BREAKING:
জোড়াসাঁকোয় সাহিত্য-সংস্কৃতির মহোৎসবে কলম শিল্পী গ্র্যান্ড ফেস্টিভ্যাল ২০২৬ খোশবাগ বাসস্ট্যান্ডের কাছে পথ দুর্ঘটনা, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন দন্ত চিকিৎসক বসিরহাট দরবার শরিফে হুমায়ুন কবীর, পেলেন উষ্ণ অভ্যর্থনা লাল বালির চড়া দাম, গ্রামবাসীদের ভরসা পাথরের গুড়ো   রমজানে অসহায়দের পাশে আল হোসাইনী হেল্প ফাউন্ডেশন সুন্দরবনের লবণাক্ত মাটিতে সূর্যমুখী চাষে সাফল্য, লাভের মুখ দেখছেন কৃষকরা হুগলি জেলায় এসআইআর এর প্রথম পর্যায়ের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করলেন জেলা শাসক খুরশিদ আলি কাদরি  বন্যপ্রাণীর উপদ্রব রুখতে তৎপর বনদপ্তর উত্তাপহীন ডার্বিতে মহামেডানকে ৫ গোলে উড়িয়ে দিল মোহনবাগান মরণবাঁচন ম্যাচে আজ সামনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জিততেই হবে ভারতকে রাজনগরে চাঞ্চল্য: গাংমুড়ি গ্রামে বাড়ির ভিতর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার মোবাইল গেম খেলতে খেলতেই নিভে গেল ২১ বছরের তরতাজা প্রাণ  মুর্শিদাবাদের মুকুটে নতুন দুই পালক, বিশ্ববিদ্যালয় ও কাটরা মসজিদের তোরণ প্রকল্পের শিলান্যাস করলেন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম! রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে ত্রিশটি আসনে লড়বে পুকুর খনন করার সময় প্রাচীন বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার হল পান্ডুয়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে উড়িয়ে সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকা। রানে ফিরলেন অভিষেক, জয়ে ফিরলো ভারত; বেঁচে রইলো সেমির স্বপ্ন এসআইআর  ইস্যুতে আতঙ্ক নয়, আইনি পথে আপিলের আহ্বান মিল্লি ঐক্য মঞ্চের কালিয়াচক আবাসিক মিশনে বিজ্ঞান বিভাগের প্রবেশিকা পরীক্ষা সম্পন্ন, উৎসাহ চোখে পড়ার মতো পরীক্ষার দিন আচমকা মৃত্যু অষ্টম শ্রেণির ছাত্রের, শোকস্তব্ধ সোনারপুর নাবালিকাকে বিবাহের অভিযোগে জয়নগরে গ্রেপ্তার যুবক জয়নগরে মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনা, আহত তিন শ্রমিক নেতা মহম্মদ ওয়েস এর নেতৃত্বে বড়জোড়ায় বিরাট মিছিল কুলতলির বিধায়কের উপস্থিতিতে ঢালাই রাস্তার কাজের সূচনা হলো নলগোড়ায় ঘুটিয়ারীশরিফে পুলিশের তৎপরতায় ৫৪ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার গঙ্গাকে দূষণমুক্ত করতে উদ্যোগ সুন্দরবনে বাঘের হামলায় ফের মৃত্যু, সরকারি ক্ষতিপূরণের দাবি এসআইও নিয়ে মিথ্যা মন্তব্যের প্রতিবাদে কলকাতায় সাংবাদিক সম্মেলন জামাআতে ইসলামী হিন্দের ইফতার সামগ্রী বিতরণ বই হোক সই, বইয়ের জন্য করিমপুরে পথে হাঁটল শত শত মানুষ রমজান মাসে ৩০০ দুস্থ পরিবারের পাশে সমাজসেবী হাফেজ নজরুল ইসলাম অবশেষে ধুলিয়ান গঙ্গা স্টেশনে বাংলা স্থান পেল  মুর্শিদাবাদে দুই মেগা প্রকল্পের শিলান্যাস ২৮ ফেব্রুয়ারি ভাঙড়ে ২৮ টি তাজা বোমা ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার, গ্রেপ্তার দুই জন্মদিনে অবহেলিত ভূদেব মুখোপাধ্যায়, তালাবন্ধ গ্রীলে মালা ঝুলিয়ে জন্মদিন পালন করল বিজেপি বালিভর্তি ট্রাক চলাচল ঘিরে উত্তেজনা, সোনামুখীতে গ্রামবাসীর রাতভর বিক্ষোভ বসিরহাটে দলবদল ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ, তৃণমূলের সভায় বহু নেতার যোগদান ভোটের আগে বিরোধী শিবিরে বড় ভাঙন কুলতলীতে কালিয়াচকের বাহাদুরপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড চুঁচুড়ায় সোমবার সাতসকালে পথ দুর্ঘটনা, জখম যুবকের অবস্থা আশঙ্কাজনক নিহত সেনা জওয়ানের মরদেহ পৌঁছাল শেখপাড়ার বাড়িতে ব্লক প্রাণিসম্পদ বিকাশ দিবস পালিত জয়নগরে অনলাইন বাণিজ্যের প্রসারে ক্ষুদ্র ব্যবসা চাপে: মত বড়জোড়া চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশে ফের পরিযায়ী শ্রমিকের উপর হামলা উত্তরলক্ষীপুরের গর্ব: প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ হতে চলেছেন ডা: মোবারাক হোসেন পুনরাবৃত্তি চায় ভারত, দক্ষিন আফ্রিকা চায় প্রত্যাবর্তন; সুপার এইটে আজ হাড্ডাহাড্ডি লড়াই টানা দুই ম্যাচে জয় ইস্টবেঙ্গলের, দুই ম্যাচেই জোড়া গোল ইউসুফের বৃষ্টিতে ধুয়ে গেল পাকিস্তান-নিউজিল্যান্ডের ম্যাচ আজ শুরু সুপার এইটের লড়াই, প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি পাক বনাম নিউজিল্যান্ড আজ ইস্টবেঙ্গলের সামনে স্পোর্টিং দিল্লি, ভরসার নাম ইউসুফ আজ্জেরি প্রত্যাশিত হার, ঘরের মাঠে মহামেডান বধ এফসি গোয়ার ১৫ বছরেও শেষ হয়নি বক্সীপুর ব্রিজ নির্মাণ কাজ, জনস্বার্থ মামলা গড়াল কলকাতা হাই কোর্টে করিমপুর এলাকাবাসীকে বহরমপুর যেতে আর পেরুতে হবেনা বিপদ সংকুল রাস্তা এসআইআর এর চাপ, শ্রীরামপুরে মাঝ গঙ্গায় ঝাঁপ বিএলও’র ছেলেধরা সন্দেহে পুড়িয়ে খুনের চেষ্টার ঘটনায় বলাগড়ে ২৫ জন দোষীকে সাজা শোনালো চুঁচুড়ার ফার্স্ট ট্রাক কোর্ট বেআইনি মাটির গাড়ির ধাক্কায় ২ যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনে জি-প্লটের আদিবাসী শিশুরা  জল্পনার অবসান, তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন বাম যুব নেতা প্রতীক উর রহমান কনকচূড় ধানের চাল পেল জাতিসংঘের ঐতিহ্য স্বীকৃতি, খুশির হাওয়া জয়নগর জুড়ে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রশাসন-এনজিওর যৌথ উদ্যোগে সচেতনতা শিবির ঘোড়ামারা দ্বীপ রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপের নির্দেশ ট্রাইব্যুনালের, গঠিত হচ্ছে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি শেষ সময় ঘনাতেই যুব সাথী প্রকল্পের ফর্ম জমায় দীর্ঘ হচ্ছে লাইন পখন্না রামকৃষ্ণ আশ্রমে শ্রীরামকৃষ্ণের ১৯১তম জন্মতিথি উদ্‌যাপন বড়জোড়া কলেজে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত সায়েম চৌধুরী ওরফে বাবু: সংগঠন, সংগ্রাম ও সেবার রাজনীতি সোনার প্রতিমার প্রলোভনে ১১ লক্ষ টাকার প্রতারণা ঘুঁটিয়ারীশরিফে পুলিশের সাফল্য: ২৪ চুরি যাওয়া মোবাইল উদ্ধার হুগলি জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের উদ্যোগে খাদ্য সুরক্ষা মেলা’য় সুষম খাদ্য খাওয়ার পরামর্শ  উলুবেড়িয়ায় ১৫ টিয়া উদ্ধার, আন্তরাজ্য পাখি পাচারচক্রের সদস্য গ্রেফতার সরকারি জমি দখল ও নয়নজুলি ভরাটের অভিযোগে চাঞ্চল্য ধূপগুড়িতে কাবিলপুর হাই স্কুলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠা দিবস ঘটা করে উদযাপন পবিত্র রমজান মাস শুরুর ঠিক আগে ইফতার সামগ্রী বিতরণ জয়নগরে ২০২৬ নির্বাচন ঘিরে ফারাক্কায় জোর চর্চায় রেহেনা ইয়াসমিন  পিতা-মাতার স্মৃতিতে আট দিনব্যাপী ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজন পুলিশকর্মী ছেলের উদ্যোগে সুন্দরবনের মৎস্যজীবীদের মৃত্যু মিছিল থামছেই না, সরকারি ক্ষতিপূরনের দাবি মাটি, মানুষ ও সংগঠন: রাবিউল ইসলামের রাজনৈতিক দর্শন দুবে ঝড়ে উড়ে গেল নেদারল্যান্ডস, বোলিংয়ে নায়ক বরুণ হঠাতই ব্যাটিং বিপর্যয়, রঞ্জি থেকে বিদায় বাংলার ফারহানের দুরন্ত সেঞ্চুরি, সুপার এইটে পাকিস্তানও ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচে আজ নামিবিয়ার মুখোমুখি পাকিস্তান সামির ৮ উইকেটেও, ব্যাটিং বিপর্যয়ে হারের মুখে বাংলা চুঁচুড়ায় প্রার্থী ঘোষণার আগেই দেওয়াল লিখনে জোর তৃণমূল, পাল্টা কটাক্ষ বিজেপির কুলতলিতে আয়ুষ মেলা: বিকল্প চিকিৎসা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে উদ্যোগ রানীনগরে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীসভা ও জাকির হোসেনের উপস্থিতিতে উপচে পড়া ভিড়  কৃষকদের সমস্যা সমাধানে চালু ‘ভারত বিস্তার’ এআই টুল গোবর্ধনডাঙ্গায় তৃণমূল ট্রেড ইউনিয়নের কর্মী সভা কাবিলপুরে মানব সেবা ফাউন্ডেশনের পথচলা শুরু মালদা জেলায় হাই মাদ্রাসা, আলিম ও ফাজিল পরীক্ষা নির্বিঘ্নেই সম্পন্ন পা দিয়ে লিখেই উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা মানকুন্ডুতে সারা বাংলা একদিনের দাবা প্রতিযোগিতা মেরা যুব ভারতের উদ্যোগে মগরাহাটে জেলা ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অপসংস্কৃতির স্রোতের বিপরীতে নাট্যচর্চার বার্তা – বাগনানে তিনদিনের নাট্য উৎসবে নজর কাড়ল বাঙালপুর বয়েজ ক্লাব দ্বীপাঞ্চলবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণ: আমতায় নির্মীয়মাণ কংক্রিটের সেতুতে বাড়ছে আশার আলো মানসম্মত শিক্ষা ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে কলকাতায় স্কুল ম্যানেজমেন্ট কর্মশালা জীবনে কিছু জায়গা থেকে চুপচাপ সরে আসতে হয় ১৪ই ফেব্রুয়ারি: ভালবাসার দিন হিসেবে কেন পালিত হয়? সুদ, মাদক ও জুয়ার অদৃশ্য জোট: সমাজ ধ্বংসের নীরব চক্রান্ত আদ্রায় ‘বিনা পয়সার বাজারে’ উপচে পড়া ভিড়, হাসি ফিরল অসংখ্য মুখে মেডিকেল ভর্তিতে কাট অফ বিতর্কে তোলপাড় দেশ হবু ডাক্তারদের মান, মেধা ও রোগীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন কেরালার আদালতে নতুন অধ্যায় রচিত দৃষ্টিহীন তরুণী বিচারক গড়লেন নজির

ট্রাম্পের শান্তি উদ্যোগ: ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি নাকি নতুন সম্ভাবনা?

প্রকাশিত: ১৫ অক্টোবর ২০২৫, সকাল ১০:১৬ | আপডেট: ১৫ অক্টোবর ২০২৫, সকাল ১০:১৬

পাশারুল আলম

আরও পড়ুন:

ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাত আধুনিক বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী ও জটিল ভূ-রাজনৈতিক সংকটগুলোর একটি। বিগত এক শতাব্দী ধরে এই সংকটের সমাধানে একের পর এক আন্তর্জাতিক চুক্তি, যুদ্ধবিরতি ও শান্তি পরিকল্পনা গৃহীত হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে স্থায়ী শান্তি ও ন্যায়ভিত্তিক সমাধান আজও অধরা। ১৯১৬ সালের সাইকস–পিকট চুক্তি থেকে শুরু করে ১৯৯৩ সালের অসলো চুক্তি এবং সম্প্রতি মিশরে শুরু হওয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শান্তি আলোচনার উদ্যোগ — ইতিহাস এক ধরনের পুনরাবৃত্তির সাক্ষী।

আরও পড়ুন:

ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি: সাইকস-পিকট থেকে অসলো

আরও পড়ুন:

ইসরাইল-ফিলিস্তিন প্রশ্নের উৎপত্তি এক অর্থে ঔপনিবেশিক রাজনীতির পরিণতি। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কালে ১৯১৬ সালে সাইকস-পিকট চুক্তির মাধ্যমে ব্রিটেন ও ফ্রান্স গোপনে অটোমান সাম্রাজ্যের আরব অঞ্চলগুলো নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয়। এই চুক্তিতে ফিলিস্তিনিদের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা বা ভূখণ্ডগত অধিকারকে সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা হয়েছিল। ইতিহাসবিদদের মতে, এটি ছিল আরব বিশ্বে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতার সূচনা বিন্দু।
কয়েক দশক পরে ১৯৯৩ সালের অসলো চুক্তি শান্তির এক নতুন আশা জাগায়। ইসরাইল ও প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (পিএলও) মধ্যে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মূল উদ্দেশ্য ছিল ফিলিস্তিনি স্বশাসনের পথ প্রশস্ত করা ও ইসরাইলি দখল হ্রাস করা। কিন্তু বাস্তবে জেরুজালেমের মর্যাদা, ইহুদি বসতি স্থাপন, শরণার্থীদের প্রত্যাবর্তন ও নিরাপত্তা ইস্যুতে মতপার্থক্যের কারণে চুক্তিটি ভেঙে পড়ে। ইয়াসিন আরাফতের প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হয়।

আরও পড়ুন:

ট্রাম্পের শান্তি উদ্যোগ: পুরনো চেহারায় নতুন মুখোশ?

আরও পড়ুন:

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় মিশরে শুরু হওয়া নতুন শান্তি আলোচনা অনেকের কাছে আবারও এক ধরনের শীর্ষ-নিম্নগামী প্রয়াস ও পুরনো চুক্তিগুলির মতন মনে হচ্ছে। এই আলোচনায় হামাস ও ইসরাইল সরাসরি উপস্থিত না থাকায় এটি মূলত বহিরাগত শক্তির দ্বারা পরিচালিত এক রাজনৈতিক প্রক্রিয়া। বিশেষ করে সমস্ত মুসলিম বিশ্বকে যেমন যুক্ত করা হয়নি, তেমনি যেসব দেশ দুই বছরের যুদ্ধ বলুন বা জন-সংহার তাতে ইসরাইলকে সহায়তা করেছে, তাদের উপস্থিতি অনেকেই সন্দেহ করেছেন।

আরও পড়ুন:

ট্রাম্পের পরিকল্পনার কয়েকটি মূল দিক:
১) গাজায় যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি মুক্তি, যার প্রথম পর্যায় শুরু হয়ে গেছে। কুড়িজন জীবিত জিম্মি মুক্তি পেয়েছে, অন্যদিকে বেশ কিছু আটক ফিলিস্তিনি মুক্তি পেয়েছে। পুনর্গঠনের জন্য আন্তর্জাতিক তহবিল গঠনের কথা ঘোষণা হয়েছে। এর পরিমাণ প্রায় দশ বিলিয়ন ডলার, যার বৃহদাংশ মুসলিম দুনিয়ার। যদিও পশ্চিমা দেশের অর্থ থাকবে।
২) হামাসকে ভবিষ্যৎ শাসন থেকে বাদ দেওয়া সমস্যার সৃষ্টি করবে। গাজার প্রায় ৫৩ শতাংশ অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ ইসরাইলের হাতে রাখা অনেককেই ভাবিয়ে তুলেছে। এর মধ্যে ভিতরের কোনো রহস্য জড়িয়ে আছে কিনা, সংশয় রয়েছে।
এই প্রস্তাবের মধ্যেই অতীতের চুক্তিগুলোর সঙ্গে মৌলিক সাদৃশ্য লুকিয়ে আছে। ফিলিস্তিনিদের সরাসরি রাজনৈতিক অংশগ্রহণের অভাব এবং শক্তির অমিলকে অক্ষত রাখা। যে ভাবে ইসরাইলের শক্তিকে বহাল রেখে এই চুক্তি করা হচ্ছে, তা ভবিষ্যত শান্তি স্থাপনের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন:

মৌলিক ইস্যুগুলো এখনো অমীমাংসিত:

আরও পড়ুন:

ট্রাম্পের পরিকল্পনার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হচ্ছে, ফিলিস্তিন প্রশ্নের মূল রাজনৈতিক ও সার্বভৌম ইস্যুগুলোর স্পষ্ট সমাধানের অনুপস্থিতি। শুধুমাত্র সম্ভাবনার উপর ভিত্তি করে শান্তি স্থাপন করা কঠিন ব্যাপার হবে। জেরুজালেমের মর্যাদা এখনো ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে সবচেয়ে সংবেদনশীল বিতর্কের বিষয়। অথচ এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট রোডম্যাপ না থাকা মূল বিবাদকে এড়িয়ে যাওয়ার সামিল। এছাড়া ইহুদি বসতি স্থাপন ও দখলদারিত্ব ইস্যুতে কোনো বাধ্যতামূলক প্রতিশ্রুতি নেই। একদিকে শান্তি চুক্তি, অন্যদিকে পশ্চিম তীরের চারশ সেটেলার বসতি বিষয়ে নীরব সমর্থন অশান্তির কারণ হিসাবে জিইয়ে রাখা হল।
শরণার্থী প্রত্যাবর্তনের অধিকার প্রসঙ্গে পরিকল্পনাটি প্রায় নীরব। ১৯৪৮ সাল থেকে যেসব শরণার্থী ফিলিস্তিন ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন, তাদের বিষয়ে কোনো ভূমিকা গ্রহণ না করা পুরনো সমস্যাকে বাঁচিয়ে রাখার নামান্তর। ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব নিয়ে স্পষ্ট রূপরেখা অনুপস্থিত। আমেরিকা ও ছোট ছোট কয়েকটি দেশ ছাড়া প্রায় ১৬০টি দেশ ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিয়েছে, অথচ চুক্তিতে এরকম একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে এড়িয়ে যাওয়া আর যাই হোক, এটি স্থায়ী শান্তি আনতে পারবে বলে মনে হয় না। এই অবস্থায় আমেরিকার চাপে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলেও তা এক ‘দীর্ঘমেয়াদি অস্থির শান্তি’ তৈরি করবে, যা প্রকৃত ন্যায়ভিত্তিক শান্তি নয়।

আরও পড়ুন:

শক্তির ভারসাম্যের অভাব:

আরও পড়ুন:

১৯৪৮ সালে ইসরাইল রাষ্ট্র গঠনের পর থেকেই ফিলিস্তিনিরা সামরিক ও ভূ-রাজনৈতিকভাবে টরম অসাম্যের বাস্তবতায় বসবাস করছে। ইসরাইলের কাছে উন্নত সামরিক শক্তি, আন্তর্জাতিক সমর্থন এবং আঞ্চলিক প্রভাব রয়েছে; অন্যদিকে ফিলিস্তিনিদের রাষ্ট্র পর্যন্ত নেই। ট্রাম্প পরিকল্পনায় ইসরাইলকে নিরাপত্তা রক্ষার নামে গাজার প্রায় অর্ধেক এলাকা নিয়ন্ত্রণে রাখার অনুমতি দেওয়া এই অসমতাকেই স্থায়ী করে তুলছে। যদিও আগামী দিনে বাফার জোনের ওপারে থাকবে — একথা বলা হলেও আগামীদিনে তা কোন দিকে যাবে বলা মুশকিল।

আরও পড়ুন:

ভবিষ্যতের দিগন্ত: জটিল সম্ভাবনা ও অনিশ্চয়তা

আরও পড়ুন:

এই পরিকল্পনার সফলতা বা ব্যর্থতা কয়েকটি মৌলিক প্রশ্নের ওপর নির্ভর করবে —
১) হামাসের ভবিষ্যৎ ভূমিকা: হামাসকে সম্পূর্ণ বাদ দিয়ে কোনো স্থায়ী শান্তি টেকসই হবে কি? এবিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। হামাস এবিষয়ে আগামী দিনে কী করবে, সে ব্যাপারেও সন্দেহ রয়েছে।
২) ফিলিস্তিনি জাতীয় ঐক্য: গাজা ও পশ্চিম তীরের রাজনৈতিক বিভক্তি দূর না হলে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব নয়। শান্তি চুক্তি হচ্ছে, কিন্তু ফিলিস্তিনি জাতিসত্তাকে অস্বীকার করে চুক্তিতে অস্থায়ী শান্তি স্থাপন হলে স্থায়ী শান্তি সম্ভব কিনা, এবিষয়ে যথেষ্ট সংশয় থেকে যায়।
৩) নিরাপত্তা বনাম স্বাধীনতা: ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার বা নিয়ন্ত্রণ হ্রাসের মাত্রা নির্ধারণেই আসল দ্বন্দ্ব নিহিত। বন্দী দশা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য যে বিবাদ, সে ব্যাপারে কোনো পথ নির্দেশিকা নেই।
৪) আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক সদিচ্ছা: বহিরাগত শক্তিগুলোর বাস্তবিক লক্ষ্য কি শান্তি, নাকি ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার? এই চুক্তির মধ্যে কি ১৯১৬ সালের গোপন চুক্তির মতো কোনো গোপন পরিকল্পনা রয়েছে। তাই যদি হয়, তাহলে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন আধুরা থেকে যাবে। ফিলিস্তিন যদি ভাগ বাটোয়ারা হয়ে যায়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্য আরো অশান্ত হয়ে উঠবে।
পরিশেষে বলা যায়, ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে — যখন ফিলিস্তিনিদের ভবিষ্যৎ বহিরাগত শক্তি নির্ধারণ করে, তখনই সেই উদ্যোগ ব্যর্থতার পথে হাঁটে। সাইকস-পিকট চুক্তি এবং অসলো চুক্তির মতোই ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনাও ফিলিস্তিনি জনগণের পূর্ণ রাজনৈতিক অধিকার ও সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত না করলে স্থায়ী শান্তি আনতে পারবে না।
এই অঞ্চলে প্রকৃত শান্তির একমাত্র ভিত্তি হতে পারে ইসরাইলি দখলদার নীতি বন্ধ করা। ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করার যে সমর্থন বিশ্ব দিয়েছে, তাকে যথার্থভাবে কার্যকর না করলে মূলে না গিয়ে ভুলের মধ্যে শান্তি খোঁজার আর একটি ব্যর্থ প্রয়াস ছাড়া আর কিছুই নয়। এর সঙ্গে পারস্পরিক স্বীকৃতি ও সম্মানের ভিত্তিতে সহাবস্থানের জন্য একটি উপযুক্ত প্রস্তাব এই চুক্তির মধ্যে অন্যতম খামতি বলে মনে হয়। ফিলিস্তিন রাষ্ট্র ও তার সার্বভৌম অধিকার এবং ১৯৬৭ সালের রাষ্ট্রসংঘের প্রস্তাব কার্যকর হলে শান্তির আশা করা যেতে পারে। আজকের এই শান্তি চুক্তিতে যা কোনো আলোচনার বিষয় হিসেবে গণ্য করা হয়নি। এতে বিশ্বের শান্তিপ্রিয় মানুষ আশা অপেক্ষা অধিক হতাশ হবেন। তবে সব কিছুর উপরে এই মুহূর্তে নর-সংহার বন্ধ হবে।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder