BREAKING:
জোড়াসাঁকোয় সাহিত্য-সংস্কৃতির মহোৎসবে কলম শিল্পী গ্র্যান্ড ফেস্টিভ্যাল ২০২৬ খোশবাগ বাসস্ট্যান্ডের কাছে পথ দুর্ঘটনা, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন দন্ত চিকিৎসক বসিরহাট দরবার শরিফে হুমায়ুন কবীর, পেলেন উষ্ণ অভ্যর্থনা লাল বালির চড়া দাম, গ্রামবাসীদের ভরসা পাথরের গুড়ো   রমজানে অসহায়দের পাশে আল হোসাইনী হেল্প ফাউন্ডেশন সুন্দরবনের লবণাক্ত মাটিতে সূর্যমুখী চাষে সাফল্য, লাভের মুখ দেখছেন কৃষকরা হুগলি জেলায় এসআইআর এর প্রথম পর্যায়ের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করলেন জেলা শাসক খুরশিদ আলি কাদরি  বন্যপ্রাণীর উপদ্রব রুখতে তৎপর বনদপ্তর উত্তাপহীন ডার্বিতে মহামেডানকে ৫ গোলে উড়িয়ে দিল মোহনবাগান মরণবাঁচন ম্যাচে আজ সামনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জিততেই হবে ভারতকে রাজনগরে চাঞ্চল্য: গাংমুড়ি গ্রামে বাড়ির ভিতর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার মোবাইল গেম খেলতে খেলতেই নিভে গেল ২১ বছরের তরতাজা প্রাণ  মুর্শিদাবাদের মুকুটে নতুন দুই পালক, বিশ্ববিদ্যালয় ও কাটরা মসজিদের তোরণ প্রকল্পের শিলান্যাস করলেন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম! রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে ত্রিশটি আসনে লড়বে পুকুর খনন করার সময় প্রাচীন বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার হল পান্ডুয়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে উড়িয়ে সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকা। রানে ফিরলেন অভিষেক, জয়ে ফিরলো ভারত; বেঁচে রইলো সেমির স্বপ্ন এসআইআর  ইস্যুতে আতঙ্ক নয়, আইনি পথে আপিলের আহ্বান মিল্লি ঐক্য মঞ্চের কালিয়াচক আবাসিক মিশনে বিজ্ঞান বিভাগের প্রবেশিকা পরীক্ষা সম্পন্ন, উৎসাহ চোখে পড়ার মতো পরীক্ষার দিন আচমকা মৃত্যু অষ্টম শ্রেণির ছাত্রের, শোকস্তব্ধ সোনারপুর নাবালিকাকে বিবাহের অভিযোগে জয়নগরে গ্রেপ্তার যুবক জয়নগরে মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনা, আহত তিন শ্রমিক নেতা মহম্মদ ওয়েস এর নেতৃত্বে বড়জোড়ায় বিরাট মিছিল কুলতলির বিধায়কের উপস্থিতিতে ঢালাই রাস্তার কাজের সূচনা হলো নলগোড়ায় ঘুটিয়ারীশরিফে পুলিশের তৎপরতায় ৫৪ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার গঙ্গাকে দূষণমুক্ত করতে উদ্যোগ সুন্দরবনে বাঘের হামলায় ফের মৃত্যু, সরকারি ক্ষতিপূরণের দাবি এসআইও নিয়ে মিথ্যা মন্তব্যের প্রতিবাদে কলকাতায় সাংবাদিক সম্মেলন জামাআতে ইসলামী হিন্দের ইফতার সামগ্রী বিতরণ বই হোক সই, বইয়ের জন্য করিমপুরে পথে হাঁটল শত শত মানুষ রমজান মাসে ৩০০ দুস্থ পরিবারের পাশে সমাজসেবী হাফেজ নজরুল ইসলাম অবশেষে ধুলিয়ান গঙ্গা স্টেশনে বাংলা স্থান পেল  মুর্শিদাবাদে দুই মেগা প্রকল্পের শিলান্যাস ২৮ ফেব্রুয়ারি ভাঙড়ে ২৮ টি তাজা বোমা ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার, গ্রেপ্তার দুই জন্মদিনে অবহেলিত ভূদেব মুখোপাধ্যায়, তালাবন্ধ গ্রীলে মালা ঝুলিয়ে জন্মদিন পালন করল বিজেপি বালিভর্তি ট্রাক চলাচল ঘিরে উত্তেজনা, সোনামুখীতে গ্রামবাসীর রাতভর বিক্ষোভ বসিরহাটে দলবদল ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ, তৃণমূলের সভায় বহু নেতার যোগদান ভোটের আগে বিরোধী শিবিরে বড় ভাঙন কুলতলীতে কালিয়াচকের বাহাদুরপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড চুঁচুড়ায় সোমবার সাতসকালে পথ দুর্ঘটনা, জখম যুবকের অবস্থা আশঙ্কাজনক নিহত সেনা জওয়ানের মরদেহ পৌঁছাল শেখপাড়ার বাড়িতে ব্লক প্রাণিসম্পদ বিকাশ দিবস পালিত জয়নগরে অনলাইন বাণিজ্যের প্রসারে ক্ষুদ্র ব্যবসা চাপে: মত বড়জোড়া চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশে ফের পরিযায়ী শ্রমিকের উপর হামলা উত্তরলক্ষীপুরের গর্ব: প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ হতে চলেছেন ডা: মোবারাক হোসেন পুনরাবৃত্তি চায় ভারত, দক্ষিন আফ্রিকা চায় প্রত্যাবর্তন; সুপার এইটে আজ হাড্ডাহাড্ডি লড়াই টানা দুই ম্যাচে জয় ইস্টবেঙ্গলের, দুই ম্যাচেই জোড়া গোল ইউসুফের বৃষ্টিতে ধুয়ে গেল পাকিস্তান-নিউজিল্যান্ডের ম্যাচ আজ শুরু সুপার এইটের লড়াই, প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি পাক বনাম নিউজিল্যান্ড আজ ইস্টবেঙ্গলের সামনে স্পোর্টিং দিল্লি, ভরসার নাম ইউসুফ আজ্জেরি প্রত্যাশিত হার, ঘরের মাঠে মহামেডান বধ এফসি গোয়ার ১৫ বছরেও শেষ হয়নি বক্সীপুর ব্রিজ নির্মাণ কাজ, জনস্বার্থ মামলা গড়াল কলকাতা হাই কোর্টে করিমপুর এলাকাবাসীকে বহরমপুর যেতে আর পেরুতে হবেনা বিপদ সংকুল রাস্তা এসআইআর এর চাপ, শ্রীরামপুরে মাঝ গঙ্গায় ঝাঁপ বিএলও’র ছেলেধরা সন্দেহে পুড়িয়ে খুনের চেষ্টার ঘটনায় বলাগড়ে ২৫ জন দোষীকে সাজা শোনালো চুঁচুড়ার ফার্স্ট ট্রাক কোর্ট বেআইনি মাটির গাড়ির ধাক্কায় ২ যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনে জি-প্লটের আদিবাসী শিশুরা  জল্পনার অবসান, তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন বাম যুব নেতা প্রতীক উর রহমান কনকচূড় ধানের চাল পেল জাতিসংঘের ঐতিহ্য স্বীকৃতি, খুশির হাওয়া জয়নগর জুড়ে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রশাসন-এনজিওর যৌথ উদ্যোগে সচেতনতা শিবির ঘোড়ামারা দ্বীপ রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপের নির্দেশ ট্রাইব্যুনালের, গঠিত হচ্ছে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি শেষ সময় ঘনাতেই যুব সাথী প্রকল্পের ফর্ম জমায় দীর্ঘ হচ্ছে লাইন পখন্না রামকৃষ্ণ আশ্রমে শ্রীরামকৃষ্ণের ১৯১তম জন্মতিথি উদ্‌যাপন বড়জোড়া কলেজে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত সায়েম চৌধুরী ওরফে বাবু: সংগঠন, সংগ্রাম ও সেবার রাজনীতি সোনার প্রতিমার প্রলোভনে ১১ লক্ষ টাকার প্রতারণা ঘুঁটিয়ারীশরিফে পুলিশের সাফল্য: ২৪ চুরি যাওয়া মোবাইল উদ্ধার হুগলি জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের উদ্যোগে খাদ্য সুরক্ষা মেলা’য় সুষম খাদ্য খাওয়ার পরামর্শ  উলুবেড়িয়ায় ১৫ টিয়া উদ্ধার, আন্তরাজ্য পাখি পাচারচক্রের সদস্য গ্রেফতার সরকারি জমি দখল ও নয়নজুলি ভরাটের অভিযোগে চাঞ্চল্য ধূপগুড়িতে কাবিলপুর হাই স্কুলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠা দিবস ঘটা করে উদযাপন পবিত্র রমজান মাস শুরুর ঠিক আগে ইফতার সামগ্রী বিতরণ জয়নগরে ২০২৬ নির্বাচন ঘিরে ফারাক্কায় জোর চর্চায় রেহেনা ইয়াসমিন  পিতা-মাতার স্মৃতিতে আট দিনব্যাপী ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজন পুলিশকর্মী ছেলের উদ্যোগে সুন্দরবনের মৎস্যজীবীদের মৃত্যু মিছিল থামছেই না, সরকারি ক্ষতিপূরনের দাবি মাটি, মানুষ ও সংগঠন: রাবিউল ইসলামের রাজনৈতিক দর্শন দুবে ঝড়ে উড়ে গেল নেদারল্যান্ডস, বোলিংয়ে নায়ক বরুণ হঠাতই ব্যাটিং বিপর্যয়, রঞ্জি থেকে বিদায় বাংলার ফারহানের দুরন্ত সেঞ্চুরি, সুপার এইটে পাকিস্তানও ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচে আজ নামিবিয়ার মুখোমুখি পাকিস্তান সামির ৮ উইকেটেও, ব্যাটিং বিপর্যয়ে হারের মুখে বাংলা চুঁচুড়ায় প্রার্থী ঘোষণার আগেই দেওয়াল লিখনে জোর তৃণমূল, পাল্টা কটাক্ষ বিজেপির কুলতলিতে আয়ুষ মেলা: বিকল্প চিকিৎসা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে উদ্যোগ রানীনগরে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীসভা ও জাকির হোসেনের উপস্থিতিতে উপচে পড়া ভিড়  কৃষকদের সমস্যা সমাধানে চালু ‘ভারত বিস্তার’ এআই টুল গোবর্ধনডাঙ্গায় তৃণমূল ট্রেড ইউনিয়নের কর্মী সভা কাবিলপুরে মানব সেবা ফাউন্ডেশনের পথচলা শুরু মালদা জেলায় হাই মাদ্রাসা, আলিম ও ফাজিল পরীক্ষা নির্বিঘ্নেই সম্পন্ন পা দিয়ে লিখেই উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা মানকুন্ডুতে সারা বাংলা একদিনের দাবা প্রতিযোগিতা মেরা যুব ভারতের উদ্যোগে মগরাহাটে জেলা ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অপসংস্কৃতির স্রোতের বিপরীতে নাট্যচর্চার বার্তা – বাগনানে তিনদিনের নাট্য উৎসবে নজর কাড়ল বাঙালপুর বয়েজ ক্লাব দ্বীপাঞ্চলবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণ: আমতায় নির্মীয়মাণ কংক্রিটের সেতুতে বাড়ছে আশার আলো মানসম্মত শিক্ষা ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে কলকাতায় স্কুল ম্যানেজমেন্ট কর্মশালা জীবনে কিছু জায়গা থেকে চুপচাপ সরে আসতে হয় ১৪ই ফেব্রুয়ারি: ভালবাসার দিন হিসেবে কেন পালিত হয়? সুদ, মাদক ও জুয়ার অদৃশ্য জোট: সমাজ ধ্বংসের নীরব চক্রান্ত আদ্রায় ‘বিনা পয়সার বাজারে’ উপচে পড়া ভিড়, হাসি ফিরল অসংখ্য মুখে মেডিকেল ভর্তিতে কাট অফ বিতর্কে তোলপাড় দেশ হবু ডাক্তারদের মান, মেধা ও রোগীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন কেরালার আদালতে নতুন অধ্যায় রচিত দৃষ্টিহীন তরুণী বিচারক গড়লেন নজির

গ্রামীণ শিক্ষাব্যবস্থার ভয়াল সত্য

প্রকাশিত: ৮ অক্টোবর ২০২৫, সকাল ৯:৩৪ | আপডেট: ৮ অক্টোবর ২০২৫, সকাল ৯:৩৪

আবীর লাল

আরও পড়ুন:

পশ্চিমবঙ্গে শিক্ষার আলো আজ গ্রামীণ অঞ্চলে ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে আসছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান এক ভয়ঙ্কর বাস্তব সামনে এনেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে গত এক দশকে সাত হাজারেরও বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ হয়ে গেছে। শিক্ষা দপ্তরের পরিকল্পনা অনুসারে প্রায় আট হাজারেরও বেশি প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয় বন্ধ করার তালিকা ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে আরও বিস্ময়কর তথ্য হল, তিন হাজারেরও বেশি সরকারি বিদ্যালয়ে একজনও পড়ুয়াব বা শিক্ষার্থী নেই। ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে এক বছরে ৪০৯টি বিদ্যালয় বন্ধ হয়েছে। ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে মোট বিদ্যালয়ের সংখ্যা ছিল ৯৫ হাজারেরও বেশি। এই অধোগতির ধারা চলতে থাকলে গ্রামীণ শিক্ষা ব্যবস্থা অচিরেই ভেঙে পড়বে, আর সমাজের এক বৃহৎ অংশ চিরকালীন অশিক্ষার অন্ধকারে ডুবে যাবে।
বিদ্যালয় বন্ধ হওয়ার পেছনে নানা জটিল কারণ কাজ করছে। এর মধ্যে মূল কারণ হল দীর্ঘকাল শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ থাকা। রাজ্যের বহু বিদ্যালয়ে প্রায় অধিকাংশ বিষয়েই বিপুল শূন্যপদ রয়েছে। উদাহরণ স্বরূপ, গণিত শিক্ষক প্রয়োজনীয় সংখ্যার তুলনায় প্রায় ৩,১৩২ জন কম, পদার্থবিজ্ঞান শিক্ষকের ঘাটতি প্রায় ১,৭৯৫ জন। বহু বিদ্যালয়ে একজনও বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নেই। নিয়োগ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা কার্যত পাঠ্যক্রম শেষ করতেই পারছে না। এমন পরিস্থিতিতে অভিভাবকেরাও ধীরে ধীরে আস্থা হারাচ্ছেন সরকারি বিদ্যালয়ের ওপর। পরিকাঠামোর দুরবস্থা সমস্যাকে আরও প্রকট করছে। বহু গ্রামীণ বিদ্যালয়ে এখনো পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ নেই, শৌচালয় নেই বা ছাত্রী ও শিক্ষিকাদের জন্য আলাদা টয়লেট নেই। পানীয় জলের অভাব এক ভয়াবহ সমস্যা। অনেক স্কুলে বিদ্যুৎ সংযোগও নেই। পাঠাগার বা বিজ্ঞানের ল্যাবরেটরি অধিকাংশ জায়গায় অচল, আবার কোথাও ল্যাব থাকলেও ব্যবহার করার মতো সরঞ্জাম নেই। সরকারি পরিদর্শনে উঠে এসেছে, ডিজিটাল পরিকাঠামো প্রায় অনুপস্থিত, ফলে অনলাইন বা হাইব্রিড শিক্ষা চালানো গ্রামীণ এলাকায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এমনকি বহু জায়গায় মিড-ডে মিলের জন্য উপযুক্ত রান্নাঘর পর্যন্ত নেই। শিক্ষার জন্য ন্যূনতম যে পরিবেশ প্রয়োজন, তা না থাকায় বিদ্যালয়ে যাওয়া শিশুদের কাছে দিন দিন দুরূহ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
এই পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জনসংখ্যার স্থানান্তর। কাজের খোঁজে বহু পরিবার গ্রাম থেকে শহরে চলে যাচ্ছে। গ্রামে যেসব শিশু রয়ে যাচ্ছে, তাদের অভিভাবকেরাও চায় সন্তানকে ভাল ইংরেজি মাধ্যম বা কর্পোরেট স্কুলে ভর্তি করাতে। বেসরকারি বিদ্যালয়ের প্রসার এবং শহরমুখী প্রবণতা গ্রামীণ সরকারি বিদ্যালয়কে আরও ফাঁকা করে দিচ্ছে। শিক্ষা দপ্তর এই তথ্যের ওপর নির্ভর করে যুক্তি দিচ্ছে যে, যেখানে ছাত্র সংখ্যা ৩০-এর নিচে, সেখানে বিদ্যালয় চালিয়ে যাওয়া অর্থবহ নয়। কিন্তু এই যুক্তি শিক্ষার মৌলিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কারণ, দূরবর্তী এলাকায় একটি স্কুল বন্ধ হয়ে গেলে কচিকাঁচা শিশুরা ৫-৭ কিলোমিটার হেঁটে অন্য বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না। ফলত তারা মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে দিচ্ছে। সরকারি পরিভাষায় যাকে বলা হচ্ছে স্কুল-ছুট।
বিদ্যালয় অচল হয়ে পড়ার অন্যতম পরিণতি হল শিক্ষার প্রতি অনীহা। যখন কোনো বিদ্যালয়ে শিক্ষক নেই, পাঠদান নেই, পরিকাঠামোর ভগ্নদশা, তখন অভিভাবক ও শিক্ষার্থীর মনে প্রশ্ন জাগে, বিদ্যালয়ে গিয়ে লাভ কী? এই প্রশ্নই এক সময় শিক্ষার প্রতি আগ্রহ নষ্ট করে দেয়। শিক্ষার্থীরাই ধীরে ধীরে বিদ্যালয়ে যাওয়া কমিয়ে দেয়। ফলে স্কুলছুট বাড়তে থাকছে। একবার পড়াশোনার শৃঙ্খল ভেঙে গেলে পুনরায় স্বাভাবিক ছন্দে ফেরানো কঠিন।
শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হওয়ায় গ্রামীণ শিশুদের অনেকেই খুব অল্প বয়সে শ্রমে জড়িয়ে পড়ছে। কাজের খোঁজে তারা ভিনরাজ্যে পাড়ি দিচ্ছে, কেউ ইটভাটায়, কেউ চা বাগানে বা নির্মাণশ্রমিক হিসেবে যুক্ত হচ্ছে। শিশু-শ্রমের এই প্রবণতা শিক্ষার আলো নিভিয়ে দিচ্ছে। সমাজবিজ্ঞানীদের কথায়, পশ্চিমবঙ্গে শিক্ষার সুযোগ ক্রমশ সংকুচিত হতে থাকায় শিশুদের সিংহভাগ বিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে শ্রমের বাজারে লেগে পড়ছে। ফলে গোটা সমাজ ভবিষ্যতের দক্ষ জনশক্তি বা মানবসম্পদ হারাচ্ছে।
শিক্ষা সংকটের প্রভাব সমাজে নানা স্তরে দেখা যাচ্ছে। শিক্ষাহীনতা মানেই সামাজিক বৈষম্য বৃদ্ধি। যেসব পরিবারের সামর্থ্য আছে, তারা তাদের সন্তানকে বেসরকারি কর্পোরেট স্কুলে পাঠাচ্ছে, ফলে তারা সুযোগ পাচ্ছে উন্নত উচ্চশিক্ষার, শহুরে চাকরির। অন্যদিকে গরিব গ্রামীণ পরিবারগুলো সরকারি বিদ্যালয়ের ওপর নির্ভরশীল, আর যখন সেই বিদ্যালয়ও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বা কার্যত নিষ্ক্রিয়, তখন তাদের সন্তানরা অশিক্ষার দুষ্টচক্রে আটকে যাচ্ছে। ফলে ধনী গরিবের ফারাক আরও বাড়ছে। শিক্ষা হয়ে উঠছে পণ্য। মোদ্দা কথা, ফেল কড়ি মাখো তেল।
মনস্তাত্ত্বিক প্রভাবও কম নয়। বিদ্যালয় শিশুদের আত্মবিশ্বাস ও ভবিষ্যতের স্বপ্ন গড়ে তোলে। কিন্তু বিদ্যালয় যখন অচল, তখন শিশুদের মধ্যে আত্মমর্যাদাহীনতা তৈরি হয়। তারা ভাবতে শুরু করে, শিক্ষা একপ্রকার বিলাসিতা বা আমাদের জন্য শিক্ষা নয়। এই ধারণা তাদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি হতাশা তৈরি করে, যা সমাজের অগ্রগতির পথে এক বড় বাধা।
অর্থনৈতিক দিক থেকেও এই সংকট মারাত্মক। একটি সমাজে যখন যথেষ্ট শিক্ষিত মানুষ নেই, তখন সেই সমাজে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হয় না, দক্ষ কর্মী পাওয়া যায় না, আর্থিক উন্নয়নের চাকা থেমে যায়। রাজ্যের বহু গ্রামীণ অঞ্চল ইতিমধ্যেই কর্মসংস্থানের অভাবে পিছিয়ে পড়েছে, তার সঙ্গে শিক্ষার সংকট যোগ হওয়ায় বিপদ দ্বিগুণ বাড়ছে।
তাহলে সমাধান কী? সমস্যার মূলে গিয়ে দেখতে হবে। প্রথমত: শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে অবিলম্বে স্বচ্ছ, দ্রুত, স্বাভাবিক ও নিয়মিত করতে হবে। বছরের পর বছর শিক্ষক নিয়োগ আটকে থাকা মানে প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অন্ধকারে ঠেলে দেওয়া। প্রতিটি বিদ্যালয়ে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক থাকা আবশ্যক। দ্বিতীয়ত: বিদ্যালয়ের পরিকাঠামো উন্নত করা অপরিহার্য। পানীয় জল, শৌচালয়, বিদ্যুৎ, পাঠাগার, ল্যাবরেটরি, কম্পিউটার এবং ইন্টারনেট — এসব ন্যূনতম সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। তৃতীয়ত: যেখানে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কম, সেখানে ক্লাস্টার ভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা যেতে পারে। অর্থাৎ কাছাকাছি একাধিক বিদ্যালয়কে মার্জ বা সংযুক্ত করে শিক্ষক ও সুযোগ ভাগ করা। এর সঙ্গে থাকতে হবে বিনামূল্যে পরিবহন ব্যবস্থা, যাতে দূরের শিশু বিদ্যালয়ে আসতে পারে। প্রান্তিক অঞ্চলে বিশেষ বাজেট বরাদ্দ করে শিক্ষা সুরক্ষা জরুরি। জঙ্গলমহল, সীমান্ত বা ছিটমহলের মতো এলাকায় সরকারি সহায়তা ও বাজেট বরাদ্দ দ্বিগুণ করতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার গুণমান বাড়াতে আধুনিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ, স্থানীয় ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে সাযুজ্য রেখে পাঠ্যক্রম সাজানো জরুরি। মনিটরিং ব্যবস্থাকেও শক্তিশালী করতে হবে। UDISE, DISE বা NCERT-এর PARAKH রিপোর্টে যে সমস্যাগুলি ধরা পড়ছে, সেগুলিকে দ্রুত সমাধানের জন্য জেলা ও ব্লক পর্যায়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। বিদ্যালয়গুলির বাস্তব অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ না নিলে সমস্যা আরও বাড়বে।
শিক্ষাকে শুধু সরকারি দপ্তরের দায়িত্বে সীমাবদ্ধ না রেখে সমাজকেও অংশীদার করতে হবে। স্থানীয় পঞ্চায়েত, এনজিও, সামাজিক সংগঠন, এমনকি বিদ্যালয় সংস্কা ও মানোন্নয়নে কর্পোরেট CSR অর্থও ব্যবহার করা যেতে পারে। স্কুল শিক্ষা নিয়ে জনসচেতনতা বাড়ানো এবং শিক্ষা আমাদের মৌলিক অধিকার — এই বার্তা প্রতিটি পরিবারে পৌঁছে দেওয়া জরুরি।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder