বলি হচ্ছেটা কী?
ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে আটকের পর ছাড়া পাওয়া ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ নৌবহরের ত্রাণ ও মানবাধিকার কর্মীরা নির্মম নির্যাতনের শিকার হওয়ার কথা জানিয়ে বলেছেন, আটক অবস্থায় ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনী তাঁদের সঙ্গে নিষ্ঠুর ও অমানবিক আচরণ করেছে। তাঁদের হাঁটুতে ভর দিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা থাকতে হয়েছে। অনেককে মারধরও করা হয়েছে। তিন দিন তাঁরা কিছু খেতে পাননি। এমনকি শৌচাগারের পানি পান করেও থাকতে হয়েছে। ফ্লোটিলার অন্যতম মুখ গ্রেটা থুনবার্গ ও তার কয়েকজন সাথীকে চুলের মুঠি ধরে জোর করে ইসরাইলের পতাকার সামনে মাথা নত করানো হয়েছে। ইসরাইলি অবরোধ ভেঙে ত্রাণসামগ্রী নিয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় যেতে চেয়েছিলেন তাঁরা। এটাই ছিল তাদের একমাত্র অপরাধ।
ইসরাইল চাইছে, গাজাবাসীকে পুরোপুরি খতম করে গাজা উপত্যকাকে নো-ম্যানস-ল্যান্ড বানিয়ে পুরোটাই দখল করে গ্রেটার ইসরাইল বানাতে। আর গ্রেটারা চেয়েছিলেন গাজার অনাহারে, অর্ধাহারে থাকা মানুষদের কাছে খাদ্য ও ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিতে। এই ছিল তাদের অপরাধ। ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ নামে প্রায় ৫০টি নৌবহর নিয়ে গাজা অভিমুখে যাওয়ার সময় আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে গত সপ্তাহে ৪৭৯ জনকে আটক করে ইসরাইল। সেই নিরিখে নেতানিয়াহুকে জলদস্যু বলা অত্যুক্তি হবে না।
শেষ খবরে জানা গিয়েছে, আটকদের মধ্যে গতকাল সোমবার গ্রেটা থুনবার্গ-সহ আরও ১৭১ জনকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে ইসরাইল। এর আগের তিন দিনে বিভিন্ন দেশের ১৭০ জন অধিকারকর্মীকে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। মুক্তি পেয়ে আন্তর্জাতিক মহলের ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়ে সুইডিশ অধিকারকর্মী ও জলবায়ু আন্দোলনের তরুণী নেত্রী গ্রেটা থুনবার্গ বলেছেন, গাজার জন্য কোনো দেশ কিছু করছে না। এদিন গ্রীসের রাজধানী এথেন্স বিমানবন্দরে গ্রেটা-সহ সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত ১৭২ জনকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান। তাদের হাতে ছিল ফিলিস্তিনের পতাকা।
থুনবার্গ বলেন, ইসরাইল গাজায় বেপরোয়াভাবে গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের ওপর সত্যিকারের চাপ তৈরি হয়, এমন কিছু করতে হবে। কিন্তু কেউ তা করছে না। ইসরাইলকে বয়কট করতে হবে এবং সবরকম সাহায্য বন্ধ করতে হবে। কিন্তু সরকারগুলো তাদের ন্যূনতম দায়িত্ব পালন করছে না। শুধু মুখে ক্ষোভ প্রকাশ করছে, উদ্বেগ জানাচ্ছে। এতে কাজের কাজ কিছু হবে না।
কী করছে ৫৭টা মুসলিম দেশ?
গ্রেটা থুনবার্গরা যে সৎ-সাহস দেখিয়েছে, তা কি ৫৭টা মুসলিম দেশ মিলে করতে পারত না? তাদেরও তো নৌবাহিনী রয়েছে। সেগুলোর কিছু কিছু তো গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলায় দিতে পারত। তাহলে ফ্লোটিলা আরও বড় কলেবরে হত। বিশ্বজুড়ে ইসরাইলের ওপর চাপ অনেকটা বাড়ত। কিন্তু মুসলিম দেশগুলো মাঝেমধ্যে আইওয়াশ মার্কা বৈঠক করছে, আর অশ্বডিম্ব প্রসব করছে। এসব হিজড়া, পরজীবী, অমেরুদণ্ডী দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা বরং মসনদ ছেড়ে চুড়ি হাতে দিয়েজ বসে থাকুক। ট্রাম্প-নেতানিয়াহু যা খুশি করে যাচ্ছে, আর ৫৭টা মুসলিম দেশ মিটমিট করে কিংবা ড্যাবড্যাব করে খেল-তামাশা দেখছে। কেউ কেউ আবার গাদ্দারি বা বিভীষণগিরিও করছে। কারণ, ট্রাম্প তাদেরকে বলছেন, সাবধান, বেশি ট্যাঁ-ফোঁ করলে গদি উল্টে দেব, রিজিম চেঞ্জ করে দেব। নেই কাজ ভাল। তার থেকে বরং নাচ মেরে বুলবুল প্যায়সা মিলেগা। আব কী বার, তেরাহি বানেগা সরকার। মোনাফেক মুসলিম রাষ্ট্রপ্রধানরা যুগযুগ জিও।
কিন্তু বাছাধনেরা মনে রেখো, ‘আল্লাহ ছাড় দেন, ছেড়ে দেন না’। একদিন তোমাদের সবাইকে এই মৌনতার জন্য আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে। সেদিন উটের মতো বালিতে মুখ গুঁজে নিস্তার পাবে না। ট্রাম্প বাবাজী তোমাদেরকে পুলসিরাত পার করতে পারবে না। জাহান্নামের আগুন তোমাদের দিকে দাবানলের মতো ছুটে আসবে। সেদিন তোমরা সব ফেরাউন, নমরুদের কাতারে দাঁড়িয়ে থাকবে, আর ‘ইয়া নফসি, ইয়া নফসি’ বলে চিৎকার করতে থাকবে। চারিদিক থেকে তোমাদেরকে দোজখের আযাব ঘিরে ধরবে। যেখান থেকে পালাবার কোন পথ পাবে না। সব পথ সেদিন মিশে যাবে জাহান্নামের দিকে। যত মত তত পথ নয়, সেদিন পথ হবে মাত্র দুটো — জান্নাত এবং জাহান্নাম। এখনও সময় আছে, তাওবাহ ইস্তেগফার করে ফিরে চলো আপন প্রভু আল্লাহর দিকে। তাহলেই ট্রাম্প নেতানিয়াহুরা বাপ বাপ বলে গাজা ছেড়ে চম্পট দেবে। অন্যথায় তোমাদেরকে কেয়ামত পর্যন্ত আমেরিকা ও ইসরাইলের গোলামী করে যেতে হবে।








