BREAKING:
জোড়াসাঁকোয় সাহিত্য-সংস্কৃতির মহোৎসবে কলম শিল্পী গ্র্যান্ড ফেস্টিভ্যাল ২০২৬ খোশবাগ বাসস্ট্যান্ডের কাছে পথ দুর্ঘটনা, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন দন্ত চিকিৎসক বসিরহাট দরবার শরিফে হুমায়ুন কবীর, পেলেন উষ্ণ অভ্যর্থনা লাল বালির চড়া দাম, গ্রামবাসীদের ভরসা পাথরের গুড়ো   রমজানে অসহায়দের পাশে আল হোসাইনী হেল্প ফাউন্ডেশন সুন্দরবনের লবণাক্ত মাটিতে সূর্যমুখী চাষে সাফল্য, লাভের মুখ দেখছেন কৃষকরা হুগলি জেলায় এসআইআর এর প্রথম পর্যায়ের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করলেন জেলা শাসক খুরশিদ আলি কাদরি  বন্যপ্রাণীর উপদ্রব রুখতে তৎপর বনদপ্তর উত্তাপহীন ডার্বিতে মহামেডানকে ৫ গোলে উড়িয়ে দিল মোহনবাগান মরণবাঁচন ম্যাচে আজ সামনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জিততেই হবে ভারতকে রাজনগরে চাঞ্চল্য: গাংমুড়ি গ্রামে বাড়ির ভিতর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার মোবাইল গেম খেলতে খেলতেই নিভে গেল ২১ বছরের তরতাজা প্রাণ  মুর্শিদাবাদের মুকুটে নতুন দুই পালক, বিশ্ববিদ্যালয় ও কাটরা মসজিদের তোরণ প্রকল্পের শিলান্যাস করলেন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম! রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে ত্রিশটি আসনে লড়বে পুকুর খনন করার সময় প্রাচীন বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার হল পান্ডুয়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে উড়িয়ে সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকা। রানে ফিরলেন অভিষেক, জয়ে ফিরলো ভারত; বেঁচে রইলো সেমির স্বপ্ন এসআইআর  ইস্যুতে আতঙ্ক নয়, আইনি পথে আপিলের আহ্বান মিল্লি ঐক্য মঞ্চের কালিয়াচক আবাসিক মিশনে বিজ্ঞান বিভাগের প্রবেশিকা পরীক্ষা সম্পন্ন, উৎসাহ চোখে পড়ার মতো পরীক্ষার দিন আচমকা মৃত্যু অষ্টম শ্রেণির ছাত্রের, শোকস্তব্ধ সোনারপুর নাবালিকাকে বিবাহের অভিযোগে জয়নগরে গ্রেপ্তার যুবক জয়নগরে মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনা, আহত তিন শ্রমিক নেতা মহম্মদ ওয়েস এর নেতৃত্বে বড়জোড়ায় বিরাট মিছিল কুলতলির বিধায়কের উপস্থিতিতে ঢালাই রাস্তার কাজের সূচনা হলো নলগোড়ায় ঘুটিয়ারীশরিফে পুলিশের তৎপরতায় ৫৪ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার গঙ্গাকে দূষণমুক্ত করতে উদ্যোগ সুন্দরবনে বাঘের হামলায় ফের মৃত্যু, সরকারি ক্ষতিপূরণের দাবি এসআইও নিয়ে মিথ্যা মন্তব্যের প্রতিবাদে কলকাতায় সাংবাদিক সম্মেলন জামাআতে ইসলামী হিন্দের ইফতার সামগ্রী বিতরণ বই হোক সই, বইয়ের জন্য করিমপুরে পথে হাঁটল শত শত মানুষ রমজান মাসে ৩০০ দুস্থ পরিবারের পাশে সমাজসেবী হাফেজ নজরুল ইসলাম অবশেষে ধুলিয়ান গঙ্গা স্টেশনে বাংলা স্থান পেল  মুর্শিদাবাদে দুই মেগা প্রকল্পের শিলান্যাস ২৮ ফেব্রুয়ারি ভাঙড়ে ২৮ টি তাজা বোমা ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার, গ্রেপ্তার