সিউড়ির হাটজনবাজারে রেল লেভেল ক্রসিং বন্ধ ঘিরে বিক্ষোভ, মানুষের চাপে সিদ্ধান্ত বদল রেলের
নতুন পয়গাম, খান সাহিল মাজহার, সিউড়ি: বীরভূম জেলার সিউড়ি শহরের হাটজনবাজার এলাকায় রেল ফ্লাইওভার সেতু তৈরি হওয়ার পর পুরনো রেল লেভেল ক্রসিং সহ নিচের রাস্তা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে এদিন উদ্যোগ নেয় রেল দপ্তর। তবে রেলের এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে তীব্র আপত্তি জানায় স্থানীয় বাসিন্দা ও তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা–কর্মীরা। শেষ পর্যন্ত বিক্ষোভের মুখে পড়ে রেল কর্তৃপক্ষকে পিছু হটতে হয় এবং রাস্তা পুরোপুরি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত রাখা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে হাটজনবাজার এলাকার মানুষ এই রেল লেভেল ক্রসিং ও নিচের রাস্তা ব্যবহার করে যাতায়াত করে আসছেন। এলাকায় একাধিক বসতি রয়েছে এবং বহু মানুষ প্রতিদিন এই পথ দিয়ে যাতায়াত করেন। সম্প্রতি সেখানে একটি রেল ফ্লাইওভার সেতু তৈরি হয়েছে। সেই সেতু চালু হওয়ার পর পুরনো লেভেল ক্রসিং ও নিচের রাস্তা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয় রেল দপ্তর। সেই অনুযায়ী এদিন রেলের কর্মীরা এসে রাস্তা বন্ধ করার উদ্যোগ নেন।
কিন্তু খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে জড়ো হন স্থানীয় বাসিন্দারা এবং তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা–কর্মীরা। তারা রেলের এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। তাদের দাবি, ওই রাস্তা হঠাৎ করে বন্ধ করে দিলে আশেপাশের বহু মানুষের যাতায়াতে সমস্যা তৈরি হবে। কারণ রেল ফ্লাইওভার সেতু ব্যবহার করে যেতে হলে অনেকটা ঘুরপথে যেতে হবে এবং সময়ও বেশি লাগবে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, নতুন তৈরি হওয়া রেল ফ্লাইওভার সেতুতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নেই। এছাড়া সেতুতে পথচারীদের জন্য আলাদা ফুটপাতও নেই। ফলে সাধারণ মানুষ যদি সেই সেতু দিয়ে হাঁটাচলা করেন, তাহলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। পাশাপাশি সেতুতে ওঠানামার জন্য পর্যাপ্ত সিঁড়ির ব্যবস্থাও নেই বলেও অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় তৃণমূল নেতা পবিত্র দাস বলেন, এলাকার সাধারণ মানুষের স্বার্থের কথা না ভেবেই এই রাস্তা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। হাটজনবাজার এলাকায় বহু মানুষের বসবাস এবং তাদের দৈনন্দিন যাতায়াতের জন্য এই রাস্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই মানুষের নিরাপত্তা ও সুবিধার কথা বিবেচনা না করে এই রাস্তা বন্ধ করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না বলে তিনি জানান।
স্থানীয়দের বিক্ষোভের মুখে শেষ পর্যন্ত রেল কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি বিবেচনা করে তাদের সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আনে। রেলের এক আধিকারিক জানান, আপাতত রাস্তা পুরোপুরি বন্ধ করা হচ্ছে না। স্থানীয়দের দাবি মেনে ওই রাস্তা দিয়ে বাইক, সাইকেল এবং পথচারীদের যাতায়াতের ব্যবস্থা রাখা হবে।
এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা তৈরি হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। তবে স্থানীয়দের দাবি, স্থায়ী সমাধানের জন্য রেল কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে এবং মানুষের নিরাপদ যাতায়াতের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে তুলতে হবে।








