এসআইআর: মানুষের হয়রানিতে প্রশ্নবিদ্ধ কমিশনের নিরপেক্ষতা
এসআইআর ঘিরে বর্তমানে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা গণতান্ত্রিক কাঠামো ও নাগরিক অধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এসআইআর-এর নামে সাধারণ মানুষকে বারবার ডাকা, লাইনে দাঁড় করানো, নোটিশ দেওয়া — এসবের ফলে নাগরিকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দরিদ্র, শ্রমজীবী ও প্রান্তিক মানুষের কাছে এটি এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যারা বছরের পর বছর ভোট দিয়ে আসছেন, হঠাৎ করে তাদের নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা সংবিধানের মৌলিক চেতনার পরিপন্থী। ভোটাধিকার কোনো অনুগ্রহ নয়, এটি একজন নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। জন্মসনদ, জমির দলিল, পিতা-মাতার নথি — এ ধরনের কাগজপত্র অনেকের কাছেই নেই। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চল, সংখ্যালঘু ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য এই দাবি বাস্তবতার সঙ্গে অসঙ্গত এবং বৈষম্যমূলক।
নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। কিন্তু এসআইআর প্রক্রিয়া যদি এমনভাবে পরিচালিত হয়, যাতে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের স্বার্থ রক্ষা হয়, তবে কমিশনের নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা গুরুতরভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়। যদি ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে নাগরিকদের বাদ দেওয়া হয়, তবে তা সরাসরি গণতন্ত্রের ভিত্তিকে দুর্বল করে। গণতন্ত্র শক্তিশালী হয় মানুষের অংশগ্রহণে, বাদ দেওয়ায় নয়।
এসআইআর প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, মানবিক ও সংবিধানসম্মত না হলে তা জনগণের আস্থা হারাবে। নির্বাচন কমিশনের উচিত – হয়রানি বন্ধ করা, অযৌক্তিক কাগজের দাবি পরিহার করা এবং সর্বোপরি রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখা। নাগরিকের পরিচয় প্রমাণের দায় রাষ্ট্রের, নাগরিকের নয় — এই নীতিতেই একটি সুস্থ গণতন্ত্র টিকে থাকে।
মুস্তাফা মিঞা, দিনহাটা, কোচবিহার








