BREAKING:
জোড়াসাঁকোয় সাহিত্য-সংস্কৃতির মহোৎসবে কলম শিল্পী গ্র্যান্ড ফেস্টিভ্যাল ২০২৬ খোশবাগ বাসস্ট্যান্ডের কাছে পথ দুর্ঘটনা, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন দন্ত চিকিৎসক বসিরহাট দরবার শরিফে হুমায়ুন কবীর, পেলেন উষ্ণ অভ্যর্থনা লাল বালির চড়া দাম, গ্রামবাসীদের ভরসা পাথরের গুড়ো   রমজানে অসহায়দের পাশে আল হোসাইনী হেল্প ফাউন্ডেশন সুন্দরবনের লবণাক্ত মাটিতে সূর্যমুখী চাষে সাফল্য, লাভের মুখ দেখছেন কৃষকরা হুগলি জেলায় এসআইআর এর প্রথম পর্যায়ের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করলেন জেলা শাসক খুরশিদ আলি কাদরি  বন্যপ্রাণীর উপদ্রব রুখতে তৎপর বনদপ্তর উত্তাপহীন ডার্বিতে মহামেডানকে ৫ গোলে উড়িয়ে দিল মোহনবাগান মরণবাঁচন ম্যাচে আজ সামনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জিততেই হবে ভারতকে রাজনগরে চাঞ্চল্য: গাংমুড়ি গ্রামে বাড়ির ভিতর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার মোবাইল গেম খেলতে খেলতেই নিভে গেল ২১ বছরের তরতাজা প্রাণ  মুর্শিদাবাদের মুকুটে নতুন দুই পালক, বিশ্ববিদ্যালয় ও কাটরা মসজিদের তোরণ প্রকল্পের শিলান্যাস করলেন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম! রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে ত্রিশটি আসনে লড়বে পুকুর খনন করার সময় প্রাচীন বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার হল পান্ডুয়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে উড়িয়ে সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকা। রানে ফিরলেন অভিষেক, জয়ে ফিরলো ভারত; বেঁচে রইলো সেমির স্বপ্ন এসআইআর  ইস্যুতে আতঙ্ক নয়, আইনি পথে আপিলের আহ্বান মিল্লি ঐক্য মঞ্চের কালিয়াচক আবাসিক মিশনে বিজ্ঞান বিভাগের প্রবেশিকা পরীক্ষা সম্পন্ন, উৎসাহ চোখে পড়ার মতো পরীক্ষার দিন আচমকা মৃত্যু অষ্টম শ্রেণির ছাত্রের, শোকস্তব্ধ সোনারপুর নাবালিকাকে বিবাহের অভিযোগে জয়নগরে গ্রেপ্তার যুবক জয়নগরে মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনা, আহত তিন শ্রমিক নেতা মহম্মদ ওয়েস এর নেতৃত্বে বড়জোড়ায় বিরাট মিছিল কুলতলির বিধায়কের উপস্থিতিতে ঢালাই রাস্তার কাজের সূচনা হলো নলগোড়ায় ঘুটিয়ারীশরিফে পুলিশের তৎপরতায় ৫৪ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার গঙ্গাকে দূষণমুক্ত করতে উদ্যোগ সুন্দরবনে বাঘের হামলায় ফের মৃত্যু, সরকারি ক্ষতিপূরণের দাবি এসআইও নিয়ে মিথ্যা মন্তব্যের প্রতিবাদে কলকাতায় সাংবাদিক সম্মেলন জামাআতে ইসলামী হিন্দের ইফতার সামগ্রী বিতরণ বই হোক সই, বইয়ের জন্য করিমপুরে পথে হাঁটল শত শত মানুষ রমজান মাসে ৩০০ দুস্থ পরিবারের পাশে সমাজসেবী হাফেজ নজরুল ইসলাম অবশেষে ধুলিয়ান গঙ্গা স্টেশনে বাংলা স্থান পেল  মুর্শিদাবাদে দুই মেগা প্রকল্পের শিলান্যাস ২৮ ফেব্রুয়ারি ভাঙড়ে ২৮ টি তাজা বোমা ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার, গ্রেপ্তার দুই জন্মদিনে অবহেলিত ভূদেব মুখোপাধ্যায়, তালাবন্ধ গ্রীলে মালা ঝুলিয়ে জন্মদিন পালন করল বিজেপি বালিভর্তি ট্রাক চলাচল ঘিরে উত্তেজনা, সোনামুখীতে গ্রামবাসীর রাতভর বিক্ষোভ বসিরহাটে দলবদল ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ, তৃণমূলের সভায় বহু নেতার যোগদান ভোটের আগে বিরোধী শিবিরে বড় ভাঙন কুলতলীতে কালিয়াচকের বাহাদুরপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড চুঁচুড়ায় সোমবার সাতসকালে পথ দুর্ঘটনা, জখম যুবকের অবস্থা আশঙ্কাজনক নিহত সেনা জওয়ানের মরদেহ পৌঁছাল শেখপাড়ার বাড়িতে ব্লক প্রাণিসম্পদ বিকাশ দিবস পালিত জয়নগরে অনলাইন বাণিজ্যের প্রসারে ক্ষুদ্র ব্যবসা চাপে: মত বড়জোড়া চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশে ফের পরিযায়ী শ্রমিকের উপর হামলা উত্তরলক্ষীপুরের গর্ব: প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ হতে চলেছেন ডা: মোবারাক হোসেন পুনরাবৃত্তি চায় ভারত, দক্ষিন আফ্রিকা চায় প্রত্যাবর্তন; সুপার এইটে আজ হাড্ডাহাড্ডি লড়াই টানা দুই ম্যাচে জয় ইস্টবেঙ্গলের, দুই ম্যাচেই জোড়া গোল ইউসুফের বৃষ্টিতে ধুয়ে গেল পাকিস্তান-নিউজিল্যান্ডের ম্যাচ আজ শুরু সুপার এইটের লড়াই, প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি পাক বনাম নিউজিল্যান্ড আজ ইস্টবেঙ্গলের সামনে স্পোর্টিং দিল্লি, ভরসার নাম ইউসুফ আজ্জেরি প্রত্যাশিত হার, ঘরের মাঠে মহামেডান বধ এফসি গোয়ার ১৫ বছরেও শেষ হয়নি বক্সীপুর ব্রিজ নির্মাণ কাজ, জনস্বার্থ মামলা গড়াল কলকাতা হাই কোর্টে করিমপুর এলাকাবাসীকে বহরমপুর যেতে আর পেরুতে হবেনা বিপদ সংকুল রাস্তা এসআইআর এর চাপ, শ্রীরামপুরে মাঝ গঙ্গায় ঝাঁপ বিএলও’র ছেলেধরা সন্দেহে পুড়িয়ে খুনের চেষ্টার ঘটনায় বলাগড়ে ২৫ জন দোষীকে সাজা শোনালো চুঁচুড়ার ফার্স্ট ট্রাক কোর্ট বেআইনি মাটির গাড়ির ধাক্কায় ২ যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনে জি-প্লটের আদিবাসী শিশুরা  জল্পনার অবসান, তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন বাম যুব নেতা প্রতীক উর রহমান কনকচূড় ধানের চাল পেল জাতিসংঘের ঐতিহ্য স্বীকৃতি, খুশির হাওয়া জয়নগর জুড়ে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রশাসন-এনজিওর যৌথ উদ্যোগে সচেতনতা শিবির ঘোড়ামারা দ্বীপ রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপের নির্দেশ ট্রাইব্যুনালের, গঠিত হচ্ছে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি শেষ সময় ঘনাতেই যুব সাথী প্রকল্পের ফর্ম জমায় দীর্ঘ হচ্ছে লাইন পখন্না রামকৃষ্ণ আশ্রমে শ্রীরামকৃষ্ণের ১৯১তম জন্মতিথি উদ্‌যাপন বড়জোড়া কলেজে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত সায়েম চৌধুরী ওরফে বাবু: সংগঠন, সংগ্রাম ও সেবার রাজনীতি সোনার প্রতিমার প্রলোভনে ১১ লক্ষ টাকার প্রতারণা ঘুঁটিয়ারীশরিফে পুলিশের সাফল্য: ২৪ চুরি যাওয়া মোবাইল উদ্ধার হুগলি জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের উদ্যোগে খাদ্য সুরক্ষা মেলা’য় সুষম খাদ্য খাওয়ার পরামর্শ  উলুবেড়িয়ায় ১৫ টিয়া উদ্ধার, আন্তরাজ্য পাখি পাচারচক্রের সদস্য গ্রেফতার সরকারি জমি দখল ও নয়নজুলি ভরাটের অভিযোগে চাঞ্চল্য ধূপগুড়িতে কাবিলপুর হাই স্কুলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠা দিবস ঘটা করে উদযাপন পবিত্র রমজান মাস শুরুর ঠিক আগে ইফতার সামগ্রী বিতরণ জয়নগরে ২০২৬ নির্বাচন ঘিরে ফারাক্কায় জোর চর্চায় রেহেনা ইয়াসমিন  পিতা-মাতার স্মৃতিতে আট দিনব্যাপী ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজন পুলিশকর্মী ছেলের উদ্যোগে সুন্দরবনের মৎস্যজীবীদের মৃত্যু মিছিল থামছেই না, সরকারি ক্ষতিপূরনের দাবি মাটি, মানুষ ও সংগঠন: রাবিউল ইসলামের রাজনৈতিক দর্শন দুবে ঝড়ে উড়ে গেল নেদারল্যান্ডস, বোলিংয়ে নায়ক বরুণ হঠাতই ব্যাটিং বিপর্যয়, রঞ্জি থেকে বিদায় বাংলার ফারহানের দুরন্ত সেঞ্চুরি, সুপার এইটে পাকিস্তানও ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচে আজ নামিবিয়ার মুখোমুখি পাকিস্তান সামির ৮ উইকেটেও, ব্যাটিং বিপর্যয়ে হারের মুখে বাংলা চুঁচুড়ায় প্রার্থী ঘোষণার আগেই দেওয়াল লিখনে জোর তৃণমূল, পাল্টা কটাক্ষ বিজেপির কুলতলিতে আয়ুষ মেলা: বিকল্প চিকিৎসা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে উদ্যোগ রানীনগরে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীসভা ও জাকির হোসেনের উপস্থিতিতে উপচে পড়া ভিড়  কৃষকদের সমস্যা সমাধানে চালু ‘ভারত বিস্তার’ এআই টুল গোবর্ধনডাঙ্গায় তৃণমূল ট্রেড ইউনিয়নের কর্মী সভা কাবিলপুরে মানব সেবা ফাউন্ডেশনের পথচলা শুরু মালদা জেলায় হাই মাদ্রাসা, আলিম ও ফাজিল পরীক্ষা নির্বিঘ্নেই সম্পন্ন পা দিয়ে লিখেই উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা মানকুন্ডুতে সারা বাংলা একদিনের দাবা প্রতিযোগিতা মেরা যুব ভারতের উদ্যোগে মগরাহাটে জেলা ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অপসংস্কৃতির স্রোতের বিপরীতে নাট্যচর্চার বার্তা – বাগনানে তিনদিনের নাট্য উৎসবে নজর কাড়ল বাঙালপুর বয়েজ ক্লাব দ্বীপাঞ্চলবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণ: আমতায় নির্মীয়মাণ কংক্রিটের সেতুতে বাড়ছে আশার আলো মানসম্মত শিক্ষা ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে কলকাতায় স্কুল ম্যানেজমেন্ট কর্মশালা জীবনে কিছু জায়গা থেকে চুপচাপ সরে আসতে হয় ১৪ই ফেব্রুয়ারি: ভালবাসার দিন হিসেবে কেন পালিত হয়? সুদ, মাদক ও জুয়ার অদৃশ্য জোট: সমাজ ধ্বংসের নীরব চক্রান্ত আদ্রায় ‘বিনা পয়সার বাজারে’ উপচে পড়া ভিড়, হাসি ফিরল অসংখ্য মুখে মেডিকেল ভর্তিতে কাট অফ বিতর্কে তোলপাড় দেশ হবু ডাক্তারদের মান, মেধা ও রোগীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন কেরালার আদালতে নতুন অধ্যায় রচিত দৃষ্টিহীন তরুণী বিচারক গড়লেন নজির

দেশে দেশে গণঅভ্যুত্থান ও তার পরিণতি

প্রকাশিত: ৩ অক্টোবর ২০২৫, দুপুর ২:৩৩ | আপডেট: ৩ অক্টোবর ২০২৫, দুপুর ২:৩৩

মজিবুর রহমান

আরও পড়ুন:

বিশ্বের মানচিত্রে ভারতের অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ায়। এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশগুলো হল ভুটান, মালদ্বীপ, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ ও নেপাল। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতা এই দেশগুলোর উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য। ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে শেষোক্ত তিনটি দেশে গণঅভ্যুত্থানে সরকার পতন ঘটেছে এবং সরকারের কেষ্ট-বিষ্টুরা দেশত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন।
সিংহল ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে স্বাধীন হয় ১৯৪৮ সালে এবং ১৯৭২ সাল থেকে শ্রীলঙ্কা নামে পরিচিত হয়। ২ কোটি ২০ লক্ষ জনসংখ্যার দেশ শ্রীলঙ্কার দুটি প্রধান ভাষিক জনগোষ্ঠী হল সিংহলি ও তামিল। এই দুই ভাষার মানুষ দেশটির জনসংখ্যার ৭০ ও ২৫ শতাংশ। রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় সিংহলীদের একাধিপত্য ও তামিলদের বঞ্চনা শ্রীলঙ্কার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অশান্তির অন্যতম প্রধান উৎস। তামিলদের অধিকার দাবি-দাওয়া পৃথক রাষ্ট্র গঠনের আন্দোলনে পরিণত হয়। ১৯৮৩ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধে লক্ষাধিক মানুষের প্রাণ যায়। ২০১৯ সালে সংসদ নির্বাচনে বিপুল গরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে এসএলপিপি। কিন্তু শাসকদল ও সরকারে পরিবারতন্ত্র ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট। প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসে ও প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে রক্তের সম্পর্কে ভাই। এছাড়াও তাঁদের পরিবারের আরও অন্তত পাঁচ জন মন্ত্রী ছিলেন। রাজাপাকসেদের পারিবারিক শাসনে শ্রীলঙ্কার সার্বিক অবস্থা দ্রুত খারাপ হতে থাকে। অর্থনীতি ভেঙে পড়ে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি, ওষুধ ও খাদ্য সামগ্রীর তীব্র অভাব দেখা দেয়। সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতা হ্রাস পায়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। সব মিলিয়ে শ্রীলঙ্কার জনজীবন বিপন্ন হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় দেশের ছাত্র-যুবরা রাজাপাকসে পরিবারকে উৎখাত করতে ঐক্যবদ্ধ হয়। সরকার জরুরি অবস্থা ঘোষণা, কারফিউ জারি ও সোশ্যাল মিডিয়া বন্ধ করে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার সকল চেষ্টা ব্যর্থ হয়। ২০২২-এর মার্চে শুরু হওয়া গণআন্দোলন জুলাইয়ে চরম পরিণতি লাভ করে। বিক্ষুব্ধ জনতা রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কর্যালয় দখল করে নেয়। প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করতে ও রাষ্ট্রপতি দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। কিন্তু তাঁদের ঘনিষ্ঠ বা পক্ষীয় লোকেরাই আরও দু-বছর সরকার পরিচালনা করেন। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে নির্বাচনের মাধ্যমে রাজাপাকসে পরিবার তথা এসএলপিপি-র প্রভাবমুক্ত জেভিপি সরকার গঠিত হয়। বামপন্থী রাষ্ট্রপতি অনুঢ়া কুমারা দিশানায়েকে ও প্রধানমন্ত্রী হরিণী অমরাসুরিয়ার নেতৃত্বে শ্রীলঙ্কার পরিস্থিতি এখন কিছুটা ভাল।
১৯৪৭ সালে ভারত ভাগ তথা বঙ্গ বিভাজনের সময় বাংলার মাটি রক্ত-রঞ্জিত হয়। পাকিস্তান গঠনের অব্যবহিত পরেই বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে পূর্ব পাকিস্তান তথা পূর্ববঙ্গে ব্যাপক আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৫২-এর ২১শে ফেব্রুয়ারি ইতিহাস রচিত হয়। বাংলা ভাষার জন্য প্রাণ বিসর্জনের পথ ধরেই বাঙালিদের জন্য পৃথক রাষ্ট্র গঠনের আন্দোলনে ১৯৭১ সালের মার্চ থেকে পূর্ব পাকিস্তান তোলপাড় হতে থাকে। ৩০ লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়। শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালের আগস্টে সেনাকর্তাদের হাতে সপরিবারে খুন হন। সামরিক শাসক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সামরিক অভ্যুত্থানেরই বলি হন ১৯৮১ সালের ৩০ মে। ১৯৮৩-এর ডিসেম্বর থেকে ১৯৯০-এর ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন অপর সামরিক শাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। তারপর থেকে প্রধানমন্ত্রী হন জিয়াউর রহমানের স্ত্রী বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া অথবা মুজিবুর রহমানের কন্যা আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা।
বিএনপি ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচন বয়কট করে। আওয়ামী লীগ ফাঁকা মাঠে গোল দেয়। ২০২৫ সালের ৫ জুন বাংলাদেশের হাইকোর্ট সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের জন্য ৩০ শতাংশ সংরক্ষণের পক্ষে রায় দেয়। ছাত্র সমাজের একাংশ এই রায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে। হাসিনা সরকার হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করে। সুপ্রিম কোর্ট ১০ জুলাই হাইকোর্টের রায়ে স্থগিতাদেশ দেয় এবং ৭ই আগস্ট পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করে। ছাত্র আন্দোলনে বিরক্ত হয়ে ১৪ই জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি-নাতনিরা সংরক্ষণ পাবে না তো কি রাজাকারদের বংশধররা পাবে?” তাঁর এই মন্তব্য অগ্নিতে ঘৃতাহুতি দেয়। ১৬ জুলাই রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও কোটা সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়ক আবু সাঈদ পুলিশের গুলিতে নিহত হন। সেই মৃত্যু কোটা সংস্কার আন্দোলনকে গণ অভ্যুত্থানের পথে পরিচালিত করে। ২১ জুলাই সুপ্রিম কোর্ট মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জন্য ৩০ শতাংশের বদলে ৫ শতাংশ সংরক্ষণ নির্ধারণ করে। ২৩ জুলাই সরকার বিজ্ঞপ্তি জারি করে।
সংরক্ষণ হ্রাস করা হলেও আন্দোলন স্তিমিত হয়নি। কারফিউ জারি করে, সেনা নামিয়ে আন্দোলন দমনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। বিধ্বংসী আন্দোলনে কমবেশি দুশো ছাত্র, সাধারণ মানুষ-সহ কয়েকজন পুলিশ নিহত হন। প্রচুর সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থাপনা ও যানবাহনের ক্ষতিসাধন হয়। কয়েদিরা জেল থেকে পালিয়ে যায়। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করে ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। সেই সরকার সংবিধান-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার সাধনের কাজ করছে। ১৭.৫ কোটি জনসংখ্যার বাংলাদেশে ৯০ শতাংশ মুসলমান আর ৯৮ শতাংশ বাংলাভাষী।

আরও পড়ুন:

নেপাল রাষ্ট্র গঠিত হয় ১৭৬০-এর দশকে। শাসনব্যবস্থা ছিল রাজতান্ত্রিক। ১৯৯০ সাল থেকে রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে জোরদার সহিংস আন্দোলন শুরু হয়। ২০০১ সালের ১ জুন কাঠমাণ্ডুর নারায়ণহিতি রাজপ্রাসাদে ক্রাউন প্রিন্স দীপেন্দ্র গুলি চালিয়ে রাজ পরিবারের নয় সদস্যকে হত্যার পাশাপাশি নিজেও মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আত্মহত্যা করেন। এর পর নেপালে রাজতন্ত্রের পতন ঘটে। ২০০৮ সালে নেপালের সংসদ রাজতন্ত্র বিলুপ্ত করে এবং দেশে যুক্তরাষ্ট্রীয় গণপ্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। দেশের সংবিধান ও শাসনব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের পথে নেপালকে ধারাবাহিক রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। ২০০৮ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে নয়জন ব্যক্তির নেতৃত্বে ১৪ বার সরকার গঠিত হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই থেকে কে.পি শর্মা ওলি তৃতীয় বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন। সরকারের সঙ্গে নিবন্ধন করতে ব্যর্থ হওয়ায় ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ফেসবুক, ইউটিউব, এক্স-সহ ২৬টি সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করে। নেপালের তরুণ প্রজন্ম বা জেন-জি এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামে। ৮ সেপ্টেম্বর এক সমাবেশে পুলিশের গুলিতে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ৯ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী কে.পি শর্মা ওলি পদত্যাগ ও দেশত্যাগ করেন। প্রধানমন্ত্রী-সহ অন্যান্য মন্ত্রীদের বাসভবন, সংসদ ভবন বিক্ষোভকারীদের দখলে চলে যায়। ১০ সেপ্টেম্বর দেশের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সুশীলা কারকি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। তিন কোটি জনসংখ্যার দেশ নেপালে ৮১ শতাংশ হিন্দু। বাকিদের বেশিরভাগই বৌদ্ধ। অর্থনীতি মূলত পর্যটন শিল্পের উপর নির্ভরশীল। নেপালের অধিকাংশ যুব শক্তি ভারত-সহ অন্যান্য দেশে শ্রমিকের কাজ করে দিন গুজরান করেন।
জনসংখ্যা, ভাষিক ও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সংখ্যার নিরিখে ভারতের অবস্থা পূর্বোক্ত দেশগুলোর থেকে অনেকটাই আলাদা। ভারতের জনজীবনে যে বৈচিত্র্য রয়েছে, তা উপরোক্ত দেশগুলোতে নেই। ভারতীয় সমাজ অনেকগুলো স্তর নিয়ে গঠিত। অর্থনৈতিক কাঠামোও বহুস্তরীয়। রাজনৈতিক দলের সংখ্যা অজস্র। কোনো বিশেষ আর্থ-সামাজিক অথবা রাজনৈতিক ঘটনা দেশের সব মানুষকে সমানভাবে আন্দোলিত করে না। এদেশে ‘যত মত তত পথ’ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে জীবন ও জগতকে দেখা হয়। সরকার কিংবা প্রশাসনিক পদক্ষেপের পক্ষে-বিপক্ষে মানুষের অভাব নেই। সমর্থন বা বিরোধিতা কখনও একপেশে হয় না। সরকারি পলিসি ও সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মিটিং, মিছিল, পথ অবরোধ, অনশন, ধর্মঘট ইত্যাদি কর্মসূচি পালনের বিস্তৃত পরিসর রয়েছে। এজন্য ক্ষোভ পুঞ্জিভূত হওয়ার সুযোগ কম। সরকার পরিবর্তনের ব্যাপারে সাধারণ মানুষ নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে প্রস্তুত। আইনসভা, বিচারবিভাগ ও নির্বাহী বিভাগ সংবিধান নির্ধারিত গণ্ডিকে মান্যতা দিয়ে চলে। কিছু সমালোচনা থাকলেও ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামো যথেষ্ট শক্তিশালী। বিগত আট দশকে ভারতের কোনো সরকার বা শাসকের বিরুদ্ধে সামরিক কিংবা গণঅভ্যুত্থান ঘটেনি। আজও জাতীয় অথবা আঞ্চলিক স্তরে ‘দেখিয়া শুনিয়া ক্ষেপিয়া’ গিয়া সরকারকে উৎখাত করার জন্য অভ্যুত্থান ঘটানোর মানসিকতা তৈরি হয়েছে বলে মনে হয় না।

আরও পড়ুন:

ভারতে ছাত্র সমাজ সাধারণত ক্যাম্পাস রাজনীতির মধ্যেই নিজেদেরকে সীমাবদ্ধ রাখে। কোনো গণআন্দোলনে তাদেরকে গণহারে অংশগ্রহণ অথবা নেতৃত্ব দিতে দেখা যায়নি। তারা রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে লাগামছাড়া দুর্নীতি, স্বজনপোষণ কিংবা রেকর্ড বেকারত্ব নিয়ে কোনো স্মরণীয় লড়াইয়ের জন্ম দিতে পারেনি। মূল্যবোধের অবক্ষয়ের যুগে ভারতের জনগণ শিক্ষিত-অশিক্ষিত, সৎ-দুর্নীতিগ্ৰস্ত, আদর্শবাদী-সুবিধাবাদী, সাম্প্রদায়িক-সেক্যুলার দলের প্রতি অনুগত-দলবদলু প্রভৃতি পরস্পর বিপরীতমুখী চরিত্রের রাজনীতিকদের মধ্যে সেভাবে বাছবিচার করে না, প্রায় সকলকেই সমদৃষ্টিতে দেখে। কাজেই শাসকের কোনো গুরুতর ভুল সিদ্ধান্ত বা দুষ্কর্ম সহ্য করতে না পেরে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলে অথবা অভ্যুত্থান ঘটিয়ে অপশাসনের অবসান ঘটানোর সম্ভাবনা খুবই কম। অশিষ্ট ভাষায় বললে, এখানে ”পাবলিকের মার কেওড়াতলা পার” হবে না।
তাই শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ অথবা নেপালের ঘটনায় উচ্ছ্বসিত হওয়ার খুব কারণ আছে বলে মনে হয় না। ছাত্র-তরুণ ও যুবদের মধ্যে আবেগ বেশি থাকলেও অভিজ্ঞতা কম। তারা উত্তেজিত হয়ে ভাঙতে পারলেও সংযম বজায় রেখে গড়তে জানে না। রাষ্ট্র পরিচালনার মতো পরিপক্কতা তাদের নেই। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের শাসন ব্যবস্থায় সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলন হতেই পারে, কিন্তু সরকার পরিবর্তন ভোটের মাধ্যমেই হওয়া উচিত। সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য একটি আকস্মিক আন্দোলনে বহু মানুষের মৃত্যু ও প্রচুর সম্পত্তি ধ্বংস করাটা যৌক্তিক নয়।
(লেখক: প্রধানশিক্ষক, কাবিলপুর হাইস্কুল, মুর্শিদাবাদ)

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder