BREAKING:
জোড়াসাঁকোয় সাহিত্য-সংস্কৃতির মহোৎসবে কলম শিল্পী গ্র্যান্ড ফেস্টিভ্যাল ২০২৬ খোশবাগ বাসস্ট্যান্ডের কাছে পথ দুর্ঘটনা, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন দন্ত চিকিৎসক বসিরহাট দরবার শরিফে হুমায়ুন কবীর, পেলেন উষ্ণ অভ্যর্থনা লাল বালির চড়া দাম, গ্রামবাসীদের ভরসা পাথরের গুড়ো   রমজানে অসহায়দের পাশে আল হোসাইনী হেল্প ফাউন্ডেশন সুন্দরবনের লবণাক্ত মাটিতে সূর্যমুখী চাষে সাফল্য, লাভের মুখ দেখছেন কৃষকরা হুগলি জেলায় এসআইআর এর প্রথম পর্যায়ের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করলেন জেলা শাসক খুরশিদ আলি কাদরি  বন্যপ্রাণীর উপদ্রব রুখতে তৎপর বনদপ্তর উত্তাপহীন ডার্বিতে মহামেডানকে ৫ গোলে উড়িয়ে দিল মোহনবাগান মরণবাঁচন ম্যাচে আজ সামনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জিততেই হবে ভারতকে রাজনগরে চাঞ্চল্য: গাংমুড়ি গ্রামে বাড়ির ভিতর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার মোবাইল গেম খেলতে খেলতেই নিভে গেল ২১ বছরের তরতাজা প্রাণ  মুর্শিদাবাদের মুকুটে নতুন দুই পালক, বিশ্ববিদ্যালয় ও কাটরা মসজিদের তোরণ প্রকল্পের শিলান্যাস করলেন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম! রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে ত্রিশটি আসনে লড়বে পুকুর খনন করার সময় প্রাচীন বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার হল পান্ডুয়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে উড়িয়ে সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকা। রানে ফিরলেন অভিষেক, জয়ে ফিরলো ভারত; বেঁচে রইলো সেমির স্বপ্ন এসআইআর  ইস্যুতে আতঙ্ক নয়, আইনি পথে আপিলের আহ্বান মিল্লি ঐক্য মঞ্চের কালিয়াচক আবাসিক মিশনে বিজ্ঞান বিভাগের প্রবেশিকা পরীক্ষা সম্পন্ন, উৎসাহ চোখে পড়ার মতো পরীক্ষার দিন আচমকা মৃত্যু অষ্টম শ্রেণির ছাত্রের, শোকস্তব্ধ সোনারপুর নাবালিকাকে বিবাহের অভিযোগে জয়নগরে গ্রেপ্তার যুবক জয়নগরে মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনা, আহত তিন শ্রমিক নেতা মহম্মদ ওয়েস এর নেতৃত্বে বড়জোড়ায় বিরাট মিছিল কুলতলির বিধায়কের উপস্থিতিতে ঢালাই রাস্তার কাজের সূচনা হলো নলগোড়ায় ঘুটিয়ারীশরিফে পুলিশের তৎপরতায় ৫৪ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার গঙ্গাকে দূষণমুক্ত করতে উদ্যোগ সুন্দরবনে বাঘের হামলায় ফের মৃত্যু, সরকারি ক্ষতিপূরণের দাবি এসআইও নিয়ে মিথ্যা মন্তব্যের প্রতিবাদে কলকাতায় সাংবাদিক সম্মেলন জামাআতে ইসলামী হিন্দের ইফতার সামগ্রী বিতরণ বই হোক সই, বইয়ের জন্য করিমপুরে পথে হাঁটল শত শত মানুষ রমজান মাসে ৩০০ দুস্থ পরিবারের পাশে সমাজসেবী হাফেজ নজরুল ইসলাম অবশেষে ধুলিয়ান গঙ্গা স্টেশনে বাংলা স্থান পেল  মুর্শিদাবাদে দুই মেগা প্রকল্পের শিলান্যাস ২৮ ফেব্রুয়ারি ভাঙড়ে ২৮ টি তাজা বোমা ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার, গ্রেপ্তার দুই জন্মদিনে অবহেলিত ভূদেব মুখোপাধ্যায়, তালাবন্ধ গ্রীলে মালা ঝুলিয়ে জন্মদিন পালন করল বিজেপি বালিভর্তি ট্রাক চলাচল ঘিরে উত্তেজনা, সোনামুখীতে গ্রামবাসীর রাতভর বিক্ষোভ বসিরহাটে দলবদল ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ, তৃণমূলের সভায় বহু নেতার যোগদান ভোটের আগে বিরোধী শিবিরে বড় ভাঙন কুলতলীতে কালিয়াচকের বাহাদুরপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড চুঁচুড়ায় সোমবার সাতসকালে পথ দুর্ঘটনা, জখম যুবকের অবস্থা আশঙ্কাজনক নিহত সেনা জওয়ানের মরদেহ পৌঁছাল শেখপাড়ার বাড়িতে ব্লক প্রাণিসম্পদ বিকাশ দিবস পালিত জয়নগরে অনলাইন বাণিজ্যের প্রসারে ক্ষুদ্র ব্যবসা চাপে: মত বড়জোড়া চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশে ফের পরিযায়ী শ্রমিকের উপর হামলা উত্তরলক্ষীপুরের গর্ব: প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ হতে চলেছেন ডা: মোবারাক হোসেন পুনরাবৃত্তি চায় ভারত, দক্ষিন আফ্রিকা চায় প্রত্যাবর্তন; সুপার এইটে আজ হাড্ডাহাড্ডি লড়াই টানা দুই ম্যাচে জয় ইস্টবেঙ্গলের, দুই ম্যাচেই জোড়া গোল ইউসুফের বৃষ্টিতে ধুয়ে গেল পাকিস্তান-নিউজিল্যান্ডের ম্যাচ আজ শুরু সুপার এইটের লড়াই, প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি পাক বনাম নিউজিল্যান্ড আজ ইস্টবেঙ্গলের সামনে স্পোর্টিং দিল্লি, ভরসার নাম ইউসুফ আজ্জেরি প্রত্যাশিত হার, ঘরের মাঠে মহামেডান বধ এফসি গোয়ার ১৫ বছরেও শেষ হয়নি বক্সীপুর ব্রিজ নির্মাণ কাজ, জনস্বার্থ মামলা গড়াল কলকাতা হাই কোর্টে করিমপুর এলাকাবাসীকে বহরমপুর যেতে আর পেরুতে হবেনা বিপদ সংকুল রাস্তা এসআইআর এর চাপ, শ্রীরামপুরে মাঝ গঙ্গায় ঝাঁপ বিএলও’র ছেলেধরা সন্দেহে পুড়িয়ে খুনের চেষ্টার ঘটনায় বলাগড়ে ২৫ জন দোষীকে সাজা শোনালো চুঁচুড়ার ফার্স্ট ট্রাক কোর্ট বেআইনি মাটির গাড়ির ধাক্কায় ২ যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনে জি-প্লটের আদিবাসী শিশুরা  জল্পনার অবসান, তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন বাম যুব নেতা প্রতীক উর রহমান কনকচূড় ধানের চাল পেল জাতিসংঘের ঐতিহ্য স্বীকৃতি, খুশির হাওয়া জয়নগর জুড়ে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রশাসন-এনজিওর যৌথ উদ্যোগে সচেতনতা শিবির ঘোড়ামারা দ্বীপ রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপের নির্দেশ ট্রাইব্যুনালের, গঠিত হচ্ছে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি শেষ সময় ঘনাতেই যুব সাথী প্রকল্পের ফর্ম জমায় দীর্ঘ হচ্ছে লাইন পখন্না রামকৃষ্ণ আশ্রমে শ্রীরামকৃষ্ণের ১৯১তম জন্মতিথি উদ্‌যাপন বড়জোড়া কলেজে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত সায়েম চৌধুরী ওরফে বাবু: সংগঠন, সংগ্রাম ও সেবার রাজনীতি সোনার প্রতিমার প্রলোভনে ১১ লক্ষ টাকার প্রতারণা ঘুঁটিয়ারীশরিফে পুলিশের সাফল্য: ২৪ চুরি যাওয়া মোবাইল উদ্ধার হুগলি জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের উদ্যোগে খাদ্য সুরক্ষা মেলা’য় সুষম খাদ্য খাওয়ার পরামর্শ  উলুবেড়িয়ায় ১৫ টিয়া উদ্ধার, আন্তরাজ্য পাখি পাচারচক্রের সদস্য গ্রেফতার সরকারি জমি দখল ও নয়নজুলি ভরাটের অভিযোগে চাঞ্চল্য ধূপগুড়িতে কাবিলপুর হাই স্কুলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠা দিবস ঘটা করে উদযাপন পবিত্র রমজান মাস শুরুর ঠিক আগে ইফতার সামগ্রী বিতরণ জয়নগরে ২০২৬ নির্বাচন ঘিরে ফারাক্কায় জোর চর্চায় রেহেনা ইয়াসমিন  পিতা-মাতার স্মৃতিতে আট দিনব্যাপী ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজন পুলিশকর্মী ছেলের উদ্যোগে সুন্দরবনের মৎস্যজীবীদের মৃত্যু মিছিল থামছেই না, সরকারি ক্ষতিপূরনের দাবি মাটি, মানুষ ও সংগঠন: রাবিউল ইসলামের রাজনৈতিক দর্শন দুবে ঝড়ে উড়ে গেল নেদারল্যান্ডস, বোলিংয়ে নায়ক বরুণ হঠাতই ব্যাটিং বিপর্যয়, রঞ্জি থেকে বিদায় বাংলার ফারহানের দুরন্ত সেঞ্চুরি, সুপার এইটে পাকিস্তানও ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচে আজ নামিবিয়ার মুখোমুখি পাকিস্তান সামির ৮ উইকেটেও, ব্যাটিং বিপর্যয়ে হারের মুখে বাংলা চুঁচুড়ায় প্রার্থী ঘোষণার আগেই দেওয়াল লিখনে জোর তৃণমূল, পাল্টা কটাক্ষ বিজেপির কুলতলিতে আয়ুষ মেলা: বিকল্প চিকিৎসা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে উদ্যোগ রানীনগরে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীসভা ও জাকির হোসেনের উপস্থিতিতে উপচে পড়া ভিড়  কৃষকদের সমস্যা সমাধানে চালু ‘ভারত বিস্তার’ এআই টুল গোবর্ধনডাঙ্গায় তৃণমূল ট্রেড ইউনিয়নের কর্মী সভা কাবিলপুরে মানব সেবা ফাউন্ডেশনের পথচলা শুরু মালদা জেলায় হাই মাদ্রাসা, আলিম ও ফাজিল পরীক্ষা নির্বিঘ্নেই সম্পন্ন পা দিয়ে লিখেই উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা মানকুন্ডুতে সারা বাংলা একদিনের দাবা প্রতিযোগিতা মেরা যুব ভারতের উদ্যোগে মগরাহাটে জেলা ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অপসংস্কৃতির স্রোতের বিপরীতে নাট্যচর্চার বার্তা – বাগনানে তিনদিনের নাট্য উৎসবে নজর কাড়ল বাঙালপুর বয়েজ ক্লাব দ্বীপাঞ্চলবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণ: আমতায় নির্মীয়মাণ কংক্রিটের সেতুতে বাড়ছে আশার আলো মানসম্মত শিক্ষা ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে কলকাতায় স্কুল ম্যানেজমেন্ট কর্মশালা জীবনে কিছু জায়গা থেকে চুপচাপ সরে আসতে হয় ১৪ই ফেব্রুয়ারি: ভালবাসার দিন হিসেবে কেন পালিত হয়? সুদ, মাদক ও জুয়ার অদৃশ্য জোট: সমাজ ধ্বংসের নীরব চক্রান্ত আদ্রায় ‘বিনা পয়সার বাজারে’ উপচে পড়া ভিড়, হাসি ফিরল অসংখ্য মুখে মেডিকেল ভর্তিতে কাট অফ বিতর্কে তোলপাড় দেশ হবু ডাক্তারদের মান, মেধা ও রোগীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন কেরালার আদালতে নতুন অধ্যায় রচিত দৃষ্টিহীন তরুণী বিচারক গড়লেন নজির

ভগিনী নিবেদিতা ও বিপ্লবী আন্দোলনের প্রথমযুগ

প্রকাশিত: ২৩ অক্টোবর ২০২৫, দুপুর ২:২১ | আপডেট: ২৩ অক্টোবর ২০২৫, দুপুর ২:২১

গৌতম রায়

আরও পড়ুন:

ভগিনী নিবেদিতা ভারতবর্ষে আসার আগেই নিজ দেশে একটা রাজনৈতিক পরিমন্ডলের ভিতরে বেড়ে ওঠেন। তাঁর পরিবারে একটা বিপ্লবী ঐতিহ্য ছিল। আয়ারল্যান্ডের স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে তাঁর পিতামহ জন নোবেলের ঘনিষ্ট সম্পর্ক ছিল। আয়ারল্যান্ডের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতি নিবেদিতার বাবা স্যামুয়েল নোবেলের বিশেষ রকমের সহানুভূতি ছিল। নিবেদিতা প্রথম জীবনে আইরিশ হোমরুলের জন্য লড়াই করেছিলেন ‘দি আয়ারল্যান্ড’ দলে যোগ দিয়ে।
স্বামী বিবেকানন্দর সঙ্গে তাঁর যখন প্রথম যোগাযোগ হয়, তখনই বিবেকানন্দর ভিতরে তীব্র ভাবে ব্রিটিশ-বিরোধী মনোভাব তৈরী হয়ে গিয়েছে। যদিও এই পর্বে ইংরেজদের ব্যক্তি চরিত্র নিয়ে একটা মুগ্ধতা নিবেদিতার ভিতরে ছিল। প্রথম অবস্থায় তাঁর এই ধারণাও ছিল যে, ইংরেজদের সঙ্গে একটা সম্মানজনক মীমাংসার চেষ্টা করলেও করা যেতে পারে। ইংরেজদের ব্যক্তি চরিত্র নিয়ে নিবেদিতার মুগ্ধতা প্রথম থমকে গেল বিবেকানন্দর পিছনে ব্রিটিশের গোয়েন্দা লেগেছে – এটা জানার পর। ২২ মে ১৮৯৮ এক চিঠিতে নিবেদিতা লিখছেন, “নির্ঘাত মাথায় গোলমাল হয়ে গিয়েছে। যদি স্বামীজীকে কোনভাবে বাধা দেওয়া হয় তাহলে সত্যিই সরকার প্রমাণ করে দেবে যে তাঁদের মাথায় গোলমাল দেখা দিয়েছে। ফলে যে আগুন জ্বলবে, অচিরেই তার উত্তাপে গোটা দেশ জ্বলবে। আমি? এই দেশের মাটিতে নিঃশ্বাস নিয়েছে এমন একজন সবথেকে বেশি রাজানুগত্যসম্পন্ন রমণী হিসেবেও যদি আমাকে দেখা হয়, তাহলে বলব, ভারতবর্ষে আসার আগে আমি সত্যিই হয়ত বুঝিনি রাজানুগত্যের গভীরতা। সেই আমিই প্রথম জ্বলে উঠব।”
সেই চিঠিতেই এই পরিচিত মানুষকে নিবেদিতা লিখছেন, “ইংলন্ডে থেকে তুমি বুঝতেই পারবে না, জাতিবিদ্বেষ কাকে বলে। তিনজন শ্বেতাঙ্গিনীর সঙ্গে স্বামীজী ও অন্য নেটিভরা যখন কোথাও যান, তখন তাঁদের সঙ্গে কেমন ব্যবহার করা হয়, কেমন অপমান তাঁদের সহ্য করতে হয় — তা তুমি কল্পনাও করতে পারবে না।”

আরও পড়ুন:

Remembering Sister Nivedita on her 150th birth anniversary - The offered  one | The Economic Times
অল্প সময়ের ভিতরেই নিবেদিতার উপলব্ধ হয়, সন্ন্যাসীর অহিংসাকে একজন গৃহস্থের জীবনে স্থাপন করাকে বিবেকানন্দ কোনো অবস্থাতেই অবশ্য পালনীয় কর্তব্য মনে করেননি। বৌদ্ধদের অহিংসা নিয়ে বেশি রকমের মাতামাতিই ভারতবর্ষের পরবর্তীকালের ভীরুতার উৎসভূমি –নিবেদিতার বোধে এটাই ছিল স্বামীজীর অভিমত (স্বামীজীকে যেরূপ দেখিয়াছি: ভগিনী নিবেদিতা। উদ্বোধন। পৃ-২৪)।
নিবেদিতা ভারতে আসার অল্প কিছুদিনের মাথায় কলকাতায় ভয়াবহ প্লেগ হয়। প্লেগের টিকা নিয়ে কলকাতাবাসীর ভিতরে প্রবল সরকার বিরোধী মনোভাব জেগে ওঠে। পরিস্থিতি এতই জটিল হয় যে, ইংরেজদের বিমাতৃসুলভ আচরণে কলকাতার মানুষদের ক্রোধ সীমাহীন পর্যায়ে পৌঁছে যায়। ইংরেজরা সেই সময়ে কলকাতার রাজপথে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছিল।
নিবেদিতা এই সময়ে ‘অ্যান ইংলিস লেডি’ ছদ্মনামে প্রত্যক্ষদর্শীর এক বিবরণ পর্যন্ত একটি বিদেশি কাগজে পাঠান ১৮৯৮ সালের ৪ মে। এই পর্যায়ে স্বামীজীর কথার ভিতর থেকেই নিবেদিতার চেতনা ঋদ্ধ হয়েছিল এই ভাবনায় যে, ঈশ্বর শুভের মতোই অশুভের ভিতরেও বিকশিত হন। হিন্দুরাই কেবলমাত্র তাঁকে অশুভ রূপে উপাসনা করতে সাহস পায় না (স্বামীজীর সহিত হিমালয়ে: ভগিনী নিবেদিতা, পৃ-২৯৩)।
এই সময়কালেই ইংরেজ সম্পর্কে নিবেদিতার মনে খুব তাড়াতাড়ি অদল-বদল হতে শুরু করেছিল। বিশ শতকের শুরুতেই প্রিন্স ক্রপটকিনের ভাবনা নিবেদিতাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। তাঁকে তিনি ব্যক্তিগতভাবেও জানতেন। উল্লেখ্য, পরবর্তীকালে মহাত্মা গান্ধীর চিন্তাধারাতেও ক্রপটকিন বড় প্রভাব ফেলেছিলেন। ভূপেন্দ্রনাথ দত্তের মতে, ১৯০০ খৃষ্টাব্দের মাঝামাঝি ক্রপটকিনের সঙ্গে নিবেদিতার প্রথম পরিচয় হয় (পেট্রিয়ট প্রফেট: ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত, পৃ-৩৩৯)। প্যারিস ইন্টারন্যাশানাল এক্সিবিশনে বিবেকানন্দের সঙ্গেও ক্রপটকিনের দেখা ও দীর্ঘ আলোচনা হয়। তবে ক্রপটকিনের দ্বারা স্বামীজী কখনোই প্রভাবিত হননি বলে ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত অভিমত প্রকাশ করেছেন।

আরও পড়ুন:

Sister Nivedita: The foreign woman who devoted her life to India!
অধ্যাপক শঙ্করীপ্রসাদ বসুর মতে, ‘অ্যানার্কিস্ট ক্রপটকিনের মতবাদকে ভারতীয় পটভূমিকায় প্রয়োগের ইচ্ছা করে নিবেদিতা যে সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছিলেন, ভারতীয় রাজনৈতিক দর্শনের ক্ষেত্রে তার বিশেষ মূল্য আছে’। (নিবেদিতা লোকমাতা: শঙ্করীপ্রসাদ বসু, দ্বিতীয় খন্ড, পৃ-৫৭)।
একশো বছরেরও বেশি সময় ধরে ইংরেজদের অধীনস্ত হয়ে থাকা ভারতের মানুষদের কোন পর্যায়ে আত্মশক্তির ওপর ভর করে সেই ইংরেজদেরই বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে, তার পরিকল্পনা রচনায় নিবেদিতার জীবনে ক্রপটকিনের ভাবনা অনেকখানি প্রভাব ফেলেছিল। সেটা ছিল লড়াইয়ের প্রাথমিক স্তর। তাই সেই অবস্থায় ভারতের সামাজিক সংগঠনগুলির শক্তি বৃদ্ধি করা প্রয়োজন বলে মনে করেন নিবেদিতা। কারণ, যে শাসন কাঠামো ইংরেজ ভারতীয়দের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে, তাকে দেশের সামাজিক সংগঠনগুলোই পারবে অকেজো করতে — এটাই ছিল নিবেদিতার বিশ্বাস। তাঁর বিশ শতকের সূচনা পর্বের ও চার বছর পরে রবীন্দ্রনাথ এভাবেই স্বদেশি সমাজের ভাবনা ভেবেছিলেন। সেদিক থেকে স্বদেশি সমাজ ভাবনায় নিবেদিতাকে রবীন্দ্র ভাবনার পূর্বসূরী বলা যেতে পারে। এমন কি অরবিন্দ ঘোষ, বিপিনচন্দ্র পাল বা পরবর্তী কালে মহাত্মা গান্ধীও নিবেদিতার স্বদেশি সমাজ ভাবনার মূল নির্যাসটুকু নিয়েছিলেন। রবীন্দ্রনাথের স্বদেশি সমাজের চিন্তায় রাজনীতির কোনো ঠাঁই ছিল না। রাজনীতি ব্যতিরেকে নিরুপদ্রব সামাজিক চিন্তা সম্ভব কিনা — সমাজবিজ্ঞানের একটি গুরুতর প্রশ্ন। নিবেদিতার স্বদেশি সমাজের ভাবনা রাজনীতি বাদ দিয়ে ছিল না।

আরও পড়ুন:

Sister Nivedita Heritage Museum & Knowledge Centre
১৯০০ খৃষ্টাব্দের ১ নভেম্বর নিবেদিতা লিখছেন, “ভারতের ভরসা ভারতেরই হাতে, ইংলন্ডের হাতে নয়।” ইংরেজদের সম্পর্কে ১৯০১ সালের ১১ জানুয়ারি লিখছেন, “আমার সম্পূর্ণ আশাভঙ্গ হয়েছে, মন চিরতরে তিক্ত হয়ে গেছে।” সাম্রাজ্যকে অভিশাপ হিসেবে বর্ণনা করলেন ২৯ মার্চে লেখা চিঠিতে। স্ত্রী শিক্ষা বিস্তার প্রসঙ্গে লিখলেন, “আমি কিন্তু একই সঙ্গে রাজনৈতিক প্রয়োজনকেও স্পষ্টভাবে দেখতে পাচ্ছি।” (১০ জুনের চিঠি)।
সেই বছরেরই ১৯ জুলাই মিস ম্যাকলাউডকে এক দীর্ঘ চিঠি লেখেন নিবেদিতা। সেখানেই তাঁর রাজনৈতিক ভাবনা খুব স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। আমাদের জাতীয় আন্দোলনের এই পর্যায়ে নিবেদিতা সংশ্লিষ্ট চিঠিতে যে কঠোর মনোভাব প্রকাশ করেছিলেন, তেমন কথা প্রকাশ্যে সমসাময়িক রাজনৈতিক নেতারাও বলতে পারেননি। বিবেকানন্দ এই সময়েই মেরী হেলকে লেখা এক চিঠিতে এ সম্পর্কে তাঁর অভিমত জানান।
নিবেদিতা লিখছেন, “বুয়োর যুদ্ধ ইংরেজদের ব্যক্তিগত ও জাতিগত অধঃপতন সূচিত করেছে। …ইংলন্ডের মধ্যে যা কিছু মহৎ ছিল, সবই যেন মরে গেছে।” বিশ শতকের সূচনা পর্বে ইংলন্ডের মাটিতে ভারতবর্ষের পরিস্থিতি নিয়ে নিবেদিতা বেশ কয়েকটি বক্তৃতা করেন। ব্রিটিশ শাসনের মঙ্গলকর বিষয়গুলি নিয়ে যে প্রচার করা হয়, তা অন্তঃসারশূন্যতা — ইংলন্ডের মাটিতে দাঁড়িয়ে একথা নিবেদিতা প্রকাশ্যে বলেন (১৯০১ সালের ১৫ নভেম্বর এই বক্তৃতার প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়)।
১৯০২ সালের মার্চ মাসে নিবেদিতার সঙ্গে ওকাকুরার প্রথম সাক্ষাৎ হয়। কলকাতার রাজনৈতিক মহলের সঙ্গে ওকাকুরার যোগাযোগ তৈরী হয় নিবেদিতার মাধ্যমে। সুরেন্দ্রনাথ ঠাকুর এই পর্বের এক মূল্যবান স্মৃতিচারণ করে গিয়েছেন (বিশ্বভারতী পত্রিকা: আগষ্ট ১৯৩৬)।
বাংলায় বিপ্লব প্রচেষ্টার সূচনা পর্ব সম্পর্কে ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত লিখছেন, “মৃত্যুর এক বৎসর পূর্বে তাঁর (বিবেকানন্দ) দু’জন বিদেশি অনুরাগী (তন্মধ্যে একজন ছিলেন তাঁর শিষ্যা) কলকাতায় কয়েকজন বিশিষ্ট নাগরিকের সহায়তায় একটি জাতীয়তাবাদী দল গঠন করেন। এই দলটিই পরে বিপ্লববাদী আন্দোলনের সৃষ্টি করেছিল।” (স্বামী বিবেকানন্দ-ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত, পৃ-২,৩)।

আরও পড়ুন:

Discover 90 Sister Nivedita and swami vivekananda ideas | swami vivekananda  quotes, swami vivekananda wallpapers, great philosophers and more
বিবেকানন্দের দেহত্যাগ নিবেদিতার কাছে ছিল তাঁর গুরুর চিরবিদায় নয়, ছিল “বিজয়ীর প্রত্যাবর্তন” (১৯০২ সালের ২১ জুলাইয়ের চিঠি)। নিবেদিতার সংস্পর্শে আসা বিপ্লবীরা সারদাদেবীর পদস্পর্শ করে বিপ্লবী আন্দোলনে আত্মনিয়োগ করতেন। ব্রক্ষবান্ধব উপাধ্যায় ‘স্বরাজ’ পত্রিকায় লিখেছেন, “যদি তোমার ভাগ্য সুপ্রসন্ন হইয়া থাকে, তো একদিন সেই রামকৃষ্ণ পূজিত লক্ষ্মীর চরণপ্রান্তে গিয়া বসিও, আর তাঁহার প্রসাদ-কৌমুদিতে বিধৌত হইয়া রামকৃষ্ণ শশীসুধা পান করিও-তোমার সকল পিপাসা মিটিয়া যাইবে।” (বিবেকানন্দ ও সমকালীন ভারতবর্ষ: শঙ্করী প্রসাদ বসু, ১ম খন্ড, পৃ-৩৪৯)।
সারদা দেবীর চরণ স্পর্শ করে বিপ্লবী কাজে আত্মনিয়োগের কাজটি যে সমসাময়িক বহু বিপ্লবীই করতেন, তা নিবেদিতার একাধিক চিঠি থেকে জানা যায় (৫-৮-১৯০৯)। সেই সময়ে রামকৃষ্ণ মিশন যে ব্রিটিশের গোয়েন্দা দৃষ্টিতে রয়েছে, তা টেগার্টের রিপোর্ট থেকে জানা যায়। তা সত্ত্বেও সারদা দেবীর তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে থাকা স্বামী সারদানন্দ বিপ্লবীদের কোনো বাধা দেননি।
সারদা দেবী একবার স্বামীজীর দেহাবসানের পর বলেছিলেন, আমার নরেন বেঁচে থাকলে ইংরেজ কি আর ওকে বাইরে রাখত? ফটকে পুরে রাখত। এটি শ্রীশ্রী মায়ের নিছক সন্তান প্রতীম নরেনের প্রতি স্নেহ সম্ভাষণ ছিল না। স্বামীজী যেভাবে বিপ্লবের স্ফুলিঙ্গ হয়ে উঠছিলেন, সারদা দেবী নিশ্চয়ই তার আঁচ পেয়েছিলেন। তাই তাঁর ওই ঐতিহাসিক উক্তি। গুরুর লীলাবসানের পর শ্রীগুরু মহারাজের সেবার উপকরণ হিসেবে শ্রীশ্রী মায়ের স্নেহের খুকী তাই একাত্ম হয়ে গিয়েছিলেন দেশের মানুষের সঙ্গে। এভাবেই ভারতের জাতীয় আন্দোলনের সঙ্গে একাত্ম হয়ে পড়লেন ভগিনী নিবেদিতা।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder