BREAKING:
বয়স মাত্র দশ বছর কিন্তু সাফল্যের নিরিখে সে অনেক বড়দেরও অনুপ্রেরণা  সুন্দরবনের মৈপীঠে অবাধে ম্যানগ্রোভ নিধন চলছে, প্রশাসন নির্বিকার সমুদ্রের জলের স্তর মাপতে গঙ্গাসাগরে ব্যবহার হচ্ছে রিমোট অপারেটেড ভেহিকেল এসআইআর ঘিরে উত্তেজনা ভাঙড়ে, রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ এসআইআর প্রক্রিয়ার নামে হেনস্থার অভিযোগ মকর সংক্রান্তিতে গঙ্গাসাগরে রেকর্ড জনসমাগম নলহাটি ২নং ব্লকে SIR তালিকায় ৩১ হাজার গরমিল আজ শুরু ছোটদের বিশ্বকাপ, প্রথম দিনেই মাঠে নামছে ভৈবরা ব্যর্থ বিরাট, ব্যর্থ ভারতও; কাজে এল না রাহুলের দুরন্ত সেঞ্চুরি শীর্ষে বিরাট, ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে ড্যারিল মিচেল ইন্দাসে আনুমানিক ৪০০ বছরের পুরানো শ্রী শ্রী বাঁকুড়া রায়ের কুড়চি মেলার শুভ উদ্বোধন ভাঙড়ে আইএসএফ-তৃণমূল সংঘর্ষ, আহত উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী কালিয়াচক কলেজের উদ্যোগে ‘ফিট ইন্ডিয়া ম্যারাথন রান আরামবাগে পঞ্চদশ বর্ষের গ্রন্থমেলা ও নাট্যোৎসব ২০২৬ বেশ জমে উঠেছে শীতের রাতে ভরসা হাওড়া গ্রামীণ জেলা পুলিশ কর্মসংস্থান ও শিল্পে ব্যর্থতার অভিযোগ, পূর্ব বর্ধমানে তৃণমূলকে আক্রমণ অগ্নিমিত্রা পলের কালিয়াচকে শীতবস্ত্র বিতরণ: দুঃস্থদের পাশে সুজাপুরের আব্দুল হান্নান বিলুপ্তির পথে কালিয়াচকের শেরশাহি ও মোথাবাড়ির বাবলা এলাকার ঐতিহ্যবাহী তাত শিল্প ছবি এঁকে দিল্লিযাত্রা কৃতি ছাত্র ইমরানের পৌষের শেষে ফসল ঘরে, ধর্ম ও সংস্কৃতির মিলনে গ্রামবাংলায় মকর সংক্রান্তির উৎসব শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে নায়ক রাজা। হরমনপ্রীতের দুরন্ত ব্যাটিংয়ে উড়ে গেল দিল্লি ক্যাপিটালস আজ জিতলেই সিরিজ ভারতের, বেগ দিতে মরিয়া নিউজিল্যান্ডও বাংলাদেশের দাবিকে নস্যাৎ করলো আইসিসি বার্সার কাছে হেরে চাকরি হারালেন রিয়াল কোচ জাভি আলান্সো জগন্নাথ ধাম শুধুমাত্র পুরীতে দিঘায় নয়, দাবি পুরীর শঙ্করাচার্যের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্ মুহুর্তে গেরুয়া শিবিরে ভাঙ্গন ধরালো ঘাসফুল শিবির খাদ্যের লোভে লোকালয়ে হাতির হানা, আতঙ্ক এলাকা জুড়ে চাঁচল সিদ্বেশ্বরী ইনস্টিটিউশনে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার (চতুর্থ সেমেস্টার) প্রস্তুতি সভা বিভিন্ন দল ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিল দশটি পরিবার মেলেনি লক্ষীর ভান্ডার, বার্ধক্য ভাতা, অবিবাহিত বৃদ্ধার নতুন ঘর বানিয়ে দিল আনসারী, সাগর, সুজনরা ভোটার তালিকায় সন্দেহভাজন ভোটার, নাম বাদ দেওয়ার দাবিতে চুঁচুড়ায় বিজেপির বিক্ষোভ চুঁচুড়ার একটি এসআইআর শুনানি কেন্দ্রে এসে ক্ষোভ উগরে দিলেন এক বৃদ্ধা সিঙ্গুরে প্রধানমন্ত্রীর সভা, তার আগেই শিল্প চাই বলে ব্যানার পড়ল “সৃজন” এর উদ্যোগে তিন দিনের নাট্য উৎসব ও সংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা রক্তদান ও প্রতিবন্ধীদের কৃত্রিম অঙ্গ প্রতঙ্গ বিতরণ শিবির সুনীতা উদ্যোগে পিঠ চুলকে বিপুল আয়, পেশার নাম ‘স্ক্র্যাচ থেরাপি’ ডিব্রুগড়ে চা জনগোষ্ঠীকে ওবিসি তালিকায় অন্তর্ভুক্তির দাবি সন্তান লালন-পালনে করণীয় ও বর্জনীয় নতুন ঠিকানায় প্রধানমন্ত্রীর দফতর সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দিয়ে গাজাবাসীকে পাঠানোর ছক নেতানিয়াহুর এআই নিয়ে মধ্যমপন্থার পক্ষে কেন্দ্র নীতীশের হিজাব সরানো আসলে কী বলছে রাষ্ট্রকে? ছাত্র সংগঠন এসআইও-র উদ্যোগে রানীনগর-২ ব্লকে মাধ্যমিক পরীক্ষা প্রস্তুতি শিবির বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে মৃত্যু ছেলের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে স্বামী বিবেকানন্দের ১৬৪ তম জন্মদিন পালন কবি রমেন্দ্র কুমার আচার্য্যচৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার পেলেন কবি ও গল্পকার মানসী কবিরাজ পড়ুয়া ও শিক্ষক সংকটে ধুঁকছে সরকারি বিদ্যালয় ধর্মের মেরুকরণ নয়, মানবিক ভারত গড়ার আহ্বান স্বামীজির জন্মজয়ন্তীতে যাদবপুর (বাঘাযতীন) স্টেশনে ভয়াবহ আগুন, পুড়ে ছাই একাধিক দোকান তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রীরা অবৈধ ব্যবসা টিকিয়ে রাখতেই রাজনীতিতে এসেছে : হাসিবুল ইসলাম মুম্বাইয়ে পিটিয়ে খুন পরিযায়ী শ্রমিক জাতীয় যুব দিবসে ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং ও বিশেষ যুবসমাবেশ আল-আমীন প্রত্যয় ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে শীতার্তদের কম্বল বিতরণ নারী সুরক্ষায় পুলিশের মানবিক উদ্যোগ সাড়ম্বরে পালিত হল স্বামী বিবেকানন্দের ১৬৩তম জন্মবার্ষিকী ধূপগুড়িতে বিজেপির প্রতিবাদ মিছিল বারুইপুরে বঙ্গীয় সংখ্যালঘু পরিষদের বার্ষিক অনুষ্ঠান উপলক্ষে প্রস্তুতি মিটিং অনুষ্ঠিত মহাকাশে বাড়ছে আবর্জনার ঝুঁকি সঠিক সময়ে রাতের খাবার খাওয়া কেন জরুরি? ইরানে ইসলামী বিপ্লব ও রাজতন্ত্রের অবসান আল-আমীন শামসুন একাডেমিতে শিক্ষক প্রশিক্ষণ শিবির কালিয়াচকে আজাদ সমাজ পার্টির যোগদান সভা আইপ্যাকের দপ্তরে ইডি হানা, প্রতিবাদ মিছিলে বিজেপি কর্মীদের সাথে পুলিশের ধস্তাধস্তি রঘুনাথগঞ্জে ‘নতুন দিশা’ কো-অপারেটিভ সোসাইটির শুভ উদ্বোধন জয়নগরের মোয়ার গুণগত মান যাচাইয়ে খাদ্য দফতরের অভিযান শীতের রবিবার মানেই পিকনিকের ঢল, জমজমাট ক্ষেতী মুজাফফর ফরেস্ট ভাঙড়ে আইএসএফের রক্তদান শিবির ঘিরে তৃণমূল-আইএসএফ সংঘর্ষ, আহত উভয়পক্ষের একাধিক এসআইআর এ সবচেয়ে বেশি নাম বাদ যাবে মতুয়াদের, এই আতঙ্কে মতুয়ারা দিশেহারা: মমতাবালা মাধ্যমিক পরীক্ষা প্রস্তুতি শিবির ২০২৬ লোহাপুরে ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে সুপার কাপ জিতলো বার্সেলোনা, নায়ক রাফিনহা ভারত-নিউজিল্যান্ড ম্যাচে ‘বাংলাদেশ’ যোগ, আবার বিতর্ক সামনে শুধু শচীন, ছুটছেন কোহলি; নিউজিল্যান্ডকে হারালো ভারত একাধিক রেকর্ডের সামনে কোহলি, আজই ভাঙ্গতে পারে শচীন, সাঙ্গাকারার রেকর্ড! পিএম মুদ্রা ঋণ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে প্রতারণা, যাদবপুরে পুলিশের জালে পাঁচ মা ক্যান্টিনে খেলেন মন্ত্রী, খাবার নষ্ট দেখে ক্ষুব্ধ স্বপন দেবনাথ এসআইআর: মাইক্রো অবজার্ভারদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন, কড়া সতর্কবার্তা কমিশনের শুভেন্দুর গাড়িতে হামলার অভিযোগ রিপোর্ট তলব কেন্দ্রের, রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদ খোসা-সহ পেয়ারা খাওয়া ক্ষতি, নাকি উপকারী? দাবানলে অস্ট্রেলিয়ায় পুড়ে ছাই ৩ লাখ হেক্টর, অন্ধকারে ৩৮ হাজার ঘরবাড়ি ইরানে কি ফের পাহলভির শাসন ফিরবে? চ্যাটজিপিটির সাহায্য নিয়ে বিয়ে, অতঃপর বিভ্রাট রাম মন্দিরের ১৫ কিমির মধ্যে মদ-মাংস নয়, অযোধ্যায় তুঙ্গে বিতর্ক দলিত নারীকে কুপিয়ে হত্যা, কন্যাকে অপহরণ, উত্তপ্ত মেরঠ বিজেপির পদে ধর্ষণের আসামি, জনরোষে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার উত্তরপ্রদেশেও সোনার দোকানে বোরকা-মাস্ক নিষিদ্ধ সব পেলে নষ্ট জীবন পৃথিবীর শেষ রাস্তা, একা যাওয়া নিষেধ বহুভাষিক লেখক ড. রতন ভট্টাচার্যের জীবনালেখ্য শতবর্ষে মাওলানা আজাদ কলেজ শিক্ষা, সংস্কৃতি, সংহতি ও প্রগতির পথে যাত্রা আবারও চোট পেলেন ঋষভ, ভারত-নিউজিল্যান্ড ওডিআই সিরিজ নজরে সেই ‘রো-কো’ জুটি ডব্লুপিএল পরীক্ষা প্রস্তুতি ও অনুপ্রেরণামূলক শিবির অনুষ্ঠিত হরিশ্চন্দ্রপুর বইমেলায় আইনি সহায়তা শিবির: সাধারণ মানুষের পাশে আইনজীবী ওয়াসিম আকরাম মালদা টাউন হলে দুইদিন ব্যাপী পুরস্কার বিতরণী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ধূপগুড়ির শালবাড়িতে বিজেপির বর্তমান ও প্রাক্তন রাজ্য সভাপতির ঝটিকা সফর আবারও বাজিকারখানায় বিস্ফোরণ, জখম অন্তত ৪ সামসেরগঞ্জে অধীর চৌধুরীর মিছিলে জনসমুদ্র কৃষাণ মান্ডিতে ধান বিক্রি করতে না পেরে চরম দুর্দশায় কৃষকরা

ঘৃণা-ভাষণ যখন স্বাভাবিক হয়ে ওঠে

প্রকাশিত: ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫, বিকাল ৪:২৭ | আপডেট: ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫, বিকাল ৪:২৭

মহম্মদ মফিজুল ইসলাম

আরও পড়ুন:

এই সময়টা এমন এক অদ্ভুত সন্ধিক্ষণ, যেখানে শব্দের ওজন আর তার দায়িত্বের মধ্যে বিপজ্জনক ফাঁক তৈরি হয়েছে। রাজনীতির মঞ্চে উচ্চারিত কথাবার্তা ক্রমশ হালকা হয়ে যাচ্ছে, অথচ তার অভিঘাত সমাজে ক্রমশ ভারী হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমবঙ্গের এক বিজেপি বিধায়কের মুখ থেকে ইসলাম ধর্মগ্রন্থ পবিত্র আল কুরআন সম্পর্কে প্রকাশ্যে যে অবমাননাকর ও আপত্তিকর মন্তব্য শোনা গেছে, তা শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় গোষ্ঠীর ভাবাবেগে আঘাত করেনি; বরং আমাদের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার নৈতিক ভিতকেও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হল, এতদিন পেরিয়ে যাওয়ার পরেও এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে কোনও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দৃশ্যমান উদ্যোগ চোখে পড়েনি।
দেশের সংবিধান নাগরিককে মত প্রকাশের স্বাধীনতা দিয়েছে, কিন্তু সেই স্বাধীনতা কখনোই অবাধ নয়। সংবিধানের ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদ স্পষ্ট বলে, জনশৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও অন্যের অধিকারের স্বার্থে এই স্বাধীনতার উপর যুক্তিসঙ্গত বিধিনিষেধ আরোপ করা যেতে পারে। ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানো, পবিত্র ধর্মগ্রন্থকে অপমান করা কিংবা কোনও নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়কে হেয় প্রতিপন্ন করা — এই সবই সেই সীমারেখা অতিক্রম করে। প্রশ্ন উঠছে, যখন এই সীমালঙ্ঘন প্রকাশ্য রাজনৈতিক মঞ্চে ঘটে, তখন রাষ্ট্রের দায়িত্ব ঠিক কোথায় দাঁড়িয়ে থাকে?
ঘৃণা ভাষণ কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। প্রথমে শব্দের মাধ্যমে অবমাননা, তারপর সেই অবমাননার স্বাভাবিকীকরণ, এবং শেষপর্যন্ত সামাজিক বিভাজনের স্থায়ী রূপ। ইতিহাস আমাদের বারবার দেখিয়েছে, বড় কোনও সহিংসতার আগে ভাষাই সবচেয়ে নিষ্ঠুর অস্ত্র হয়ে ওঠে। আজ যা ‘মন্তব্য’বলে উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, কাল তা-ই রাস্তায় ঘৃণার আগুন জ্বালাতে পারে। তাই এই ধরনের বক্তব্যকে নিছক রাজনৈতিক বক্তব্য বলে এড়িয়ে যাওয়া মানে ভবিষ্যতের বিপদের বীজ বপন করা।

আরও পড়ুন:

পশ্চিমবঙ্গ বহুদিন ধরেই ধর্মীয় সহাবস্থানের এক জটিল কিন্তু তুলনামূলক শান্ত পরিসর হিসেবে পরিচিত। এখানে মতাদর্শের সংঘাত হয়েছে, রাজনৈতিক লড়াই হয়েছে, কিন্তু ধর্মীয় বিদ্বেষকে রাষ্ট্রক্ষমতার ভাষায় প্রকাশ করার প্রবণতা তুলনামূলক সীমিত ছিল। সেই প্রেক্ষাপটে একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির মুখে ইসলাম ধর্মের পবিত্র গ্রন্থ নিয়ে অবমাননাকর ভাষণ শুধু মুসলিম সমাজকেই আহত করে না, এরাজ্যের সামাজিক ঐতিহ্যকেও আঘাত করে। জনপ্রতিনিধির বক্তব্য সাধারণ নাগরিকের বক্তব্যের মতো নয়; তার কথার ওজন বেশি, প্রভাব গভীর, এবং দায়িত্ব বহুগুণ।
আইন কিন্তু নীরব নয়। ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৫৩-এ ধারা স্পষ্টভাবে ধর্মের ভিত্তিতে শত্রুতা প্রচারকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে। ২৯৫-এ ধারা ধর্মীয় অনুভূতিতে ইচ্ছাকৃত আঘাত হানাকে শাস্তিযোগ্য বলে গণ্য করে। তবুও প্রশ্ন থেকে যায় — আইন থাকলে তার প্রয়োগ কোথায়? কেন ঘৃণা ভাষণের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় যেন অদৃশ্য ঢাল হয়ে দাঁড়ায়? কেন শাস্তির প্রশ্নে এত দ্বিধা, এত বিলম্ব?

আরও পড়ুন:

সমাধান কী? প্রথমত, ঘৃণা ভাষণের ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ বা ‘শূন্য সহনশীলতা’নীতি বাস্তবে প্রয়োগ করতে হবে। অভিযোগ উঠলেই রাজনৈতিক চাপমুক্ত, দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করা জরুরি। দ্বিতীয়ত, জনপ্রতিনিধিদের জন্য আরও কঠোর নৈতিক আচরণবিধি কার্যকর করা প্রয়োজন, যেখানে ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক বক্তব্য সরাসরি সাংবিধানিক লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে। তৃতীয়ত, নাগরিক সমাজ ও সংবাদমাধ্যমের দায়িত্বও কম নয়। নীরব দর্শক হয়ে থাকলে চলবে না; প্রশ্ন তুলতে হবে, ধারাবাহিকভাবে, যুক্তি দিয়ে।
এই নীরবতার সামাজিক মূল্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। যখন রাষ্ট্র বা প্রশাসন স্পষ্ট বার্তা দিতে ব্যর্থ হয়, তখন ঘৃণা-ভাষণ আরও সাহস পায়। যারা সংখ্যালঘু, তারা নিজেদের আরও অসুরক্ষিত মনে করে। যারা সংখ্যাগুরু, তাদের একাংশের মনে জন্ম নেয় এক ধরনের অনুমোদনের অনুভূতি — যেন এই ভাষা বলাই যায়, কোনও পরিণতি নেই। এভাবেই গণতন্ত্রের ভেতরে ধীরে ধীরে বিষ ঢুকে পড়ে।
ঘৃণা ভাষণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া মানে কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে নিশানা করা নয়, বরং সংবিধানকে রক্ষা করা। এখানে প্রশ্নটা মতাদর্শের নয়, মানবিক মর্যাদার। আজ যদি ইসলাম ধর্মগ্রন্থ নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যের পরও কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, কাল অন্য কোনও ধর্ম, অন্য কোনও গোষ্ঠী একই পরিণতির মুখে পড়বে। এই অশুভ চক্র থামানো না গেলে শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হবে সামগ্রিক সামাজিক বিশ্বাস।
সমাধান কী? প্রথমত, ঘৃণা ভাষণের ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ বা ‘শূন্য সহনশীলতা’নীতি বাস্তবে প্রয়োগ করতে হবে। অভিযোগ উঠলেই রাজনৈতিক চাপমুক্ত, দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করা জরুরি। দ্বিতীয়ত, জনপ্রতিনিধিদের জন্য আরও কঠোর নৈতিক আচরণবিধি কার্যকর করা প্রয়োজন, যেখানে ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক বক্তব্য সরাসরি সাংবিধানিক লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে। তৃতীয়ত, নাগরিক সমাজ ও সংবাদমাধ্যমের দায়িত্বও কম নয়। নীরব দর্শক হয়ে থাকলে চলবে না; প্রশ্ন তুলতে হবে, ধারাবাহিকভাবে, যুক্তি দিয়ে।
সবচেয়ে বড় কথা, আমাদের ঠিক করতে হবে আমরা কোন ধরনের সমাজে বাঁচতে চাই। যেখানে ধর্মীয় পরিচয়কে অপমান করা রাজনৈতিক কৌশল হয়ে ওঠে, নাকি যেখানে ভিন্ন বিশ্বাস থাকা সত্ত্বেও পারস্পরিক সম্মান বজায় থাকে। ঘৃণা ভাষণের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়া মানে কারও ধর্মীয় আবেগকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া নয়; মানে মানবিক সহাবস্থানের ন্যূনতম শর্ত রক্ষা করা।
আজ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অভাব শুধু একটি ঘটনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে না, প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাচ্ছে আমাদের নৈতিক সাহসকেও। ঘৃণার ভাষণ যদি শাস্তিহীন থেকে যায়, তবে সেই নীরবতাই একদিন আমাদের সমাজের সবচেয়ে বড় অপরাধ হিসেবে ইতিহাসে নথিভুক্ত হবে।

আরও পড়ুন:

 

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder