BREAKING:
জোড়াসাঁকোয় সাহিত্য-সংস্কৃতির মহোৎসবে কলম শিল্পী গ্র্যান্ড ফেস্টিভ্যাল ২০২৬ খোশবাগ বাসস্ট্যান্ডের কাছে পথ দুর্ঘটনা, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন দন্ত চিকিৎসক বসিরহাট দরবার শরিফে হুমায়ুন কবীর, পেলেন উষ্ণ অভ্যর্থনা লাল বালির চড়া দাম, গ্রামবাসীদের ভরসা পাথরের গুড়ো   রমজানে অসহায়দের পাশে আল হোসাইনী হেল্প ফাউন্ডেশন সুন্দরবনের লবণাক্ত মাটিতে সূর্যমুখী চাষে সাফল্য, লাভের মুখ দেখছেন কৃষকরা হুগলি জেলায় এসআইআর এর প্রথম পর্যায়ের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করলেন জেলা শাসক খুরশিদ আলি কাদরি  বন্যপ্রাণীর উপদ্রব রুখতে তৎপর বনদপ্তর উত্তাপহীন ডার্বিতে মহামেডানকে ৫ গোলে উড়িয়ে দিল মোহনবাগান মরণবাঁচন ম্যাচে আজ সামনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জিততেই হবে ভারতকে রাজনগরে চাঞ্চল্য: গাংমুড়ি গ্রামে বাড়ির ভিতর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার মোবাইল গেম খেলতে খেলতেই নিভে গেল ২১ বছরের তরতাজা প্রাণ  মুর্শিদাবাদের মুকুটে নতুন দুই পালক, বিশ্ববিদ্যালয় ও কাটরা মসজিদের তোরণ প্রকল্পের শিলান্যাস করলেন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম! রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে ত্রিশটি আসনে লড়বে পুকুর খনন করার সময় প্রাচীন বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার হল পান্ডুয়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে উড়িয়ে সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকা। রানে ফিরলেন অভিষেক, জয়ে ফিরলো ভারত; বেঁচে রইলো সেমির স্বপ্ন এসআইআর  ইস্যুতে আতঙ্ক নয়, আইনি পথে আপিলের আহ্বান মিল্লি ঐক্য মঞ্চের কালিয়াচক আবাসিক মিশনে বিজ্ঞান বিভাগের প্রবেশিকা পরীক্ষা সম্পন্ন, উৎসাহ চোখে পড়ার মতো পরীক্ষার দিন আচমকা মৃত্যু অষ্টম শ্রেণির ছাত্রের, শোকস্তব্ধ সোনারপুর নাবালিকাকে বিবাহের অভিযোগে জয়নগরে গ্রেপ্তার যুবক জয়নগরে মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনা, আহত তিন শ্রমিক নেতা মহম্মদ ওয়েস এর নেতৃত্বে বড়জোড়ায় বিরাট মিছিল কুলতলির বিধায়কের উপস্থিতিতে ঢালাই রাস্তার কাজের সূচনা হলো নলগোড়ায় ঘুটিয়ারীশরিফে পুলিশের তৎপরতায় ৫৪ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার গঙ্গাকে দূষণমুক্ত করতে উদ্যোগ সুন্দরবনে বাঘের হামলায় ফের মৃত্যু, সরকারি ক্ষতিপূরণের দাবি এসআইও নিয়ে মিথ্যা মন্তব্যের প্রতিবাদে কলকাতায় সাংবাদিক সম্মেলন জামাআতে ইসলামী হিন্দের ইফতার সামগ্রী বিতরণ বই হোক সই, বইয়ের জন্য করিমপুরে পথে হাঁটল শত শত মানুষ রমজান মাসে ৩০০ দুস্থ পরিবারের পাশে সমাজসেবী হাফেজ নজরুল ইসলাম অবশেষে ধুলিয়ান গঙ্গা স্টেশনে বাংলা স্থান পেল  মুর্শিদাবাদে দুই মেগা প্রকল্পের শিলান্যাস ২৮ ফেব্রুয়ারি ভাঙড়ে ২৮ টি তাজা বোমা ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার, গ্রেপ্তার দুই জন্মদিনে অবহেলিত ভূদেব মুখোপাধ্যায়, তালাবন্ধ গ্রীলে মালা ঝুলিয়ে জন্মদিন পালন করল বিজেপি বালিভর্তি ট্রাক চলাচল ঘিরে উত্তেজনা, সোনামুখীতে গ্রামবাসীর রাতভর বিক্ষোভ বসিরহাটে দলবদল ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ, তৃণমূলের সভায় বহু নেতার যোগদান ভোটের আগে বিরোধী শিবিরে বড় ভাঙন কুলতলীতে কালিয়াচকের বাহাদুরপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড চুঁচুড়ায় সোমবার সাতসকালে পথ দুর্ঘটনা, জখম যুবকের অবস্থা আশঙ্কাজনক নিহত সেনা জওয়ানের মরদেহ পৌঁছাল শেখপাড়ার বাড়িতে ব্লক প্রাণিসম্পদ বিকাশ দিবস পালিত জয়নগরে অনলাইন বাণিজ্যের প্রসারে ক্ষুদ্র ব্যবসা চাপে: মত বড়জোড়া চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশে ফের পরিযায়ী শ্রমিকের উপর হামলা উত্তরলক্ষীপুরের গর্ব: প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ হতে চলেছেন ডা: মোবারাক হোসেন পুনরাবৃত্তি চায় ভারত, দক্ষিন আফ্রিকা চায় প্রত্যাবর্তন; সুপার এইটে আজ হাড্ডাহাড্ডি লড়াই টানা দুই ম্যাচে জয় ইস্টবেঙ্গলের, দুই ম্যাচেই জোড়া গোল ইউসুফের বৃষ্টিতে ধুয়ে গেল পাকিস্তান-নিউজিল্যান্ডের ম্যাচ আজ শুরু সুপার এইটের লড়াই, প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি পাক বনাম নিউজিল্যান্ড আজ ইস্টবেঙ্গলের সামনে স্পোর্টিং দিল্লি, ভরসার নাম ইউসুফ আজ্জেরি প্রত্যাশিত হার, ঘরের মাঠে মহামেডান বধ এফসি গোয়ার ১৫ বছরেও শেষ হয়নি বক্সীপুর ব্রিজ নির্মাণ কাজ, জনস্বার্থ মামলা গড়াল কলকাতা হাই কোর্টে করিমপুর এলাকাবাসীকে বহরমপুর যেতে আর পেরুতে হবেনা বিপদ সংকুল রাস্তা এসআইআর এর চাপ, শ্রীরামপুরে মাঝ গঙ্গায় ঝাঁপ বিএলও’র ছেলেধরা সন্দেহে পুড়িয়ে খুনের চেষ্টার ঘটনায় বলাগড়ে ২৫ জন দোষীকে সাজা শোনালো চুঁচুড়ার ফার্স্ট ট্রাক কোর্ট বেআইনি মাটির গাড়ির ধাক্কায় ২ যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনে জি-প্লটের আদিবাসী শিশুরা  জল্পনার অবসান, তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন বাম যুব নেতা প্রতীক উর রহমান কনকচূড় ধানের চাল পেল জাতিসংঘের ঐতিহ্য স্বীকৃতি, খুশির হাওয়া জয়নগর জুড়ে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রশাসন-এনজিওর যৌথ উদ্যোগে সচেতনতা শিবির ঘোড়ামারা দ্বীপ রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপের নির্দেশ ট্রাইব্যুনালের, গঠিত হচ্ছে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি শেষ সময় ঘনাতেই যুব সাথী প্রকল্পের ফর্ম জমায় দীর্ঘ হচ্ছে লাইন পখন্না রামকৃষ্ণ আশ্রমে শ্রীরামকৃষ্ণের ১৯১তম জন্মতিথি উদ্‌যাপন বড়জোড়া কলেজে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত সায়েম চৌধুরী ওরফে বাবু: সংগঠন, সংগ্রাম ও সেবার রাজনীতি সোনার প্রতিমার প্রলোভনে ১১ লক্ষ টাকার প্রতারণা ঘুঁটিয়ারীশরিফে পুলিশের সাফল্য: ২৪ চুরি যাওয়া মোবাইল উদ্ধার হুগলি জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের উদ্যোগে খাদ্য সুরক্ষা মেলা’য় সুষম খাদ্য খাওয়ার পরামর্শ  উলুবেড়িয়ায় ১৫ টিয়া উদ্ধার, আন্তরাজ্য পাখি পাচারচক্রের সদস্য গ্রেফতার সরকারি জমি দখল ও নয়নজুলি ভরাটের অভিযোগে চাঞ্চল্য ধূপগুড়িতে কাবিলপুর হাই স্কুলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠা দিবস ঘটা করে উদযাপন পবিত্র রমজান মাস শুরুর ঠিক আগে ইফতার সামগ্রী বিতরণ জয়নগরে ২০২৬ নির্বাচন ঘিরে ফারাক্কায় জোর চর্চায় রেহেনা ইয়াসমিন  পিতা-মাতার স্মৃতিতে আট দিনব্যাপী ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজন পুলিশকর্মী ছেলের উদ্যোগে সুন্দরবনের মৎস্যজীবীদের মৃত্যু মিছিল থামছেই না, সরকারি ক্ষতিপূরনের দাবি মাটি, মানুষ ও সংগঠন: রাবিউল ইসলামের রাজনৈতিক দর্শন দুবে ঝড়ে উড়ে গেল নেদারল্যান্ডস, বোলিংয়ে নায়ক বরুণ হঠাতই ব্যাটিং বিপর্যয়, রঞ্জি থেকে বিদায় বাংলার ফারহানের দুরন্ত সেঞ্চুরি, সুপার এইটে পাকিস্তানও ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচে আজ নামিবিয়ার মুখোমুখি পাকিস্তান সামির ৮ উইকেটেও, ব্যাটিং বিপর্যয়ে হারের মুখে বাংলা চুঁচুড়ায় প্রার্থী ঘোষণার আগেই দেওয়াল লিখনে জোর তৃণমূল, পাল্টা কটাক্ষ বিজেপির কুলতলিতে আয়ুষ মেলা: বিকল্প চিকিৎসা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে উদ্যোগ রানীনগরে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীসভা ও জাকির হোসেনের উপস্থিতিতে উপচে পড়া ভিড়  কৃষকদের সমস্যা সমাধানে চালু ‘ভারত বিস্তার’ এআই টুল গোবর্ধনডাঙ্গায় তৃণমূল ট্রেড ইউনিয়নের কর্মী সভা কাবিলপুরে মানব সেবা ফাউন্ডেশনের পথচলা শুরু মালদা জেলায় হাই মাদ্রাসা, আলিম ও ফাজিল পরীক্ষা নির্বিঘ্নেই সম্পন্ন পা দিয়ে লিখেই উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা মানকুন্ডুতে সারা বাংলা একদিনের দাবা প্রতিযোগিতা মেরা যুব ভারতের উদ্যোগে মগরাহাটে জেলা ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অপসংস্কৃতির স্রোতের বিপরীতে নাট্যচর্চার বার্তা – বাগনানে তিনদিনের নাট্য উৎসবে নজর কাড়ল বাঙালপুর বয়েজ ক্লাব দ্বীপাঞ্চলবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণ: আমতায় নির্মীয়মাণ কংক্রিটের সেতুতে বাড়ছে আশার আলো মানসম্মত শিক্ষা ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে কলকাতায় স্কুল ম্যানেজমেন্ট কর্মশালা জীবনে কিছু জায়গা থেকে চুপচাপ সরে আসতে হয় ১৪ই ফেব্রুয়ারি: ভালবাসার দিন হিসেবে কেন পালিত হয়? সুদ, মাদক ও জুয়ার অদৃশ্য জোট: সমাজ ধ্বংসের নীরব চক্রান্ত আদ্রায় ‘বিনা পয়সার বাজারে’ উপচে পড়া ভিড়, হাসি ফিরল অসংখ্য মুখে মেডিকেল ভর্তিতে কাট অফ বিতর্কে তোলপাড় দেশ হবু ডাক্তারদের মান, মেধা ও রোগীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন কেরালার আদালতে নতুন অধ্যায় রচিত দৃষ্টিহীন তরুণী বিচারক গড়লেন নজির

গলাগলির চেয়ে গালাগালির পারদ ঊর্ধমুখী

প্রকাশিত: ২২ অক্টোবর ২০২৫, দুপুর ৩:১০ | আপডেট: ২২ অক্টোবর ২০২৫, দুপুর ৩:১০

মোহাঃ সাদেকুল ইসলাম

আরও পড়ুন:

২৬-এর ফুটবল বিশ্বকাপ আসন্ন। বছর বাদে বল গড়াবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোর মাঠে। মাঠের ঘাস যতই মোলায়েম হোক, চুঁইয়ে পড়া বৈভব ও আনন্দোচ্ছ্বাস যতই সুখকর হোক, অঘটন ঘটবেই। জ্যোতিষবিদ্যার জ্ঞান নিয়ে বলছি না, তবে পুরাতন অভিজ্ঞতালব্ধ ঘটনা দেখে এমন ধারণার কথা বলছি। মাঠের মাঝে শিল্পের লাগালাগি গতি যেমন দেখা যাবে, অপ্রীতিকর ঘটনারও সাক্ষী থাকবে আমাদের দু’চোখ। মনের সঙ্গে গায়ের ও পায়ের জোরের পাশাপাশি মুখের জোরটাও চলবে। মুখের জোর হল, বিপক্ষ খেলোয়াড়কে গালি দেওয়া। জিদান ঢুসোর কথা ফুটবল ক্রীড়ামোদীরা আজও ভোলেননি। ইতালিয়ান খেলোয়াড় মাতরাজ্জিকে ঢুসো মেরে লালকার্ড খেয়ে মাঠ ছাড়লেন জিদান। হিরো থেকে ভিলেন হলেন রাতারাতি। সাফল্য ও ফর্মের চূড়ান্ত শিখরে থাকা খেলোয়াড় এমন কু-কীর্তি ঘটালেন কেন? জিদানের মেজাজ বিগড়ে সাফল্য তুলে নিতে চেয়েছিলেন মাতরাজ্জি। বিশেষ অস্ত্রবলে সফল হয়েও ছিলেন তিনি। সেই মহাস্ত্রের নাম ‘গালি’। জিদানের বোনকে গালি দিয়ে সাফল্য হাসিল করেছিলেন কৌশলী এই ইতালিয়ান খেলোয়াড়।
গালির আশ্চর্য ক্ষমতা। অপরজনকে হারিয়ে দিতে পারে। অপর জনের মনে ‘আমি হেরে গেলাম’ এই ধারণা সৃষ্টি করতে পারে। লঙ্কার ঝাল মাপার একক আছে। গাল মাপার একক নেই। তা যদি থাকত, অভিশাপের পাল্লা থেকে গালির পাল্লা ভারী হত। কাউকে অভিশাপ খেয়ে মরতে দেখা যায় না, কিন্তু গালাগালি খেয়ে লড়তে দেখা যায় হামেশাই। গালিদাতাকে যতটা ফুরফুরে দেখা যায়, গালিগ্রহীতা ততটাই বিমর্ষ থাকেন।
আজকাল গালিদাতা বেড়েছে। সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে গালির সংখ্যাও। ‘বাঁদর’ , ‘গাধা’ বলার যুগ আর নেই। গায়ে ফোস্কা ধরানো গালও যেন এখন অনেকটা পানসে। এক-লক্ষ্য গাল, গুষ্টি-সমষ্টি গালও আজ ব্রাত্য হয়েছে গালিদাতাদের মুখে। জাতিকেন্দ্রিক গাল সমাজের দখল নিয়েছে, যা ষোল আনাই সংক্রামক। ফলত বিদ্বেষ ছড়িয়ে পড়ছে সুপারসনিক গতিতে। পূর্বের কিছু অপশব্দের গাল বমনোদ্রেকী ছিল; কিন্তু বর্তমানের গাল ঈর্ষা আর বিদ্বেষ দুই-ই উদ্রেক করে। প্রধানমন্ত্রীর মা, রাহুল গান্ধীর মা, শশী থারুদের স্ত্রী — নানাজনে গালিবাণে আক্রান্ত।
ফেসবুক, ইনস্ট্রাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপে ইউনিভার্সিটির কিছু ছাত্র-ছাত্রী আজ এই গালাগালির গবেষক। সরব গালির তুলনায় নীরব গালিরও পোষক এরা। নীরব গালে তুলনামূলক দূষণ কম। সরব গালে তীব্র। সমাজে আট থেকে আশি সবাই দূষিত হচ্ছে সরব গালির বদৌলতে। সমাজে দূষণ কম হলেও কিন্তু নীরব গালি কর্কটরোগ। সামান্য অংশ থেকে শুরু করে সমাজের পূর্ণাংশ সংক্রামিত করে ফেলেছে। এই গালিদাতারা নিজের নামে, অপরের নামে ফেক আইডি খুলে অন্যকে খিস্তি বা গালি দিয়ে যাচ্ছে দেদার দিলে। তারা বিষয় না পেয়ে আজ ব্যক্তিকে আক্রমণ করছে। আত্মস্বার্থে আঘাত লাগলে একটা বিশেষ সম্প্রদায়কে আক্রমণ করছে। তলিয়ে দেখলে এ সত্য উদঘাটিত হবে যে, তাদের কেউ ছদ্ম দেশপ্রেমিক, কেউ-বা উগ্র দেশপ্রেমিক। এই দুইয়ের ষাঁড়াষাঁড়ি আক্রমণে পবিত্র-পুণ্যভূমি ভারতাত্মা চোখের জলে নীরবে ক্রন্দন করে চলেছে। অপরদিকে, গালি-খাওয়ার দল মনের অন্তর্দেশে বলগ-ওঠা দুধের মতো টগবগ ফুটে চলেছেন।
এই গালি-সংস্কৃতি বজায় রাখার বা গালি দেওয়ার প্রবণতার উৎসভূমি কী? গালি দেওয়ায় লাভ আছে, নাকি ক্ষতি — তা বিশদে আমরা বলতে পারি না, এটা সমাজবিজ্ঞানীদের ব্যাখ্যার বিষয়। হরপ্রসাদ শাস্ত্রী আজ বেঁচে থাকলে হয়ত (কারো দ্বারা প্ররোচিত হলে) বলতেন, ”এক গালে সফল হাতে হাত / অপর গালে বিপক্ষ কুপোকাত”। তবে দেশ, দশ ও জাতির সুশীল মনোভাব বজায় রাখার স্বার্থে এক চিলতে বাক্যব্যয় করে বলতেই পারি, গালি কাঙ্ক্ষিতবস্তু ও ইপ্সিত বাসনা লাভের ঘৃণ্যতম মাধ্যম। খোলা চোখে ক্ষতির খতিয়ান সহজ দৃশ্যমান। হয়ত কোনো গালিদাতা শাণিত যুক্তিনির্ভর পক্ষাবলম্বন করবে। সাপের বিষ মানুষের মরণ আনে, আবার এই বিষই প্রাণ বাঁচায়। তাই বলা হয় বিষে বিষে বিষ-ক্ষয়। কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলা। মোদ্দা কথা, গালি দিয়ে কার্য হাসিল।
তবে দেখে ও ঠেকে মানবসমাজ যেটুকু বুঝতে পেরেছেন তা হল, অপ্রাপ্তি থেকে হিংসার সৃষ্টি, আর হিংসা প্রকাশের বাহন রূপে খিস্তি-গালাগালির আগমন। এটিই উৎসভূমি। সুশীল সমাজ গালি খাওয়ার চেয়ে গালি দিতে ভয় করে বেশি। কারণ, তাঁদের সামাজিক বোধটাই আলাদা। অপরদিকে, ন্যাংটার নেই কাপড়ের ভয়, গালিদাতারা নিজেদের ভাবমূর্তি নষ্টের কথা কখনোই ভাবে না। না বাস্তবে, না স্বপ্নে। কারণ, কটূকাটব্য তাদের ধাত সওয়া হয়ে গেছে। গৃহহীনের ঘর পোড়ার ভয় থাকে না।
ডিজিটাল গালির সিংহ-থাবায় বিবেকবান মানুষ মর্মাহত। মোবাইল-পর্দা, টেলিভিশন-পর্দা ও সেলুলয়েড-পর্দা সর্বত্রই গালিগালাজের রমরমার তাণ্ডবনৃত্যে সুশীল মানব আতঙ্কিত, তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। ‘মোল্লার বাচ্চা’ থেকে শুরু করে ‘সোনাটুনির বাচ্চা’ পর্যন্ত প্রাথমিক বিস্তৃতি। ক্রমে সিঁড়ি বেয়ে গালির পারদ বিছানা পর্যন্ত উঠেছে। এতদিন বাবা-মায়ের নামে গালি দিয়ে যারা ক্ষান্ত হত, এই ফাঁকে গালির উচ্চ শংসাপত্র হাসিল করে আরও উন্নততর বা উন্নত মানের গালি আবিষ্কার করেছে। সাধারণ মানুষ তো দূর ছাই, দেশের জন্য নিবেদিতপ্রাণ কর্নেল সোফিয়া কুরেশি, উইং কমান্ডার ব্যোমিকা সিং ছাড়াও ভারতীয় বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রিকে ইয়ত্তাহীন গালি হজম করতে হয়েছে সম্প্রতি। চিকিৎসা বিজ্ঞানীগণ নবাবিষ্কৃত প্রতিষেধক-ঔষধের সাফল্যমান বিচারে গিনিপিগ কী বাঁদর জাতীয় ইতর প্রাণিতে প্রয়োগ ঘটান। ঠিক তেমনি, গালদোষ-দুষ্ট দূষকের দল আবিষ্কৃত গালের তেজস্ক্রিয়তা মাপতে বিশেষ সম্প্রদায় ও সেক্যুলারদের ওপর প্রয়োগ ঘটাচ্ছে।
কোনো এক সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ছাত্র চূড়ান্ত সাফল্যের সঙ্গে এইচ.এস পাস করে টগবগ আনন্দে ফুটছেন, হঠাৎ তার মন-প্রাণের ওপর ঘটে গেল সার্জিক্যাল স্ট্রাইক। তার মোবাইল স্ক্রিনে একের পর এক ধেয়ে এল মিসাইল হামলা। দেখো বাবা, বিন লাদেনের মতো নাম উজ্জ্বল করতে যেও না। আরেক অস্ত্র এল, যাই হোস হবি, কিন্তু জঙ্গী হতে যাস না। আর এক গালের অস্ত্র, ভাল রেজাল্ট করে কী হবে? ক’দিন পর তো টেররিস্ট হতে হবে। আরেক অস্ত্র, মাদ্রাসা ছেড়ে স্কুলে তুমি কেন? আর এক অস্ত্র, বোমা ভাবতে শিখে নিয়ো।
হিংসা জয় ভালবাসায়, স্বতঃসিদ্ধ কথা। মেরেছ কলসির কানা, তাই বলে কি প্রেম দেব না? স্যাকরার ঠুকঠুক, কামারের এক ঘা। হ্যাঁ, দূষকের অস্ত্র গালাগালি, তো সুশীলের অস্ত্র গলাগলি। অর্থাৎ, ঘৃণা-বর্জ্য ত্যাগ করে প্রেম-ভালবাসা, সদ্ভাব-সম্প্রীতি, অসাম্প্রদায়িক মনোভাব আনয়ন আবশ্যক। সমাজে সুশীলের অভাব নেই। তাঁদের থেকেই এসেছে সাহসের রসদ ও সত্যবাণী। সে আক্রান্ত ছাত্রের কাছে এসেছে সংখ্যাগুরুদেরই অমৃত বাণী। অভিনন্দন ! অনেক বড় হও। যা কিছু খারাপ শুনলে মনে রেখো না। এগিয়ে যাও। আরেক উজ্জীবনী মন্ত্র, এই উগ্র ধর্মান্ধদের কথায় মন খারাপ কোরো না। আমরা আছি তোমার সাথে। আরেক জনের বাণী-উপহার, এ ধরনের বিষাক্ত চিন্তাধারা বাঙালির মধ্যে ছিল না। আজ জাত-ধর্ম তুলে যারা তোমাকে গাল-মন্দ করল, জীবনে তারা একটি ধর্মগ্রন্থও পড়েছে বলে মনে হয় না।
আর বিস্তৃতি নয়। স্মরণ রাখা উচিত, বিশ্ববরেণ্য কবি রবীন্দ্রনাথ তাঁর ‘লোকহিত’ প্রবন্ধে বলেছেন, ‘মরার বাড়া গালি নাই’। পরক্ষণেই বলেছেন, আছে। তা হল, ‘বাঁচিয়া মরা’। জীবিত অবস্থাতেই যাদের মরণ ঘটেছে, তার ইঙ্গিত তিনি দিয়েছেন। শেষকথা এই, গাল খেয়ে কারও পেট ভরতে পারে, কিন্তু গাল দিয়ে তোমার না পেট, না মন — কিছুই ভরবে না। শূন্য। তুমি বেঁচে আছ, কিন্তু মরে গেছ। তুমি সাগরজলের অন্তঃসারহীন লবণাক্ত ফোসকা। অপরের পিপাসা নিবারণ তোমার কম্ম নয়।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder