আমাদের কর্তব্য, করণীয়
মুহাম্মাদ শামসুদ্দোহা কাসেমী
উত্তরপ্রদেশের কানপুরে ‘আই লাভ মুহাম্মাদ’-কে কেন্দ্র করে পরিবেশ ধীরে ধীরে উত্তাল হয়ে উঠছে। চতুর্দিকে বার হচ্ছে বড় বড় প্রতিবাদ মিছিল। সারা ভারতের নানা প্রান্তে আছড়ে পড়ছে প্রতিবাদের ঢেউ। সাথে সাথে প্রশাসনের পক্ষ থেকে চলছে কড়া দমন নীতি। উদ্ভূত পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ এখন মিছিলের দেশে পরিণত হয়েছে। কে কোন্ ধর্ম পালন করবে, কে কী খাবে, কে কী পরবে, কে কাকে ভালবাসবে – তার জন্যও সরকারের অনুমোদন লাগবে। সবকিছু দেখে মনে হচ্ছে দেশটা আর গণতান্ত্রিক নেই। এখানে চলছে উগ্র সাম্প্রদায়িকতা। ফ্যাসিবাদী শাসন। স্বৈরতন্ত্র।
একশ্রেণীর রাজনীতিবিদরা এর মাধ্যমে নিজেদের আখের গোছানোর চেষ্টা করছেন। সাম্প্রদায়িক বিভাজনের মাধ্যমে তারা দীর্ঘদিন ক্ষমতায় টিকে থাকতে চাইছেন, আর এক শ্রেণীর মানুষ গরম গরম ভাষণ ও স্লোগান দিয়ে বিশ্বনবী (সা.)-এর প্রতি গভীর ভালোবাসা প্রকাশ করতে চাইছেন। ফলশ্রুতিতে তৈরি হচ্ছে এক সংঘাতপূর্ণ পরিবেশ। নষ্ট হচ্ছে ভারতের ঐতিহ্য ও উজ্জ্বল ভাবমূর্তি।
সরকারের বোঝা উচিত এ দেশ সবার। এখানে যেমন হিন্দুরা দুর্গাপূজা উদযাপন করবে, তেমন মুসলিমরা তাদের নবীর প্রতি ভক্তি ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন করবে। সেই সাথে অন্যান্য সম্প্রদায়ও তাদের ধর্মীয় রীতিনীতি পালন করবে স্বাধীনভাবে। দেশের সংবিধান প্রত্যেককে এই স্বাধীনতা প্রদান করেছে। কারোর ধর্মের উপর জোরপূর্বক হস্তক্ষেপ করার অর্থ তার সাংবিধানিক অধিকারকে কেড়ে নেওয়া। এটার অধিকার কোন সরকারের নেই। যদি অন্যায়ভাবে কোন সরকার জনগণের মৌলিক অধিকার কেড়ে নিতে চায় তাহলে দেশের সুপ্রিম কোর্ট তাতে হস্তক্ষেপ করবে। প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকারকে রক্ষা করা শীর্ষ কোর্টের মৌলিক দায়িত্ব।
সাথে সাথে মুসলিমদেরও মনে রাখা দরকার নবীর ভালোবাসা শুধুমাত্র মিছিলের মাধ্যমে প্রকাশ করা যথেষ্ট নয়। একদিকে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ মিছিল হওয়া দরকার আরেকদিকে বিশ্বনবীর আদর্শ সঠিকভাবে গ্রহণ করা দরকার। আমরা যদি পরিপূর্ণরূপে তাঁর জীবনাদর্শ ও চিন্তাধারা লালন পালন করতে পারতাম তাহলে আমাদের আদর্শ দেখে অন্যরা নবীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে উঠতো। আমরা অনেকেই জানিনা রামকৃষ্ণ মিশনের পক্ষ থেকে মহানবীর জীবনী ছেপে প্রচার করা হয়। বইটির নাম মহাত্মা মুহাম্মদ। আমরা এই বইটি নিজেরা পড়তে পারি। আর হিন্দু ভাইদের হাতে তুলে দিতে পারি।
শিখ ধর্মের মানুষ গুরুদত্ত সিং উর্দু ভাষায় মহানবীর একটি জীবনী লিখেছেন। নাম রসূলে আরাবী। এটিকে বাংলায় অনুবাদ করেছেন আমাদের সকলের অতি পরিচিত সাহিত্যিক হযরত মাওলানা আবু তাহের মেসবাহ সাহেব। বইটির নাম তোমাকে ভালোবাসি হে নবী! বইটি আমরা সকল দেশবাসীর হাতে তুলে দিতে পারি।
শিশির বাবু লিখেছেন প্রিয়তম নবী। এতে অভিমত দিয়েছেন আমাদের সকলের অতি পরিচিত হযরত মাওলানা তাহের সাহেব রহমাতুল্লাহি আলাইহি। এ বইটিও আমরা সকলের হাতে তুলে দিতে পারি।
এছাড়া রয়েছে বিশ্বনবী, মহানবী, সীরাতুন্নবী, মরু ভাস্কর, দ্যা প্রফেট মোহাম্মদ প্রভৃতি বই। শিশুদের জন্য রয়েছে নানা আয়োজন। এই সুযোগে আমরা সেগুলো বেশি বেশি করে প্রচার করতে পারি।
বিভিন্ন সেবামূলক কাজ করতে পারি। হিলফুল ফুজুলের মাধ্যমে নবীজি যে কাজগুলো করতেন। ঘরে বাইরে আমরা আলোচনা সভা গড়ে তুলতে পারি। তার মাধ্যমে আমরা বিশ্বনবীর ছোট ছোট জীবনী অমুসলিম ভাই-বোনেদের হাতে তুলে দিতে পারি। নিজেরা বাড়িতে বেশি বেশি করে সীরাত চর্চা করতে পারি।
মহান আল্লাহ তা’আলা আমাদের সকলকে মানবতার মুক্তির দূত,শান্তির দূত, করুণার মূর্ত প্রতীক মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চিন্তাধারা অনুযায়ী জীবন যাপন করার তৌফিক দিন। তাঁর দিকনির্দেশনা অনুযায়ী আমাদের চলার তৌফিক দিন। ঘরে ও বাইরে। জীবনের সকল ধাপে। আর এর বিনিময়ে আমাদেরকে দান করুন একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ। যে সমাজে থাকবে না কোন বৈষম্য। শুধু থাকবে ভালোবাসা। সৌহার্দ্য। সম্প্রীতি। সহিষ্ণুতা। আমীন।








