পিছিয়েপড়া ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর ড. ইসমাইল
নতুন পয়গাম: মোহাম্মদ ইসমাইল একজন শিক্ষাবিদ, সমাজকর্মী, গবেষক ও কলামিস্ট হিসেবে সুপরিচিত। তিনি বর্তমানে দক্ষিণ দিনাজপুরের দেওয়ান আব্দুল গণি কলেজে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত এবং দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা, গবেষণা ও সমাজ উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে কাজ করে চলেছেন। শিক্ষা ও সমাজ সংস্কারে তাঁর অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, বিশেষ করে গ্রামীণ শিক্ষা ব্যবস্থা, সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণ এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে আসছেন।
জন্ম মালদহ জেলার হরিশ্চন্দ্রপুর ব্লকের শিরিসবোনা নামক এক প্রত্যন্ত ও অবহেলিত গ্রামে, যেখানে আজও কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। নিজ গ্রামের এই বঞ্চিত বাস্তবতা তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। গ্রামের শিশু-কিশোরদের শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে তিনি ভারত সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রকের আর্থিক অনুকূলে নিজ গ্রামে একটি গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা করেন। এই গ্রন্থাগারে বর্তমানে এক হাজারেরও বেশি বই রয়েছে, যা গ্রামের ছাত্র-ছাত্রী ও সাধারণ মানুষের জ্ঞানচর্চার এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে।
তিনি আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক, স্নাতকোত্তর এবং এম.ফিল করেন। পরবর্তীতে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথম গবেষকদের মধ্যে পিএইচডি করেন, যা তাঁর একাডেমিক জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ড. ইসমাইলের গবেষণার মূল বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টিহীনতা ও খাদ্য ঘাটতিজনিত রোগ, গ্রামীণ শিক্ষা ব্যবস্থা, সামাজিক বৈষম্য, সংখ্যালঘু ও দলিত জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক দুরবস্থা এবং মানবাধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচার। তাঁর গবেষণা সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন ও নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
একজন সক্রিয় কলামিস্ট হিসেবে ড. ইসমাইল নিয়মিত বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র, আন্তর্জাতিক জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্র-পত্রিকা, সাময়িকী ও ম্যাগাজিনে লেখালিখি করেন। তাঁর লেখার প্রধান বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে সমসাময়িক সামাজিক সমস্যা, গ্রামীণ শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা ও সম্ভাবনা, সংখ্যালঘু ও দলিত সম্প্রদায়ের অধিকার, শিক্ষা সংস্কার, মানবাধিকার, গণতন্ত্র এবং সামাজিক ন্যায়বিচার। পিছিয়েপড়া ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর হিসেবে তিনি পাঠকমহলে বিশেষভাবে সমাদৃত।
এ পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা সাতটি। পাশাপাশি তিনি প্রায় ২০০টিরও বেশি উত্তর সম্পাদকীয় কলাম ও জ্ঞানগর্ভ প্রবন্ধ-নিবন্ধ রচনা করেছেন, যা সমাজ সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাঁর গবেষণাধর্মী লেখার সংখ্যা ৬০-এরও বেশি, যা বিভিন্ন স্বীকৃত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। এসব গবেষণাকর্ম শিক্ষা, সমাজবিজ্ঞান ও জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে মূল্যবান অবদান হিসেবে বিবেচিত।
একজন মানবিক সমাজকর্মী হিসেবে ড. ইসমাইল দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বন্যা ও নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সহযোগিতায় ত্রাণসামগ্রী নিয়ে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এছাড়াও শীতের মরশুমে তিনি অসহায় ও দরিদ্র মানুষের মধ্যে বস্ত্র বিতরণ করেন। এছাড়া পূজা ও ঈদের মতো উৎসবের সময় গরীব মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে নতুন জামাকাপড় বিতরণ তাঁর মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের অংশ। তিনি অনাথ আশ্রমের শিশুদের জন্য বই, খাতা ও জামাকাপড় বিতরণ করেন এবং বৃদ্ধাশ্রমে বয়স্ক মানুষদের জন্য বস্ত্র বিতরণ-সহ নানাবিধ মানবিক সহায়তা প্রদান করে থাকেন। সমাজের অবহেলিত মানুষদের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হয়ে কাজ করাই তাঁর সমাজসেবার মূল দর্শন।
ড. ইসমাইল সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন পরিকল্পনা, নীতি ও উন্নয়ন কর্মসূচির গঠনমূলক সমালোচক। বিশেষ করে যেসব নীতি প্রান্তিক ও দুর্বল জনগোষ্ঠীর স্বার্থ উপেক্ষা করে, সেগুলোর বিরুদ্ধে তিনি যুক্তিনির্ভর ও সাহসী অবস্থান গ্রহণ করেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং মানবাধিকারের পক্ষে জোরালো অবস্থান নেওয়াই তাঁর লেখালিখি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মূল প্রেরণা।
ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে মানবকল্যাণে কাজ করাই তাঁর জীবনদর্শন। একজন শিক্ষক, গবেষক ও সমাজকর্মী হিসেবে তিনি জ্ঞানচর্চা, মানবিক দায়িত্ববোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। শিক্ষা, খাদ্য নিরাপত্তা ও সামাজিক ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে তাঁর অবদান বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।








