BREAKING:
জোড়াসাঁকোয় সাহিত্য-সংস্কৃতির মহোৎসবে কলম শিল্পী গ্র্যান্ড ফেস্টিভ্যাল ২০২৬ খোশবাগ বাসস্ট্যান্ডের কাছে পথ দুর্ঘটনা, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন দন্ত চিকিৎসক বসিরহাট দরবার শরিফে হুমায়ুন কবীর, পেলেন উষ্ণ অভ্যর্থনা লাল বালির চড়া দাম, গ্রামবাসীদের ভরসা পাথরের গুড়ো   রমজানে অসহায়দের পাশে আল হোসাইনী হেল্প ফাউন্ডেশন সুন্দরবনের লবণাক্ত মাটিতে সূর্যমুখী চাষে সাফল্য, লাভের মুখ দেখছেন কৃষকরা হুগলি জেলায় এসআইআর এর প্রথম পর্যায়ের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করলেন জেলা শাসক খুরশিদ আলি কাদরি  বন্যপ্রাণীর উপদ্রব রুখতে তৎপর বনদপ্তর উত্তাপহীন ডার্বিতে মহামেডানকে ৫ গোলে উড়িয়ে দিল মোহনবাগান মরণবাঁচন ম্যাচে আজ সামনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জিততেই হবে ভারতকে রাজনগরে চাঞ্চল্য: গাংমুড়ি গ্রামে বাড়ির ভিতর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার মোবাইল গেম খেলতে খেলতেই নিভে গেল ২১ বছরের তরতাজা প্রাণ  মুর্শিদাবাদের মুকুটে নতুন দুই পালক, বিশ্ববিদ্যালয় ও কাটরা মসজিদের তোরণ প্রকল্পের শিলান্যাস করলেন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম! রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে ত্রিশটি আসনে লড়বে পুকুর খনন করার সময় প্রাচীন বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার হল পান্ডুয়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে উড়িয়ে সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকা। রানে ফিরলেন অভিষেক, জয়ে ফিরলো ভারত; বেঁচে রইলো সেমির স্বপ্ন এসআইআর  ইস্যুতে আতঙ্ক নয়, আইনি পথে আপিলের আহ্বান মিল্লি ঐক্য মঞ্চের কালিয়াচক আবাসিক মিশনে বিজ্ঞান বিভাগের প্রবেশিকা পরীক্ষা সম্পন্ন, উৎসাহ চোখে পড়ার মতো পরীক্ষার দিন আচমকা মৃত্যু অষ্টম শ্রেণির ছাত্রের, শোকস্তব্ধ সোনারপুর নাবালিকাকে বিবাহের অভিযোগে জয়নগরে গ্রেপ্তার যুবক জয়নগরে মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনা, আহত তিন শ্রমিক নেতা মহম্মদ ওয়েস এর নেতৃত্বে বড়জোড়ায় বিরাট মিছিল কুলতলির বিধায়কের উপস্থিতিতে ঢালাই রাস্তার কাজের সূচনা হলো নলগোড়ায় ঘুটিয়ারীশরিফে পুলিশের তৎপরতায় ৫৪ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার গঙ্গাকে দূষণমুক্ত করতে উদ্যোগ সুন্দরবনে বাঘের হামলায় ফের মৃত্যু, সরকারি ক্ষতিপূরণের দাবি এসআইও নিয়ে মিথ্যা মন্তব্যের প্রতিবাদে কলকাতায় সাংবাদিক সম্মেলন জামাআতে ইসলামী হিন্দের ইফতার সামগ্রী বিতরণ বই হোক সই, বইয়ের জন্য করিমপুরে পথে হাঁটল শত শত মানুষ রমজান মাসে ৩০০ দুস্থ পরিবারের পাশে সমাজসেবী হাফেজ নজরুল ইসলাম অবশেষে ধুলিয়ান গঙ্গা স্টেশনে বাংলা স্থান পেল  মুর্শিদাবাদে দুই মেগা প্রকল্পের শিলান্যাস ২৮ ফেব্রুয়ারি ভাঙড়ে ২৮ টি তাজা বোমা ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার, গ্রেপ্তার দুই জন্মদিনে অবহেলিত ভূদেব মুখোপাধ্যায়, তালাবন্ধ গ্রীলে মালা ঝুলিয়ে জন্মদিন পালন করল বিজেপি বালিভর্তি ট্রাক চলাচল ঘিরে উত্তেজনা, সোনামুখীতে গ্রামবাসীর রাতভর বিক্ষোভ বসিরহাটে দলবদল ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ, তৃণমূলের সভায় বহু নেতার যোগদান ভোটের আগে বিরোধী শিবিরে বড় ভাঙন কুলতলীতে কালিয়াচকের বাহাদুরপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড চুঁচুড়ায় সোমবার সাতসকালে পথ দুর্ঘটনা, জখম যুবকের অবস্থা আশঙ্কাজনক নিহত সেনা জওয়ানের মরদেহ পৌঁছাল শেখপাড়ার বাড়িতে ব্লক প্রাণিসম্পদ বিকাশ দিবস পালিত জয়নগরে অনলাইন বাণিজ্যের প্রসারে ক্ষুদ্র ব্যবসা চাপে: মত বড়জোড়া চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশে ফের পরিযায়ী শ্রমিকের উপর হামলা উত্তরলক্ষীপুরের গর্ব: প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ হতে চলেছেন ডা: মোবারাক হোসেন পুনরাবৃত্তি চায় ভারত, দক্ষিন আফ্রিকা চায় প্রত্যাবর্তন; সুপার এইটে আজ হাড্ডাহাড্ডি লড়াই টানা দুই ম্যাচে জয় ইস্টবেঙ্গলের, দুই ম্যাচেই জোড়া গোল ইউসুফের বৃষ্টিতে ধুয়ে গেল পাকিস্তান-নিউজিল্যান্ডের ম্যাচ আজ শুরু সুপার এইটের লড়াই, প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি পাক বনাম নিউজিল্যান্ড আজ ইস্টবেঙ্গলের সামনে স্পোর্টিং দিল্লি, ভরসার নাম ইউসুফ আজ্জেরি প্রত্যাশিত হার, ঘরের মাঠে মহামেডান বধ এফসি গোয়ার ১৫ বছরেও শেষ হয়নি বক্সীপুর ব্রিজ নির্মাণ কাজ, জনস্বার্থ মামলা গড়াল কলকাতা হাই কোর্টে করিমপুর এলাকাবাসীকে বহরমপুর যেতে আর পেরুতে হবেনা বিপদ সংকুল রাস্তা এসআইআর এর চাপ, শ্রীরামপুরে মাঝ গঙ্গায় ঝাঁপ বিএলও’র ছেলেধরা সন্দেহে পুড়িয়ে খুনের চেষ্টার ঘটনায় বলাগড়ে ২৫ জন দোষীকে সাজা শোনালো চুঁচুড়ার ফার্স্ট ট্রাক কোর্ট বেআইনি মাটির গাড়ির ধাক্কায় ২ যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনে জি-প্লটের আদিবাসী শিশুরা  জল্পনার অবসান, তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন বাম যুব নেতা প্রতীক উর রহমান কনকচূড় ধানের চাল পেল জাতিসংঘের ঐতিহ্য স্বীকৃতি, খুশির হাওয়া জয়নগর জুড়ে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রশাসন-এনজিওর যৌথ উদ্যোগে সচেতনতা শিবির ঘোড়ামারা দ্বীপ রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপের নির্দেশ ট্রাইব্যুনালের, গঠিত হচ্ছে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি শেষ সময় ঘনাতেই যুব সাথী প্রকল্পের ফর্ম জমায় দীর্ঘ হচ্ছে লাইন পখন্না রামকৃষ্ণ আশ্রমে শ্রীরামকৃষ্ণের ১৯১তম জন্মতিথি উদ্‌যাপন বড়জোড়া কলেজে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত সায়েম চৌধুরী ওরফে বাবু: সংগঠন, সংগ্রাম ও সেবার রাজনীতি সোনার প্রতিমার প্রলোভনে ১১ লক্ষ টাকার প্রতারণা ঘুঁটিয়ারীশরিফে পুলিশের সাফল্য: ২৪ চুরি যাওয়া মোবাইল উদ্ধার হুগলি জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের উদ্যোগে খাদ্য সুরক্ষা মেলা’য় সুষম খাদ্য খাওয়ার পরামর্শ  উলুবেড়িয়ায় ১৫ টিয়া উদ্ধার, আন্তরাজ্য পাখি পাচারচক্রের সদস্য গ্রেফতার সরকারি জমি দখল ও নয়নজুলি ভরাটের অভিযোগে চাঞ্চল্য ধূপগুড়িতে কাবিলপুর হাই স্কুলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠা দিবস ঘটা করে উদযাপন পবিত্র রমজান মাস শুরুর ঠিক আগে ইফতার সামগ্রী বিতরণ জয়নগরে ২০২৬ নির্বাচন ঘিরে ফারাক্কায় জোর চর্চায় রেহেনা ইয়াসমিন  পিতা-মাতার স্মৃতিতে আট দিনব্যাপী ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজন পুলিশকর্মী ছেলের উদ্যোগে সুন্দরবনের মৎস্যজীবীদের মৃত্যু মিছিল থামছেই না, সরকারি ক্ষতিপূরনের দাবি মাটি, মানুষ ও সংগঠন: রাবিউল ইসলামের রাজনৈতিক দর্শন দুবে ঝড়ে উড়ে গেল নেদারল্যান্ডস, বোলিংয়ে নায়ক বরুণ হঠাতই ব্যাটিং বিপর্যয়, রঞ্জি থেকে বিদায় বাংলার ফারহানের দুরন্ত সেঞ্চুরি, সুপার এইটে পাকিস্তানও ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচে আজ নামিবিয়ার মুখোমুখি পাকিস্তান সামির ৮ উইকেটেও, ব্যাটিং বিপর্যয়ে হারের মুখে বাংলা চুঁচুড়ায় প্রার্থী ঘোষণার আগেই দেওয়াল লিখনে জোর তৃণমূল, পাল্টা কটাক্ষ বিজেপির কুলতলিতে আয়ুষ মেলা: বিকল্প চিকিৎসা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে উদ্যোগ রানীনগরে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীসভা ও জাকির হোসেনের উপস্থিতিতে উপচে পড়া ভিড়  কৃষকদের সমস্যা সমাধানে চালু ‘ভারত বিস্তার’ এআই টুল গোবর্ধনডাঙ্গায় তৃণমূল ট্রেড ইউনিয়নের কর্মী সভা কাবিলপুরে মানব সেবা ফাউন্ডেশনের পথচলা শুরু মালদা জেলায় হাই মাদ্রাসা, আলিম ও ফাজিল পরীক্ষা নির্বিঘ্নেই সম্পন্ন পা দিয়ে লিখেই উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা মানকুন্ডুতে সারা বাংলা একদিনের দাবা প্রতিযোগিতা মেরা যুব ভারতের উদ্যোগে মগরাহাটে জেলা ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অপসংস্কৃতির স্রোতের বিপরীতে নাট্যচর্চার বার্তা – বাগনানে তিনদিনের নাট্য উৎসবে নজর কাড়ল বাঙালপুর বয়েজ ক্লাব দ্বীপাঞ্চলবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণ: আমতায় নির্মীয়মাণ কংক্রিটের সেতুতে বাড়ছে আশার আলো মানসম্মত শিক্ষা ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে কলকাতায় স্কুল ম্যানেজমেন্ট কর্মশালা জীবনে কিছু জায়গা থেকে চুপচাপ সরে আসতে হয় ১৪ই ফেব্রুয়ারি: ভালবাসার দিন হিসেবে কেন পালিত হয়? সুদ, মাদক ও জুয়ার অদৃশ্য জোট: সমাজ ধ্বংসের নীরব চক্রান্ত আদ্রায় ‘বিনা পয়সার বাজারে’ উপচে পড়া ভিড়, হাসি ফিরল অসংখ্য মুখে মেডিকেল ভর্তিতে কাট অফ বিতর্কে তোলপাড় দেশ হবু ডাক্তারদের মান, মেধা ও রোগীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন কেরালার আদালতে নতুন অধ্যায় রচিত দৃষ্টিহীন তরুণী বিচারক গড়লেন নজির

পশ্চিমা সহায়তা ছাড়া ইসরাইল টিকতে পারবে?

প্রকাশিত: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, সকাল ১০:২১ | আপডেট: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, সকাল ১০:২১

রামজি বারৌদ

আরও পড়ুন:

গাজায় ইসরাইলি বর্বরতা ও পাশবিকতা এবং তাতে আমেরিকা-সহ পশ্চিমা বিশ্বের দেশগুলো কীভাবে সমর্থন দিয়ে চলেছে, সে বিষয়ে ক্ষুরধার বিশ্লেষণ করেছেন ‘প্যালেস্টাইন ক্রনিক্যাল’-এর সম্পাদক রামজি বারৌদ।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি গণহত্যা এবং তা থেকে শুরু হওয়া আঞ্চলিক যুদ্ধ দুটি ভয়াবহ সত্যকে সামনে নিয়ে এসেছে। প্রথমত, ইসরাইল ইচ্ছাকৃতভাবে আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে অবজ্ঞা করছে। দ্বিতীয়ত, পশ্চিমাদের সহায়তা সমর্থন ছাড়া ইসরাইল একা টিকে থাকতে সক্ষম নয়।
এই দুটি বিষয় আলাদা মনে হলেও বাস্তবে একটি অন্যটির সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। কারণ, যারা সামরিক, রাজনৈতিক ও আর্থিকভাবে ইসরাইলকে টিকিয়ে রেখেছে, তারা সমর্থন প্রত্যাহার করে নিলে মধ্যপ্রাচ্য আর বারুদের স্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে থাকবে না। টানা সাড়ে সাত দশক ধরে ইসরাইলি আগ্রাসনের কারণে অস্থিতিশীল হয়ে আছে মুসলিম অধ্যুষিত মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল। বিশেষ করে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
কঠিন বাস্তবতা হল ইসরাইল যদি গাজা থেকে সরে যায় এবং ধ্বংসস্তূপে পরিণত ও গণহত্যার শিকার গাজা উপত্যকা যদি স্থিতিশীল হওয়ার অবকাশ পায়, তাহলেই পার্থক্য প্রকাশ্যে আসবে। এই যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরাইলি নৃশংসতায় প্রায় ৬০ হাজার গাজাবাসী তথা ফিলিস্তিনি নাগরিক নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ২০ হাজার শিশু এবং অন্তত ২৮ হাজার নারী রয়েছেন। গাজার নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হলে নিহতের সংখ্যা আরও অনেক বাড়তে পারে।
‘যার শক্তি, সেই সঠিক ও ন্যায্য’ — আগামীর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমীকরণ থেকে এই ঘৃণ্য নীতি সম্পূর্ণ মুছে ফেলতে হবে। মধ্যপ্রাচ্যের আরব ও মুসলিম দেশগুলোর সামনে এখন সময় এসেছে, তারা যেন সদর্থক ভূমিকা নেয়। তারা যেন নিজেদের ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ ও জনগণকে সাহায্য করে এবং নিশ্চিত করে যে, ইসরাইল আর তাদের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি করতে পারবে না।
ইসরাইল বহু বছর ধরেই একদল সমর্থকের আনুকূল্য ও সাহায্য নিয়ে চলছে। পশ্চিমারা ইসরালকে সর্বাত্মক সাহায্য দেওয়াকে মধ্যপ্রাচ্যে সাম্রাজ্যবাদী ও ঔপনিবেশিক স্বার্থরক্ষার ঘাঁটি হিসেবে দেখে থাকে।
আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের প্রতি সম্মান দেখিয়ে ফিলিস্তিনি জনগণের অবিচ্ছেদ্য অধিকার রক্ষায় বিশ্ব এগিয়ে এলে হয়ত কিছুটা স্বাভাবিক অবস্থার দিকে ফিরে যাওয়া সম্ভব হবে।
ইসরাইলের দৃষ্টিতে এই দাবি একেবারেই অগ্রহণযোগ্য, এমনকি চিন্তার বাইরে। বোঝা যায়, তাদের এই নীতি তাদের ঔপনিবেশিক অবস্থানের কারণেই। কেন?
প্রখ্যাত গবেষক প্যাট্রিক উলফ বলেছিলেন, ‘আক্রমণ কেবল কোনো ঘটনা নয়, এটি একটি কাঠামো।’ এই গভীর বক্তব্যটি বুঝিয়ে দেয়, ১৯৪৮ সালের নাকবা বা ফিলিস্তিনিদের জাতিগত নিধনযজ্ঞ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত ইসরাইলের সব যুদ্ধ ও দখলদারিত্ব কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং একটি নিরবচ্ছিন্ন শক্তি কাঠামোর অংশ। তাদের এসবের পিছনে মূল উদ্দেশ্য স্থানীয় বা আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া।
তাই ৭ অক্টোবরের পর ইসরাইলের আচরণকে শুধু প্রতিশোধ বলেই মনে করা ভুল, বরং এর পিছনে সুস্পষ্ট কৌশল ছিল। গাজার রোমহর্ষক ও বিভীষিকাময় হত্যাকাণ্ড দেখে আমরা হয়ত প্রথমে বিষয়টা বুঝতে পারিনি। কারণ, গাজায় প্রতিদিনের নৃশংসতা থেকে ইসরাইল আনন্দ নিচ্ছে এবং নিজেদেরকে শক্তিশালী বলে দাবি করছে এবং সব ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধকে জাহির করছে।
তবে ইসরাইল নিজেই তাদের আসল উদ্দেশ্য স্পষ্ট করে বলেছে। দেশটির উগ্রবাদী প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর বলেছিলেন, ‘আমরা গাজাকে জনশূন্য দ্বীপে পরিণত করব।’ নেতানিয়াহুর এই উম্মত্ত বক্তব্য ইসরাইলের ঔপনিবেশিক কাঠামোরই অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং যতক্ষণ না এটিকে থামানো যায়, ততক্ষণ তার থেকে মুক্তি নেই। কিন্তু কে বা কারা ইসরাইলকে থামাবে? অর্থাৎ বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধবে কে?
গাজায় প্রায় ২১ মাসের অসহনীয় গণহত্যা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে এক কঠিন সত্য। সেটা হল ইসরাইল হচ্ছে আসলে একটা ‘সামন্ততান্ত্রিক রাষ্ট্র’ (যে দেশ অন্য কোনো প্রভাবশালী রাষ্ট্র দ্বারা নিয়ন্ত্রিত)। ইসরাইল এমন এক রাষ্ট্র, যে নিজে যুদ্ধ করতে পারে না, নিজেকে রক্ষা করতে পারে না, এমনকি নিজ দেশের অর্থনীতি চালাতেও পারে না। ইসরাইলও ঠিক তেমনই। মার্কিন বা পশ্চিমা সহায়তা ছাড়া সে কোনো কিছু করতে পারে না, কোনো কিছু চালাতে পারে না। গাজায় নৃশংস হামলা শুরুর আগে কিছু ইসরাইলি নেতা মাঝে মধ্যে বলতেন, ‘ইসরাইল স্বাধীন দেশ। এই দেশ মার্কিন পতাকার আরেকটি তারকা নয়।’ এখন অবশ্য সেসব কণ্ঠ বা এমন কথাবার্তা একরকম থেমে গেছে। বরং এই রাষ্ট্রকে এসব কথা বলার পরিবর্তে এখন কেবল মার্কিন সহায়তার জন্য অনুনয়-বিনয় করতে শোনা যাচ্ছে।
২০২২ সালের জুলাইয়ে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছিলেন, ‘মার্কিন ও ইসরাইলি জনগণের সম্পর্ক রক্ত-মাংসের মতো গভীর। আমরা অভিন্ন মূল্যবোধে ঐক্যবদ্ধ। ধর্মীয় বিশ্বাসে খ্রিস্টান হলেও আমরা যায়নবাদী।’
বাইডেনের এই তথাকথিত ‘অভিন্ন মূল্যবোধ’ যে গণহত্যাকে সমর্থন করে, সে বিষয়ে প্রশ্ন না তুলেই বাইডেন আসলে স্বীকার করেছিলেন, ইসরাইল-আমেরিকা সম্পর্ক কেবল রাজনীতির বিষয় নয়; বরং গভীর আদর্শিক ও কৌশলগত বন্ধন।
পশ্চিমা বিশ্বের অন্যান্য নেতাও ইসরাইল সম্পর্কে অন্ধভাবে একই কথা বিশ্বাস করেন এবং একই কথা বলে থাকেন। তবে গাজায় ইসরাইলের চলমান এই নৃশংস গণহত্যা বহু দেশকে, বিশেষ করে কিছু পশ্চিমা ও বেশিরভাগ অ-পশ্চিমা দেশকে সাহসের সঙ্গে ইসরাইলের বিরুদ্ধে কথা বলতে বাধ্য করেছে।
নেতানিয়াহু ও তাঁর চরমপন্থী মতাদর্শের বিরুদ্ধে এই প্রতিবাদ ইসরাইল প্রতিষ্ঠার পর থেকে কখনো এতটা জোরালোভাবে উচ্চারিত হয়নি। স্পেন, ইতালি, নরওয়ে, আয়ারল্যান্ড ও স্লোভেনিয়ার মতো দেশ প্রমাণ করেছে, পশ্চিমা ‘বন্ধন’ চিরকাল অটুট থাকবে না। তাদের সমর্থন ইসরাইলের প্রতি একচেটিয়া বা নিরঙ্কুশ নয়। কিন্তু কেন কিছু দেশ ইসরাইলকে চ্যালেঞ্জ জানানোর সাহস করছে, আবার কিছু দেশ শত অন্যায় সত্ত্বেও চুপ থাকছে?
পশ্চিমাদের সঙ্গে ইসরাইলের এই মধুচন্দ্রিমা ভেঙে দেওয়া এখন জরুরি। এটি শুধু ন্যায়ের ভিত্তিতে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য নয়; বরং ফিলিস্তিনি জনগণের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য। ফিলিস্তিনিরা বরাবরের মতো সাহসের সঙ্গে দখলদার ইসরাইলি সেনাবাহিনী ও বর্ণবাদী শাসনব্যবস্থা এবং একইসঙ্গে কট্টর যায়নবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ লড়াই করছে। এই অবস্থায় যারা আন্তর্জাতিক আইন, ন্যায়বিচার ও শান্তিতে বিশ্বাস রাখে, তাদের দায়িত্ব হল, সেইসব দেশের সরকারকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানানো, যারা আজও ইসরাইলকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে, তাকে টিকিয়ে রাখছে।
ইউরোপের দেশ স্পেন-সহ কিছু দেশের সরকার যা করছে, তা কয়েক বছর আগেও অকল্পনীয় ছিল। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজ স্পষ্ট বলছেন, ২০০০ সাল থেকে চালু ইইউ-ইসরাইল বাণিজ্য চুক্তি স্থগিত করতে হবে। কারণ, গাজার ‘গণহত্যা পরিস্থিতি’ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
স্পেনের মতো আরও কিছু দেশ একইভাবে নির্ভীক ও আপসহীন অবস্থান নিলে অন্তত ইসরাইলের পশ্চিমা অর্থ ও অস্ত্র পাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যাবে, যেসব অর্থ ও অস্ত্র দিয়ে তারা গাজায় বর্বরতা চালাচ্ছে।
এই সময়ে আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব হল, সেই সাহসী কণ্ঠগুলোর পাশে দাঁড়ানো। শুধু ইসরাইল নয়; বরং যারা এই বসতি-উপনিবেশিক কাঠামোকে বজায় রাখতে সাহায্য করছে, তাদের সবার জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder