BREAKING:
বাংলা দখল নয়; বাংলা গড়ার রাজনীতি চাই ৪৪ ডিগ্রি পার! তীব্র তাপপ্রবাহের কবলে দেশ  সংঘ নেতার মন্তব্যে উত্তাল রাজনীতি ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন পূরণে দিশা দেখাচ্ছে ‘এডুসলভ এডুটেক’, দেশী-বিদেশী অতিথির উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হল সমাবর্তন স্মৃতি বিস্মৃতির অন্তরালে: বই মানুষের শ্রেষ্ঠ সঙ্গী , রাজু পারাল যাদবপুর কান্ড : মোদির ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’ মন্তব্যে বাড়ল রাজনৈতিক উত্তাপ সামশেরগঞ্জের কৃতি সন্তান আজিজকে এসআইও-র সংবর্ধনা ডিব্রুগড়ে সাংবাদিকদের হুঁচরি দলের ষোড়শ বর্ষে পদার্পণ ৭ সাংসদ নিয়ে বিজেপিতে রাঘব চাড্ডা জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ চেয়ে পুনরায় নোটিশ মণিপুরে ফের কুকি-নাগা সংঘর্ষ, নিহত ৩ জন পেটিএম পেমেন্টস ব্যাংকের লাইসেন্স বাতিল ট্রাইব্যুনালকে দ্রুত শুনানি করতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ (বোল্ড) স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ, নাকি চিরস্থায়ী নির্ভরশীলতা? মাসুদ রহমান প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে কংগ্রেস গরমে লেবু-জলের উপকারিতা ক্ষমতা ও অর্থের সামনে নৈতিকতা কতটা অসহায় পুলিশ পর্যবেক্ষকদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ ‘প্রশ্ন করাই গণতন্ত্র’, মোদীকে মমতা ভোটের আগে উত্তপ্ত গোসাবা ধূপগুড়িতে সিপিএমের মহামিছিল, ভোটের আগে শক্তি প্রদর্শন সায়েন্সটেক ২০২৬: উদ্ভাবন ও মেধার মিলনস্থল এসবিআইএসটি ক্যাম্পাসে  বসিরহাটে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগদান নির্বাচন উপলক্ষে রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে হুগলি জেলা প্রশাসনের বৈঠক  ভোটের আবহে ফরাক্কায় কংগ্রেস ছাড়ার হিড়িক, তৃণমূলে শতাধিক যোগ জনজোয়ারে ভাসল ফরাক্কা, ইমরানের নিশানায় বিজেপি-তৃণমূল ষাটের দশকের বিশিষ্ট কবি, অধ্যাপক ড. নিরেন্দু হাজরা প্রয়াত গত বছর ভাল দাম মেলায় এবছর নতুন উদ্যমে পাট চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছে চাষীরা তীব্র গরমকে উপেক্ষা করে প্রচারে ঝড় তুললেন সপ্তগ্রামের তৃণমূল প্রার্থী বিদেশ বসু বারুইপুর রাসমাঠে মমতার জনসভা: ‘বাংলা দখল করলে দিল্লি দখল করবো’ দল ত্যাগের পর হাসানুজ্জামান বাপ্পার প্রতিক্রিয়া  সাগরদিঘীতে মহাজোটের জনসভা থেকে তৃণমূলকে চ্যালেঞ্জ নওসাদের  নববর্ষে আল মোস্তফা মিশনে ছাত্রীদের সংবর্ধনা ও উৎকর্ষ বাংলা কর্মসূচি মুর্শিদাবাদের রানিনগর, ডোমকল, জলঙ্গি তিন আসনেই তৃণমূল হারবে: বিধায়ক আব্দুর রাজ্জাক দৈনিক ‘নতুন পয়গাম’ সংবাদপত্রের ঈদ সংখ্যা প্রকাশ শর্ত সাপেক্ষে সুন্দরবনে মধু সংগ্রহের অনুমতি এসআইআর: সবার ভোটাধিকার ফেরাতে লড়াই জোরালো হবে কালিয়াচকে ওয়াইসি, মমতা সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ সামসেরগঞ্জে জনজোয়ার, রাহুলের সভায় গর্জে উঠল কংগ্রেস বিজেপি-আরএসএস  দেশের সংবিধান ধ্বংস করতে ব্যস্ত: রাহুল গান্ধি গ্রাম থেকে শহর, পাড়ায় পাড়ায় লাল মিছিল রোডম্যাপ ঈদসংখ্যা প্রকাশ ও সেমিনার সম্পন্ন, সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন “আক্রান্ত সাধারণের শিক্ষা, এসো গড়ি প্রতিরোধ” শীর্ষক আলোচনা সভা  হিঙ্গলগঞ্জ বিধানসভায় ত্রিমুখী লড়াই, ইস্যুতে সেতু, পানীয় জল ও নদীভাঙন রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার থেকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ক্ষতিগ্রস্ত ৫টি পরিবার ব্যান্ডেলে অভিষেকের সভায় সদলবলে তৃণমূলে যোগ দিলেন চুঁচুড়ার দাপুটে বিজেপি নেতা সুরেশ সাউ গান্ধীজিকে কটূক্তির প্রতিবাদে ধূপগুড়িতে রাস্তা অবরোধ  এসআইআর বাতিলের দাবিকে জোরালো করতেই ১৪ তারিখ মহাসমাবেশ ঘোষণা  বিজেপির যোগ দান কর্মসূচি কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা সাগরদিঘীতে তৃণমূল বনাম এসডিপিআই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই ১০০ বছরের অধিক সময় ধরে মাদুর তৈরি করে চলেছেন শিল্পীরা বসিরহাটের মহাকুমায় কংগ্রেসের শক্তি প্রদর্শন মনোনয়ন ঘিরে শক্তি প্রদর্শন নবীনচন্দ্র বাগের কান্দিতে শক্তি বাড়িয়ে প্রচারে ঝড় মিম পার্টির হুগলির বলাগড়ের জনসভায় মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণে সরকারের জনমুখী প্রকল্পের কথা প্রয়াত গনি খানের ভাই আবু হাসেম খান চৌধুরী চার তারিখ যখন ভোট বাক্স খুলবে তখন পদ্মফুলের নেতারা চোখে সর্ষে ফুল দেখবে: অভিষেক সুতিতে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের নিয়ে নির্বাচনী সভা, ইমানী বিশ্বাসের সমর্থনে জনসমাগম ইলামবাজার থানার পক্ষ থেকে জঙ্গলমহলে রুটমার্চ  প্রান্তিক কিন্নর সমাজের অবহেলিত জীবনের কথা, অন্তরালে’র প্রদর্শনীতে ভিড় উপচে পড়ল নন্দনে চুঁচুড়ায় বিজেপি প্রার্থীর নাম ঘোষণা হতেই প্রার্থী বললেন ঘরের মাঠে লড়াই করবেন বিধানসভা নির্বাচনঃ হুগলি জেলা নির্বাচনী দপ্তরের উদ্যোগে সর্বদলীয় বৈঠক সম্পন্ন হল উন্নয়ন বনাম প্রতিশ্রুতি– উত্তরবঙ্গে অভিষেকের জনসভায় রাজনৈতিক বার্তা ইমাম অ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয় উদ্বোধন, তৃণমূলকে সমর্থনের বার্তা  নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রস্তুতি, বসিরহাটে দরবারে জিয়ারত ডঃ শহিদুল হকের ১ বুথে ৪২৭ ভোটারের নাম বাদ, ক্ষোভে মালদহ রাজ্য সড়ক অবরোধ  দুবরাজপুর বিধানসভাকে পাখির চোখ করে জনসভা মুখ্যমন্ত্রীর ভোট প্রচার ছেড়ে দ্রুত রক্তদানের ব্যবস্থা করলেন বড়জোড়ার সিপিআইএম প্রার্থী হুগলি জেলা নির্বাচন দপ্তরের ব্যবস্থাপনায় ভোটার সচেতনতা র‍্যালি  আরো এক ধাপ এগিয়ে মধ্যমগ্রামের প্রতিবিম্ব ফাউন্ডেশন  ভোট প্রচারে পখন্না এলাকায়  তৃণমূল প্রার্থী  গৌতম মিশ্র  লরির ধাক্কায় স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু, উত্তেজনায় অবরুদ্ধ এশিয়ান হাইওয়ে ৪৮ ইসলামিক জ্ঞানের আন্তঃরাজ্য প্রতিযোগিতা: করনদীঘীর জামিয়া আল ফুরকানের উদ্যোগে হুগলি জেলার সবকটি বিধানসভা নির্বাচনে ঘরের জন্য ইভিএম ও ভিভিপ্যাট পরীক্ষা করা হল এল পি জি সংকটের মধ্যে সিলিন্ডার থেকে গ্যাসের বদলে জল বেরোনোর অভিযোগ, উত্তেজনা পোলবায় পথে পথে ভালোবাসা, সিউড়িতে অভিনব জনসংযোগে বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় সিউড়ি আদালতে হাজিরা দিলেন বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পল  “গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব নয়” মোথাবাড়িতে বামদের কড়া বার্তা বাতাবারির চার্চে উষ্ণ অভ্যর্থনা, সম্প্রীতির বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী ঘোজাডাঙ্গা সীমান্তে জাঁকজমকপূর্ণ বাসন্তী পুজোর সূচনা ভাঙড়ে ভোটের আগে ‘বারুদ-ছায়া’ ইন্দাসে প্রচারে তৃণমূল প্রার্থী শ্যামলী রায় বাগদী তৃণমূলের প্রার্থীকে নিয়ে প্রচারের ঝড় জামালপুরে পাথর প্রতিমায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সভায় জনসমুদ্র এস ভি আই এস টি কলেজ ক্যাম্পাসে শুরু হলো আন্ত স্কুল স্পোর্টস টুর্নামেন্ট সুন্দরবনে তৈরি হলো ম্যানগ্রোভ রিসোর্স হাব আরণ্যক এস‌আইআর বিরোধী প্রতিবাদ সপ্তাহে ভগৎ সিং স্মরণ রাজ্যের বৃহত্তম ঈদের জামাত কালিয়াচকের সুজাপুর নয়মৌজা ঈদগাহে কুলতলিতে বিরোধী শিবিরে বড়সড় ধাক্কা ১৫০০ কর্মী-সমার্থক তৃণমূলে যোগদান প্রাকৃতিক দুর্যোগকে উপেক্ষা করে হুগলি জেলায় সুষ্ঠুভাবে পালিত হল ঈদের নামাজ ‘তিনদিনের যোগী’ বলে সাংসদ রচনাকে কটাক্ষ অসিত মজুমদারের মালদহে আরও চারটি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী ঘোষণা করলো আম জনতা উন্নয়ন পার্টি অকাল বৃষ্টিতে আলু চাষে বিপর্যয়, ক্ষতিপূরণের দাবিতে কৃষকদের আর্তি গ্রেফতার তৃণমূল ছাত্রনেতা: মেলায় জুয়া খেলার অভিযোগে চাঞ্চল্য থেমে নেই মানবিকতার লড়াই – বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জীবনে আলো জ্বালাচ্ছেন রামপুরহাটের শিক্ষিকা বর্ণালী রুজ উদ্যোক্তা সুব্রত মিদ্যার গ্রাম থেকে গ্লোবাল হওয়ার গল্প বৈষ্ণবনগরে কংগ্রেসের প্রার্থীর দৌড়ে এগিয়ে অধ্যাপক ড. সিদ্ধার্থ শঙ্কর ঘোষ  আন্তর্জাতিক মঞ্চে উজ্জ্বল বসিরহাটের কন্যা, আরাধ্যা কুণ্ডুর সাফল্যে গর্বিত ক্রীড়ামহল বহরমপুরে লাল কেল্লার থিমে জমজমাট ঈদ উদযাপন রাজ্যে অলিখিত রাষ্ট্রপতি শাসন চলছে বলে অভিযোগ তৃণমূল সুপ্রিমোর 

সুলতানি আমলে বাংলার শিক্ষাব্যবস্থা

প্রকাশিত: ১২ জানুয়ারী ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:৫১ | আপডেট: ২১ জানুয়ারী ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:৫৮
সুলতানি আমলে বাংলায় প্রাথমিক শিক্ষার ব্যাপক প্রচার-প্রসার ছিল। শিক্ষা ছিল সামাজিক সম্মান অর্জনের মাধ্যম। বাংলার সুলতানরা তাই শুরু থেকেই শিক্ষার প্রসারে মনোযোগ দিয়েছিলেন। এমনকি ধনাঢ্যরাও পিছিয়ে থাকেননি। প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হত মক্তব থেকে। প্রায় প্রতিটি মসজিদে এবং ধনী ব্যক্তিদের বাড়ির সামনে থাকত মক্তব। বাংলায় এসব মক্তবকে পাঠশালাও বলা হত। সাধারণত চার-পাঁচ বছর বয়সে শিশুদেরকে মক্তবে পাঠানো হত।

সঈফ উদ্দীন মণ্ডল,নতুন পয়গাম: সুলতানি আমলে বাংলায় প্রাথমিক শিক্ষার ব্যাপক প্রচার-প্রসার ছিল। শিক্ষা ছিল সামাজিক সম্মান অর্জনের মাধ্যম। বাংলার সুলতানরা তাই শুরু থেকেই শিক্ষার প্রসারে মনোযোগ দিয়েছিলেন। এমনকি ধনাঢ্যরাও পিছিয়ে থাকেননি। প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হত মক্তব থেকে। প্রায় প্রতিটি মসজিদে এবং ধনী ব্যক্তিদের বাড়ির সামনে থাকত মক্তব। বাংলায় এসব মক্তবকে পাঠশালাও বলা হত। সাধারণত চার-পাঁচ বছর বয়সে শিশুদেরকে মক্তবে পাঠানো হত।
ভারতবর্ষে সাধারণত বছর ও মাসের মিল রাখা হত, যেমন চার বছর চার মাস বয়সে কিংবা পাঁচ বছর পাঁচ মাস বয়সে শিশুদেরকে মক্তবে পাঠানো হত। শিক্ষক কুরআনের একটি আয়াত পাঠ করতেন, শিশু তা পুনরাবৃত্তি করত। এভাবেই শুরু হত শিশুর শিক্ষাজীবন। ধনীরা এই উপলক্ষে খাবারের আয়োজন করতেন। এই অনুষ্ঠানকে বলা হত ‘বিসমিল্লাহ-খানি’। সেসময় ফার্সি ছিল রাজভাষা। ফলে সালতানাতের চাকরি পেতে হলে ফার্সি ভাষা জানতে হত। মক্তবে আরবি ও ফার্সি পড়ানো হত। অমুসলিম বা হিন্দু শিশুরাও মক্তবে পড়ত। সুলতানি আমলে অনেক হিন্দু কর্মকর্তা সাম্রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন।
সাইয়েদ সোলাইমান নাদভি তাঁর ‘হিন্দুয়ো কি তালিমি তরক্কি মে মুসলমান হুকুমরানো কি কোশিশে’ — গ্রন্থে এমন অনেক হিন্দু কর্মকর্তার পরিচয় দিয়েছেন, যাঁরা বাল্যকালে মক্তবে মুসলিম শিশুদের সাথে পড়াশোনা করেছেন।
সেকালে প্রতিটি মসজিদের জন্য লা-খেরাজ ভূমির ব্যবস্থা ছিল। এই জমির আয় থেকে মসজিদের ব্যয় নির্বাহ করা হত। সাধারণত মসজিদের ইমামই মক্তবে পড়াতেন। প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষায় ধর্মীয় শিক্ষাদানই ছিল মূল পাঠ্যক্রম। কবি বিপ্রদাস লিখেছেন, মুসলিম ছেলে-মেয়েদেরকে মক্তবে অজু করা ও নামায পড়ার পদ্ধতি শেখানো হত। এসময় হস্তলিপিও শেখানো হত।
প্রাথমিক শিক্ষার পরের ধাপ ছিল মাধ্যমিক শিক্ষা। মাদ্রাসাসমূহে এই স্তরের পাঠ দেয়া হত। সুলতানি আমলে শুরু থেকেই এই অঞ্চলে প্রচুর মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করা হয়। ঐতিহাসিক মিনহাজ-ই-সিরাজ লিখেছেন, বখতিয়ার খলজি লখনৌতি জয়ের পর সেখানে মসজিদ, মাদ্রাসা ও খানকাহ নির্মাণ করেন।
সুলতানি আমলের অন্য সুলতানরাও এই ধারা অব্যাহত রাখেন। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য লা-খেরাজ জমি বরাদ্দ দেয়া হত। শিক্ষকদের জন্যও ভাতা নির্ধারণ করা হত। সুলতানি আমলে শিক্ষকদের এই ধরনের ভাতাকে বলা হত মদদ-ই-মাআশ। সদরুস সুদুর ও শায়খুল ইসলাম নামে দুটি পদ ছিল। এই দুই পদে আসীন কর্মকর্তারা এসব মাদ্রাসা ও শিক্ষকদের দেখভাল করতেন। প্রায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রচুর লা-খেরাজ জমি ওয়াকফ করে দেয়া হত। নওগাঁর মহিসন্তোষে তকিউদ্দিন আরাবি প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসার জন্য বরাদ্দ জমির পরিমাণ ছিল ২৭০০ একর। রাজশাহীর বাঘাতে প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসার জন্য ৪২টি গ্রাম দান করা হয়েছিল। এসব মাদ্রাসায় ছাত্ররা বিনা খরচে আহার, পোশাক, প্রসাধনী, পান্ডুলিপি নকল করার জন্য কাগজ-কলম ইত্যাদি সবই পেত।
সেসময় ধনাঢ্যরা তাদের সন্তানদের পড়াশোনার জন্য গৃহশিক্ষক নিয়োগ করতেন। এলাকার দরিদ্র ছাত্ররাও এই শিক্ষকের কাছে পড়ার সুযোগ পেত। সুলতানি আমলে প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসাগুলোর মধ্যে বেশিরভাগই কালের আবর্তে হারিয়ে গেছে। তবে এখনো গুটিকয় মাদ্রাসার নিদর্শন টিকে আছে। এর মধ্যে নওগাঁর মহিসুনে তকিউদ্দিন আরাবির মাদ্রাসার কথা বলা যায়। এখানে পড়েছিলেন বিহারের বিখ্যাত সুফি শারফুদ্দিন মানেরির পিতা ইয়াহইয়া মানেরি। এই মাদ্রাসার পাঠ্যসূচিতে চিকিৎসাবিজ্ঞান, রসায়ন, জ্যামিতি, ইতিহাস ও অন্যান্য বিষয় পাঠ্য ছিল। সেসময় মহিসুন ছিল সোহরাওয়ার্দি তরিকার সুফিদের আবাসভূমি।
ত্রয়োদশ শতাব্দীর শেষদিকে শায়খ শারফুদ্দিন আবু তাওয়ামা সোনারগাঁওতে একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। ঐতিহাসিক তথ্যমতে, বাংলায় সর্বপ্রথম এখানেই হাদিসের দারস দেয়া হয়। ১৫০৩ খ্রিস্টাব্দে সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহ দরসবাড়ি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। চাঁপাই-নবাবগঞ্জে এখনো এই মাদ্রাসার পরিকাঠামো টিকে আছে।
আবদুল করিম লিখেছেন, সুলতানি আমলে যেখানেই মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করা হত, সেখানেই একটা Religious Complex গড়ে উঠত। মাদ্রাসার সাথে মসজিদ, খানকা, মাজার এবং সরাইখানাও নির্মাণ করা হত। কখনো কখনো শুধু মসজিদ ও মাদ্রাসাও প্রতিষ্ঠা করা হত। সুফিরা মাদ্রাসা নির্মাণ করলে সাথে তাঁরা খানকাহও নির্মাণ করতেন।
এই মাদ্রাসাগুলো ছিল আবাসিক। ছাত্র-শিক্ষক সবাই মাদ্রাসায় থাকতেন। জালাল উদ্দিন মুহাম্মদ শাহের শিলালিপিতে তালিবুল ইলমদের জন্য ব্যয় করার কথা আছে। বিভিন্ন শিলালিপিতে মাদ্রাসাকে দারুল খাইরাত বা বিনাউল খাইরাত বলা হয়েছে। যা থেকে বোঝা যায়, সুলতান ও আমিরদের পাশাপাশি বিভিন্ন সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিরাও মাদ্রাসা ও ছাত্র-শিক্ষকদের জন্য ব্যয় করতেন। জাফর খানের মাদ্রাসার শিলালিপিতে দেখা যায় কাজি নাসির তাঁর ব্যক্তিগত অর্থ থেকে এই মাদ্রাসায় দান করেছিলেন।
এসব মাদ্রাসায় সাধারণত কুরআন, হাদিস, ধর্মতত্ত্ব, আইনশাস্ত্র, তাসাউফ, নাহু-সরফ, ফিকহ, আদব ও অন্যান্য ইসলামী বিষয় পাঠ্য ছিল। এর পাশাপাশি যুক্তিবিদ্যা, গণিতশাস্ত্র, চিকিৎসাবিদ্যা, রসায়ন, জ্যামিতি ও অন্যান্য বিষয়ও পড়ানো হত। এই অঞ্চলে গ্রিক চিকিৎসাবিদ্যার অধ্যয়ন করানো হত। ‘শরফনামা’ গ্রন্থে আমির সাহাবুদ্দিন হাকিম কিরমানি নামে চতুর্দশ শতকের একজন বিশিষ্ট বাঙালি চিকিৎসকের উল্লেখ পাওয়া যায়। সুলতান জামালউদ্দিন ফতেহ শাহ চিকিৎসাবিদ্যায় দক্ষতা অর্জন করেছিলেন। মুহাম্মদ বুদাই লিখিত হিদায়াতুর রমি বা তীর চালনার নির্দেশিকা বইটি অনেক মাদ্রাসায় পাঠ্য ছিল। এ থেকে বোঝা যায়, কোথাও কোথাও প্রাথমিক পর্যায়ের সমরবিদ্যা বা যুদ্ধশাস্ত্র সম্পর্কেও ধারণা দেয়া হত। অনেক মাদ্রাসায় ক্যালিগ্রাফি বা লিপিকলা শেখানো হত।
সুলতানি আমলে মেয়েদের পর্দার কারণে সাধারণত তাদের পড়াশোনা প্রাথমিক স্তর পর্যন্তই সীমাবদ্ধ ছিল। বালিকাদেরও ‘বিসমিল্লাহ-খানি’ অনুষ্ঠান করা হত। তারা বালকদের সাথে একত্রে মক্তবে পড়াশোনা শুরু করত। অভিজাত পরিবারের মেয়েরা তাদের ঘরেই কোনো শিক্ষকের কাছে উচ্চশিক্ষা সমাপ্ত করতেন। আলেমগণ অবসরে তাদের কন্যাদেরকে শিক্ষা দিতেন।
সেকালে শিক্ষকরা সমাজে সম্মানের আসনে অধিষ্ঠিত ছিলেন। শিক্ষকের হাতে সন্তানকে তুলে দিয়ে পিতা-মাতা নিশ্চিন্ত হতেন। ছাত্ররাও শিক্ষকের প্রতি প্রচণ্ড ভক্তি ও শ্রদ্ধা অনুভব করত।
রাজ দরবারের পক্ষ থেকে শিক্ষকদের লা-খেরাজ জমি ও ভাতা দেয়া হত। ছাত্ররা শিক্ষকদের সাংসারিক কাজকর্মেও সাহায্য করত। মাদ্রাসার শিক্ষকরা সামাজিক বিভিন্ন বিষয়েও জড়িয়ে যেতেন। যেমন বিয়ে-শাদি ও অন্যান্য অনুষ্ঠান পরিচালনা। ছাত্রদের অনুপস্থিতি, পাঠে অমনোযোগ, বেয়াদবির মতো অপরাধে শাস্তি দেয়া হত। কখনো বেত্রাঘাত, কখনো অন্য শাস্তি দেয়া হত।
প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা মেঝেতে খড়ি-মাটি দিয়ে লিখত। এরপর তারা কলাপাতা, তালপাতা এসবের ওপর লিখত। কলম হিসেবে ব্যবহার করত বাঁশের কঞ্চি, পাখির পালক বা নলখাগড়ার টুকরো। ছাত্ররা বসত মেঝেতে বা ঘর থেকে নিয়ে আসা মাদুরে। ছাত্ররা নিজেরাই লেখার কালি তৈরি করত। হরিতকি ও প্রদীপের নির্বাপিত ফুলকা দ্বারা তারা যে কালি তৈরী করত, তা কয়েক শতাব্দী পর্যন্ত টিকে থাকত।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder