BREAKING:
জোড়াসাঁকোয় সাহিত্য-সংস্কৃতির মহোৎসবে কলম শিল্পী গ্র্যান্ড ফেস্টিভ্যাল ২০২৬ খোশবাগ বাসস্ট্যান্ডের কাছে পথ দুর্ঘটনা, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন দন্ত চিকিৎসক বসিরহাট দরবার শরিফে হুমায়ুন কবীর, পেলেন উষ্ণ অভ্যর্থনা লাল বালির চড়া দাম, গ্রামবাসীদের ভরসা পাথরের গুড়ো   রমজানে অসহায়দের পাশে আল হোসাইনী হেল্প ফাউন্ডেশন সুন্দরবনের লবণাক্ত মাটিতে সূর্যমুখী চাষে সাফল্য, লাভের মুখ দেখছেন কৃষকরা হুগলি জেলায় এসআইআর এর প্রথম পর্যায়ের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করলেন জেলা শাসক খুরশিদ আলি কাদরি  বন্যপ্রাণীর উপদ্রব রুখতে তৎপর বনদপ্তর উত্তাপহীন ডার্বিতে মহামেডানকে ৫ গোলে উড়িয়ে দিল মোহনবাগান মরণবাঁচন ম্যাচে আজ সামনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জিততেই হবে ভারতকে রাজনগরে চাঞ্চল্য: গাংমুড়ি গ্রামে বাড়ির ভিতর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার মোবাইল গেম খেলতে খেলতেই নিভে গেল ২১ বছরের তরতাজা প্রাণ  মুর্শিদাবাদের মুকুটে নতুন দুই পালক, বিশ্ববিদ্যালয় ও কাটরা মসজিদের তোরণ প্রকল্পের শিলান্যাস করলেন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম! রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে ত্রিশটি আসনে লড়বে পুকুর খনন করার সময় প্রাচীন বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার হল পান্ডুয়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে উড়িয়ে সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকা। রানে ফিরলেন অভিষেক, জয়ে ফিরলো ভারত; বেঁচে রইলো সেমির স্বপ্ন এসআইআর  ইস্যুতে আতঙ্ক নয়, আইনি পথে আপিলের আহ্বান মিল্লি ঐক্য মঞ্চের কালিয়াচক আবাসিক মিশনে বিজ্ঞান বিভাগের প্রবেশিকা পরীক্ষা সম্পন্ন, উৎসাহ চোখে পড়ার মতো পরীক্ষার দিন আচমকা মৃত্যু অষ্টম শ্রেণির ছাত্রের, শোকস্তব্ধ সোনারপুর নাবালিকাকে বিবাহের অভিযোগে জয়নগরে গ্রেপ্তার যুবক জয়নগরে মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনা, আহত তিন শ্রমিক নেতা মহম্মদ ওয়েস এর নেতৃত্বে বড়জোড়ায় বিরাট মিছিল কুলতলির বিধায়কের উপস্থিতিতে ঢালাই রাস্তার কাজের সূচনা হলো নলগোড়ায় ঘুটিয়ারীশরিফে পুলিশের তৎপরতায় ৫৪ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার গঙ্গাকে দূষণমুক্ত করতে উদ্যোগ সুন্দরবনে বাঘের হামলায় ফের মৃত্যু, সরকারি ক্ষতিপূরণের দাবি এসআইও নিয়ে মিথ্যা মন্তব্যের প্রতিবাদে কলকাতায় সাংবাদিক সম্মেলন জামাআতে ইসলামী হিন্দের ইফতার সামগ্রী বিতরণ বই হোক সই, বইয়ের জন্য করিমপুরে পথে হাঁটল শত শত মানুষ রমজান মাসে ৩০০ দুস্থ পরিবারের পাশে সমাজসেবী হাফেজ নজরুল ইসলাম অবশেষে ধুলিয়ান গঙ্গা স্টেশনে বাংলা স্থান পেল  মুর্শিদাবাদে দুই মেগা প্রকল্পের শিলান্যাস ২৮ ফেব্রুয়ারি ভাঙড়ে ২৮ টি তাজা বোমা ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার, গ্রেপ্তার দুই জন্মদিনে অবহেলিত ভূদেব মুখোপাধ্যায়, তালাবন্ধ গ্রীলে মালা ঝুলিয়ে জন্মদিন পালন করল বিজেপি বালিভর্তি ট্রাক চলাচল ঘিরে উত্তেজনা, সোনামুখীতে গ্রামবাসীর রাতভর বিক্ষোভ বসিরহাটে দলবদল ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ, তৃণমূলের সভায় বহু নেতার যোগদান ভোটের আগে বিরোধী শিবিরে বড় ভাঙন কুলতলীতে কালিয়াচকের বাহাদুরপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড চুঁচুড়ায় সোমবার সাতসকালে পথ দুর্ঘটনা, জখম যুবকের অবস্থা আশঙ্কাজনক নিহত সেনা জওয়ানের মরদেহ পৌঁছাল শেখপাড়ার বাড়িতে ব্লক প্রাণিসম্পদ বিকাশ দিবস পালিত জয়নগরে অনলাইন বাণিজ্যের প্রসারে ক্ষুদ্র ব্যবসা চাপে: মত বড়জোড়া চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশে ফের পরিযায়ী শ্রমিকের উপর হামলা উত্তরলক্ষীপুরের গর্ব: প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ হতে চলেছেন ডা: মোবারাক হোসেন পুনরাবৃত্তি চায় ভারত, দক্ষিন আফ্রিকা চায় প্রত্যাবর্তন; সুপার এইটে আজ হাড্ডাহাড্ডি লড়াই টানা দুই ম্যাচে জয় ইস্টবেঙ্গলের, দুই ম্যাচেই জোড়া গোল ইউসুফের বৃষ্টিতে ধুয়ে গেল পাকিস্তান-নিউজিল্যান্ডের ম্যাচ আজ শুরু সুপার এইটের লড়াই, প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি পাক বনাম নিউজিল্যান্ড আজ ইস্টবেঙ্গলের সামনে স্পোর্টিং দিল্লি, ভরসার নাম ইউসুফ আজ্জেরি প্রত্যাশিত হার, ঘরের মাঠে মহামেডান বধ এফসি গোয়ার ১৫ বছরেও শেষ হয়নি বক্সীপুর ব্রিজ নির্মাণ কাজ, জনস্বার্থ মামলা গড়াল কলকাতা হাই কোর্টে করিমপুর এলাকাবাসীকে বহরমপুর যেতে আর পেরুতে হবেনা বিপদ সংকুল রাস্তা এসআইআর এর চাপ, শ্রীরামপুরে মাঝ গঙ্গায় ঝাঁপ বিএলও’র ছেলেধরা সন্দেহে পুড়িয়ে খুনের চেষ্টার ঘটনায় বলাগড়ে ২৫ জন দোষীকে সাজা শোনালো চুঁচুড়ার ফার্স্ট ট্রাক কোর্ট বেআইনি মাটির গাড়ির ধাক্কায় ২ যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনে জি-প্লটের আদিবাসী শিশুরা  জল্পনার অবসান, তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন বাম যুব নেতা প্রতীক উর রহমান কনকচূড় ধানের চাল পেল জাতিসংঘের ঐতিহ্য স্বীকৃতি, খুশির হাওয়া জয়নগর জুড়ে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রশাসন-এনজিওর যৌথ উদ্যোগে সচেতনতা শিবির ঘোড়ামারা দ্বীপ রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপের নির্দেশ ট্রাইব্যুনালের, গঠিত হচ্ছে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি শেষ সময় ঘনাতেই যুব সাথী প্রকল্পের ফর্ম জমায় দীর্ঘ হচ্ছে লাইন পখন্না রামকৃষ্ণ আশ্রমে শ্রীরামকৃষ্ণের ১৯১তম জন্মতিথি উদ্‌যাপন বড়জোড়া কলেজে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত সায়েম চৌধুরী ওরফে বাবু: সংগঠন, সংগ্রাম ও সেবার রাজনীতি সোনার প্রতিমার প্রলোভনে ১১ লক্ষ টাকার প্রতারণা ঘুঁটিয়ারীশরিফে পুলিশের সাফল্য: ২৪ চুরি যাওয়া মোবাইল উদ্ধার হুগলি জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের উদ্যোগে খাদ্য সুরক্ষা মেলা’য় সুষম খাদ্য খাওয়ার পরামর্শ  উলুবেড়িয়ায় ১৫ টিয়া উদ্ধার, আন্তরাজ্য পাখি পাচারচক্রের সদস্য গ্রেফতার সরকারি জমি দখল ও নয়নজুলি ভরাটের অভিযোগে চাঞ্চল্য ধূপগুড়িতে কাবিলপুর হাই স্কুলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠা দিবস ঘটা করে উদযাপন পবিত্র রমজান মাস শুরুর ঠিক আগে ইফতার সামগ্রী বিতরণ জয়নগরে ২০২৬ নির্বাচন ঘিরে ফারাক্কায় জোর চর্চায় রেহেনা ইয়াসমিন  পিতা-মাতার স্মৃতিতে আট দিনব্যাপী ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজন পুলিশকর্মী ছেলের উদ্যোগে সুন্দরবনের মৎস্যজীবীদের মৃত্যু মিছিল থামছেই না, সরকারি ক্ষতিপূরনের দাবি মাটি, মানুষ ও সংগঠন: রাবিউল ইসলামের রাজনৈতিক দর্শন দুবে ঝড়ে উড়ে গেল নেদারল্যান্ডস, বোলিংয়ে নায়ক বরুণ হঠাতই ব্যাটিং বিপর্যয়, রঞ্জি থেকে বিদায় বাংলার ফারহানের দুরন্ত সেঞ্চুরি, সুপার এইটে পাকিস্তানও ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচে আজ নামিবিয়ার মুখোমুখি পাকিস্তান সামির ৮ উইকেটেও, ব্যাটিং বিপর্যয়ে হারের মুখে বাংলা চুঁচুড়ায় প্রার্থী ঘোষণার আগেই দেওয়াল লিখনে জোর তৃণমূল, পাল্টা কটাক্ষ বিজেপির কুলতলিতে আয়ুষ মেলা: বিকল্প চিকিৎসা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে উদ্যোগ রানীনগরে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীসভা ও জাকির হোসেনের উপস্থিতিতে উপচে পড়া ভিড়  কৃষকদের সমস্যা সমাধানে চালু ‘ভারত বিস্তার’ এআই টুল গোবর্ধনডাঙ্গায় তৃণমূল ট্রেড ইউনিয়নের কর্মী সভা কাবিলপুরে মানব সেবা ফাউন্ডেশনের পথচলা শুরু মালদা জেলায় হাই মাদ্রাসা, আলিম ও ফাজিল পরীক্ষা নির্বিঘ্নেই সম্পন্ন পা দিয়ে লিখেই উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা মানকুন্ডুতে সারা বাংলা একদিনের দাবা প্রতিযোগিতা মেরা যুব ভারতের উদ্যোগে মগরাহাটে জেলা ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অপসংস্কৃতির স্রোতের বিপরীতে নাট্যচর্চার বার্তা – বাগনানে তিনদিনের নাট্য উৎসবে নজর কাড়ল বাঙালপুর বয়েজ ক্লাব দ্বীপাঞ্চলবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণ: আমতায় নির্মীয়মাণ কংক্রিটের সেতুতে বাড়ছে আশার আলো মানসম্মত শিক্ষা ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে কলকাতায় স্কুল ম্যানেজমেন্ট কর্মশালা জীবনে কিছু জায়গা থেকে চুপচাপ সরে আসতে হয় ১৪ই ফেব্রুয়ারি: ভালবাসার দিন হিসেবে কেন পালিত হয়? সুদ, মাদক ও জুয়ার অদৃশ্য জোট: সমাজ ধ্বংসের নীরব চক্রান্ত আদ্রায় ‘বিনা পয়সার বাজারে’ উপচে পড়া ভিড়, হাসি ফিরল অসংখ্য মুখে মেডিকেল ভর্তিতে কাট অফ বিতর্কে তোলপাড় দেশ হবু ডাক্তারদের মান, মেধা ও রোগীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন কেরালার আদালতে নতুন অধ্যায় রচিত দৃষ্টিহীন তরুণী বিচারক গড়লেন নজির

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের মানবিক অধিকারের নীরব প্রশ্ন

প্রকাশিত: ৩ ডিসেম্বর ২০২৫, সন্ধ্যা ৬:০৭ | আপডেট: ৩ ডিসেম্বর ২০২৫, সন্ধ্যা ৬:০৭

মহম্মদ মফিজুল ইসলাম

আরও পড়ুন:

‘বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু’ এই শব্দ বন্ধনীর উচ্চারণে যেন এক অদৃশ্য দীর্ঘশ্বাস লুকিয়ে থাকে। সমাজের দোরগোড়ায় দাঁড়ানো অগণিত পরিবার তাদের সন্তানদের হাত ধরে প্রতিদিন যে অন্তহীন সংগ্রামের ভেতর দিয়ে হাঁটে, সেই সংগ্রামের শব্দ বাইরের বিশ্ব খুব কমই শোনে। অথচ এই শিশুরাই মানবজাতির এমন এক আয়না, যেখানে সভ্যতা তার প্রকৃত মানবিকতার পরিচয় পরীক্ষা করতে পারে। তারা দুর্বল নয়, তারা অক্ষম নয়; বরং সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিই তাদের দুর্বলতার অভিধানে ঠেলে দেয়। আমরা কি তাদের চোখে চোখ রেখে বলতে পারি — ‘তুমিও আমাদের মতোই নাগরিক, তোমারও সমান অধিকার আছে, সমান মর্যাদা আছে’?

আরও পড়ুন:

সভ্যতার মূল ভিত্তি করুণা নয়, ন্যায়। করুণা মানুষে মানুষে দূরত্ব তৈরি করে; ন্যায় মানুষকে মানুষ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের ক্ষেত্রে এই সত্য আরও প্রকট। তারা অনুগ্রহের পাত্র নয় যে, আমরা চাইলে তাদের সুযোগ দেব, না চাইলে সরিয়ে রাখব। তারা অধিকারবঞ্চিত সেই শিশুর দল, যারা পৃথিবীর আলো দেখার আগেই সমাজের বৈষম্য ও অযত্নের আঁধারের মুখোমুখি হয়। কিন্তু আমরা ভাবি কি? তারা নীরবে বেঁচে থাকে, তারা সমাজের বোঝা — এমন ধারণা আমাদের মধ্যে এখনও রয়ে গেছে। অথচ এই ধারণাই সবচেয়ে বড় অমানবিকতা।
ঈশোপনিষদের দ্বিতীয় মন্ত্রে বলা হয়েছে, মানুষ যেন শতবর্ষ বাঁচে এবং কর্ম করে বাঁচে। জীবনকে শুধু টিকে থাকা নয়, অর্থপূর্ণ হওয়ার মধ্যেই তার পূর্ণতা। কিন্তু যারা জন্মসূত্রে শারীরিক বা মানসিক প্রতিবন্ধকতার কারণে কর্মজীবনের নানা সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়, তারা কি তবে অপূর্ণ? তাদের জীবনের মানে কি শুধু দীর্ঘায়ু? নিশ্চয়ই নয়। কারণ, কর্ম মানে কেবল চাকরি বা আয়-রোজগার নয়; কর্ম মানে নিজস্ব সম্ভাবনার পূর্ণতা অর্জন, নিজের জীবনকে নিজের মতো করে গড়ে তোলা, নিজের আনন্দ-দুঃখকে অনুভব করার ক্ষমতা। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরাও এই আনন্দ ও স্বাধীনতার অধিকার নিয়ে পৃথিবীতে আসে। সমাজ সেই অধিকারকে স্বীকৃতি না দিলে দোষ কার?

আরও পড়ুন:

দোষ সেই সমাজের, যা এই শিশুদের দুর্বলতার দিকে চোখ রাখে, শক্তির দিকটি অবহেলা করে। দোষ সেই দৃষ্টিভঙ্গির, যা ভাবে দয়া করলেই যেন সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। অথচ দরকার সহানুভূতি নয়, সমানাধিকার। দরকার বিশেষ ব্যবস্থাপনা নয়, সমান সুযোগ। দরকার দয়া নয়, মানবিক সম্মান।

আরও পড়ুন:

আমাদের রাষ্ট্র কি সেই সম্মানের ভাষা জানে? আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা কি জানে কীভাবে এই শিশুদের পাশে দাঁড়াতে হয়? অধিকাংশ ক্ষেত্রেই উত্তর, না। শহরের বড় বড় স্কুলেও আজ এমন শিক্ষক বা সাইকোলজিক্যাল কাউন্সেলিং সেবা নেই, যা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য অপরিহার্য। গ্রামীণ স্কুলগুলোর কথা না বলাই ভাল, সেখানে এই শিশুদের পরিচর্যার কোনও পরিকাঠামোই নেই। তারা পাঠ্যবইয়ের পাতায় যোগ্যতা খোঁজে, বাস্তব জীবনের ক্ষমতা ও প্রতিভাকে উপেক্ষা করে। ফলত, এই শিশুরা অল্প বয়সেই বুঝে ফেলে, সমাজ তাদের মতো করে তৈরি নয়। তারা যেন অনাহুত অতিথি, যাদের জন্য দরজা আছে, কিন্তু প্রবেশাধিকার নেই।

আরও পড়ুন:

কিন্তু আমরা কি সত্যিই জানি, এদের ভেতরে কত আলোর সঞ্চার লুকিয়ে থাকে? কোনও শিশু জন্মগতভাবে অক্ষম নয়; বরং সমাজের অক্ষমতা তাকে অক্ষম করে তোলে। কেউ দেখতে পায় না, তার আঙুলের আঁচড় দিয়ে কাগজে কীভাবে সে নিজের পৃথিবী রচনা করে। কেউ শোনে না তার ভাঙা শব্দের ভেতর কী গভীর অনুভব লুকিয়ে আছে। কেউ উপলব্ধি করে না, তার নীরবতায় কী অদৃশ্য আকুলতা ভেসে থাকে। আমরা যেন চোখ খোলা রেখেই তাদের অদৃশ্য করে দিই।

আরও পড়ুন:

আজও বহু পরিবার আছে, যারা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুকে নিয়ে শান্তিতে রাস্তায় বেরোতে পারে না। সমাজের দৃষ্টিতে যেন অব্যক্ত উপহাসের ছায়া ভাসে, “ওদের জীবনই বা জীবনের মতো কি?” অথচ সত্য হল, এই শিশুদের জীবনই আমাদের শেখায় মানবিকতার সবচেয়ে বড় পাঠ ধৈর্য, নিষ্ঠা, সহানুভূতি এবং ভালবাসার গভীরতম রূপ। তাদের প্রতিটি হাসি জয়ের হাসি, তাদের প্রতিটি অগ্রগতি সংগ্রামের ধ্বনি। তাদের জীবনের প্রতিটি হাঁটা, প্রতিটি উচ্চারণ, মানুষের ইচ্ছাশক্তির শ্রেষ্ঠ প্রমাণ।

আরও পড়ুন:

তবুও প্রশ্ন থেকে যায়, রাষ্ট্র কি তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে? সমাজ কি তাদের গ্রহণ করেছে? সরকার কি তাদের জন্য নীতিগতভাবে যথেষ্ট ব্যবস্থা করেছে? আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, আমাদের দেশে এখনও সমন্বয়িত শিখন (Inclusive Education) পূর্ণমাত্রায় বাস্তবায়িত হয়নি। স্কুলে শিক্ষক প্রশিক্ষণ, থেরাপি সুবিধা, বিশেষ শিক্ষকের নিয়োগ, পড়াশোনার জন্য আলাদা সহায়ক ব্যবস্থা, এসব এখনও নীতি হিসেবে আছে, বাস্তবে নেই। ফলে শিক্ষাবঞ্চিত হওয়া ছাড়া এই শিশুদের সামনে কোনও রাস্তা খোলা থাকে না।

আরও পড়ুন:

চিকিৎসা পরিকাঠামোর কথা ভাবলে দেখা যায়, অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল পরিবারগুলো প্রয়োজনীয় ফিজিওথেরাপি, অকুপেশনাল থেরাপি, স্পিচ থেরাপি বা সাইকোলজিক্যাল কাউন্সেলিংয়ের মতো সেবা নিয়মিতভাবে দিতে পারে না। রাষ্ট্র যদি তাদের জন্য বিনামূল্যে এবং সহজলভ্য সেবা প্রদান না করে, তবে এই শিশুরা শৈশব থেকেই পিছিয়ে পড়বে, এটাই স্বাভাবিক। সমাজের চোখে তারা তখন আরও “বোঝা”হয়ে উঠবে। অথচ শুরুতেই যদি যথাযথ সাহায্য পায়, তবে এই শিশুরাই পরবর্তীতে সমাজের অন্যতম সক্রিয় নাগরিক হয়ে উঠতে পারে।

আরও পড়ুন:

বিশ্বজুড়ে নানা উদাহরণ আছে, ডাউন সিনড্রোমের শিশু শিল্পের জগতে দখল তৈরি করেছে, অটিজমের শিশু কম্পিউটার কোডিংয়ে বিস্ময় তৈরি করেছে, শ্রবণ প্রতিবন্ধী তরুণ বিশ্ব সঙ্গীতের মঞ্চ কাঁপিয়েছে, দৃষ্টিহীন লেখক সৃষ্টি করেছেন অমর সাহিত্য। তাহলে আমাদের চোখে প্রতিবন্ধকতা এত বড় হয়ে ওঠে কেন? কারণ, আমরা তাদের সাফল্যের পথ রুদ্ধ করে রেখেছি, সুযোগ না দিয়ে তাদের অযোগ্যতার পাল্লা ভারী করে তুলেছি। সমাজের এই স্থূল মানসিকতাই আজ ভাঙা জরুরি।

আরও পড়ুন:

প্রত্যেক মানুষ তার নিজের মতো করে অনন্য। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরাও সেই অনন্যতারই প্রকাশ। তাদের বোঝা যায় না সহজ চোখে; বোঝা যায় হৃদয়ের চোখে। কিন্তু আমরা কি সেই চোখ দিয়ে দেখি? যেদিন আমরা দেখব, সেদিনই সমাজের প্রকৃত পরিবর্তন শুরু হবে।

আরও পড়ুন:

আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বদলাতে হবে। শিক্ষা যেন না হয় বাছাইয়ের হাতিয়ার, শুধু দ্রুত শেখে, বেশি নম্বর পায়, ভাল কথা বলে — এই মানদণ্ডে সবাইকে পরিমাপ করা মানবিকতার পরিপন্থী। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য আলাদা পাঠক্রম নয়; পাঠক্রমকে এমনভাবে রূপান্তর করতে হবে, যাতে তারা নিজেদের মতো করে শেখার সুযোগ পায়। প্রত্যেক স্কুলে বিশেষ শিক্ষক, থেরাপিস্ট, কাউন্সেলর — এগুলো কেবল সুবিধা নয়, অপরিহার্যতা। প্রতিটি জেলা হাসপাতালে পূর্ণাঙ্গ শিশু-মনোবিদ্যা বিভাগ থাকা উচিত। কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও সংরক্ষণ থাকা উচিত এবং আরও গুরুত্বপূর্ণ হল সংবেদনশীলতা থাকা উচিত।

আরও পড়ুন:

কিন্তু আইন ও পরিকাঠামোর বাইরেও আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র আছে, মানসিকতা। সমাজের মানসিকতা পরিবর্তন না হলে কোনও নীতি কার্যকর হবে না। আমরা কি আমাদের সন্তানদের শিখিয়ে দিই, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বন্ধুর পাশে কীভাবে দাঁড়াতে হয়? আমরা কি নিজেদের মধ্যে সেই সাহস তৈরি করেছি, বৈচিত্র্যকে গ্রহণ করার? আমরা কি এই শিশুদের প্রতিবন্ধকতা নয়, তাদের সম্ভাবনাকে দেখতে শিখেছি?

আরও পড়ুন:

যে সমাজ দুর্বলকে গ্রহণ করতে পারে না, সে সমাজ কখনও শক্তিশালী হয় না। যে রাষ্ট্র নিজের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের একটি অংশকে অবহেলা করে, সে রাষ্ট্র কখনও উন্নত হতে পারে না। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু আমাদের দায় নয়; তারা আমাদের সত্তার অংশ। তাদের জীবনেই আমাদের মানবিকতার পরীক্ষা। আমরা কি পরীক্ষা দিচ্ছি? নাকি ফেল করছি প্রতিদিন?

আরও পড়ুন:

আমাদের আজ প্রতিজ্ঞা করা উচিত, প্রত্যেক শিশুর হাত ধরে আমরা এমন সমাজ গড়ব, যেখানে কোনও শিশু নিজেকে বোঝা মনে করবে না। বরং ভাববে, “আমি গুরুত্বপূর্ণ, আমি সক্ষম, আমি এই সমাজের গর্ব।”যেদিন আমাদের রাষ্ট্র, সমাজ, স্কুল, পরিবার — সবাই একসঙ্গে এই ভাষায় কথা বলবে, সেদিনই বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের চোখে আমরা অদৃশ্য এক আলো দেখতে পাব — মানবিকতার আলো, মর্যাদার আলো, সমানাধিকারের আলো।

আরও পড়ুন:

শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি খুব সহজ, আমরা কি এমন এক সমাজ গড়তে চাই, যেখানে সবাই সমান? যদি চাই, তবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের পাশে দাঁড়ানো কোনও দয়া নয়, কোনও উপকার নয়, এটি আমাদের অপরিহার্য কর্তব্য। কারণ, তারা বাঁচতে চায়, হাসতে চায়, শিখতে চায়, এগোতে চায় অন্য সবার মতো। আমরা শুধু তাদের হাতটা ধরে রাখব — সেই হাতই সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাবে, আমাদের চেয়েও অনেক দূরে।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder