BREAKING:
জোড়াসাঁকোয় সাহিত্য-সংস্কৃতির মহোৎসবে কলম শিল্পী গ্র্যান্ড ফেস্টিভ্যাল ২০২৬ খোশবাগ বাসস্ট্যান্ডের কাছে পথ দুর্ঘটনা, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন দন্ত চিকিৎসক বসিরহাট দরবার শরিফে হুমায়ুন কবীর, পেলেন উষ্ণ অভ্যর্থনা লাল বালির চড়া দাম, গ্রামবাসীদের ভরসা পাথরের গুড়ো   রমজানে অসহায়দের পাশে আল হোসাইনী হেল্প ফাউন্ডেশন সুন্দরবনের লবণাক্ত মাটিতে সূর্যমুখী চাষে সাফল্য, লাভের মুখ দেখছেন কৃষকরা হুগলি জেলায় এসআইআর এর প্রথম পর্যায়ের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করলেন জেলা শাসক খুরশিদ আলি কাদরি  বন্যপ্রাণীর উপদ্রব রুখতে তৎপর বনদপ্তর উত্তাপহীন ডার্বিতে মহামেডানকে ৫ গোলে উড়িয়ে দিল মোহনবাগান মরণবাঁচন ম্যাচে আজ সামনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জিততেই হবে ভারতকে রাজনগরে চাঞ্চল্য: গাংমুড়ি গ্রামে বাড়ির ভিতর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার মোবাইল গেম খেলতে খেলতেই নিভে গেল ২১ বছরের তরতাজা প্রাণ  মুর্শিদাবাদের মুকুটে নতুন দুই পালক, বিশ্ববিদ্যালয় ও কাটরা মসজিদের তোরণ প্রকল্পের শিলান্যাস করলেন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম! রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে ত্রিশটি আসনে লড়বে পুকুর খনন করার সময় প্রাচীন বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার হল পান্ডুয়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে উড়িয়ে সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকা। রানে ফিরলেন অভিষেক, জয়ে ফিরলো ভারত; বেঁচে রইলো সেমির স্বপ্ন এসআইআর  ইস্যুতে আতঙ্ক নয়, আইনি পথে আপিলের আহ্বান মিল্লি ঐক্য মঞ্চের কালিয়াচক আবাসিক মিশনে বিজ্ঞান বিভাগের প্রবেশিকা পরীক্ষা সম্পন্ন, উৎসাহ চোখে পড়ার মতো পরীক্ষার দিন আচমকা মৃত্যু অষ্টম শ্রেণির ছাত্রের, শোকস্তব্ধ সোনারপুর নাবালিকাকে বিবাহের অভিযোগে জয়নগরে গ্রেপ্তার যুবক জয়নগরে মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনা, আহত তিন শ্রমিক নেতা মহম্মদ ওয়েস এর নেতৃত্বে বড়জোড়ায় বিরাট মিছিল কুলতলির বিধায়কের উপস্থিতিতে ঢালাই রাস্তার কাজের সূচনা হলো নলগোড়ায় ঘুটিয়ারীশরিফে পুলিশের তৎপরতায় ৫৪ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার গঙ্গাকে দূষণমুক্ত করতে উদ্যোগ সুন্দরবনে বাঘের হামলায় ফের মৃত্যু, সরকারি ক্ষতিপূরণের দাবি এসআইও নিয়ে মিথ্যা মন্তব্যের প্রতিবাদে কলকাতায় সাংবাদিক সম্মেলন জামাআতে ইসলামী হিন্দের ইফতার সামগ্রী বিতরণ বই হোক সই, বইয়ের জন্য করিমপুরে পথে হাঁটল শত শত মানুষ রমজান মাসে ৩০০ দুস্থ পরিবারের পাশে সমাজসেবী হাফেজ নজরুল ইসলাম অবশেষে ধুলিয়ান গঙ্গা স্টেশনে বাংলা স্থান পেল  মুর্শিদাবাদে দুই মেগা প্রকল্পের শিলান্যাস ২৮ ফেব্রুয়ারি ভাঙড়ে ২৮ টি তাজা বোমা ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার, গ্রেপ্তার দুই জন্মদিনে অবহেলিত ভূদেব মুখোপাধ্যায়, তালাবন্ধ গ্রীলে মালা ঝুলিয়ে জন্মদিন পালন করল বিজেপি বালিভর্তি ট্রাক চলাচল ঘিরে উত্তেজনা, সোনামুখীতে গ্রামবাসীর রাতভর বিক্ষোভ বসিরহাটে দলবদল ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ, তৃণমূলের সভায় বহু নেতার যোগদান ভোটের আগে বিরোধী শিবিরে বড় ভাঙন কুলতলীতে কালিয়াচকের বাহাদুরপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড চুঁচুড়ায় সোমবার সাতসকালে পথ দুর্ঘটনা, জখম যুবকের অবস্থা আশঙ্কাজনক নিহত সেনা জওয়ানের মরদেহ পৌঁছাল শেখপাড়ার বাড়িতে ব্লক প্রাণিসম্পদ বিকাশ দিবস পালিত জয়নগরে অনলাইন বাণিজ্যের প্রসারে ক্ষুদ্র ব্যবসা চাপে: মত বড়জোড়া চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশে ফের পরিযায়ী শ্রমিকের উপর হামলা উত্তরলক্ষীপুরের গর্ব: প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ হতে চলেছেন ডা: মোবারাক হোসেন পুনরাবৃত্তি চায় ভারত, দক্ষিন আফ্রিকা চায় প্রত্যাবর্তন; সুপার এইটে আজ হাড্ডাহাড্ডি লড়াই টানা দুই ম্যাচে জয় ইস্টবেঙ্গলের, দুই ম্যাচেই জোড়া গোল ইউসুফের বৃষ্টিতে ধুয়ে গেল পাকিস্তান-নিউজিল্যান্ডের ম্যাচ আজ শুরু সুপার এইটের লড়াই, প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি পাক বনাম নিউজিল্যান্ড আজ ইস্টবেঙ্গলের সামনে স্পোর্টিং দিল্লি, ভরসার নাম ইউসুফ আজ্জেরি প্রত্যাশিত হার, ঘরের মাঠে মহামেডান বধ এফসি গোয়ার ১৫ বছরেও শেষ হয়নি বক্সীপুর ব্রিজ নির্মাণ কাজ, জনস্বার্থ মামলা গড়াল কলকাতা হাই কোর্টে করিমপুর এলাকাবাসীকে বহরমপুর যেতে আর পেরুতে হবেনা বিপদ সংকুল রাস্তা এসআইআর এর চাপ, শ্রীরামপুরে মাঝ গঙ্গায় ঝাঁপ বিএলও’র ছেলেধরা সন্দেহে পুড়িয়ে খুনের চেষ্টার ঘটনায় বলাগড়ে ২৫ জন দোষীকে সাজা শোনালো চুঁচুড়ার ফার্স্ট ট্রাক কোর্ট বেআইনি মাটির গাড়ির ধাক্কায় ২ যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনে জি-প্লটের আদিবাসী শিশুরা  জল্পনার অবসান, তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন বাম যুব নেতা প্রতীক উর রহমান কনকচূড় ধানের চাল পেল জাতিসংঘের ঐতিহ্য স্বীকৃতি, খুশির হাওয়া জয়নগর জুড়ে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রশাসন-এনজিওর যৌথ উদ্যোগে সচেতনতা শিবির ঘোড়ামারা দ্বীপ রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপের নির্দেশ ট্রাইব্যুনালের, গঠিত হচ্ছে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি শেষ সময় ঘনাতেই যুব সাথী প্রকল্পের ফর্ম জমায় দীর্ঘ হচ্ছে লাইন পখন্না রামকৃষ্ণ আশ্রমে শ্রীরামকৃষ্ণের ১৯১তম জন্মতিথি উদ্‌যাপন বড়জোড়া কলেজে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত সায়েম চৌধুরী ওরফে বাবু: সংগঠন, সংগ্রাম ও সেবার রাজনীতি সোনার প্রতিমার প্রলোভনে ১১ লক্ষ টাকার প্রতারণা ঘুঁটিয়ারীশরিফে পুলিশের সাফল্য: ২৪ চুরি যাওয়া মোবাইল উদ্ধার হুগলি জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের উদ্যোগে খাদ্য সুরক্ষা মেলা’য় সুষম খাদ্য খাওয়ার পরামর্শ  উলুবেড়িয়ায় ১৫ টিয়া উদ্ধার, আন্তরাজ্য পাখি পাচারচক্রের সদস্য গ্রেফতার সরকারি জমি দখল ও নয়নজুলি ভরাটের অভিযোগে চাঞ্চল্য ধূপগুড়িতে কাবিলপুর হাই স্কুলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠা দিবস ঘটা করে উদযাপন পবিত্র রমজান মাস শুরুর ঠিক আগে ইফতার সামগ্রী বিতরণ জয়নগরে ২০২৬ নির্বাচন ঘিরে ফারাক্কায় জোর চর্চায় রেহেনা ইয়াসমিন  পিতা-মাতার স্মৃতিতে আট দিনব্যাপী ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজন পুলিশকর্মী ছেলের উদ্যোগে সুন্দরবনের মৎস্যজীবীদের মৃত্যু মিছিল থামছেই না, সরকারি ক্ষতিপূরনের দাবি মাটি, মানুষ ও সংগঠন: রাবিউল ইসলামের রাজনৈতিক দর্শন দুবে ঝড়ে উড়ে গেল নেদারল্যান্ডস, বোলিংয়ে নায়ক বরুণ হঠাতই ব্যাটিং বিপর্যয়, রঞ্জি থেকে বিদায় বাংলার ফারহানের দুরন্ত সেঞ্চুরি, সুপার এইটে পাকিস্তানও ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচে আজ নামিবিয়ার মুখোমুখি পাকিস্তান সামির ৮ উইকেটেও, ব্যাটিং বিপর্যয়ে হারের মুখে বাংলা চুঁচুড়ায় প্রার্থী ঘোষণার আগেই দেওয়াল লিখনে জোর তৃণমূল, পাল্টা কটাক্ষ বিজেপির কুলতলিতে আয়ুষ মেলা: বিকল্প চিকিৎসা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে উদ্যোগ রানীনগরে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীসভা ও জাকির হোসেনের উপস্থিতিতে উপচে পড়া ভিড়  কৃষকদের সমস্যা সমাধানে চালু ‘ভারত বিস্তার’ এআই টুল গোবর্ধনডাঙ্গায় তৃণমূল ট্রেড ইউনিয়নের কর্মী সভা কাবিলপুরে মানব সেবা ফাউন্ডেশনের পথচলা শুরু মালদা জেলায় হাই মাদ্রাসা, আলিম ও ফাজিল পরীক্ষা নির্বিঘ্নেই সম্পন্ন পা দিয়ে লিখেই উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা মানকুন্ডুতে সারা বাংলা একদিনের দাবা প্রতিযোগিতা মেরা যুব ভারতের উদ্যোগে মগরাহাটে জেলা ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অপসংস্কৃতির স্রোতের বিপরীতে নাট্যচর্চার বার্তা – বাগনানে তিনদিনের নাট্য উৎসবে নজর কাড়ল বাঙালপুর বয়েজ ক্লাব দ্বীপাঞ্চলবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণ: আমতায় নির্মীয়মাণ কংক্রিটের সেতুতে বাড়ছে আশার আলো মানসম্মত শিক্ষা ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে কলকাতায় স্কুল ম্যানেজমেন্ট কর্মশালা জীবনে কিছু জায়গা থেকে চুপচাপ সরে আসতে হয় ১৪ই ফেব্রুয়ারি: ভালবাসার দিন হিসেবে কেন পালিত হয়? সুদ, মাদক ও জুয়ার অদৃশ্য জোট: সমাজ ধ্বংসের নীরব চক্রান্ত আদ্রায় ‘বিনা পয়সার বাজারে’ উপচে পড়া ভিড়, হাসি ফিরল অসংখ্য মুখে মেডিকেল ভর্তিতে কাট অফ বিতর্কে তোলপাড় দেশ হবু ডাক্তারদের মান, মেধা ও রোগীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন কেরালার আদালতে নতুন অধ্যায় রচিত দৃষ্টিহীন তরুণী বিচারক গড়লেন নজির

অসীম সরকারের মিথ্যাচার বনাম প্রকৃত তথ্য

প্রকাশিত: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫, বিকাল ৪:২২ | আপডেট: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫, বিকাল ৪:২৮
নদীয়া জেলার হরিণঘাটার বিজেপি বিধায়ক অসীম কুমার সরকার পবিত্র জীবনবিধান কুরআন সম্পর্কে যে কুরুচিকর এবং জঘন্য মিথ্যা তথ্য পরিবেশন করেছেন, তা সোশ্যাল মিডিয়ার বদৌলতে দেশ-বিদেশ জেনে গেছে। তাঁর ভাইরাল হওয়া ভিডিও থেকে যতটুকু শুনেছি, তাতে তিনি বলেছেন, পৃথিবীতে আসল কুরআন নাকি আর কোথাও নেই! কারণ, আসল কুরআন বদরের যুদ্ধের সময় পুড়ে ছাই হয়ে যায়! এরপর তিনি দাবি করেন, পি.কে হিট্টির ইতিহাসে লেখা আছে, ২৭ জন শয়তান মিলে এই কুরআন লিখেছে! যদিও পি.কে হিট্টির কোন বইতে একথা লেখা আছে, সে বইটির নাম তিনি বলেননি। শুধু তাই নয়, পি.কে হিট্টির নামটাও সঠিকভাবে উচ্চারণ করতে পারেননি! যারা ইসলামের ইতিহাস পড়েছেন, তারা জানেন পি.কে হিট্টির লেখা একটি বিখ্যাত বই আছে, যার নাম 'হিস্ট্রি অফ দ্য অ্যারাবস'। অসীমবাবু সম্ভবত এই বইটি দেখেননি, কারো মুখে শুনে হয়ত সাংবাদিকদের কাছে নিজেকে শিক্ষিত প্রমাণ করার জন্য বইটির লেখকের নাম উল্লেখ করেছেন।

এম আমিনুল আম্বিয়া

আরও পড়ুন:

নদীয়া জেলার হরিণঘাটার বিজেপি বিধায়ক অসীম কুমার সরকার পবিত্র জীবনবিধান কুরআন সম্পর্কে যে কুরুচিকর এবং জঘন্য মিথ্যা তথ্য পরিবেশন করেছেন, তা সোশ্যাল মিডিয়ার বদৌলতে দেশ-বিদেশ জেনে গেছে। তাঁর ভাইরাল হওয়া ভিডিও থেকে যতটুকু শুনেছি, তাতে তিনি বলেছেন, পৃথিবীতে আসল কুরআন নাকি আর কোথাও নেই! কারণ, আসল কুরআন বদরের যুদ্ধের সময় পুড়ে ছাই হয়ে যায়! এরপর তিনি দাবি করেন, পি.কে হিট্টির ইতিহাসে লেখা আছে, ২৭ জন শয়তান মিলে এই কুরআন লিখেছে! যদিও পি.কে হিট্টির কোন বইতে একথা লেখা আছে, সে বইটির নাম তিনি বলেননি। শুধু তাই নয়, পি.কে হিট্টির নামটাও সঠিকভাবে উচ্চারণ করতে পারেননি! যারা ইসলামের ইতিহাস পড়েছেন, তারা জানেন পি.কে হিট্টির লেখা একটি বিখ্যাত বই আছে, যার নাম ‘হিস্ট্রি অফ দ্য অ্যারাবস’। অসীমবাবু সম্ভবত এই বইটি দেখেননি, কারো মুখে শুনে হয়ত সাংবাদিকদের কাছে নিজেকে শিক্ষিত প্রমাণ করার জন্য বইটির লেখকের নাম উল্লেখ করেছেন।
এরপর তিনি বলেছেন, কুরআনে লেখা আছে, হে মুসলমানেরা! কাফেরদের (অমুসলমান) যেখানেই পাবে হত্যা করবে, বন্দী করবে এবং নির্মমভাবে অত্যাচার করবে! এরপর তিনি দাবি করেন, ওনার কাছে যে কুরআন আছে, সেটি তাজ কোম্পানির কুরআন। গো-মাংস ভক্ষণ না করলে সেই কুরআন সংগ্রহ করা যায় না। মোটামুটি অসীম সরকারের বক্তব্য এমনটাই শোনা গেছে।
এবার আসুন, তাঁর বক্তব্যের সত্যতা নিয়ে একটু আলোচনা করি। কুরআন সংকলনের ইতিহাস যারা জানেন, তারা অবগত আছেন, কুরআন কোন বই বা পুস্তক আকারে অবতীর্ণ হয়নি, প্রয়োজন অনুসারে জিবরীল ফেরেশতার মাধ্যমে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর কাছে ঐশীবাণী আকারে দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছিল। নবী (সা.)-এর সাহাবা বা সাথীরা সেই কথাগুলিকে বিভিন্নভাবে সংরক্ষণ করতেন। কেউ চামড়ায় লিখে রাখতেন, কেউ পাথরে খোদাই করে রাখতেন, কেউ মুখস্ত করে নিতেন।
বদর যুদ্ধের সময়ে পাণ্ডুলিপি বা কপি আকারে পৃথিবীতে কোথাও কুরআন ছিল না। তখনও সম্পূর্ণ কুরআন নাযিল হয়নি। দ্বিতীয় হিজরীতে বদরের যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে, কিন্তু কুরআন তারপরও আট বছর ধরে পর্যায়ক্রমে নাযিল হয়েছে। নবীজি (সা.)-এর জীবদ্দশায় সমগ্র কুরআন একত্রিত করে কপি আকারে সংরক্ষিত হয়নি। ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর (রা.)-এর যুগে প্রথম সমস্ত লেখাকে সংগ্রহ করে কপি আকারে তৈরি করা হয়। পরবর্তীতে চতুর্থ খলিফা হযরত উসমান (রা.)-এর সময় প্রথম কপিকে সামনে রেখে আরো অনেকগুলো কপি তৈরি করা হয়। অতএব বোঝা গেল বদরের যুদ্ধে কুরআনের কপি পুড়ে যাওয়ার ঘটনা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বানোয়াট।
যে কপির কোন অস্তিত্বই যখন ছিল না, সেটা পুড়ে যাওয়ার প্রশ্ন বতুলতা মাত্র। এরপর তিনি পি.কে হিট্টির নামে দাবি করেছেন, তার ইতিহাসে নাকি লেখা আছে ২৭ জন শয়তান মিলে এই কুরআন লিখেছে! ইসলামের ইতিহাস এবং আরবের ইতিহাস চর্চাকারী প্রত্যেক শিক্ষিত ব্যক্তি পি.কে হিট্টির অর্থাৎ ফিলিপ.কে. হিট্টির লেখা বই History of the Arabs পড়েছেন। ওই বই পড়ে আজও পর্যন্ত অসীম সরকারের মতো এমন দাবি কেউ কস্মিনকালেও করেননি। বইটি ইন্টারনেটে সার্চ করলে যে কোন ব্যক্তি নিজেও পড়ে দেখতে পারেন, সেখানে এমন কোন কথা লেখা নেই। যে ব্যক্তি পি.কে হিট্টির নামটা পর্যন্ত ঠিকঠাক উচ্চারণ করতে পারেন না, তার লেখা বইয়ের নামটাও জানেন না, তিনি এমন একটা কাল্পনিক দাবি করেছেন, যে দাবির পক্ষে ইসলামের কোন শত্রুর বই থেকেও কোনো উদ্ধৃতি তিনি দিতে পারবেন না। ইসলামের শত্রু সালমান রুশদি স্যাটানিক ভার্সেস লিখে এমন এক ধোঁয়াশা সৃষ্টি করতে চেয়েছিল; কিন্তু তিনিও সমগ্র কুরআন সম্পর্কে এমন কথা বলতে পারেননি। স্যাটানিক ভার্সেসেও এমন কথা লেখা নেই।
এরপর অসীমবাবু দাবি করেছেন, তাঁর কাছে যে তাজ কোম্পানির কুরআন আছে, গরু না খেলে সেই কুরআন সংগ্রহ করা যায় না। তাহলে তার বক্তব্যের মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারছি, তিনি গরু খেয়েই ওই কুরআন সংগ্রহ করেছেন! তিনি নিজেকে গো-মাংস ভক্ষণকারী হিসেবে প্রমাণ দিলেন। তার কথা শুনে যে গো-মাতার ভক্তরা তাকে নিয়ে লাফাচ্ছে, তাদের তো এটা ভাবা দরকার ছিল, যে ব্যক্তি গো-মাতাকে ভক্ষণ করে, সেই ব্যক্তির কথা বিশ্বাস করা যায় কিনা? যাহোক, এবারে আমি কুরআন সম্পর্কে তাঁর যে মূল অভিযোগ, সে বিষয়ে আলোকপাত করব।
তিনি একটি পোস্টে কুরআনের একটি পাতার ছবি দিয়ে তার বক্তব্যের সমর্থনে প্রমাণ পেশ করতে চেয়েছেন যে, কুরআনে লেখা আছে, কাফেরদের যেখানে পাবে, সেখানেই হত্যা করো, বন্দী করো ইত্যাদি। তার ভক্তেরা এতে খুবই খুশি হলেও তিনি যে আসলে বড় মূর্খ, সেটা তিনি নিজেই প্রমাণ করেছেন। কারণ, তিনি কুরআনের যে আয়াতের অনুবাদের ছবি দিয়েছেন, সেটি কুরআনের সূরা তাওবা-র পাঁচ নম্বর আয়াত। অথচ তিনি যদি সত্যিকার পড়াশোনা জানতেন, তাহলে নিশ্চয়ই পাঁচ নম্বর আয়াতের আগে-পরে ৪ এবং ৬ নম্বর আয়াত তাঁর চোখে পড়ত। তাহলে তিনি বুঝতে পারতেন কুরআন অমুসলিমদের হত্যা করতে বলছে না; বরং তাদের সঙ্গে মানবিক আচরণ করার জোরালো নির্দেশ দিয়েছে।

আরও পড়ুন:


কুরআনের সূরা তাওবা-র ৫ নম্বর আয়াত নিয়ে ইসলাম বিরোধীদের প্রোপাগান্ডা যুগ যুগ ধরে ধরে জারি রয়েছে এবং আজও চলেছে, কিন্তু সত্যের অনুসারীরা সঠিকটা জানতে পারার পরে অনেক ক্ষেত্রে তারা নিজেরাই সত্য প্রচারে লিপ্ত হয়েছেন, এমন উদাহরণ অনেক রয়েছে। যেমন কানপুরের অধিবাসী স্বামী লক্ষ্মী শংকরাচার্য। তাঁর পিতা-মাতা দু’জনেই নামজাদা অধ্যাপক ছিলেন, তিনি নিজেও শিক্ষিত, প্রথম জীবনে প্রচণ্ড ইসলাম-বিরোধী ছিলেন। কুরআনের সূরা তাওবা-র ৫ নম্বর আয়াতকে অবলম্বন করে তিনি ইসলাম-বিরোধী বই লিখে ইসলামকে সন্ত্রাসবাদী ধর্ম হিসেবে আখ্যায়িতও করেছিলেন। তাঁর সেই বই হিন্দুত্ববাদীরা ব্যাপক আকারে প্রচার করেছিল। কিন্তু এই আয়াতের সঠিক ব্যাখ্যা জানার পরে তিনি নতুন বই লিখেছিলেন, যে বইটার নাম ইসলাম সন্ত্রাসবাদী ধর্ম নয় বরং একটি আদর্শ (ইসলাম আতঙ্ক নেহি, আদর্শ হ্যায়)। এই বইটি ভারতবর্ষ ছাড়াও বিভিন্ন দেশে বহু ভাষায় অনুবাদ ও প্রচার হয়েছে। আগ্রহী পাঠকেরা গুগল থেকেও পড়তে পারেন। সূরা তাওবা-র তিনটি আয়াতের অনুবাদ পড়লে বুঝতে পারবেন, কাদেরকে কোন প্রেক্ষিতে হত্যা করতে বলা হয়েছে, এবং এর মধ্যে মানবিকতার কেমন নজির স্থাপন করা হয়েছে।
মনে রাখতে হবে, কুরআনের কোন আয়াত বা সূরা প্রেক্ষাপট ছাড়া অবতীর্ণ হয়নি, প্রতিটি সূরা বা আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার নেপথ্যে প্রেক্ষাপট রয়েছে। তেমনি সূরা তওবা-র প্রথম কয়েকটি আয়াত অবতীর্ণ হওয়ারও একটি বিশেষ প্রেক্ষাপট রয়েছে, সেটি আগে জানা দরকার। মক্কার মুশরিকদের সঙ্গে মুসলিমদের এক ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল, ইসলামের ইতিহাসে যেটাকে ‘হুদাইবিয়ার সন্ধি’ বলা হয়। সেই চুক্তি অনুযায়ী উভয় পক্ষ কেউ কাউকে আক্রমণ করবে না, কোন পক্ষের সহযোগী পক্ষকেও কেউ আক্রমণ করবে না। কিন্তু দেখা গেল, এই চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার কিছুকাল পর থেকেই মক্কার মুশরিকরা চুক্তির শর্তগুলি লংঘন করতে শুরু করল, তারা মুসলিমদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হল, মুসলিমদেরকে হত্যা করতে লাগল। এই প্রেক্ষাপটে সূরা তাওবা-র প্রথম কয়েকটি আয়াত অবতীর্ণ হল। প্রথম আয়াতেই ঘোষণা দেওয়া হল, যারা চুক্তিভঙ্গ করেছে, তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা হল। কিন্তু এও বলা হল যে, যারা চুক্তিতে অটল আছে, তাদের ক্ষেত্রে চুক্তির পূর্ণ সম্মান বজায় রাখা হবে। যারা চুক্তি না মেনে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে, তাদেরকে চুক্তি অনুযায়ী শান্তির পথে ফিরে আসার জন্য চার মাস সময় দেওয়া হবে। এই চার মাস সময় পাওয়ার পরেও যদি তারা শান্তির পথে ফিরে না আসে, ষড়যন্ত্র অব্যাহত রাখে, হত্যাযজ্ঞ চালাতে থাকে, তাহলে চুক্তি ভঙ্গকারীদেরকে যেখানে পাবে, তাদের ষড়যন্ত্রের বিনিময়ে সেখানেই তাদেরকে বন্দী ও হত্যা করবে।
এরপর ৬ নম্বর আয়াতে মানবিকতার চূড়ান্ত নজির স্থাপন করে বলা হল, এই সমস্ত ষড়যন্ত্রীরা এত বড় অপরাধ করার পরেও যদি তোমার কাছে আশ্রয় চায়, তাহলে তাকে আশ্রয় দাও। শুধু আশ্রয় নয়; এরপরে তাদের প্রতি আরো দরদ দেখিয়ে বলা হল, যারা আশ্রয় চায়, তাদেরকে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দাও। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন মানবিকতার নজির আর কোথাও পাওয়া যাবে কি? আধুনিক পৃথিবীতে প্রমাণিত অপরাধীদেরকে যুদ্ধ অপরাধের কারণে কখনোই ক্ষমা করা হয় না, আশ্রয় চাইলেও তাদেরকে হত্যা করা হয়। অথচ ইসলামের উদারতার শিক্ষা এটাই যে, যুদ্ধাপরাধীরাও যদি আশ্রয় চায়, তাদেরকে আশ্রয় দিয়ে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দাও। অথচ এই আয়াতকে পাশ কাটিয়ে দুই আয়াতের মাঝখানের বক্তব্য উদ্ধৃত করে ইসলাম সম্পর্কে যেভাবে এত বড় মিথ্যাচার করা হল, তা কল্পনাও করা যায় না!
কুরআন অবতীর্ণ হয়েছিল হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর উপরে, তিনি কুরআনের নির্দেশ সবথেকে বেশি বুঝেছিলেন এবং সেই নির্দেশ তিনি কার্যকর করে দেখিয়েছিলেন। ইসলামের ইতিহাসের পাঠক মাত্রই জানেন, কাফেরদের সঙ্গে শান্তিচুক্তি ভঙ্গ হওয়ার পরে নবীজি যখন মক্কা বিজয় করলেন, সে সময় তিনি মক্কায় সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছিলেন। কাউকে হত্যা করতে বলেননি। অমুসলিমদের হত্যা করা যদি কুরআনের বিধান হয়, তাহলে মক্কা বিজয়ের পরে একজন অমুসলিমও সেখানে বেঁচে থাকার কথা নয়। আসলে কুরআন বিশেষ প্রেক্ষাপটে বিশেষ সময়ে শুধুমাত্র যারা যুদ্ধ অপরাধী ছিল, সেই ষড়যন্ত্রকারীদেরকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিল।
কুরআন তো মানব হত্যাকে সবথেকে বড় অপরাধ বলে ঘোষণা করেছে। সূরা মায়েদা-র ৩২ নম্বর আয়াতে ঘোষণা করা হয়েছে, ”একজন মানুষকে যে ব্যক্তি হত্যা করল, সে যেন সমগ্র মানবজাতিকেই হত্যা করল!” এই আয়াতে মানুষের জীবনের কতটা মূল্য কুরআন দিয়েছে, সেটা ভেবে অবাক হতে হয়। সেই কুরআন কখনো নির্বিচারে মানুষ হত্যার কথা বলতে পারে না। সেই কুরআনের সবথেকে বড় অনুসারী নবীজি (সা.) সারা জীবন সেটা প্রমাণ করে গেছেন। কুরআনের সূরা মুমতাহিনা-র ৮ নম্বর আয়াতে আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন, যারা তোমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করে না, তাদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করতে হবে। কোন অমুসলিমের উপরে ইসলাম জবরদস্তি করাকে হারাম করে দিয়েছে, সূরা বাকারা-র ২৫৬ নম্বর আয়াতে এ সম্পর্কে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে।
মনে রাখতে হবে, সূরা তাওবা সাধারণ পরিস্থিতিতে অবতীর্ণ হওয়া কোন সূরা নয়, বরং এটি একটি যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে অবতীর্ণ হওয়া সূরা, যে সূরার মধ্যে সন্ধি বা চুক্তি ভঙ্গকারী, ষড়যন্ত্রকারী, হত্যাকারীদের সম্পর্কে কেমন নীতি গ্রহণ করা হবে, সেটাই বর্ণনা করা হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে সূরা তাওবা-র পাঁচ নম্বর আয়াতে শুধুমাত্র সেই সমস্ত মুশরিকদেরকে হত্যার নির্দেশ দেয়া হয়েছে, যারা শান্তি চুক্তি ভঙ্গ করেছিল, যারা নিরাপরাধ মানুষকে হত্যা করছিল, এবং যারা শান্তির পথে বাধা সৃষ্টি করেছিল। আন্তর্জাতিক কোন আইনে এই সমস্ত যুদ্ধাপরাধীদের হত্যা করা কখনোই অবৈধ হতে পারে না। যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গে কেমন আচরণ করা হয়, সেটা বর্তমানেও বিভিন্ন দেশে প্রত্যক্ষ করছি। যুদ্ধাপরাধীদেরকে অনেক ক্ষেত্রে বিচারের নামে প্রহসন চালিয়ে কিংবা বিচার বহির্ভূতভাবে হত্যা করা হচ্ছে! অথচ কুরআন যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গে কত মানবিক আচরণ করতে বলেছে! যে, তারা যদি আশ্রয় প্রার্থনা করে, তাহলে তাদের আশ্রয় দিয়ে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দাও। এই মানবিক কথাগুলো অসীম সরকার দেখতে পেল না! তার মনে কুরআনের প্রতি কতখানি বিদ্বেষ রয়েছে, সেটা বোঝা যায় তার কথায়। যখন সে বলে, এই কুরআনের ওপরে সে প্রস্রাব করতে চায়! এবং কুরআনকে সে পুড়িয়ে দিতে চায়! আসলে অসীম সরকার মতুয়াদের সমর্থন হারিয়ে ইসলামবিরোধী হিন্দুদের সমর্থন লাভের আশায় কুরআনের বিরুদ্ধে এখন প্রোপাগান্ডা শুরু করেছে।
কুরআনের বিরুদ্ধে এই চক্রান্ত আজকের নতুন নয়, যুগ যুগ ধরেই ইসলাম বিরোধীরা এটা করে চলেছে। কিন্তু সেই চক্রান্তের ফল অনেক ক্ষেত্রে উল্টো হয়েছে। চক্রান্তকারীরা নিজেদের চক্রান্তের কাছে পরাজিত হয়ে শেষে ইসলাম গ্রহণ করেছে। এমনই একজন ছিলেন কানাডার ডঃ গ্যারি মিলার। তিনি কুরআনের বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখার জন্য কুরআন অধ্যয়ন শুরু করেছিলেন। শেষে তিনি স্বীকার করেছেন, কুরআনের মধ্যে ভুল খুঁজে না পেয়ে শেষে আমি ইসলাম গ্রহণ করতে বাধ্য হলাম। অসীম সরকার যদি কুরআনের আলো নাও পায়, তবু তার এই বিতর্কের ফলে বহু মানুষ কুরআনের আলো লাভ করবে আশা করা যায়। এর ফলে অনেকেই কুরআন পড়ার চেষ্টা করবে, কুরআনের বক্তব্য জানবে এবং বুঝবে। আখেরে কুরআনের প্রচার আরো বাড়বে এবং মানুষ প্রকৃত সত্য জানতে পেরে কুরআন-মুখী হবে বলে আমি আশাবাদী।
(মতামত লেখকের নিজস্ব)

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder