কেন্দ্রীয় বাহিনীর রুট মার্চ, বাড়ছে ভোটের আগে নিরাপত্তা বার্তা
নতুন পয়গাম, প্রীতিময় সরখেল, ধূপগুড়িঃ ভোটের দিনক্ষণ এখনও ঘোষণা হয়নি। তার আগেই বানারহাট ব্লকের বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছে গিয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। সোমবার দুরামারি, নাথুয়া-সহ একাধিক অঞ্চলে রাজ্য পুলিশের সঙ্গে যৌথভাবে রুট মার্চ করে কেন্দ্রীয় বাহিনী। বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিতে এলাকায় নিরাপত্তার বার্তা স্পষ্ট হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্বাচন ঘোষণার আগেই সাধারণ ভোটারদের আস্থা ফিরিয়ে আনাই এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য। রুট মার্চ চলাকালীন দুরামারি ও নাথুয়া এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন জওয়ানরা। তাঁদের নিরাপত্তার আশ্বাস দেওয়া হয়। পাশাপাশি সম্ভাব্য বিভিন্ন ভোটগ্রহণ কেন্দ্রও পরিদর্শন করেন বাহিনীর সদস্যরা।
পঞ্চায়েত নির্বাচনের ঘটনার প্রভাব
উল্লেখ্য, গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে বানারহাট ব্লকের নাথুয়া এলাকায় ভয়াবহ অশান্তির ঘটনা ঘটেছিল। নির্বাচনের দিন ছাপ্পা ভোট দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরায় সেই দৃশ্য ধরা পড়লে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। অভিযোগ ওঠে, শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস-এর কর্মী-সমর্থকেরা ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের ভেতরেই সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের উপর হামলা চালান। পুলিশের সামনেই ওই হামলার ঘটনা ঘটে বলে দাবি করা হয়। ঘটনায় বিজেপি কর্মীসহ একাধিক ব্যক্তি আহত হন। হামলায় প্রায় তেরোজন সাংবাদিক ও ক্যামেরাম্যান জখম হন বলে অভিযোগ। বিষয়টি নিয়ে রাজ্যজুড়ে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছিল।
রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে
এবারের নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। বিরোধী শিবির এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। বিশেষ করে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) দাবি করেছে, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটের স্বার্থে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নজরদারি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
অন্যদিকে শাসকদলের বক্তব্য, নির্বাচনকে ঘিরে অযথা আতঙ্ক তৈরি করা হচ্ছে। তাদের দাবি, বিরোধীরা রাজনৈতিক সুবিধা নিতেই এমন প্রচার চালাচ্ছে।
ভোটারদের আশা
রাজনৈতিক চাপানউতোরের মাঝেও সাধারণ মানুষের একাংশ মনে করছেন, কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি ভোটারদের মধ্যে আস্থা বাড়াবে। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে অশান্তির কারণে বহু মানুষ ভোট দিতে যেতে পারেননি বলে অভিযোগ ওঠে। তাই আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে কড়া নিরাপত্তার নজরদারিতে ভোট হলে ভোটদানের হার বাড়তে পারে বলেই আশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এখন দেখার, নির্বাচন ঘোষণার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঘিরে প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয় এবং তা কতটা প্রভাব ফেলে ভোটের পরিবেশে।








