স্মৃতি বিস্মৃতির অন্তরালে: বই মানুষের শ্রেষ্ঠ সঙ্গী , রাজু পারাল
২৩ এপ্রিল ‘বিশ্ব বই দিবস’ হিসেবে পালিত হয়ে গেল। বর্তমান সময়ে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির কারণে বই পড়ার চাহিদা কিছুটা কমলেও বই পড়ার বিকল্প এখনো গড়ে ওঠেনি। সময় কাটানোর জন্য, নিঃসঙ্গতা দূর করার জন্য এবং মানসিক আনন্দ লাভের জন্য বই পড়ার গুরুত্ব আজও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। বই না পড়লে জীবনের একটা বড় আনন্দ থেকে বিচ্যুত হতে হয়। একথা অনস্বীকার্য, যে জাতি যত সভ্য, সে জাতির পশ্চাতে আছে তত বই পড়ার চর্চা। বই পড়া শুধু শিক্ষার জন্য নয়, সৎ সঙ্গের জন্যও প্রয়োজন। বই পড়ার মধ্যে যে আনন্দ আছে, তা যারা পাঠ করে, তারাই উপলব্ধি করতে পারে। ইউরোপের সভ্য সমাজেও দেখা যায়, বই পড়া সে সমাজের সভ্যদের ফ্যাশনের একটি প্রধান অঙ্গ। সেজন্য প্যারিসের নাগরিকরা আনাতোল ফ্রাঁসের টাটকা বই পড়েননি — একথা উঠলে সকলেই লজ্জিত হন। অথবা রুডওয়ার্ড কিপলিং- এর বই পড়েননি — একথা বললে লজ্জিত হতেন ইংল্যান্ডের সভ্য নাগরিকরা। সভ্যতা বলতে যদি উন্নত মানবসমাজের বহিরঙ্গ রূপকে বোঝানো হয়, তবে সেই সভ্যতার অন্যতম উপাদান হল বই পড়া। বই মানুষের এমনি এক সঙ্গী হতে পারে, যা ঠকায় না; বরং আমাদের বাঁচবার রসদ জোগায়। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষদের কাছে বই পড়ার বিকল্প কিছু নেই বললেই চলে। অতীতের ইতিহাস থেকে শুরু করে বর্তমান জীবনের নানা রসদ এবং আগামী দিনের পথ পরিক্রমার ভবিতব্য নির্ণীত হয় গ্রন্থ পাঠের মাধ্যমে।
আত্মোপলদ্ধি, জ্ঞান ও অন্তর্দৃষ্টির বিকাশে বই সকলের সহায়ক। যে জীবন বই-বিমুখ, সে জীবন প্রকৃত অর্থে জীবনই নয়, বই-হীন জীবন যেন প্রাণহীন দেহের মতোই মূল্যহীন। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায়, ‘ভালো বই আত্মশুদ্ধির শ্রেষ্ঠ উপায়’।
একটা বই মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে, এমন দৃষ্টান্তও কিন্তু কম নেই। অ্যারিস্টটল, ভলতেয়ার, প্লেটো, রুশো, মার্ক্স-সহ অনেকের বই-ই সমাজ পরিবর্তনে যথেষ্ট ভূমিকা পালন করেছিল। পল্লিকবি জসীমুদ্দিন বলেছিলেন, ‘বই আপনাকে অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যতের সবকালে নিয়ে যেতে পারে। যে দেশে আপনার কোনোদিন যাবার সম্ভাবনা নেই, বইয়ের রথে চেপে আপনি অনায়াসে সে দেশে পৌঁছে যেতে পারেন।’ শেষ করি টলস্টয়ের সেই বিখ্যাত উক্তি দিয়েয তিনি বলেছিলেন, ‘জীবনে আমার তিনটি জিনিস প্রয়োজন — বই, বই এবং বই।’








