BREAKING:
জোড়াসাঁকোয় সাহিত্য-সংস্কৃতির মহোৎসবে কলম শিল্পী গ্র্যান্ড ফেস্টিভ্যাল ২০২৬ খোশবাগ বাসস্ট্যান্ডের কাছে পথ দুর্ঘটনা, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন দন্ত চিকিৎসক বসিরহাট দরবার শরিফে হুমায়ুন কবীর, পেলেন উষ্ণ অভ্যর্থনা লাল বালির চড়া দাম, গ্রামবাসীদের ভরসা পাথরের গুড়ো   রমজানে অসহায়দের পাশে আল হোসাইনী হেল্প ফাউন্ডেশন সুন্দরবনের লবণাক্ত মাটিতে সূর্যমুখী চাষে সাফল্য, লাভের মুখ দেখছেন কৃষকরা হুগলি জেলায় এসআইআর এর প্রথম পর্যায়ের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করলেন জেলা শাসক খুরশিদ আলি কাদরি  বন্যপ্রাণীর উপদ্রব রুখতে তৎপর বনদপ্তর উত্তাপহীন ডার্বিতে মহামেডানকে ৫ গোলে উড়িয়ে দিল মোহনবাগান মরণবাঁচন ম্যাচে আজ সামনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জিততেই হবে ভারতকে রাজনগরে চাঞ্চল্য: গাংমুড়ি গ্রামে বাড়ির ভিতর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার মোবাইল গেম খেলতে খেলতেই নিভে গেল ২১ বছরের তরতাজা প্রাণ  মুর্শিদাবাদের মুকুটে নতুন দুই পালক, বিশ্ববিদ্যালয় ও কাটরা মসজিদের তোরণ প্রকল্পের শিলান্যাস করলেন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম! রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে ত্রিশটি আসনে লড়বে পুকুর খনন করার সময় প্রাচীন বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার হল পান্ডুয়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে উড়িয়ে সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকা। রানে ফিরলেন অভিষেক, জয়ে ফিরলো ভারত; বেঁচে রইলো সেমির স্বপ্ন এসআইআর  ইস্যুতে আতঙ্ক নয়, আইনি পথে আপিলের আহ্বান মিল্লি ঐক্য মঞ্চের কালিয়াচক আবাসিক মিশনে বিজ্ঞান বিভাগের প্রবেশিকা পরীক্ষা সম্পন্ন, উৎসাহ চোখে পড়ার মতো পরীক্ষার দিন আচমকা মৃত্যু অষ্টম শ্রেণির ছাত্রের, শোকস্তব্ধ সোনারপুর নাবালিকাকে বিবাহের অভিযোগে জয়নগরে গ্রেপ্তার যুবক জয়নগরে মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনা, আহত তিন শ্রমিক নেতা মহম্মদ ওয়েস এর নেতৃত্বে বড়জোড়ায় বিরাট মিছিল কুলতলির বিধায়কের উপস্থিতিতে ঢালাই রাস্তার কাজের সূচনা হলো নলগোড়ায় ঘুটিয়ারীশরিফে পুলিশের তৎপরতায় ৫৪ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার গঙ্গাকে দূষণমুক্ত করতে উদ্যোগ সুন্দরবনে বাঘের হামলায় ফের মৃত্যু, সরকারি ক্ষতিপূরণের দাবি এসআইও নিয়ে মিথ্যা মন্তব্যের প্রতিবাদে কলকাতায় সাংবাদিক সম্মেলন জামাআতে ইসলামী হিন্দের ইফতার সামগ্রী বিতরণ বই হোক সই, বইয়ের জন্য করিমপুরে পথে হাঁটল শত শত মানুষ রমজান মাসে ৩০০ দুস্থ পরিবারের পাশে সমাজসেবী হাফেজ নজরুল ইসলাম অবশেষে ধুলিয়ান গঙ্গা স্টেশনে বাংলা স্থান পেল  মুর্শিদাবাদে দুই মেগা প্রকল্পের শিলান্যাস ২৮ ফেব্রুয়ারি ভাঙড়ে ২৮ টি তাজা বোমা ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার, গ্রেপ্তার দুই জন্মদিনে অবহেলিত ভূদেব মুখোপাধ্যায়, তালাবন্ধ গ্রীলে মালা ঝুলিয়ে জন্মদিন পালন করল বিজেপি বালিভর্তি ট্রাক চলাচল ঘিরে উত্তেজনা, সোনামুখীতে গ্রামবাসীর রাতভর বিক্ষোভ বসিরহাটে দলবদল ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ, তৃণমূলের সভায় বহু নেতার যোগদান ভোটের আগে বিরোধী শিবিরে বড় ভাঙন কুলতলীতে কালিয়াচকের বাহাদুরপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড চুঁচুড়ায় সোমবার সাতসকালে পথ দুর্ঘটনা, জখম যুবকের অবস্থা আশঙ্কাজনক নিহত সেনা জওয়ানের মরদেহ পৌঁছাল শেখপাড়ার বাড়িতে ব্লক প্রাণিসম্পদ বিকাশ দিবস পালিত জয়নগরে অনলাইন বাণিজ্যের প্রসারে ক্ষুদ্র ব্যবসা চাপে: মত বড়জোড়া চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশে ফের পরিযায়ী শ্রমিকের উপর হামলা উত্তরলক্ষীপুরের গর্ব: প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ হতে চলেছেন ডা: মোবারাক হোসেন পুনরাবৃত্তি চায় ভারত, দক্ষিন আফ্রিকা চায় প্রত্যাবর্তন; সুপার এইটে আজ হাড্ডাহাড্ডি লড়াই টানা দুই ম্যাচে জয় ইস্টবেঙ্গলের, দুই ম্যাচেই জোড়া গোল ইউসুফের বৃষ্টিতে ধুয়ে গেল পাকিস্তান-নিউজিল্যান্ডের ম্যাচ আজ শুরু সুপার এইটের লড়াই, প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি পাক বনাম নিউজিল্যান্ড আজ ইস্টবেঙ্গলের সামনে স্পোর্টিং দিল্লি, ভরসার নাম ইউসুফ আজ্জেরি প্রত্যাশিত হার, ঘরের মাঠে মহামেডান বধ এফসি গোয়ার ১৫ বছরেও শেষ হয়নি বক্সীপুর ব্রিজ নির্মাণ কাজ, জনস্বার্থ মামলা গড়াল কলকাতা হাই কোর্টে করিমপুর এলাকাবাসীকে বহরমপুর যেতে আর পেরুতে হবেনা বিপদ সংকুল রাস্তা এসআইআর এর চাপ, শ্রীরামপুরে মাঝ গঙ্গায় ঝাঁপ বিএলও’র ছেলেধরা সন্দেহে পুড়িয়ে খুনের চেষ্টার ঘটনায় বলাগড়ে ২৫ জন দোষীকে সাজা শোনালো চুঁচুড়ার ফার্স্ট ট্রাক কোর্ট বেআইনি মাটির গাড়ির ধাক্কায় ২ যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনে জি-প্লটের আদিবাসী শিশুরা  জল্পনার অবসান, তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন বাম যুব নেতা প্রতীক উর রহমান কনকচূড় ধানের চাল পেল জাতিসংঘের ঐতিহ্য স্বীকৃতি, খুশির হাওয়া জয়নগর জুড়ে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রশাসন-এনজিওর যৌথ উদ্যোগে সচেতনতা শিবির ঘোড়ামারা দ্বীপ রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপের নির্দেশ ট্রাইব্যুনালের, গঠিত হচ্ছে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি শেষ সময় ঘনাতেই যুব সাথী প্রকল্পের ফর্ম জমায় দীর্ঘ হচ্ছে লাইন পখন্না রামকৃষ্ণ আশ্রমে শ্রীরামকৃষ্ণের ১৯১তম জন্মতিথি উদ্‌যাপন বড়জোড়া কলেজে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত সায়েম চৌধুরী ওরফে বাবু: সংগঠন, সংগ্রাম ও সেবার রাজনীতি সোনার প্রতিমার প্রলোভনে ১১ লক্ষ টাকার প্রতারণা ঘুঁটিয়ারীশরিফে পুলিশের সাফল্য: ২৪ চুরি যাওয়া মোবাইল উদ্ধার হুগলি জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের উদ্যোগে খাদ্য সুরক্ষা মেলা’য় সুষম খাদ্য খাওয়ার পরামর্শ  উলুবেড়িয়ায় ১৫ টিয়া উদ্ধার, আন্তরাজ্য পাখি পাচারচক্রের সদস্য গ্রেফতার সরকারি জমি দখল ও নয়নজুলি ভরাটের অভিযোগে চাঞ্চল্য ধূপগুড়িতে কাবিলপুর হাই স্কুলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠা দিবস ঘটা করে উদযাপন পবিত্র রমজান মাস শুরুর ঠিক আগে ইফতার সামগ্রী বিতরণ জয়নগরে ২০২৬ নির্বাচন ঘিরে ফারাক্কায় জোর চর্চায় রেহেনা ইয়াসমিন  পিতা-মাতার স্মৃতিতে আট দিনব্যাপী ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজন পুলিশকর্মী ছেলের উদ্যোগে সুন্দরবনের মৎস্যজীবীদের মৃত্যু মিছিল থামছেই না, সরকারি ক্ষতিপূরনের দাবি মাটি, মানুষ ও সংগঠন: রাবিউল ইসলামের রাজনৈতিক দর্শন দুবে ঝড়ে উড়ে গেল নেদারল্যান্ডস, বোলিংয়ে নায়ক বরুণ হঠাতই ব্যাটিং বিপর্যয়, রঞ্জি থেকে বিদায় বাংলার ফারহানের দুরন্ত সেঞ্চুরি, সুপার এইটে পাকিস্তানও ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচে আজ নামিবিয়ার মুখোমুখি পাকিস্তান সামির ৮ উইকেটেও, ব্যাটিং বিপর্যয়ে হারের মুখে বাংলা চুঁচুড়ায় প্রার্থী ঘোষণার আগেই দেওয়াল লিখনে জোর তৃণমূল, পাল্টা কটাক্ষ বিজেপির কুলতলিতে আয়ুষ মেলা: বিকল্প চিকিৎসা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে উদ্যোগ রানীনগরে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীসভা ও জাকির হোসেনের উপস্থিতিতে উপচে পড়া ভিড়  কৃষকদের সমস্যা সমাধানে চালু ‘ভারত বিস্তার’ এআই টুল গোবর্ধনডাঙ্গায় তৃণমূল ট্রেড ইউনিয়নের কর্মী সভা কাবিলপুরে মানব সেবা ফাউন্ডেশনের পথচলা শুরু মালদা জেলায় হাই মাদ্রাসা, আলিম ও ফাজিল পরীক্ষা নির্বিঘ্নেই সম্পন্ন পা দিয়ে লিখেই উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা মানকুন্ডুতে সারা বাংলা একদিনের দাবা প্রতিযোগিতা মেরা যুব ভারতের উদ্যোগে মগরাহাটে জেলা ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অপসংস্কৃতির স্রোতের বিপরীতে নাট্যচর্চার বার্তা – বাগনানে তিনদিনের নাট্য উৎসবে নজর কাড়ল বাঙালপুর বয়েজ ক্লাব দ্বীপাঞ্চলবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণ: আমতায় নির্মীয়মাণ কংক্রিটের সেতুতে বাড়ছে আশার আলো মানসম্মত শিক্ষা ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে কলকাতায় স্কুল ম্যানেজমেন্ট কর্মশালা জীবনে কিছু জায়গা থেকে চুপচাপ সরে আসতে হয় ১৪ই ফেব্রুয়ারি: ভালবাসার দিন হিসেবে কেন পালিত হয়? সুদ, মাদক ও জুয়ার অদৃশ্য জোট: সমাজ ধ্বংসের নীরব চক্রান্ত আদ্রায় ‘বিনা পয়সার বাজারে’ উপচে পড়া ভিড়, হাসি ফিরল অসংখ্য মুখে মেডিকেল ভর্তিতে কাট অফ বিতর্কে তোলপাড় দেশ হবু ডাক্তারদের মান, মেধা ও রোগীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন কেরালার আদালতে নতুন অধ্যায় রচিত দৃষ্টিহীন তরুণী বিচারক গড়লেন নজির

আলিমুদ্দিন স্ট্রিট

প্রকাশিত: ২২ অক্টোবর ২০২৫, সকাল ১০:৫০ | আপডেট: ২২ অক্টোবর ২০২৫, সকাল ১০:৫০

স্বপন সেন ও দেবব্রত মন্ডল

আরও পড়ুন:

নতুন পয়গাম, ২২ অক্টোবর ২০২৫ 

আরও পড়ুন:

আলিমুদ্দিন স্ট্রিট এর নাম শুনেছেন নিশ্চয়ই! মধ্য কলকাতার একটি রাস্তার নাম। এখানেই রয়েছে সিপিএম-এর রাজ্য কার্যালয়। কিন্তু কে ছিলেন এই আলিমুদ্দিন সাহেব? স্বাধীনতা সংগ্রামের দীর্ঘ ইতিহাসে এমন বহু মানুষের অবদান রয়েছে, যারা এই আন্দোলনের নেপথ্যে থেকেও অনবদ্য ভূমিকা নিয়েছিলেন। তাঁরা যদি দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে এভাবে সহযোগিতা না করতেন তবে ভারতবর্ষ স্বাধীন হতে হয়ত আরো অনেক বছর পিছিয়ে যেত। সেইসব নেপথ্যচারী বাঙলার মানুষদের নিয়ে আমার নিবেদন।

আরও পড়ুন:

১৯১০ সালের এক অমাবস্যার রাত। বুড়িগঙ্গা পেরিয়ে ঢাকার ওপারে জিঞ্জিরা গঞ্জের ঘাটে নিঃশব্দে এসে ভিড়লো দুটি ছিপ নৌকা। জনা দশেক যুবক নেমে এলো, তারপর কিছুক্ষণ হেঁটে পৌঁছাল শুভাড্যা গ্রামে এক ধনী মহাজনের বাড়ির সামনে। এদের মধ্যে দু’জনকে চেনেন আপনারা। একজনকে দেখেছেন সারপেন্টাইন লেনে ইন্সপেক্টর নন্দলাল ব্যানার্জীকে গুলি করে হত্যা করতে। আর অন্যজনকে ডালহৌসি পাড়ায় রডা কোম্পানির পিস্তল বোঝাই গরুর গাড়ির পাশে হাঁটতে… শ্রীষচন্দ্র পাল ও হরিদাস দত্ত।

আরও পড়ুন:

চারদিকে তাকিয়ে পাঁচিল টপকে ভেতরে নেমে গেলেন শ্রীষবাবু। আর একটু পরেই খুলে দিলেন সদর দরজা। দলপতির নির্দেশে এবার বাকিরা বন্দুক উঁচিয়ে বাড়ির সবাইকে বাধ্য করল সোনা-দানা, টাকা-পয়সা সবকিছু তাদের হাতে তুলে দিতে। বিনা প্রতিরোধে সবাই গায়ের গয়না খুলে দিলেও কোলে শিশুপুত্র নিয়ে উপস্থিত এক তরুণী বধূ কিছুতেই তার অলঙ্কার দিতে রাজি নয়। ধমক-ধামকেও কাজ হল না, এদিকে দলপতির কড়া হুঁশিয়ারি মহিলাদের গায়ে হাত দেয়া যাবে না। হঠাৎ হরিদাস দত্ত কোল থেকে বাচ্চাটিকে ছিনিয়ে নিয়ে বললেন, এবার গয়না না খুলে দিলে কেটে ফেলা হবে একে!

আরও পড়ুন:

নির্বিকার তরুণী শুধু জ্বলজ্বলে চোখে তাকিয়ে রইল দলপতির দিকে। শরীরের কোথাও স্পর্শ না করে অলঙ্কার কীভাবে কেড়ে নেয়া যায়, সে বিদ্যা তাদের জানা ছিল না। বাধ্য হয়ে সর্দার ইশারা করলেন বাচ্চাটি ফিরিয়ে দিতে। নিজের গর্ভজাত শিশু সন্তানকে কোলে ফিরে পেয়ে মেয়েটি বলে উঠল, আমি জানি আপনারা কে। বাপের বাড়ি এসে নিরাপদে থাকার জন্য রাত কাটাতে এসেছি এই বাড়িতে। গয়না খুলে দিতে আমার বিন্দুমাত্র দ্বিধা নেই, কিন্তু সেজন্য আমার বিধবা মা’কে শ্বশুরবাড়ি থেকে আজীবন গঞ্জনা শুনতে হবে। তারা ধরেই নেবে যে, এটা আমার অভাবী মায়ের একটা সাজানো গল্প। দোহাই, আপনারা আমাকে ক্ষমা করবেন। একথা শুনে দলপতি মেয়েটির মাথায় হাত রেখে আশীর্বাদ করলেন, তারপর দলবল নিয়ে নিমেষে মিলিয়ে গেলেন অন্ধকারে।

আরও পড়ুন:

দেশের স্বাধীনতার জন্য স্বদেশী এই ডাকাত দলের দলপতিকে চেনেন? আমজনতার কাছে অপরিচিত সৈয়দ আলিমুদ্দিন আহমেদ। ১৮৮৪ সালে জন্ম ঢাকার আশক জমাদার লেনে। প্রতিবেশী ও সহপাঠী ছিলেন বিভি’র প্রতিষ্ঠাতা বিপ্লবী হেমচন্দ্র ঘোষ। ১৯০৬ সালে ঢাকা কলেজে ভর্তি হন। তবে হঠাৎ বাবার মৃত্যু হওয়ায় আর্থিক কারণে এফ.এ পরীক্ষা দিতে পারেননি। পড়াশোনা বন্ধ করে ঢাকা কালেক্টরেটে চাকরি নেন। অবসর সময়ে বাড়িতে কিছু ছাত্র পড়াতেন, আর সেই থেকে এলাকার মানুষের কাছে ‘মাষ্টার সাহেব’ নামে পরিচিত হন।

আরও পড়ুন:

কুস্তি লড়ায় তাঁর ছিল অসম্ভব আগ্রহ। তাই নিজের বাড়িতেই খুলেছিলেন কুস্তির আখড়া। সেখানে লাঠি, তরোয়াল, বল্লম ও ছুরি খেলাও শেখানো হত। আদতে এই আখড়াই ছিল বিপ্লবী দলের রিক্রুটিং সেন্টার এবং সেই কাজটি করতেন মাস্টার সাহেব স্বয়ং। ১৯০৫ সালে হেমচন্দ্র মুষ্টিমেয় যে কয়েকজনকে নিয়ে ‘মুক্তিসংঘ’ স্থাপন করেছিলেন, ইনি ছিলেন তার অন্যতম। দুরদর্শী মানুষটি বুঝেছিলেন, পুলিশের হাত থেকে দলকে বাঁচাতে একজনকে অন্তত আড়াল নিতে হবে বা আত্মগোপন করে থাকতে হবে। ফলে কুস্তিপ্রিয় ও পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়া মানুষটি ছিলেন বরাবরই সন্দেহের ঊর্ধ্বে।

আরও পড়ুন:

এই সুযোগে তিনি অস্ত্রশস্ত্র, পুস্তিকা ও পলাতক বিপ্লবীদের শেল্টারের ব্যবস্থা করতেন। ১৯১৫ থেকে ১৯২০ এই পাঁচ বছর অধিকাংশ বিপ্লবী কারান্তরালে গেলেও যোগাযোগের মাধ্যমে টিকিয়ে রাখতে পেরেছিলেন দলের ভরকেন্দ্রটিকে। তাঁরই অনুপ্রেরণায় ঢাকা ও মানিকগঞ্জের অনেক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের যুবক নেপথ্য থেকে এগিয়ে এসেছিলেন বিপ্লবী কর্মকান্ডে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন আইনজীবী নইমুদ্দিন আহমেদ, যার বাবা ছিলেন আসাম সরকারের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট। দলগঠন এবং আর্থিক সাহায্য ছাড়াও ইনি বাড়িতে অস্ত্রশস্ত্র লুকিয়ে রাখতেন। আরেকজন দক্ষ সংগঠক ছিলেন ঢাকা কলেজের আব্দুল জব্বার। দুঃখের বিষয়, অকালে মারা যান তিনি। হেমচন্দ্র শেষ বয়সে তার স্মৃতিচারণে ভারাক্রান্ত হৃদয়ে বলেছিলেন, “জব্বারের মতো ছেলে আরো ক’টা জন্মালে স্বাধীনতা যুদ্ধ আরো অনায়াস, সাবলীল ও সহজ সুন্দর হত। সব ভেদাভেদ ভুলে হিন্দু-মুসলমান কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশের মুক্তি সংগ্রামে আত্মদান করতে পারত। বিধাতা অকালে জব্বারকে নিজের কাছে ডেকে নিয়ে তা হতে দিলেন না।”

আরও পড়ুন:

১৯৩০ সালে বিভি’র কর্মকাণ্ড চূড়ান্ত পরিণতি নেওয়ার আগেই দুরারোগ্য গ্যালপিং থাইসিস রোগে হঠাৎ চলে গেলেন মাস্টার সাহেব। দেখে যেতে পারলেন না সেই বছরেরই আগস্ট মাসে মিটফোর্ড মেডিক্যাল কলেজে তাঁর আখড়ার এক ছাত্রের অসামান্য বাহাদুরি। তাঁর কীর্তির কথা শুনে সাহিত্যিক শরৎচন্দ্র বলেছিলেন, ধন্যি ছেলে, বুঝিয়ে দিল প্রয়োজন হলে আমরাও জবাব দিতে জানি !

আরও পড়ুন:

আলিমুদ্দিন সাহেবের কথা আজ আর কারও মনে নেই। মধ্য কলকাতার এন্টালি অঞ্চলে তাঁর নামাঙ্কিত একটি রাস্তা শুধু বহন করছে আজন্ম বিপ্লবী, নাম-যশ ও প্রচার বিমুখ সেই মানুষটিকে। প্রণাম ! ‌

আরও পড়ুন:

(২)

আরও পড়ুন:

এখন আলিমুদ্দিন স্ট্রিট মধ্য কলকাতার এক ঘিঞ্জি এলাকার ব্যস্ত রাস্তা। আলিমুদ্দিন স্ট্রিটকে পশ্চিমবঙ্গ চিনেছে অন্যভাবে। ৩১-নং আলিমুদ্দিন স্ট্রিটেই রয়েছে রাজ্য সিপিএমের সদর দপ্তর। যেখানে বসে দীর্ঘ চৌত্রিশ বছর রাজ্য-রাজনীতির ভাগ্য নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা পালন করেছেন বামফ্রন্ট নেতৃবর্গ। কিন্তু আদতে কে ছিলেন এই আলিমুদ্দিন? কার নামাঙ্কিত এই রাস্তা? সে প্রশ্নের উত্তর পেতে পিছিয়ে যেতে হবে ঊনিশ শতকে।
ঢাকার জমাদার লেন। একটা সরু অন্ধকার স্যাঁতসেঁতে গলি। দিনের বেলায় কতটুকু সময় সে রোদের মুখ দেখে, তা বোঝা দায়। এখানেই ১৮৮৪ সালের এক বর্ষণমুখর দিনে জন্ম নিলেন স্বাধীনতা যুগের এক অগ্নিপুরুষ, সৈয়দ আলিমুদ্দিন আহম্মদ। বাবা আমিরুদ্দিনের ছিল সামান্য এক দর্জির দোকান। সংসার-সীমান্তে যুদ্ধরত বাবাই ছিলেন আলিমুদ্দিনের অনুপ্রেরণা। তখন খুব দ্রুত বদলে যাচ্ছিল মানুষের জীবন যাপন। স্বাধীনতা আন্দোলনের আগুন তখন পুরোদমে জ্বলছে। বাতাসে বারুদের গন্ধ তখনও টাটকা। স্বাভাবিক ভাবেই পাল্টে যাওয়া সময়ের সঙ্গে বদলে যাচ্ছিল সমাজ, অর্থনীতি এবং ভূ-রাজনীতির মানচিত্র। কিছুদিনের মধ্যেই প্রতিষ্ঠিত হল জাতীয় কংগ্রেস। শুরু হল বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন। ফলে প্রতিদিনই নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠছিল দেশীয় রাজনীতি। পরিবর্তিত সময়ও নিজের মতো করে গড়েপিটে নিয়েছিল যুবক আলিমদ্দিনকে। যদিও তার বহু পূর্বেই সময় তার দাগ রেখে গেছে আলিমুদ্দিনের ব্যক্তিগত জীবনে। ঘটে গেছে এক অনাকাঙ্খিত বিপর্যয়। মারা গেছেন আলিমুদ্দিনের বাবা। গ্রাসাচ্ছাদনের জন্য আলিমুদ্দিনকে নিতে হয়েছে প্রাইভেট টিউটরের জীবিকা।
জীবনের এই সমস্ত ভাঙা-গড়ার খেলাকে পাথেয় করেই পরবর্তীতে স্বাধীনতা আন্দোলনে যোগ দিলেন তরুণ-তুর্কি আলিমুদ্দিন। ঘটনাচক্রে হেমচন্দ্র ঘোষ ছিলেন আলিমুদ্দিনের বন্ধু। এই বন্ধুই স্বাধীনতার বীজমন্ত্রে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন আলিমুদ্দিনকে।
সাল ১৯০৫। ইতিহাসের পাতা বলছে সময়টা উত্তাল। বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন তখন পুরোদমে শুরু হয়ে গেছে। ইংরেজ সরকারের দমননীতির গ্রাফ প্রতিদিনই ঊর্ধ্বমুখী। এমন সময় বিপ্লবী হেমচন্দ্র প্রতিষ্ঠা করলেন এক গুপ্তসমিতি। যার অন্যতম সভ্য ছিলেন আলিমুদ্দিন ওরফে মাস্টার সাহেব। তাঁর নেতৃত্বে যুবকদের শারীরিক কসরতের জন্য প্রতিষ্ঠিত হল বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান। এগুলোর মাধ্যমেই চলত বিভিন্ন বৈপ্লবিক কর্মকাণ্ড, এমনকি স্বদেশি ভাবধারায় উদ্বুদ্ধ করার প্রাথমিক পাঠও দেওয়া হত এই প্রতিষ্ঠানগুলির মাধ্যমেই। না এখানেই থেমে থাকেননি মাস্টার সাহেব আলিমুদ্দিন। একের পর এক বিপ্লবীকে প্রয়োজনীয় শেল্টার দিয়েছেন। সাহায্য করেছেন অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে। বিপ্লবের কাজে প্রয়োজনীয় অর্থ সাহায্য করার জন্য আলিমুদ্দিন গঠন করেছেন স্বদেশি ডাকাতদল। সেই যুগে পুঁজিপতিদের ত্রাস হয়ে উঠেছিল তারা, আলিমুদ্দিনের হাতে গড়া এই ডাকাতদল আদতে ছিল রবিনহুড। কুবেরদের অর্থ-সম্পদ লুট করে গরিব মানুষদেরকে অকাতরে বিলিয়ে দিতেন। ব্রিটিশের দমন নীতির ফলে হেমচন্দ্র-সহ একাধিক স্বদেশী নেতা যখন জেলে, তখনও ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনকে প্রায় একাই অক্সিজেন জুগিয়েছেন আলিমুদ্দিন। নিজে ছিলেন একজন ধর্মপ্রাণ মুসলিম। সেই সূত্রেই সাম্প্রয়িকতাকে কোনোদিন প্রশ্রয় দেননি। ছদ্মবেশে একের পর এক বৈপ্লবিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থেকেছেন। এমনকি পুলিশি ধরপাকড়ের কারণে আত্মগোপন করেও চালিয়ে গেছেন ব্রিটিশ বিরোধী কার্যকলাপ। কিন্তু ব্রিটিশ পুলিশ কোনোদিন তার টিকিও স্পর্শ করতে পারেনি।
সাল ১৯২০। যক্ষ্মা রোগে বেশ কিছুদিন ভোগার পর চলে গেলেন মাস্টার সাহেব। পরবর্তীকালে তার নামানুসারে মধ্য কলকাতার একটি রাস্তার নামকরণ করা হল ‘আলিমুদ্দিন স্ট্রিট।’ তাঁর ইন্তেকালের সঙ্গে সঙ্গে শেষ হল ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এক বর্ণময় অধ্যায়। এমন কতশত বিপ্লবী আমাদের চোখের আড়ালে কাজ করে গেছেন। ইতিহাস তাদের মনে রাখেন

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder