অকাল বৃষ্টিতে আলু চাষে বিপর্যয়, ক্ষতিপূরণের দাবিতে কৃষকদের আর্তি
নতুন পয়গাম, প্রীতিময় সরখেল, ধূপগুড়িঃ লাভের আশায় ঋণ নিয়ে আলু চাষ করেছিলেন এলাকার বহু কৃষক। কিন্তু অকাল অবিরাম বৃষ্টি ও কালবৈশাখী ঝড়ে সেই স্বপ্ন এখন ভেঙে চুরমার। টানা বৃষ্টির জেরে আলুর জমিতে জমে রয়েছে জল, ফলে মাঠ থেকেই আলু তোলা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। কৃষকদের অভিযোগ, জমিতে নেমে আলু তুলতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে অনেক আলুই মাটির নিচেই নষ্ট হয়ে গেছে। কেউ কেউ কষ্ট করে আলু তুলতে পারলেও বাজারে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত দাম। ফলে উৎপাদন খরচ তোলাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত পাঁচ দিনের কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে হাজার হাজার বিঘা জমির আলু চাষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে চরম হতাশায় ভুগছেন চাষিরা। অনেকেই সোনা বন্ধক রেখে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছেন, আবার কেউ আগাম টাকার বিনিময়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে চুক্তি করে চাষ করেছিলেন। এখন ফসল নষ্ট হওয়ায় সেই ঋণ কীভাবে শোধ করবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাদের।
কৃষকদের দাবি, এক বিঘা জমিতে আলু চাষ করতে প্রায় ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে যেখানে প্রায় ১০০ প্যাকেট আলু উৎপাদন হয়, সেখানে এবছর তা নেমে এসেছে প্রায় ৪০ প্যাকেটে। এই সামান্য উৎপাদন বিক্রি করে কেবলমাত্র শ্রমিকের মজুরি দেওয়াই সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন তারা। এই পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন। এখন দেখার বিষয়, রাজ্য বা কেন্দ্র— কোন সরকারের তরফে কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের মুখে হাসি ফেরানো হয়। সব মিলিয়ে, প্রকৃতির খামখেয়ালিপনায় আলু চাষে বড়সড় ধাক্কা খেয়ে দিশেহারা কৃষক সমাজ, আর তাদের চোখ এখন সরকারের সহায়তার।








