BREAKING:
জোড়াসাঁকোয় সাহিত্য-সংস্কৃতির মহোৎসবে কলম শিল্পী গ্র্যান্ড ফেস্টিভ্যাল ২০২৬ খোশবাগ বাসস্ট্যান্ডের কাছে পথ দুর্ঘটনা, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন দন্ত চিকিৎসক বসিরহাট দরবার শরিফে হুমায়ুন কবীর, পেলেন উষ্ণ অভ্যর্থনা লাল বালির চড়া দাম, গ্রামবাসীদের ভরসা পাথরের গুড়ো   রমজানে অসহায়দের পাশে আল হোসাইনী হেল্প ফাউন্ডেশন সুন্দরবনের লবণাক্ত মাটিতে সূর্যমুখী চাষে সাফল্য, লাভের মুখ দেখছেন কৃষকরা হুগলি জেলায় এসআইআর এর প্রথম পর্যায়ের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করলেন জেলা শাসক খুরশিদ আলি কাদরি  বন্যপ্রাণীর উপদ্রব রুখতে তৎপর বনদপ্তর উত্তাপহীন ডার্বিতে মহামেডানকে ৫ গোলে উড়িয়ে দিল মোহনবাগান মরণবাঁচন ম্যাচে আজ সামনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জিততেই হবে ভারতকে রাজনগরে চাঞ্চল্য: গাংমুড়ি গ্রামে বাড়ির ভিতর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার মোবাইল গেম খেলতে খেলতেই নিভে গেল ২১ বছরের তরতাজা প্রাণ  মুর্শিদাবাদের মুকুটে নতুন দুই পালক, বিশ্ববিদ্যালয় ও কাটরা মসজিদের তোরণ প্রকল্পের শিলান্যাস করলেন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম! রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে ত্রিশটি আসনে লড়বে পুকুর খনন করার সময় প্রাচীন বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার হল পান্ডুয়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে উড়িয়ে সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকা। রানে ফিরলেন অভিষেক, জয়ে ফিরলো ভারত; বেঁচে রইলো সেমির স্বপ্ন এসআইআর  ইস্যুতে আতঙ্ক নয়, আইনি পথে আপিলের আহ্বান মিল্লি ঐক্য মঞ্চের কালিয়াচক আবাসিক মিশনে বিজ্ঞান বিভাগের প্রবেশিকা পরীক্ষা সম্পন্ন, উৎসাহ চোখে পড়ার মতো পরীক্ষার দিন আচমকা মৃত্যু অষ্টম শ্রেণির ছাত্রের, শোকস্তব্ধ সোনারপুর নাবালিকাকে বিবাহের অভিযোগে জয়নগরে গ্রেপ্তার যুবক জয়নগরে মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনা, আহত তিন শ্রমিক নেতা মহম্মদ ওয়েস এর নেতৃত্বে বড়জোড়ায় বিরাট মিছিল কুলতলির বিধায়কের উপস্থিতিতে ঢালাই রাস্তার কাজের সূচনা হলো নলগোড়ায় ঘুটিয়ারীশরিফে পুলিশের তৎপরতায় ৫৪ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার গঙ্গাকে দূষণমুক্ত করতে উদ্যোগ সুন্দরবনে বাঘের হামলায় ফের মৃত্যু, সরকারি ক্ষতিপূরণের দাবি এসআইও নিয়ে মিথ্যা মন্তব্যের প্রতিবাদে কলকাতায় সাংবাদিক সম্মেলন জামাআতে ইসলামী হিন্দের ইফতার সামগ্রী বিতরণ বই হোক সই, বইয়ের জন্য করিমপুরে পথে হাঁটল শত শত মানুষ রমজান মাসে ৩০০ দুস্থ পরিবারের পাশে সমাজসেবী হাফেজ নজরুল ইসলাম অবশেষে ধুলিয়ান গঙ্গা স্টেশনে বাংলা স্থান পেল  মুর্শিদাবাদে দুই মেগা প্রকল্পের শিলান্যাস ২৮ ফেব্রুয়ারি ভাঙড়ে ২৮ টি তাজা বোমা ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার, গ্রেপ্তার দুই জন্মদিনে অবহেলিত ভূদেব মুখোপাধ্যায়, তালাবন্ধ গ্রীলে মালা ঝুলিয়ে জন্মদিন পালন করল বিজেপি বালিভর্তি ট্রাক চলাচল ঘিরে উত্তেজনা, সোনামুখীতে গ্রামবাসীর রাতভর বিক্ষোভ বসিরহাটে দলবদল ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ, তৃণমূলের সভায় বহু নেতার যোগদান ভোটের আগে বিরোধী শিবিরে বড় ভাঙন কুলতলীতে কালিয়াচকের বাহাদুরপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড চুঁচুড়ায় সোমবার সাতসকালে পথ দুর্ঘটনা, জখম যুবকের অবস্থা আশঙ্কাজনক নিহত সেনা জওয়ানের মরদেহ পৌঁছাল শেখপাড়ার বাড়িতে ব্লক প্রাণিসম্পদ বিকাশ দিবস পালিত জয়নগরে অনলাইন বাণিজ্যের প্রসারে ক্ষুদ্র ব্যবসা চাপে: মত বড়জোড়া চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশে ফের পরিযায়ী শ্রমিকের উপর হামলা উত্তরলক্ষীপুরের গর্ব: প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ হতে চলেছেন ডা: মোবারাক হোসেন পুনরাবৃত্তি চায় ভারত, দক্ষিন আফ্রিকা চায় প্রত্যাবর্তন; সুপার এইটে আজ হাড্ডাহাড্ডি লড়াই টানা দুই ম্যাচে জয় ইস্টবেঙ্গলের, দুই ম্যাচেই জোড়া গোল ইউসুফের বৃষ্টিতে ধুয়ে গেল পাকিস্তান-নিউজিল্যান্ডের ম্যাচ আজ শুরু সুপার এইটের লড়াই, প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি পাক বনাম নিউজিল্যান্ড আজ ইস্টবেঙ্গলের সামনে স্পোর্টিং দিল্লি, ভরসার নাম ইউসুফ আজ্জেরি প্রত্যাশিত হার, ঘরের মাঠে মহামেডান বধ এফসি গোয়ার ১৫ বছরেও শেষ হয়নি বক্সীপুর ব্রিজ নির্মাণ কাজ, জনস্বার্থ মামলা গড়াল কলকাতা হাই কোর্টে করিমপুর এলাকাবাসীকে বহরমপুর যেতে আর পেরুতে হবেনা বিপদ সংকুল রাস্তা এসআইআর এর চাপ, শ্রীরামপুরে মাঝ গঙ্গায় ঝাঁপ বিএলও’র ছেলেধরা সন্দেহে পুড়িয়ে খুনের চেষ্টার ঘটনায় বলাগড়ে ২৫ জন দোষীকে সাজা শোনালো চুঁচুড়ার ফার্স্ট ট্রাক কোর্ট বেআইনি মাটির গাড়ির ধাক্কায় ২ যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনে জি-প্লটের আদিবাসী শিশুরা  জল্পনার অবসান, তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন বাম যুব নেতা প্রতীক উর রহমান কনকচূড় ধানের চাল পেল জাতিসংঘের ঐতিহ্য স্বীকৃতি, খুশির হাওয়া জয়নগর জুড়ে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রশাসন-এনজিওর যৌথ উদ্যোগে সচেতনতা শিবির ঘোড়ামারা দ্বীপ রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপের নির্দেশ ট্রাইব্যুনালের, গঠিত হচ্ছে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি শেষ সময় ঘনাতেই যুব সাথী প্রকল্পের ফর্ম জমায় দীর্ঘ হচ্ছে লাইন পখন্না রামকৃষ্ণ আশ্রমে শ্রীরামকৃষ্ণের ১৯১তম জন্মতিথি উদ্‌যাপন বড়জোড়া কলেজে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত সায়েম চৌধুরী ওরফে বাবু: সংগঠন, সংগ্রাম ও সেবার রাজনীতি সোনার প্রতিমার প্রলোভনে ১১ লক্ষ টাকার প্রতারণা ঘুঁটিয়ারীশরিফে পুলিশের সাফল্য: ২৪ চুরি যাওয়া মোবাইল উদ্ধার হুগলি জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের উদ্যোগে খাদ্য সুরক্ষা মেলা’য় সুষম খাদ্য খাওয়ার পরামর্শ  উলুবেড়িয়ায় ১৫ টিয়া উদ্ধার, আন্তরাজ্য পাখি পাচারচক্রের সদস্য গ্রেফতার সরকারি জমি দখল ও নয়নজুলি ভরাটের অভিযোগে চাঞ্চল্য ধূপগুড়িতে কাবিলপুর হাই স্কুলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠা দিবস ঘটা করে উদযাপন পবিত্র রমজান মাস শুরুর ঠিক আগে ইফতার সামগ্রী বিতরণ জয়নগরে ২০২৬ নির্বাচন ঘিরে ফারাক্কায় জোর চর্চায় রেহেনা ইয়াসমিন  পিতা-মাতার স্মৃতিতে আট দিনব্যাপী ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজন পুলিশকর্মী ছেলের উদ্যোগে সুন্দরবনের মৎস্যজীবীদের মৃত্যু মিছিল থামছেই না, সরকারি ক্ষতিপূরনের দাবি মাটি, মানুষ ও সংগঠন: রাবিউল ইসলামের রাজনৈতিক দর্শন দুবে ঝড়ে উড়ে গেল নেদারল্যান্ডস, বোলিংয়ে নায়ক বরুণ হঠাতই ব্যাটিং বিপর্যয়, রঞ্জি থেকে বিদায় বাংলার ফারহানের দুরন্ত সেঞ্চুরি, সুপার এইটে পাকিস্তানও ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচে আজ নামিবিয়ার মুখোমুখি পাকিস্তান সামির ৮ উইকেটেও, ব্যাটিং বিপর্যয়ে হারের মুখে বাংলা চুঁচুড়ায় প্রার্থী ঘোষণার আগেই দেওয়াল লিখনে জোর তৃণমূল, পাল্টা কটাক্ষ বিজেপির কুলতলিতে আয়ুষ মেলা: বিকল্প চিকিৎসা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে উদ্যোগ রানীনগরে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীসভা ও জাকির হোসেনের উপস্থিতিতে উপচে পড়া ভিড়  কৃষকদের সমস্যা সমাধানে চালু ‘ভারত বিস্তার’ এআই টুল গোবর্ধনডাঙ্গায় তৃণমূল ট্রেড ইউনিয়নের কর্মী সভা কাবিলপুরে মানব সেবা ফাউন্ডেশনের পথচলা শুরু মালদা জেলায় হাই মাদ্রাসা, আলিম ও ফাজিল পরীক্ষা নির্বিঘ্নেই সম্পন্ন পা দিয়ে লিখেই উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা মানকুন্ডুতে সারা বাংলা একদিনের দাবা প্রতিযোগিতা মেরা যুব ভারতের উদ্যোগে মগরাহাটে জেলা ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অপসংস্কৃতির স্রোতের বিপরীতে নাট্যচর্চার বার্তা – বাগনানে তিনদিনের নাট্য উৎসবে নজর কাড়ল বাঙালপুর বয়েজ ক্লাব দ্বীপাঞ্চলবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণ: আমতায় নির্মীয়মাণ কংক্রিটের সেতুতে বাড়ছে আশার আলো মানসম্মত শিক্ষা ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে কলকাতায় স্কুল ম্যানেজমেন্ট কর্মশালা জীবনে কিছু জায়গা থেকে চুপচাপ সরে আসতে হয় ১৪ই ফেব্রুয়ারি: ভালবাসার দিন হিসেবে কেন পালিত হয়? সুদ, মাদক ও জুয়ার অদৃশ্য জোট: সমাজ ধ্বংসের নীরব চক্রান্ত আদ্রায় ‘বিনা পয়সার বাজারে’ উপচে পড়া ভিড়, হাসি ফিরল অসংখ্য মুখে মেডিকেল ভর্তিতে কাট অফ বিতর্কে তোলপাড় দেশ হবু ডাক্তারদের মান, মেধা ও রোগীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন কেরালার আদালতে নতুন অধ্যায় রচিত দৃষ্টিহীন তরুণী বিচারক গড়লেন নজির

তাবলীগ জামাতের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা ইলিয়াস কান্দলভি (রহ.)-এর জীবনালেখ্য

প্রকাশিত: ২ জানুয়ারী ২০২৬, দুপুর ১২:২৩ | আপডেট: ৮ জানুয়ারী ২০২৬, দুপুর ১২:৩৩
১৮৮৫ সালে ভারতের ‘কান্দালা’ নামক এক শহরে জন্ম হয় মাওলানা ইলিয়াস (রহ.)-এর। জন্মভূমির নাম অনুসারে তাঁর নামের শেষে ব্যবহৃত হয় ‘কান্দলভি’ শব্দটি। তাঁর ছোটবেলা কেটেছে নানির বাড়ি মেওয়াতে। মাওলানা ইলিয়াস যখন একটু বড় হলেন, পড়াশুনা করার তাগিদে বাবার কাছে দিল্লির নিজামুদ্দিন চলে এলেন। বাবা মাওলানা ইসমাইলের (রহ.) কাছেই ‘আলিফ-বা’র সবক শুরু করেন এবং অল্পদিনের মধ্যেই পবিত্র কুরআনে হিফজ সমাপ্ত করেন। প্রখর মেধাবী ছাত্র ছিলেন ইলিয়াস।

মুদাসসির নিয়াজ:মাওলানা ইলিয়াস কান্দলভি (রহ.)-র সহপাঠী ছিলেন মাওলানা রিয়াজুল ইসলাম কান্দলভি (রহ.)। ছোটবেলার স্মৃতি বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি একদিন বলছিলেন, ‘মাওলানা ইলিয়াসের মাঝে ছোটবেলা থেকেই ইসলামী হুকুম-আহকাম পালনের প্রতি বিশেষ ভালবাসা-আগ্রহ ছিল। ও একদিন আমাকে বলল, চলো, যারা নামায না পড়ে তাদের বিরুদ্ধে আমরা জিহাদ ঘোষণা করি। আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেই বে-নামাজিদের ঘর-বাড়ি।’
১৮৮৫ সালে ভারতের ‘কান্দালা’ নামক এক শহরে জন্ম হয় মাওলানা ইলিয়াস (রহ.)-এর। জন্মভূমির নাম অনুসারে তাঁর নামের শেষে ব্যবহৃত হয় ‘কান্দলভি’ শব্দটি। তাঁর ছোটবেলা কেটেছে নানির বাড়ি মেওয়াতে। মাওলানা ইলিয়াস যখন একটু বড় হলেন, পড়াশুনা করার তাগিদে বাবার কাছে দিল্লির নিজামুদ্দিন চলে এলেন। বাবা মাওলানা ইসমাইলের (রহ.) কাছেই ‘আলিফ-বা’র সবক শুরু করেন এবং অল্পদিনের মধ্যেই পবিত্র কুরআনে হিফজ সমাপ্ত করেন। প্রখর মেধাবী ছাত্র ছিলেন ইলিয়াস। কেবল দিল্লি কিংবা ভারত নয়; একাধিক দেশে দ্বীনি দাওয়াত তথা তাবলিগি কার্যক্রমের বর্তমান যে ধারা প্রচলিত রয়েছে, এর নেপথ্যে মাওলানা ইলিয়াস (রহ.)-এর চিন্তা-ফিকির, দোয়া-মোনাজাত ও মেহনত সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়েছে। এক কথায়, উম্মতে মুহাম্মাদির পারলৌকিক মুক্তিকামী এই নবীওয়ালা কাজের উদ্ভাবক, বর্তমান তাবলিগ জামাতের প্রাণপুরুষ-রূপকার হযরত মাওলানা ইলিয়াস কান্দলভি (রহ.)।
পবিত্র কুরআন হিফজ করার পর বড় ভাইয়ের সঙ্গে পড়াশুনা করার জন্য গাঙ্গুহ চলে আসেন ইলিয়াস। এখানে এসেই তিনি মাওলানা রশিদ আহমদ গাঙ্গুহির (রহ.) সহবত-সংস্পর্শ লাভ করেন। ইলমে অহির সফল ধারক; সুন্নাতে নববীর পরিপূর্ণ সাধক এক মহাপুরুষের সংর্স্পশ-শুভ্রতায় আলোকিত হয়ে ওঠে মাওলানা ইলিয়াসের জীবন-সাধনা। কিছুকাল অসুস্থ থাকার কারণে ভালভাবে পড়াশুনায় অংশগ্রহণ করতে পারেননি তিনি। পুরোপুরি সুস্থতা লাভ করার পর পুনরায় মনোনিবেশ করেন পড়াশুনায় এবং খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে দাওরায়ে হাদিস জামাত সমাপ্ত করেন। পড়াশুনার পাশাপাশি আধ্যাত্মিক সাধনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে মাওলানা রশিদ আহমদ গাঙ্গুহির (রহ.) কাছে বায়আত গ্রহণ করেন মাওলানা ইলিয়াস। কোনো কোনো ইতিহাসবিদের মতে, বিশ বছর মাওলানা রশিদ আহমদ গাঙ্গুহির সহবতে ছিলেন মাওলানা ইলিয়াস সাহেব। মাওলানা রশিদ আহমদ গাঙ্গুহির ইন্তিকালের পর দেওবন্দে চলে আসেন তিনি এবং মাওলানা মাহমুদ হাসানের (রহ.) ছাত্রত্ব গ্রহণ করেন। এ সময় তিনি মাওলানা মাহমুদ হাসানের (রহ.) কাছে পুনরায় তিরমিজি শরিফ-সহ বিভিন্ন হাদীস গ্রন্থ পাঠ করেন।
সাহরানপুরে অবস্থিত মাজাহিরুল উলূম মাদরাসায় শিক্ষকতা প্রাপ্তির মাধ্যমে মাওলানা ইলিয়াস (রহ.)-এর কর্মজীবনের সূচনা হয়। শিক্ষকতা প্রথম কর্মক্ষেত্র। একাধারে আট বছর এই মাদরাসায় শিক্ষকতা করেছেন। মাদরাসায় শিক্ষক থাকাকালে ১৯১২ সালের ১৭ অক্টোবর মামাতো বোনের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন মাওলানা ইলিয়াস। এরপর তাঁর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ের আগমন ঘটে। পরির্বতন আসে জীবনের কর্মে-চিন্তায় এবং বিশ্বাস-আমলে। যেখানে যে অঞ্চলে থাকাকালীন এবং যে মানুষগুলোর পশ্চাৎপদতায় মনের গভীরে চিন্তার জোয়ার উঠেছিল, সেই এলাকায় গেলেন মাওলানা ইলিয়াস সাহেব। পিতা ও বড় ভাইয়ের ইন্তিকালের কারণে মেওয়াতি জনসাধারণ এবং পরিবারের বিশেষ অনুরোধে মাজাহিরুল উলূম মাদরাসা ছেড়ে মেওয়াত চলে এলেন মাওলানা ইলিয়াস। মেওয়াতে এসে বাবার প্রতিষ্ঠিত মক্তব দেখাশুনা শুরু করলেন এবং একই ধারাবাহিকতায় নিজ খরচে আরো বেশ কয়েকটি মক্তব প্রতিষ্ঠা করলেন। এসব দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে গিয়ে মেওয়াতবাসীর মানসিক জাহেলিপনা ও জ্ঞানগত অন্ধত্ব ভীষণভাবে চিন্তিত করে তোলে তাঁকে। গভীর ভাবনায় নিমগ্ন ইলিয়াস ভাবতে থাকেন, কীভাবে এবং কোন পদ্ধতি অবলম্বন করে দ্বীনহীন এসব মানুষকে আল্লাহর পথে আনা যায়; জাহেলিপনায় মত্ত এই লোকগুলোকে কীভাবে আল্লাহওয়ালা বানানো যায়। চিন্তা-ভাবনার এক শুভক্ষণে দ্বীনের দাওয়াতি (ইসলাহ) চিন্তা-পদ্ধতির কথা স্মরণ করেন এবং নিজ কওমের লোকজনকে দ্বীনের দাওয়াত দেওয়া শুরু করেন। তাদের বোঝান, আমরা যেখানে আছি এটাই আমাদের চিরস্থায়ী নিবাস নয়; আমাদের চিরস্থায়ী নিবাস হল পরকাল, জান্নাত। সেই চিরস্থায়ী আবাসে বসবাস করার সামগ্রী জোগাড়ের জন্য আমাদেরকে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছে। একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করাই আমাদের কাজ। এই কাজের জন্যই আমরা পৃথিবীতে প্রেরিত হয়েছি।মাওলানা ইলিয়াস কান্ধলভী রহ. এর জীবনী - আই এ বি প্রবাস
ধীরে ধীরে বাড়তে থাকল মাওলানা ইলিয়াসের (রহ.) দাওয়াত শোনা মানুষের সংখ্যা। আরো বেশি পরিমাণে মানুষের আগমন ঘটতে লাগল তাঁর দ্বীনি কাফেলায়। মানুষ তাঁর কথা শুনে ফিরে এলো দ্বীনের পথে এবং ছেড়ে দিল অতীত জীবনের নানান কু-কর্ম। দিন, সপ্তাহ, মাস এবং বছরের সীমানা পেরিয়েই আজকের এই সফলতার শীর্ষ মিনার দখল করেছে মাওলানা ইলিয়াস (রহ.)-এর প্রবর্তিত দাওয়াতি মিশন, তাবলিগ জামাত। মাওলানা ইলিয়াস সাহেবের তাবলিগ জামাতের সফলতা সম্পর্কে মাওলানা সাইয়িদ সুলাইমান নদভি (রহ.) বলেন, ‘হযরত মাওলানা অত্যন্ত মৌনতার সঙ্গে নিজের ইখলাস এবং সাদাসিধা পদ্ধতিতে দ্বীনি দাওয়াতের সঠিক উসূল প্রণয়ন করার মাধ্যমে সুদীর্ঘ ২৫ বছরের অক্লান্ত পরিশ্রমের দ্বারা মেওয়াতবাসীকে খাঁটি মুসলমানে পরিণত করেন। মেওয়াতবাসী এইসব মুসলমানের ভেতর-বাহিরের অবস্থা দেখে খানদানি মুসলমনারাও ঈর্ষান্বিত হয়’। মাওলানা ইলিয়াসের মেহনতে গোটা মেওয়াতে আমূল পরিবর্তন সাধিত হয়েছিল, আর সেই পরিবর্তনের ব্যাপ্তি অনের দূর পর্যন্ত বিস্তারিত হয়েছে।
‘তাবলিগ জামাত’ নামটি উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গে যে মহান মনীষীর কল্পরূপ আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে, তিনিই হলেন হযরত মাওলানা ইলিয়াস কান্দলভি (রহ.)। ইসলামী আদর্শের অনুসারী তাবলিগি কার্যক্রম নামক বিশ্বব্যাপী সমাদৃত একটি দ্বীনি মিশনের প্রতিষ্ঠাতা যিনি। তাঁর ইখলাস-অনুপ্রেরণা এবং চিন্তা-সাধনা ও চোখের পানি যে সফলতার সবচেয়ে বড় নিয়ামক। তাঁর অন্তরে দ্বীনের যে জ্বলন ছিল, তা ছড়িয়ে পড়েছে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে, পরিবার থেকে পরিবারে; রাজ্য থেকে দেশ, দেশ ছাড়িয়ে অন্য দেশে। তাবলিগ জামাত নামক দাওয়াতী আন্দোলন জয় লাভ করেছে বিশেষ করে ভারতীয় উপমহাদেশে। সৃষ্টি হয়েছে সুন্নাতে নববী জিন্দা রাখার সর্ববৃহৎ জমায়েত। খালেস দ্বীনি ধারার এ দাওয়াতী কার্যক্রম যতদিন থাকবে; ততদিন এর সঙ্গে মিশে থাকবে মাওলানা ইলিয়াস (রহ.)-এর নাম। তাঁর বংশধররা ছিলেন দিল্লির ধর্মীয় ও সামাজিক নেতৃত্বের অগ্রগামী সেনা। ঐতিহ্যমণ্ডিত এক দ্বীনি পরিবারের সদস্য হিসেবে ছোটবেলা থেকেই আদর্শগত সহীহ একটি পাঠশালার ছাত্র ছিলেন ইলিয়াস। ইসলামী গুণ ও আদর্শ ছিল তাঁর পরিবার-পূর্বপুরুষদের বৈশিষ্ট্য। এই গুণ ও বৈশিষ্ট্যে পূর্বপুরুষদের চেয়ে অনেক ক্ষেত্রে এগিয়ে ছিলেন মাওলানা ইলিয়াস।
মাওলানা ইলিয়াস (রহ.)-এর মৃত্যুর পর খুব কাছের এক বন্ধু মাওলানার বিবি সাহেবার কাছে তাঁর জীবনের বিশেষ কোনো ঘটনা জানতে চাইলেন। অন্দরমহল থেকে মাওলানা ইলিয়াস (রহ.)-এর স্ত্রী বলে পাঠালেন, ‘বিয়ের পর উনার ঘরে এসে আমি দেখলাম, রাতে খুবই কম ঘুমাতেন তিনি। বেশিরভাগ রাতই কেবল কান্নাকাটি করতেন। জায়নামাযেই কেটে যেত তাঁর অনেক রাত। ঘুমানোর জন্য বিছানায় এলেও কীসের অস্থিরতায় যেন বারবার তিনি পার্শ্ব পাল্টাতেন। প্রচণ্ড বেচাইনি-যুক্ত ছিল তাঁর রাত-যাপন। আমি জানতে চাইলাম, রাতে আপনার ঘুম হয় না কেন? একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছেড়ে তিনি বললেন, কী বলব! আমার রাত জাগরণের কথা তোমাকে বললে রাত জাগরণকারী তখন আর আমি একা থাকব না, দুজন হয়ে যাবে। নিজের বা পরিবারের জন্য নয়; উম্মতে মুহাম্মাদির পারলৌকিক মুক্তির চিন্তায় এভাবেই ঘুমাতে পারতেন না তিনি।’
হযরত মাওলানা ইলিয়াস (রহ.) বংশীয় সূত্রেই মানবতাবাদী ও দরদি এক অন্তরের অধিকারী ছিলেন। মানুষের সুখ-দুঃখের সাথী হওয়া এবং মানুষের কল্যাণকামিতায় অগ্রবর্তী অবদান রাখাই ছিল তাঁর জীবনের মহানব্রত। তাঁর প্রতিষ্ঠিত তাবলিগ জামাতের মূল শিক্ষা ও মানবতার কল্যাণকামিতা। সমস্যা সংকুল, ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ এই বিশ্বে সব ধরনের বৈষিয়কতার ঊর্ধ্বে উঠে সর্বোচ্চ ত্যাগ ও সাধনার মাধ্যমে জীবনের মূল-কাঙ্খিত সফলতার পথে এগিয়ে চলাই তাবলিগ জামাতের মূল উদ্দেশ্য। আনেওয়ালা সকল উম্মতে মুহাম্মাদি যেন জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি এবং জান্নাত লাভের পথের সন্ধান লাভ করতে পারে, তাবলিগি মিশনের এটা অন্যতম লক্ষ্য। মানুষের মূল গন্তব্য ও অনিবার্য পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করার মাধ্যমে মানবতার উত্তরণের এই প্রয়াসের সূচনা দরদমাখা একটি হৃদয় থেকেই। হযরত মাওলানা ইলিয়াস (রহ.)-এর একটি দরদি অন্তরের জ্বলন একটি সফল আন্দোলনরূপে ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বময়।
উম্মতে মুহাম্মাদির পারলৌকিক মুক্তির চিন্তায় মাওলানা ইলিয়াস-এর অন্তরে চিন্তাগত যে জ্বলন উঠেছিল; সে জ্বলন ও আত্মদহনের এক আকাশ সফলতার নাম বর্তমান তাবলিগ জামাত। আনেওয়ালা উম্মতে মুহাম্মাদির মাঝে দাওয়াতি মেহনত জারি রাখার নবীওয়ালা এক পথ ও পদ্ধতি বাতলে গিয়েছেন তিনি। পৃথিবীব্যাপী দ্বীনি দাওয়াতের প্রচার-প্রসারগত যে ধারা প্রচলিত রয়েছে, তাবলিগি কার্যক্রম নামে যে মিশন চালু রয়েছে- মাওলানা ইলিয়াস-এর চিন্তা-ফিকির, দোয়া-মোনাজাত ও রোনা-জারিসহ আরো সব অবদান-আয়োজনই সবচেয়ে বড় নিয়ামক হিসেবে কবুল হয়েছে – এটাই একমাত্র আল্লাহর ইচ্ছা।
মাওলানা ইলিয়াস (রহ.)-এর কর্মজীবন শুরু হয় ১৩২৮ হিজরিতে, সাহরানপুর মাজাহিরুল উলূম মাদরাসায় শিক্ষকতার মধ্য দিয়ে। একাধারে আট বছর তিনি এই মাদরাসায় ইলমী দ্বীনের দারস দানে নিয়োজিত ছিলেন। পিতা ও ভাইয়ের ইন্তিকালের পর মেওয়াতবাসী তাঁকে অনুরোধ জানান, তিনি যেন মেওয়াতে ফিরে আসেন। কিন্তু তাদের অনুরোধ রাখলেন না মাওলানা ইলিয়াস। পেরেশান হয়ে এলাকাবাসী মাওলানা ইলিয়াসের পীরের শরণাপন্ন হলেন। মাওলানা খলিল আহমদ সাহরানপুরীর (রহ.) কাছে কাঁদতে কাঁদতে হাজির হলেন মেওয়াতবাসী। তাদের কথা শুনে মাওলানা সাহরানপুরী (রহ.) মাওলানা ইলিয়াসকে নিজামুদ্দিন চলে যাওয়ার কথা বললেন। মাওলানা ইলিয়াস তখন বললেন, ‘কিন্তু আমি তো হযরতকে ছেড়ে যাওয়াকে ভাল মনে করি না।’ হযরত মাওলানা খলিল আহমদ সাহরানপুরী বললেন, ‘তুমি এক বছরের জন্য ছুটি নিয়ে যাও। ভাল লাগলে থেকে যেয়ো, নইলে চলে এসো।’
তখন মেওয়াতবাসী মুসলমানদের অবস্থা খুবই করুণ ছিল। তারা বংশসূত্রে মুসলমান ছিল; কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রে ইসলামের কোনো চিহ্নই অবশিষ্ট ছিল না তাদের মধ্যে। এমনকি নামে পর্যন্ত তাদের মুসলিম স্বকীয়তা বিলীন হয়ে গিয়েছিল। হিন্দুদের কিছু পূজা-পার্বণও তারা নিয়মিত পালন করত। পিতার চালু করা মক্তবটিকে কেন্দ্র করেই মাওলানা ইলিয়াস (রহ.) দ্বীনি শিক্ষার আলো ছড়ানোর চেষ্টা শুরু করেন। এলাকার লোকদের কাছ থেকে শিশুদের চেয়ে চেয়ে আনতেন তিনি। নিজের পয়সায় শিক্ষক নিয়োগ করেছেন এবং মক্তবের সকল খরচ বহন করতেন তিনি নিজেই। এভাবে বেশ কিছু মক্তব চালু হয়। বেশ কিছু এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে মাওলানা ইলিয়াসের ইলমি কার্যক্রমগত নূরানি আওয়াজ। মক্তব প্রতিষ্ঠা ছিল তাঁর দাওয়াতী কর্মসূচীর প্রথম ধাপ।

আরও পড়ুন:

অনুসন্ধানী মাওলানা ভাবলেন, লক্ষ্যে পৌঁছতে হলে এমন কর্মপন্থা অবলম্বন করতে হবে, যে পন্থা চালু ছিল সাহাবায়ে কেরামগণের মধ্যে। এমন পদ্ধতি অবলম্বন করা উচিত, যা প্রবর্তিত হয়েছে রাসূল (সা.)-এর মাধ্যমে। ইখলাস ও আত্মনিবেদনে ভরপুর হবে যে মিশন। স্বেচ্ছাশ্রম-আত্মোৎসর্গ এবং কল্যাণ মানসিকতা হবে যে জামাতের একমাত্র পুঁজি। সর্বসাধারণের মধ্যে সহীহ দ্বীনের তলব সৃষ্টি করার জন্য দ্বায়ীকে হতে হবে সহীহ দ্বীনের ধারক। মাওলানা ইলিয়াস তাঁর এই চিন্তাধারাকে একটা মিশনী আন্দোলনের রূপ দান করলেন। সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ল তাঁর দরদমাখা আহ্বান। বিশ্ব তাবলিগ জামাতের গোড়াপত্তন হল। মাওলানা ইলিয়াস (রহ.)-এর পাশে এসে দাঁড়ালেন তাঁর মতো দরদি কিছু আলিম; মুখলিস মুসলিম ভাইয়েরা। দরদ ও চেতনা রসেই স্পৃহা ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ল দিক-বিদিক। দ্বীনি আন্দোলনের সেই আলোক শিখায় আলোকিত হল পাক-ভারত; আলোড়িত হল ভুবনব্যাপী লক্ষ-কোটি পিপাসিত হৃদয়-আত্মা।

আরও পড়ুন:

‘আমার পক্ষ থেকে একটি বাণী হলেও তা অন্যের কাছে পৌঁছে দাও’- নবীজি (সা.)-এর এই বাণী শোনার পর বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়েছিলেন সাহাবা আজমাইন। যাঁর ঘোড়া বা বাহনের মুখ যেদিকে ছিল, সেদিকে বেড়িয়ে পড়েছিলেন তিনি। রাসূল (সা.)-এর বাণীকে আনেওয়ালা উম্মতের কাছে পৌঁছানোর গুরুদায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন যাঁরা। আমাদের সোনালী পূর্বসূরী-সাহাবা আজমাইনরা।
সাহাবা আজমাইনের মতো করে, ঠিক তাঁদের পদ্ধতি-আঙ্গিকে এবং সাহাবিওয়ালা নমুনায় উম্মতের কাছে রাসূল (সা.)-এর বাণী পৌঁছানোর দরদ উঠল এক হৃদয়ে। আনেওয়ালা উম্মতে মুহাম্মাদির পারলৌকিক মুক্তির কথা ভেবে একজন মানুষ, এক মানব আত্মায় কান্নার জোয়ার উঠল। কখনও নামাযরত অবস্থায়, কখনও আবার জায়নামাযে লুটিয়ে পড়া প্রার্থনার সিজদায় রোনা-জারি করতেন তিনি। নিঘুর্ম মোরাকাবায় কেটে যেত রাতের পর রাত। উম্মতের মুক্তির চিন্তায় পার হয়ে যেত দিনের পর দিন। ‘কুনতুম খইরা উম্মাতিন উখরিজাতলিন নাসি তা’মুরুনা বিল মারুফি ওয়াতান হাওনা আনিল মুনকার ওয়া তু’মিনুনাবিল্লাহ’ –পবিত্র কুরআনের সূরা আল ইমরানের ১১০ নং আয়াতের এই মমার্থ-দর্শনকে মূলনীতি মেনে আল্লাহ মহান ও রাসূল (সা.)-এর বাণীকে উম্মতে মুহাম্মাদির কাছে পৌঁছানোর শুদ্ধতম এক পদ্ধতির নাম তাবলিগ জামাত। সহীহ এক দাওয়াতী মিশন। কোনো ভেদাভেদ, কোনো মতানৈক্য-ইখতিলাফকে ভয় পায় না যে জামাত-মিশন, মাওলানা ইলিয়াস কান্দলভি যে জামাত বা কাফেলার প্রতিষ্ঠাতা প্রাণপুরুষ।
হযরত মাওলানা ইলিয়াস (রহ.) তাঁর কাজের মাধ্যমে মানুষকে কী দিয়েছিলেন, যা পরবর্তীকালে এতসব বিপ্লব সাধন করল? তাঁর ছিল পরকালের স্মরণ। একমাত্র আল্লাহর সাহায্যের ওপর পূর্ণ আস্থাবান ও দৃঢ় বিশ্বাসী ছিলেন তিনি। মানুষের অন্তরে তিনি এই বাস্তব সত্যকে দৃঢ়ভাবে বদ্ধমূল করে দিতে পেরেছিলেন যে, এই সৃষ্টি জগতের একজন মালিক আছেন। আর তাঁর কাছেই আমাদের সবাইকে ফিরে যেতে হবে। সৃষ্টি জগতের কোনো অণু-পরমাণুই তাঁর ইচ্ছার বাইরে নড়াচড়া করতে পারে না। তিনিই সবার মালিক। একমাত্র তাঁর কাছেই হবে আমাদের অনিবার্য প্রত্যাবর্তন। যা কিছু হয় একমাত্র তাঁর হুকুমেই হয়। দাওয়াতী এ কথা ও কাজকে রাসূল (সা.)-এর তরিকা ও আদর্শ অনুসারে জীবিত করার মেহনত ছিল মাওলানা ইলিয়াসের। তাঁর মূল স্লোগানই ছিল ‘অ্যায় মুসলমান! সাচ্চা মুসলমান বনো!’ (হে মুসলমানেরা! তোমরা খাঁটি মুসলমান হও!) দ্রুততম সময়ে ব্যাপক পরিবর্তন সাধনের ক্ষেত্রে তাবলিগ জামাত তুলনাহীন। হযরত মাওলানা আবুল হাসান আলি মিয়া নদভি (রহ.) লিখেছেন, ‘তাবিলিগি কার্যক্রমের মাধ্যমে মেওয়াতে দ্বীনদারির বেশ কিছু নমুনাগত পরিবর্তিত পরিবেশ লক্ষ্য করা যাচ্ছে; যার কোনো একটি নমুনা প্রতিষ্ঠার জন্য ইতিপূর্বে বছরকে বছর মেহনত করেও সফলতা অর্জিত হয়নি। মেওয়াতে এখন দ্বীনের ব্যাপারে মানুষের মাঝে উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে। যেখানে দূর-দূরান্ত পর্যন্ত কোনো মসজিদ-মাদরাসা চোখে পড়ত না; সেখানে এখন গ্রামে গ্রামে মসজিদ ও মাদরাসা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’
কেবল মেওয়াত, ভারত-পাকিস্তান কিংবা বাংলাদেশে নয়; তাবলিগি মেহনতের দ্বারা লক্ষ লক্ষ আল্লাহ-ভোলা মানুষ দ্বীনের পথে এসেছে। পাপের কালিমায় পিষ্ট অসংখ্য-অগণিত হৃদয়ে প্রজ্জ্বলিত হয়েছে ঈমানি আলো। মানুষকে মানুষ; মুসলমানকে মুসলমান হিসেবে চেনার অনুভূতি-শক্তি অর্জনের জাদুকরি এক আমলি মিশন মাওলানা ইলিয়াস (রহ.) প্রবর্তিত তাবলিগ জামাত।
পৃথিবীতে এলে বিদায় নিতেই হবে। জন্ম যার ঘটেছে, মৃত্যুর স্বাদ তিনি আস্বাদন করবেনই। ‘কুল্লু নাফসিন যা-ইকাতুল মাউত’। মৃত্যু এমন এক পেয়ালা শরবত; যে শরবত সবাইকে পান করতেই হবে এবং কবর এমন এক ঘর, যে ঘরে সবাইকে প্রবেশ করতেই হবে। চলে যেতে হয়, চলে যেতে হবে- মুসলিম জাতির জীবনের এক অমোঘ সত্য এই মৃত্যু। একজন মুমিন বান্দা হিসেবে; আল্লাহর একজন গোলাম হিসেবে মাওলানা ইলিয়াসও একদিন চলে গেলেন প্রিয়তম প্রভুর ডাকে সাড়া দিয়ে। ইহলৌকিক মায়া-মহব্বত আর ভালবাসাকে বিদায় জানিয়ে মহান প্রভুর সান্নিধ্য-সুখ অর্জন করলেন মাওলানা ইলিয়াস কান্দলভি। কাজ রয়ে গেল, জারি রইল এক দ্বীনি আন্দোলন; কাজের সফলতার ব্যাপ্তি ঘটল, আলোকিত-আলোড়িত হল লক্ষ-কোটি হৃদয়-আত্মা। এই কাজের জিম্মাদারি কাঁধে চড়িয়ে দিয়ে বিদায় নিলেন ১৯৪৪ সালের ১২ জুলাই। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না এলাইহে রাজেউন।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder