ইসলামের ইতিহাসে প্রথম শহীদ
ড. সাজেদা হোমায়রা
নতুন পয়গাম: জানেন কি? পৃথিবীর বুকে ইসলামকে প্রতিষ্ঠিত করতে, কাফেরদের নির্যাতনের স্বীকার হয়ে সর্বপ্রথম শাহাদাত বরণ করেন একজন নারী! আল্লাহর রাসূলের একজন সাহাবী। তাঁর নাম সুমাইয়া বিনতে খুববাত (রা.)। তিনি ছিলেন সাহাবী আম্মার ইবনে ইয়াসির (রা.) এর মা। সুমাইয়া (রা.) এর জন্ম হয়েছিল তৎকালীন আরবের একটি নিম্নগোত্রের পরিবারে। যাদেরকে দাস/দাসী হিসেবে কাজ করতে হতো। সুমাইয়া (রা.) ছিলেন আবুু জেহেলের চাচা আবু হুজাইফা ইবনে আল-মুগীরার দাসী।
কুরাইশ গোত্রের আর অন্য কোন দাসী সুমাইয়ার মতো এতটা বিশ্বস্ত, এতটা শালীন ও এতটা ভদ্র ছিল না। হযরত সুমাইয়া যখন বার্ধক্যে উপনীত হন তখন মক্কায় ইসলামী দাওয়াতের সূচনা হয়। ইসলামী দাওয়াতের সূচনা পর্বেই তিনি সহ তাঁর স্বামী ইয়াসির ও পুত্র আম্মার গোপনে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং কিছুদিন পরই তাঁরা ইসলাম গ্রহণের প্রকাশ্যে ঘোষণা দেন। এর পরপরই হযরত সুমাইয়ার পুরো পরিবারকেই পড়তে হয় কুরাইশদের অত্যাচারের রোষানলে।
প্রথম দিকে যারা প্রকাশ্যে ইসলামের ঘোষণা দিয়েছিলেন, কুরাইশরা তাঁদেরকে খুব নিষ্ঠুরভাবে নির্যাতন করতো। এমনই নির্মম নির্যাতনের স্বীকার হয়েছিলেন সুমাইয়া (রা.) ও তাঁর পরিবার। লোহার বর্ম পরিয়ে প্রচন্ড রোদে মরুভূমির তপ্ত বালুর মাঝে তাঁদের দাঁড় করিয়ে রাখা হতো। কী নিষ্ঠুর ছিলো সেই নির্যাতন!
সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অনবরত চলতো এই নির্যাতন!
জাবের (রা.) বলেন, ‘একদিন মুশরিকরা সুমাইয়ার পরিবারকে শাস্তি দিচ্ছিলো তখন সেই পথ দিয়ে রাসুল সা. কোথাও যাচ্ছিলেন, তিনি তাঁদের অবস্থা দেখে অত্যন্ত কষ্ট পান। তিনি তাদেরকে বলেন: “হে ইয়াসিরের পরিবার! তোমাদের জন্য সুসংবাদ! তোমাদের জন্য রয়েছে জান্নাতের ওয়াদা!”
রাসূল (সা.) যখন তাঁদের জান্নাতের সুসংবাদ দিতেন, তখন সুমাইয়া রা. রাসূলুল্লাহ সা. কে বলতেন, ‘ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমি তো জান্নাতের সুগন্ধ এই তপ্ত মরুভূমির বুকে শুয়েই পাচ্ছি!’
সারাদিন এভাবে শাস্তি ভোগ করার পর সন্ধ্যায় তাঁরা মুক্তি পেতেন। দিনের পর দিন এতো অত্যাচার নির্যাতন করার পরও সুমাইয়া ব(রা.) ইসলাম থেকে একচুলও সরে যাননি। কতোটা দৃঢ় ছিলো তাঁর ঈমান!
প্রতিদিনের মতো এক সন্ধ্যায় শাস্তি ভোগ করে সুমাইয়া (রা.) বাড়ি ফিরলেন। হঠাত পাষণ্ড আবু জেহেল তাঁকে অশালীন ভাষায় গালি দিতে থাকে। এক পর্যায়ে তার পশুত্বের মাত্রা সীমা ছাড়িয়ে যায়। সে সুমাইয়ার দিকে বর্শা ছুঁড়ে মারে এবং সাথে সাথেই তিনি শাহাদাত বরণ করেন।
সুমাইয়া রা. এর শাহাদাতের ঘটনাটি ঘটে হিযরতের পূর্বে ৬১৫ খৃষ্টাব্দে। রাসূলুল্লাহ সা. এর নব্যুয়ত প্রাপ্তির ৫ বছর পর। তিনিই হলেন ইসলামের প্রথম শহীদ। ঐতিহাসিক মুজাহিদ (রহ.) বলেন, ‘ইসলামের প্রথম শহীদ হলেন আম্মারের মা সুমাইয়া।’
বদর যুদ্ধে যখন নরাধম আবু জেহেল যখন নিহত হয়, রাসুল সা. তখন সুমাইয়ার ছেলে আম্মারকে ডেকে বলেন: ‘হে আম্মার! আল্লাহ তোমার মায়ের ঘাতককে হত্যা করেছেন!’
সুমাইয়া বিনতে খুববাত (রা.) ইসলামের সুমহান সৌন্দর্য্যে মুগ্ধ হয়ে মুসলিম হয়েছিলেন। মুসলিম হওয়ার কারণে কাফিররা তাঁর প্রতি কতো অত্যাচারই না করেছিলো! কিন্তু তাঁর ঈমানী দৃঢ়তায় এতটুকুও দূর্বলতা দেখা যায়নি কখনো! একজন বলিষ্ঠ ঈমানদার সাহাবী হযরত সুমাইয়া! যিনি ইসলামের জন্য নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছিলেন। ইসলামের ইতিহাসে প্রথম শহীদ হিসেবে তিনি সম্মানিত হয়ে থাকবেন চিরকাল!








