হেতমপুরে তৃণমূলের কোর কমিটি ঘিরে তীব্র গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, পদত্যাগের হুঁশিয়ারি একাংশ নেতার
নতুন পয়গাম, খান সাহিল মাজহার, বীরভূম: দুবরাজপুর ব্লকের হেতমপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের অঞ্চল কোর কমিটি গঠনকে ঘিরে ফের প্রকাশ্যে এল তীব্র গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। কমিটি ঘোষণার পরই দলের একাংশ নেতার মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে, এমনকি কয়েকজন নেতা কমিটিতে না থাকার কথা জানিয়ে পদত্যাগের ঘোষণাও করেছেন। জানা যায়, ‘জাগো বাংলা দুবরাজপুর ব্লক’ নামে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে তৃণমূলের দুবরাজপুর ব্লকের যুগ্ম আহ্বায়ক রফিউল হোসেন খান একটি পোস্ট করেন। সেখানে হেতমপুর অঞ্চলের তৃণমূল কোর কমিটির ১২ জন সদস্যের নাম প্রকাশ করা হয়। পোস্টে উল্লেখ করা হয় যে বীরভূম জেলা ও দুবরাজপুর ব্লক কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই কোর কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কিন্তু কমিটি ঘোষণার পরই বিতর্কের সৃষ্টি হয়। তালিকায় থাকা ১২ জন সদস্যের মধ্যে পাঁচজনই প্রকাশ্যে জানিয়ে দেন যে তারা এই কমিটির অংশ নন এবং তাদের নাম অনুমতি ছাড়াই দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে তারা দলীয় প্রচারে অংশ নেবেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এই ঘটনার জন্য দুবরাজপুর ব্লক তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন হেতমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান শেখ সবুর আলী, তৃণমূল নেতা অভিনিবেশ রায় এবং দুবরাজপুর পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ শেখ জসিম উদ্দিন সহ মোট পাঁচজন নেতা। তাঁদের অভিযোগ, দুবরাজপুর ব্লক কমিটির আহ্বায়ক রফিউল হোসেন খানের উদ্যোগেই এই কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং এতে এলাকার যোগ্য ও সক্রিয় কর্মীদের বাদ দেওয়া হয়েছে।
তাঁরা আরও অভিযোগ করেন, হেতমপুর এলাকায় ইচ্ছাকৃতভাবে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব তৈরি করে দলকে দুর্বল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এমনকি রফিউল হোসেন খানের সঙ্গে বিজেপির আঁতাত রয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন ওই নেতারা। এদিকে এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে তৃণমূলকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন বিজেপির দুবরাজপুর মণ্ডল সভাপতি শম্ভুনাথ ব্যানার্জি। তাঁর দাবি, তৃণমূলের ভেতরের দ্বন্দ্বই প্রমাণ করছে যে দলের মধ্যে চরম অস্থিরতা চলছে এবং সাধারণ কর্মীরা বঞ্চিত হচ্ছেন। হেতমপুরে তৃণমূলের কোর কমিটি ঘিরে এই বিতর্কে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।








