গাজায় সোজা হয়ে গেছে ইসরাইল
যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায়। যুদ্ধ করছিল ইসরাইল। আর যুদ্ধে সর্বপ্রকার সহায়তা, সমর্থন, মদদ দিচ্ছিল আমেরিকা তথা পশ্চিমারা। যাহোক, যুদ্ধ যে বা যারা করছিল, তারাই যুদ্ধবিরতি করেছে। হামাস তো যুদ্ধ করেনি। সুতরাং তারা যুদ্ধবিরতি করবে কীভাবে? তাছাড়া যুদ্ধ তো হয় দুই বা ততোধিক দেশের মধ্যে। হামাস বা গাজা উপত্যকা কোনো দেশ নয়। ফিলিস্তিনের একটা ছোট্ট উপত্যকা হল গাজা। আর সেখানে প্রভাবশালী একটা সংগঠন হল হামাস। যাদের মূল কথা হল, ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা। সেই নিরিখে হামাস হল মুজাহিদ বা স্বাধীনতা কামী। ফিলিস্তিনকে স্বাধীনতা না দেওয়ার জন্য হামাসকে সন্ত্রাসী তকমা দিয়ে রেখেছে ইসরাইল ও আমেরিকা তথা পশ্চিমা বিশ্ব।

কথা হল, কেন হঠাৎ ঢাকঢোল পিটিয়ে যুদ্ধবিরতি চুক্তি করা হল। কারণ, জলবৎ তরলং। সেটা হল ইসরাইল পেরে উঠছিল না। এই যুদ্ধ চালাতে গিয়ে আমেরিকা ও ইসরাইল নানাভাবে নাস্তানাবুদ হচ্ছিল। তাদের বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ হচ্ছিল। কিন্তু দু-বছর পরে হিসেব নিকেশ করে তারা দেখেছে, লাভের গুড় পিঁপড়েয় খেয়ে নিচ্ছে। হামাসকে তারা কোনভাবেই নিকেশ করতে পারেনি, পারবেও না। বেকার মিলিয়ন, বিলিয়ন ডলার পানিতে যাচ্ছে। অর্থাৎ কার্যত এই যুদ্ধে পরাজিত হয়েই তারা যুদ্ধবিরতির পথে পা বাড়াতে বাধ্য হয়েছে। এই যুদ্ধে জেতার দিকে এগোলে নিশ্চিত ইসরাইল যুদ্ধবিরতি করত না। তাহলে আরো কিছুদিন যুদ্ধ চালিয়ে হামাসকে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করেই তবে যুদ্ধ শেষ করত।
সম্প্রতি মিশরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ২০ দেশের রাষ্ট্রপ্রধান মেগা বৈঠক করে যেভাবে যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সই করল, তাতে তাদের গরজটা বোঝা যাচ্ছে বৈকি। ট্রাম্প নেতানিয়াহুর চাটু জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে দিয়েছে হামাস। তাই এই যুদ্ধবিরতি। সুতরাং এটা স্পষ্ট যে, এই যুদ্ধে হামাস তথা গাজাবাসীর নৈতিক জয় হয়েছে এবং ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর পরাজয় অনস্বীকার্য। আর এতেই পুনর্জন্ম হল হামাসের। ইসরাইল গাজায় টানা ২৪ মাস পাশবিক ও বর্বরোচিতভাবে যুদ্ধ চালিয়ে লক্ষ লক্ষ নিরীহ ও নিরস্ত্র মানুষকে হত্যা করেও লক্ষ্য পূরণ করতে পারেনি। তাই আদতে যেটা হয়েছে, তা হল গাজাবাসীর অটল, অবিচল ও অবিনাশী মনোবল এবং দল, মতাদর্শ ও রাজনীতির ঊর্ধ্বে থাকা গভীর শিকড়যুক্ত প্রতিরোধের এক গৌরবোজ্জ্বল সাফল্য। তারা নিজেদের ইতিহাসকে আরো সুদৃঢ় করল।

কয়েক দশকের প্রচলিত ধারণা ছিল, ইসরাইল নাকি প্রযুক্তি, গবেষণা, বিজ্ঞান, তথ্য ও সামরিক শক্তিতে বিশ্বসেরা। হয়ত আমেরিকা তা তার কাছাকাছি, অথবা কোন কোন ক্ষেত্রে আমেরিকার থেকেও এগিয়ে আছে। কিন্তু কোনো দেশের সঙ্গে পুরোদস্তুর যুদ্ধ না করেই, কেবল ছোট্ট একটা উপত্যকায় একতরফা গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে এতটাই ক্লান্ত হয়ে গেছে যে, ছেড়ে দে-মা কেঁদে বাঁচি অবস্থা হয়ে যুদ্ধবিরতি করে পালিয়ে বাঁচল নেতানিয়াহু। এজন্য অবশ্য তার ওপর ঘরে-বাইরে বিভিন্ন মহলের প্রবল চাপ ছিল। সেইসব চাপে পিষ্ট হয়ে একেবারে ল্যাজে গোবরে হয়েই অনেক হম্বিতম্বি করলেও শেষমেষ রণে ভঙ্গ দিতে হল নেতানিয়াহুর ইসরাইলকে।