দুই জন্মদিনে অবহেলিত ভূদেব মুখোপাধ্যায়, তালাবন্ধ গ্রীলে মালা ঝুলিয়ে জন্মদিন পালন করল বিজেপি বালিভর্তি ট্রাক চলাচল ঘিরে উত্তেজনা, সোনামুখীতে গ্রামবাসীর রাতভর বিক্ষোভ বসিরহাটে দলবদল ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ, তৃণমূলের সভায় বহু নেতার যোগদান ভোটের আগে বিরোধী শিবিরে বড় ভাঙন কুলতলীতে কালিয়াচকের বাহাদুরপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড চুঁচুড়ায় সোমবার সাতসকালে পথ দুর্ঘটনা, জখম যুবকের অবস্থা আশঙ্কাজনক নিহত সেনা জওয়ানের মরদেহ পৌঁছাল শেখপাড়ার বাড়িতে ব্লক প্রাণিসম্পদ বিকাশ দিবস পালিত জয়নগরে অনলাইন বাণিজ্যের প্রসারে ক্ষুদ্র ব্যবসা চাপে: মত বড়জোড়া চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশে ফের পরিযায়ী শ্রমিকের উপর হামলা উত্তরলক্ষীপুরের গর্ব: প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ হতে চলেছেন ডা: মোবারাক হোসেন পুনরাবৃত্তি চায় ভারত, দক্ষিন আফ্রিকা চায় প্রত্যাবর্তন; সুপার এইটে আজ হাড্ডাহাড্ডি লড়াই টানা দুই ম্যাচে জয় ইস্টবেঙ্গলের, দুই ম্যাচেই জোড়া গোল ইউসুফের বৃষ্টিতে ধুয়ে গেল পাকিস্তান-নিউজিল্যান্ডের ম্যাচ আজ শুরু সুপার এইটের লড়াই, প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি পাক বনাম নিউজিল্যান্ড আজ ইস্টবেঙ্গলের সামনে স্পোর্টিং দিল্লি, ভরসার নাম ইউসুফ আজ্জেরি প্রত্যাশিত হার, ঘরের মাঠে মহামেডান বধ এফসি গোয়ার ১৫ বছরেও শেষ হয়নি বক্সীপুর ব্রিজ নির্মাণ কাজ, জনস্বার্থ মামলা গড়াল কলকাতা হাই কোর্টে করিমপুর এলাকাবাসীকে বহরমপুর যেতে আর পেরুতে হবেনা বিপদ সংকুল রাস্তা এসআইআর এর চাপ, শ্রীরামপুরে মাঝ গঙ্গায় ঝাঁপ বিএলও’র ছেলেধরা সন্দেহে পুড়িয়ে খুনের চেষ্টার ঘটনায় বলাগড়ে ২৫ জন দোষীকে সাজা শোনালো চুঁচুড়ার ফার্স্ট ট্রাক কোর্ট বেআইনি মাটির গাড়ির ধাক্কায় ২ যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনে জি-প্লটের আদিবাসী শিশুরা  জল্পনার অবসান, তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন বাম যুব নেতা প্রতীক উর রহমান কনকচূড় ধানের চাল পেল জাতিসংঘের ঐতিহ্য স্বীকৃতি, খুশির হাওয়া জয়নগর জুড়ে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রশাসন-এনজিওর যৌথ উদ্যোগে সচেতনতা শিবির ঘোড়ামারা দ্বীপ রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপের নির্দেশ ট্রাইব্যুনালের, গঠিত হচ্ছে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি শেষ সময় ঘনাতেই যুব সাথী প্রকল্পের ফর্ম জমায় দীর্ঘ হচ্ছে লাইন পখন্না রামকৃষ্ণ আশ্রমে শ্রীরামকৃষ্ণের ১৯১তম জন্মতিথি উদ্‌যাপন বড়জোড়া কলেজে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত সায়েম চৌধুরী ওরফে বাবু: সংগঠন, সংগ্রাম ও সেবার রাজনীতি সোনার প্রতিমার প্রলোভনে ১১ লক্ষ টাকার প্রতারণা ঘুঁটিয়ারীশরিফে পুলিশের সাফল্য: ২৪ চুরি যাওয়া মোবাইল উদ্ধার হুগলি জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের উদ্যোগে খাদ্য সুরক্ষা মেলা’য় সুষম খাদ্য খাওয়ার পরামর্শ  উলুবেড়িয়ায় ১৫ টিয়া উদ্ধার, আন্তরাজ্য পাখি পাচারচক্রের সদস্য গ্রেফতার সরকারি জমি দখল ও নয়নজুলি ভরাটের অভিযোগে চাঞ্চল্য ধূপগুড়িতে কাবিলপুর হাই স্কুলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠা দিবস ঘটা করে উদযাপন পবিত্র রমজান মাস শুরুর ঠিক আগে ইফতার সামগ্রী বিতরণ জয়নগরে ২০২৬ নির্বাচন ঘিরে ফারাক্কায় জোর চর্চায় রেহেনা ইয়াসমিন  পিতা-মাতার স্মৃতিতে আট দিনব্যাপী ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজন পুলিশকর্মী ছেলের উদ্যোগে সুন্দরবনের মৎস্যজীবীদের মৃত্যু মিছিল থামছেই না, সরকারি ক্ষতিপূরনের দাবি মাটি, মানুষ ও সংগঠন: রাবিউল ইসলামের রাজনৈতিক দর্শন দুবে ঝড়ে উড়ে গেল নেদারল্যান্ডস, বোলিংয়ে নায়ক বরুণ হঠাতই ব্যাটিং বিপর্যয়, রঞ্জি থেকে বিদায় বাংলার ফারহানের দুরন্ত সেঞ্চুরি, সুপার এইটে পাকিস্তানও ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচে আজ নামিবিয়ার মুখোমুখি পাকিস্তান সামির ৮ উইকেটেও, ব্যাটিং বিপর্যয়ে হারের মুখে বাংলা চুঁচুড়ায় প্রার্থী ঘোষণার আগেই দেওয়াল লিখনে জোর তৃণমূল, পাল্টা কটাক্ষ বিজেপির কুলতলিতে আয়ুষ মেলা: বিকল্প চিকিৎসা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে উদ্যোগ রানীনগরে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীসভা ও জাকির হোসেনের উপস্থিতিতে উপচে পড়া ভিড়  কৃষকদের সমস্যা সমাধানে চালু ‘ভারত বিস্তার’ এআই টুল গোবর্ধনডাঙ্গায় তৃণমূল ট্রেড ইউনিয়নের কর্মী সভা কাবিলপুরে মানব সেবা ফাউন্ডেশনের পথচলা শুরু মালদা জেলায় হাই মাদ্রাসা, আলিম ও ফাজিল পরীক্ষা নির্বিঘ্নেই সম্পন্ন পা দিয়ে লিখেই উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা মানকুন্ডুতে সারা বাংলা একদিনের দাবা প্রতিযোগিতা মেরা যুব ভারতের উদ্যোগে মগরাহাটে জেলা ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অপসংস্কৃতির স্রোতের বিপরীতে নাট্যচর্চার বার্তা – বাগনানে তিনদিনের নাট্য উৎসবে নজর কাড়ল বাঙালপুর বয়েজ ক্লাব দ্বীপাঞ্চলবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণ: আমতায় নির্মীয়মাণ কংক্রিটের সেতুতে বাড়ছে আশার আলো মানসম্মত শিক্ষা ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে কলকাতায় স্কুল ম্যানেজমেন্ট কর্মশালা জীবনে কিছু জায়গা থেকে চুপচাপ সরে আসতে হয় ১৪ই ফেব্রুয়ারি: ভালবাসার দিন হিসেবে কেন পালিত হয়? সুদ, মাদক ও জুয়ার অদৃশ্য জোট: সমাজ ধ্বংসের নীরব চক্রান্ত আদ্রায় ‘বিনা পয়সার বাজারে’ উপচে পড়া ভিড়, হাসি ফিরল অসংখ্য মুখে মেডিকেল ভর্তিতে কাট অফ বিতর্কে তোলপাড় দেশ হবু ডাক্তারদের মান, মেধা ও রোগীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন কেরালার আদালতে নতুন অধ্যায় রচিত দৃষ্টিহীন তরুণী বিচারক গড়লেন নজির

বার্লিনের মানুষ ঘুম ভেঙে দেখলেন শহরের মাঝখানে উঁচু প্রাচীর

প্রকাশিত: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, দুপুর ৩:৩১ | আপডেট: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, দুপুর ৩:৩১

মেহেদি হাসান

আরও পড়ুন:

নতুন পয়গাম: ১৯৬১ সালের ১৩ আগস্ট। পূর্ব জার্মানির মানুষ গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। কিন্তু একদল মানুষ নির্ঘুম। তারা কাঁটাতার দিয়ে প্রাচীর নির্মাণের কাজে ব্যস্ত, যে প্রাচীর পূর্ব জার্মানিকে আলাদা করে দেয় পশ্চিম জার্মানি থেকে। অসংখ্য পরিবারের সদস্যদের মুখ দেখাদেখি বন্ধ হয়ে যায়। প্রাণের বন্ধুকে চিরতরে হারাতে হয়। দীর্ঘ প্রায় ২৮ বছর পর ভাঙা হয় বার্লিন প্রাচীর। আবারও একত্র হন দুই জার্মানির মানুষ।

আরও পড়ুন:

১৯৪৫ সালের সেপ্টেম্বর মাস। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ দিকে মিত্রশক্তির কাছে আত্মসমর্পণ করে জার্মানি। মিত্রশক্তির মধ্যে ছিল আমেরিকা, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও সোভিয়েত ইউনিয়ন।
যুদ্ধ শেষে মিত্রশক্তির দেশগুলো জার্মানিকে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। প্রতিটি দেশ জার্মানির একটি করে অঞ্চলের দায়িত্ব নেয়। আমেরিকা, ব্রিটেন, ফ্রান্স নেয় পশ্চিমাঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ, আর পূর্বাঞ্চল দখলে রাখে সোভিয়েত ইউনিয়ন।

আরও পড়ুন:

জার্মানির রাজধানী বার্লিনের অংশ পড়ে পূর্বাঞ্চলে। তাই শহরটিকে চারটি অংশে ভাগ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সেই অনুযায়ী, প্রতিটি দেশ বার্লিনের একটি করে অংশের নিয়ন্ত্রণ নেয়। পশ্চিম বার্লিন চলে যায় আমেরিকা, ব্রিটেন ও ফ্রান্সের হাতে; আর পূর্ব বার্লিনের নিয়ন্ত্রণ নেয় সোভিয়েত ইউনিয়ন।

আরও পড়ুন:

১৯৪৯ সালের মধ্যে জার্মানি দুটি আলাদা দেশে ভাগ হয়ে যায়। আমেরিকা, ব্রিটেন ও ফ্রান্সের দখলে থাকা অংশের নামকরণ হয় ‘ফেডারেল রিপাবলিক অব জার্মানি’ বা পশ্চিম জার্মানি। অন্যদিকে সোভিয়েত ইউনিয়নের দখলে থাকা অংশের নাম হয় ‘জার্মান ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক’ বা পূর্ব জার্মানি। জার্মানি ভাগ হওয়ার পরপরই স্পষ্ট হয়ে ওঠে, রাষ্ট্র পরিচালনায় সোভিয়েত ইউনিয়নের ধারণা ছিল কমিউনিজম বা সমাজতন্ত্র, যা মিত্রশক্তি বা পশ্চিমা দেশগুলোর ধারণা থেকে একেবারেই আলাদা।

আরও পড়ুন:

পশ্চিম জার্মানির শাসনব্যবস্থা ছিল অনেকটা এখনকার ব্রিটেন, আমেরিকার মতো। সেখানে মানুষ স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারতেন, নিজের পছন্দমতো গান শুনতেন এবং স্বাধীনভাবে নিজের মতামত প্রকাশ করতে পারতেন। অন্যদিকে পূর্ব জার্মানি কঠোরভাবে শাসন করা হত। মানুষ কীভাবে আচরণ করবেন, তা নিয়ে ছিল কঠিন নিয়মকানুন। প্রতিটি কাজের ওপর পুলিশের কড়া নজরদারি ছিল।

আরও পড়ুন:

জার্মানি ভাগের পর প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ পূর্ব থেকে পশ্চিমে পালিয়ে যাচ্ছিলেন। এই পালিয়ে যাওয়া রোধ করতে শেষমেষ পশ্চিম বার্লিন ঘিরে প্রাচীর নির্মাণ করা হয়। নাম দেওয়া হয় ‘বার্লিন প্রাচীর’।

আরও পড়ুন:

তৎকালীন সোভিয়েত রাষ্ট্রপ্রধান নিকিতা ক্রুশ্চেভ ১৯৬১ সালে পূর্ব জার্মানি থেকে মানুষের পালিয়ে যাওয়া ঠেকাতে পূর্ব ও পশ্চিম বার্লিনের মাঝখানে এক সুউচ্চ প্রাচীর নির্মাণের আদেশ দেন। সেই অনুযায়ী ১৯৬১ সালের ১৩ আগস্ট রাতের আঁধারে তৈরি করা হয় প্রাচীর।

আরও পড়ুন:

এই প্রাচীর এত অল্প সময়ে তৈরি করা হয়েছিল যে, সাধারণ মানুষ হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলেন। অনেকে ঘুম থেকে উঠে দেখেন তাঁরা এক পাশে আটকা পড়েছেন। পশ্চিমে থাকা বন্ধু ও পরিবারের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। প্রথমে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে বার্লিন শহরকে ভাগ করা হয়েছিল। এরপর ধীরে ধীরে অসংখ্য শক্তিশালী প্রাচীর তৈরি করা হয়। সঙ্গে বসানো হয় কড়া পাহারা ও টহল, যাতে কেউ এক পাশ থেকে অন্য পাশে যেতে না পারে।

আরও পড়ুন:

বার্লিন প্রাচীরের দৈর্ঘ্য ছিল ১৫৫ কিলোমিটার বা ৯৬ মাইল। উচ্চতা ৪ মিটার বা ১৩ ফুট। ১৯৮৯ সালে ভেঙে ফেলা পর্যন্ত প্রাচীরে ৩০২টি ওয়াচ টাওয়ার ছিল। দুটি সমান্তরাল দেয়ালের সমন্বয়ে প্রাচীরটি তৈরি হয়। দুটি দেয়ালের মাঝখানে একটি ফাঁকা অংশ রাখা হয়। এই অংশে সৈন্য মোতায়েন করা হত। শুধু তা-ই নয়, কেউ যাতে লুকিয়ে সীমান্ত পার না হতে পারেন, সে জন্য মাইন পুঁতে রাখা হত।

আরও পড়ুন:

দ্রুতই এই প্রাচীর ইউরোপের পশ্চিম ও পূর্ব অংশের বিভেদের প্রতীক হয়ে ওঠে। ‘আয়রন কার্টেন’ বা লোহার পর্দা নামে পরিচিতি পায়। সোভিয়েত নেতারা বার্লিন প্রাচীরকে বলতেন ‘সুরক্ষার আবরণ’। অন্যদিকে আমেরিকা, ব্রিটেন ও ফ্রান্সের কাছে এটি ছিল এক ধরনের কারাগার, যে কারাগার থেকে পূর্ব জার্মানির মানুষকে বের হতে বাধা দেওয়া হত।

আরও পড়ুন:

পূর্ব জার্মানি থেকে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ বার্লিন প্রাচীর টপকে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু প্রাচীর টপকানো ছিল খুবই কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ। ১৯৬১ থেকে ১৯৮৯ পর্যন্ত ২৮ বছরে এই পথে পালানোর চেষ্টা করতে গিয়ে শতাধিক মানুষ নিহত হন।

আরও পড়ুন:

পূর্ব বার্লিনে মানুষের জীবনযাত্রা ছিল কঠিন। কর্তৃপক্ষ তাঁদের প্রতিটি কাজ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করত। জীবনযাপনের নিয়মও ছিল অত্যন্ত কঠোর। এ ধরনের নানা কারণে যাঁরা আগে পশ্চিম বার্লিনে কাজ করতেন, তাঁরা চাকরি হারিয়ে বেকার হয়ে পড়েন।

আরও পড়ুন:

কড়াকড়ি ও কঠোর বিধি-নিষেধের কারণে পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানিতে থাকা পরিবারগুলো বন্ধুবান্ধব ও প্রিয়জনদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। ১৯৮৯ সালে প্রাচীর ভাঙার আগে পর্যন্ত অনেকের মধ্যে আর দেখা করার সুযোগ হয়নি।

আরও পড়ুন:

১৯৮০-এর দশকে পূর্ব ইউরোপের অনেকে দেশে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয়। পূর্ব ইউরোপের মানুষেরা আরও বেশি স্বাধীনতা চাইছিলেন। তাঁরা যেখানে খুশি যাওয়ার অধিকার চান। এ ছাড়া নিজের পছন্দের গান শোনা এবং স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের অধিকার চান, যা সোভিয়েত শাসনে সম্ভব ছিল না। এক পর্যায়ে দেশ ছেড়ে যাওয়ার অনুমতির দাবি জোরালো হতে থাকে।

আরও পড়ুন:

পূর্ব জার্মানি থেকে শত শত মানুষ হাঙ্গেরি ও চেকোস্লোভাকিয়ার মতো প্রতিবেশী দেশে পালিয়ে যেতে থাকেন। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে, পূর্ব বার্লিন সরকারের পক্ষে পশ্চিম জার্মানিতে প্রবেশের দাবি ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়ে।

আরও পড়ুন:

অবশেষে ১৯৮৯ সালের ৯ নভেম্বর আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। সেদিন পূর্ব জার্মানির রাষ্ট্রনেতা টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশ্য ভাষণে পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানির সীমান্ত খুলে দেওয়ার ঘোষণা দেন। এরপর পূর্ব জার্মানি থেকে হাজার হাজার মানুষ বার্লিন প্রাচীরের কাছে জড়ো হন। তাঁরা সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যদের ফটক খুলে দিতে বলেন। সেই ঘোষণা শুনে বিপুল সংখ্যক মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে বাধ্য হয়ে পিছু হটে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা। এরপর হাজার হাজার মানুষ পশ্চিম জার্মানিতে প্রবেশ করেন।

আরও পড়ুন:

সেদিন বার্লিন প্রাচীরের পশ্চিম পাশের মানুষ পূর্ব জার্মানির মানুষের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এত বছর বিচ্ছিন্ন থাকার পর পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের জড়িয়ে ধরে রীতিমতো উল্লাস ও উৎসব শুরু হয়ে যায়। কেউ কেউ প্রাচীরের ওপর ওঠে নাচতে থাকেন। বার্লিন প্রাচীরের পতন হয় ১৯৮৯ সালের ৯ নভেম্বর। তবে ওই দিন পুরো প্রাচীর একবারে ধ্বংস করা হয়নি।

আরও পড়ুন:

এরপর কয়েক সপ্তাহ ধরে অসংখ্য হাতুড়ি, শাবল, গাঁইতি দিয়ে প্রাচীর ভাঙতে থাকেন সাধারণ মানুষ। তারা প্রাচীরের টুকরোগুলো যত্ন করে রেখে দেন। কারণ, প্রাচীরের টুকরোগুলো গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হয়ে উঠেছিল। জার্মান সরকার শেষ পর্যন্ত ১৯৯০ সালে প্রাচীরটি ধ্বংস করে। তবে দর্শনার্থীদের জন্য প্রাচীরের অনেক অংশ এখনো অবশিষ্ট হয়েছে। এরপর পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানি একত্রীকরণ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। বার্লিন প্রাচীর পতনের ১১ মাস পর ১৯৯০ সালের ৩ অক্টোবর পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানি আনুষ্ঠানিকভাবে মিলিত হয়ে আজকের পরিচিত জার্মানি রাষ্ট্র গড়ে ওঠে। কুখ্যাত হিটলারের দেশ জার্মানি এখন ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী ও প্রভাবশালী দেশ বলে গণ্য হয়।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder