সংলগ্ন এলাকায় বুলডোজার চালিয়ে কয়েকটি বাড়ি ও কারখানা তড়িঘড়ি ভাঙতে শুরু করে প্রশাসন ।এলাকাটি ঘিরে রাখা হয় ব্যারিকেড দিয়ে। মোতায়েন করা হয় কলকাতা পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ।
কিন্তু এই বুলডোজার অভিযান নিয়ে তীব্র বিতর্কের সূচনা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রশাসনকে কোনও রকম আগাম নোটিশ না দেওয়ায় তাঁরা বাড়ির গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরানোর সুযোগ পাননি। তাঁদের দাবি, একাংশের কাছে বৈধ কাগজপত্র থাকলেও তা বিচার না করেই বাড়ি ভাঙা হয়েছে । কোনও নোটিশ ছাড়া বাড়ি ভাঙা কতটা আইনসম্মত, সেই প্রশ্ন এখন এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
বৃহস্পতিবার উত্তেজনা চরমে ওঠে। ঘটনাস্থলে যান ভাঙরের বিধায়ক ও আইএসএফ নেতা নওসাদ সিদ্দিকি। তিনি সরকারের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “শুধু দোষীদের শাস্তি নয়, নির্দোষ সাধারণ মানুষকে তাদের ঘরছাড়া করা হচ্ছে। প্রশাসন যদি বাংলায় বুলডোজার চালাতেই চায়, তাহলে অন্তত নোটিশ দিয়ে প্রয়োজনীয় জিনিস সরানোর সময় দেওয়া উচিত ছিল। নিলামে বাড়ি ভাঙার এই পদ্ধতি মানবিকতার পরিপন্থী।” তিনি বলেন, “যদি এই নির্মাণ অবৈধ হয়, এই অবৈধ নির্মাণের যারা অনুমোদন দিল তাঁদের আইনের আওতায় আনুন। সেইসব কাউন্সিলরদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশে থাকবেন এবং আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন বলে আশ্বস্ত করেন নওসাদ।
এদিনই কসবার সিপিআই(এম) প্রার্থী আফরিন শিল্পী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সরকারের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তোলেন। তিনি অভিযোগ করেন, “এই বুলডোজার রাজনীতি উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথের হুবহু নকল। শুধু সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলোকে টার্গেট করেই রাজ্য সরকার এই অভিযান চালাচ্ছে। আগে বুলডোজার তো নয়, প্রথমে বৈধতা যাচাই করে সঠিক আইনি প্রক্রিয়া মেনে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। ক্ষমতার জোরে বাড়ি ভাঙা গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের পরিপন্থী।” তিনি দাবি করেন, সরকার নির্দিষ্ট একটি সম্প্রদায়কে গৃহহীন করতে এই অভিযান চালাচ্ছে।
অন্যদিকে, পৌর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানান, “আইন না মেনে যাঁরা অবৈধ কারখানা ও বাড়ি বানিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। আগামী দিনে তিলজলা, কসবা, মোমিনপুরের মতো এলাকাগুলিতে জরিপ চালিয়ে আরও বহু অবৈধ নির্মাণ চিহ্নিত করা হবে এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া মেনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে” । এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে তীব্র বাক্যযুদ্ধ চলছে। সাধারণ মানুষের মধ্যেও আশঙ্কা বিরাজ করছে, তাঁদের বাড়ির ভবিষ্যৎ কী হবে।








