BREAKING:
জোড়াসাঁকোয় সাহিত্য-সংস্কৃতির মহোৎসবে কলম শিল্পী গ্র্যান্ড ফেস্টিভ্যাল ২০২৬ খোশবাগ বাসস্ট্যান্ডের কাছে পথ দুর্ঘটনা, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন দন্ত চিকিৎসক বসিরহাট দরবার শরিফে হুমায়ুন কবীর, পেলেন উষ্ণ অভ্যর্থনা লাল বালির চড়া দাম, গ্রামবাসীদের ভরসা পাথরের গুড়ো   রমজানে অসহায়দের পাশে আল হোসাইনী হেল্প ফাউন্ডেশন সুন্দরবনের লবণাক্ত মাটিতে সূর্যমুখী চাষে সাফল্য, লাভের মুখ দেখছেন কৃষকরা হুগলি জেলায় এসআইআর এর প্রথম পর্যায়ের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করলেন জেলা শাসক খুরশিদ আলি কাদরি  বন্যপ্রাণীর উপদ্রব রুখতে তৎপর বনদপ্তর উত্তাপহীন ডার্বিতে মহামেডানকে ৫ গোলে উড়িয়ে দিল মোহনবাগান মরণবাঁচন ম্যাচে আজ সামনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জিততেই হবে ভারতকে রাজনগরে চাঞ্চল্য: গাংমুড়ি গ্রামে বাড়ির ভিতর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার মোবাইল গেম খেলতে খেলতেই নিভে গেল ২১ বছরের তরতাজা প্রাণ  মুর্শিদাবাদের মুকুটে নতুন দুই পালক, বিশ্ববিদ্যালয় ও কাটরা মসজিদের তোরণ প্রকল্পের শিলান্যাস করলেন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম! রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে ত্রিশটি আসনে লড়বে পুকুর খনন করার সময় প্রাচীন বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার হল পান্ডুয়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে উড়িয়ে সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকা। রানে ফিরলেন অভিষেক, জয়ে ফিরলো ভারত; বেঁচে রইলো সেমির স্বপ্ন এসআইআর  ইস্যুতে আতঙ্ক নয়, আইনি পথে আপিলের আহ্বান মিল্লি ঐক্য মঞ্চের কালিয়াচক আবাসিক মিশনে বিজ্ঞান বিভাগের প্রবেশিকা পরীক্ষা সম্পন্ন, উৎসাহ চোখে পড়ার মতো পরীক্ষার দিন আচমকা মৃত্যু অষ্টম শ্রেণির ছাত্রের, শোকস্তব্ধ সোনারপুর নাবালিকাকে বিবাহের অভিযোগে জয়নগরে গ্রেপ্তার যুবক জয়নগরে মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনা, আহত তিন শ্রমিক নেতা মহম্মদ ওয়েস এর নেতৃত্বে বড়জোড়ায় বিরাট মিছিল কুলতলির বিধায়কের উপস্থিতিতে ঢালাই রাস্তার কাজের সূচনা হলো নলগোড়ায় ঘুটিয়ারীশরিফে পুলিশের তৎপরতায় ৫৪ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার গঙ্গাকে দূষণমুক্ত করতে উদ্যোগ সুন্দরবনে বাঘের হামলায় ফের মৃত্যু, সরকারি ক্ষতিপূরণের দাবি এসআইও নিয়ে মিথ্যা মন্তব্যের প্রতিবাদে কলকাতায় সাংবাদিক সম্মেলন জামাআতে ইসলামী হিন্দের ইফতার সামগ্রী বিতরণ বই হোক সই, বইয়ের জন্য করিমপুরে পথে হাঁটল শত শত মানুষ রমজান মাসে ৩০০ দুস্থ পরিবারের পাশে সমাজসেবী হাফেজ নজরুল ইসলাম অবশেষে ধুলিয়ান গঙ্গা স্টেশনে বাংলা স্থান পেল  মুর্শিদাবাদে দুই মেগা প্রকল্পের শিলান্যাস ২৮ ফেব্রুয়ারি ভাঙড়ে ২৮ টি তাজা বোমা ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার, গ্রেপ্তার