ধূপগুড়িতে সরকারি জমি দখল ও নয়ানজুলি ভরাটে ‘বুলডোজার’ হুঁশিয়ারি বিজেপির
নতুন পয়গাম, প্রীতিময় সরখেল, ধূপগুড়ি: রাজ্যে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বেআইনি নির্মাণ, সরকারি জমি দখল, নয়ানজুলি ভরাট ও বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থানের বার্তা দেওয়া হয়েছে প্রশাসনকে। দক্ষিণবঙ্গের তিলজলায় বেআইনি নির্মাণ ভাঙতে প্রশাসনের বুলডোজার অভিযান ঘিরে যখন রাজ্যজুড়ে চর্চা তুঙ্গে, ঠিক সেই সময় উত্তরবঙ্গের ধূপগুড়িতেও সরকারি জমি দখল ও নয়ানজুলি ভরাটের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি দিল বিজেপি। জলপাইগুড়ি জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক চন্দন দত্ত বুধবার স্পষ্ট ভাষায় জানান, রাস্তার ধারে সরকারি জমি দখল, নয়ানজুলি ভরাট কিংবা বেআইনি নির্মাণ কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। প্রয়োজনে বুলডোজার চালিয়ে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই জেলার রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
অভিযোগ, তৃণমূল সরকারের আমলে ধূপগুড়ি স্টেশন মোড় সংলগ্ন এলাকায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও জমি মাফিয়াদের মদতে সরকারি জমি দখল এবং নয়ানজুলি ভরাটের কাজ শুরু হয়েছিল। চলতি বছরের ১ এপ্রিল বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সেই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে। এরপর পুলিশ প্রশাসন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও কার্যত কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, সরকার পরিবর্তনের পর বেআইনি নির্মাণ, বালি পাচার, কয়লা পাচার, গরু পাচার-সহ সমস্ত ধরনের অবৈধ কাজের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমনকি একাধিক ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে। তারপরেও ধূপগুড়ি স্টেশন মোড় সংলগ্ন এশিয়ান হাইওয়ে ৪৮-এর পাশে প্রকাশ্যে নয়ানজুলি ভরাটের কাজ চলতে থাকায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের প্রশ্ন, রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় যখন প্রশাসনকে কড়া পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে, তখন ধূপগুড়িতে কেন ভিন্ন ছবি? সরকারের নির্দেশ কি উপেক্ষা করা হচ্ছে? প্রশ্ন উঠছে পুলিশ প্রশাসন থেকে শুরু করে এশিয়ান হাইওয়ের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা দপ্তরের ভূমিকাও নিয়ে। এর আগেও বিজেপির তরফে অভিযোগ করা হয়েছিল, শাসকদলের মদতে অলিখিত বোঝাপড়া এবং মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে একাংশ বেআইনি কাজকে বৈধ করার চেষ্টা করছে। এবার বিজেপি সরকারে আসার পর অবৈধ দখলদার ও বেআইনি ব্যবসার বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার বার্তা দিয়েছেন দলের নেতারা।
এই প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা চন্দন দত্ত বলেন, “যারা আগে তৃণমূলের ছত্রছায়ায় থেকে বিভিন্ন অবৈধ কাজে যুক্ত ছিলেন এবং এখন সরকার বদলের পর বিজেপির নাম ভাঙিয়ে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছেন, তাদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না। বিজেপির নাম ব্যবহার করে কেউ অবৈধ ব্যবসা বা দখলদারি চালানোর চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে, অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তৃণমূলের জলপাইগুড়ি জেলা সাধারণ সম্পাদক রাজেশ কুমার সিং বলেন,
“তৃণমূলের কোনও কর্মী কখনও অবৈধ কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিল না। এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তৃণমূল কখনও কোনও অবৈধ কাজকে প্রশ্রয় দেয়নি। বিষয়টি জানার পর পুলিশ প্রশাসনকে জানানো হয়েছিল। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শনও করেছিল। তারপরেও কেন আগের অবস্থায় জায়গাটি ফিরিয়ে আনা হয়নি, তা প্রশাসনই বলতে পারবে।”
এখন দেখার, ধূপগুড়ি স্টেশন মোড় সংলগ্ন এলাকায় সরকারি জায়গা দখল ও নয়ানজুলি ভরাটের অভিযোগে প্রশাসন আদৌ কোনও পদক্ষেপ নেয় কি না। নাকি আগের মতোই চলতে থাকবে বেআইনি কাজ— সেদিকেই নজর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের।