দুই জন্মদিনে অবহেলিত ভূদেব মুখোপাধ্যায়, তালাবন্ধ গ্রীলে মালা ঝুলিয়ে জন্মদিন পালন করল বিজেপি বালিভর্তি ট্রাক চলাচল ঘিরে উত্তেজনা, সোনামুখীতে গ্রামবাসীর রাতভর বিক্ষোভ বসিরহাটে দলবদল ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ, তৃণমূলের সভায় বহু নেতার যোগদান ভোটের আগে বিরোধী শিবিরে বড় ভাঙন কুলতলীতে কালিয়াচকের বাহাদুরপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড চুঁচুড়ায় সোমবার সাতসকালে পথ দুর্ঘটনা, জখম যুবকের অবস্থা আশঙ্কাজনক নিহত সেনা জওয়ানের মরদেহ পৌঁছাল শেখপাড়ার বাড়িতে ব্লক প্রাণিসম্পদ বিকাশ দিবস পালিত জয়নগরে অনলাইন বাণিজ্যের প্রসারে ক্ষুদ্র ব্যবসা চাপে: মত বড়জোড়া চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশে ফের পরিযায়ী শ্রমিকের উপর হামলা উত্তরলক্ষীপুরের গর্ব: প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ হতে চলেছেন ডা: মোবারাক হোসেন পুনরাবৃত্তি চায় ভারত, দক্ষিন আফ্রিকা চায় প্রত্যাবর্তন; সুপার এইটে আজ হাড্ডাহাড্ডি লড়াই টানা দুই ম্যাচে জয় ইস্টবেঙ্গলের, দুই ম্যাচেই জোড়া গোল ইউসুফের বৃষ্টিতে ধুয়ে গেল পাকিস্তান-নিউজিল্যান্ডের ম্যাচ আজ শুরু সুপার এইটের লড়াই, প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি পাক বনাম নিউজিল্যান্ড আজ ইস্টবেঙ্গলের সামনে স্পোর্টিং দিল্লি, ভরসার নাম ইউসুফ আজ্জেরি প্রত্যাশিত হার, ঘরের মাঠে মহামেডান বধ এফসি গোয়ার ১৫ বছরেও শেষ হয়নি বক্সীপুর ব্রিজ নির্মাণ কাজ, জনস্বার্থ মামলা গড়াল কলকাতা হাই কোর্টে করিমপুর এলাকাবাসীকে বহরমপুর যেতে আর পেরুতে হবেনা বিপদ সংকুল রাস্তা এসআইআর এর চাপ, শ্রীরামপুরে মাঝ গঙ্গায় ঝাঁপ বিএলও’র ছেলেধরা সন্দেহে পুড়িয়ে খুনের চেষ্টার ঘটনায় বলাগড়ে ২৫ জন দোষীকে সাজা শোনালো চুঁচুড়ার ফার্স্ট ট্রাক কোর্ট বেআইনি মাটির গাড়ির ধাক্কায় ২ যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনে জি-প্লটের আদিবাসী শিশুরা  জল্পনার অবসান, তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন বাম যুব নেতা প্রতীক উর রহমান কনকচূড় ধানের চাল পেল জাতিসংঘের ঐতিহ্য স্বীকৃতি, খুশির হাওয়া জয়নগর জুড়ে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রশাসন-এনজিওর যৌথ উদ্যোগে সচেতনতা শিবির ঘোড়ামারা দ্বীপ রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপের নির্দেশ ট্রাইব্যুনালের, গঠিত হচ্ছে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি শেষ সময় ঘনাতেই যুব সাথী প্রকল্পের ফর্ম জমায় দীর্ঘ হচ্ছে লাইন পখন্না রামকৃষ্ণ আশ্রমে শ্রীরামকৃষ্ণের ১৯১তম জন্মতিথি উদ্‌যাপন বড়জোড়া কলেজে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত সায়েম চৌধুরী ওরফে বাবু: সংগঠন, সংগ্রাম ও সেবার রাজনীতি সোনার প্রতিমার প্রলোভনে ১১ লক্ষ টাকার প্রতারণা ঘুঁটিয়ারীশরিফে পুলিশের সাফল্য: ২৪ চুরি যাওয়া মোবাইল উদ্ধার হুগলি জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের উদ্যোগে খাদ্য সুরক্ষা মেলা’য় সুষম খাদ্য খাওয়ার পরামর্শ  উলুবেড়িয়ায় ১৫ টিয়া উদ্ধার, আন্তরাজ্য পাখি পাচারচক্রের সদস্য গ্রেফতার সরকারি জমি দখল ও নয়নজুলি ভরাটের অভিযোগে চাঞ্চল্য ধূপগুড়িতে কাবিলপুর হাই স্কুলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠা দিবস ঘটা করে উদযাপন পবিত্র রমজান মাস শুরুর ঠিক আগে ইফতার সামগ্রী বিতরণ জয়নগরে ২০২৬ নির্বাচন ঘিরে ফারাক্কায় জোর চর্চায় রেহেনা ইয়াসমিন  পিতা-মাতার স্মৃতিতে আট দিনব্যাপী ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজন পুলিশকর্মী ছেলের উদ্যোগে সুন্দরবনের মৎস্যজীবীদের মৃত্যু মিছিল থামছেই না, সরকারি ক্ষতিপূরনের দাবি মাটি, মানুষ ও সংগঠন: রাবিউল ইসলামের রাজনৈতিক দর্শন দুবে ঝড়ে উড়ে গেল নেদারল্যান্ডস, বোলিংয়ে নায়ক বরুণ হঠাতই ব্যাটিং বিপর্যয়, রঞ্জি থেকে বিদায় বাংলার ফারহানের দুরন্ত সেঞ্চুরি, সুপার এইটে পাকিস্তানও ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচে আজ নামিবিয়ার মুখোমুখি পাকিস্তান সামির ৮ উইকেটেও, ব্যাটিং বিপর্যয়ে হারের মুখে বাংলা চুঁচুড়ায় প্রার্থী ঘোষণার আগেই দেওয়াল লিখনে জোর তৃণমূল, পাল্টা কটাক্ষ বিজেপির কুলতলিতে আয়ুষ মেলা: বিকল্প চিকিৎসা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে উদ্যোগ রানীনগরে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীসভা ও জাকির হোসেনের উপস্থিতিতে উপচে পড়া ভিড়  কৃষকদের সমস্যা সমাধানে চালু ‘ভারত বিস্তার’ এআই টুল গোবর্ধনডাঙ্গায় তৃণমূল ট্রেড ইউনিয়নের কর্মী সভা কাবিলপুরে মানব সেবা ফাউন্ডেশনের পথচলা শুরু মালদা জেলায় হাই মাদ্রাসা, আলিম ও ফাজিল পরীক্ষা নির্বিঘ্নেই সম্পন্ন পা দিয়ে লিখেই উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা মানকুন্ডুতে সারা বাংলা একদিনের দাবা প্রতিযোগিতা মেরা যুব ভারতের উদ্যোগে মগরাহাটে জেলা ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অপসংস্কৃতির স্রোতের বিপরীতে নাট্যচর্চার বার্তা – বাগনানে তিনদিনের নাট্য উৎসবে নজর কাড়ল বাঙালপুর বয়েজ ক্লাব দ্বীপাঞ্চলবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণ: আমতায় নির্মীয়মাণ কংক্রিটের সেতুতে বাড়ছে আশার আলো মানসম্মত শিক্ষা ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে কলকাতায় স্কুল ম্যানেজমেন্ট কর্মশালা জীবনে কিছু জায়গা থেকে চুপচাপ সরে আসতে হয় ১৪ই ফেব্রুয়ারি: ভালবাসার দিন হিসেবে কেন পালিত হয়? সুদ, মাদক ও জুয়ার অদৃশ্য জোট: সমাজ ধ্বংসের নীরব চক্রান্ত আদ্রায় ‘বিনা পয়সার বাজারে’ উপচে পড়া ভিড়, হাসি ফিরল অসংখ্য মুখে মেডিকেল ভর্তিতে কাট অফ বিতর্কে তোলপাড় দেশ হবু ডাক্তারদের মান, মেধা ও রোগীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন কেরালার আদালতে নতুন অধ্যায় রচিত দৃষ্টিহীন তরুণী বিচারক গড়লেন নজির

দুর্গা পুজো:ইতিহাসের আড়ালে রাজনীতি ও আভিজাত্যের কাহিনি

প্রকাশিত: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, দুপুর ১:২৬ | আপডেট: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, দুপুর ১:২৬

সুরজ মন্ডল

আরও পড়ুন:

১৭৫৭ সালের ২৩ জুন বাংলার ভাগ্যাকাশে শুরু হয় এক নতুন অধ্যায়। পলাশীর যুদ্ধ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাংলার শেষ নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতন ঘটে এবং ইংরেজরা কার্যত বাংলার সর্বময় শাসক হয়ে ওঠে। এই বিজয়কে শুধু রাজনৈতিক জয় হিসেবেই নয়, উপনিবেশ বিস্তারের প্রথম সোপান হিসেবেও বিবেচনা করা হয়। যুদ্ধোত্তর সময়ে ইংরেজদের বিজয়ের উল্লাস এবং তা উদযাপনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল দ্রুতই। আর এই বিজয়ের মহোৎসব পালনের ভার পড়ে ইংরেজদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী, কলকাতার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মহারাজা নবকৃষ্ণ দেবের ওপর।

আরও পড়ুন:

যুদ্ধের কিছুদিন পরেই দুর্গাপূজার সময় ঘনিয়ে আসে। নবকৃষ্ণ দেব শোভাবাজার অঞ্চলে আগেই একটি প্রাসাদোপম বাড়ি কিনেছিলেন বড় ব্যবসায়ী শোভারাম বসাকের কাছ থেকে। পলাশীর যুদ্ধের পর সেই প্রাসাদকে তিনি নতুন করে সাজালেন – তৈরি হল দেওয়ানখানা, নাচঘর, নহবতখানা, লাইব্রেরি এবং সর্বোপরি এক বিশাল সাত খিলানের ঠাকুরদালান। এখানেই শুরু হয় দুর্গাপূজার মহোৎসব, যা শুধু পূজা নয়, বরং ইংরেজদের বিজয়ের উৎসব হিসেবেই আখ্যা পেল।
নবকৃষ্ণের দুর্গাপূজা ছিল জাঁকজমকের প্রতিমূর্তি। একচালা প্রতিমা সাজানো হত ডাকের সাজে। প্রতিমার শরীর ঝলমল করত সোনার গয়নায় – দেবীর কেশদামে গুঁজে দেওয়া হত স্বর্ণচাঁপা, নাকে একসঙ্গে শোভা পেত ৩০টি নথ, মাথায় বসানো হত সোনার মুকুট। প্রতিদিন নৈবেদ্য হিসেবে দেওয়া হত ৩০ মন চাল। সন্ধিপূজার সময় তোপধ্বনির আয়োজন হত, বন্দুক ফাটানো হত। এই সমারোহ দেখে বোঝাই যেত যে, দুর্গাপূজা এখানে ধর্মীয় আচার নয়, এক রাজনৈতিক মহোৎসব।

আরও পড়ুন:

‘কলকাতা বিচিত্রা’ গ্রন্থে ঐতিহাসিক রাধারমণ রায় লিখেছেন, ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে সিরাজের পতনে যারা সবচেয়ে উল্লসিত হন তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন নদীয়ার মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায় আর কলকাতার নবকৃষ্ণ দেব। ধূর্ত লর্ড ক্লাইভও তাঁদেরকে বোঝালেন কোম্পানির এই জয় আসলে হিন্দুদের জয়। সেই মতো দুই রাজা ক্লাইভের শেখানো একথা জনগণের মধ্যে প্রচার করলেন যে, এই জয় হিন্দুদের জয়। ক্লাইভ চাইলেন এই জয়কে বড় করে সেলিব্রেট বা উদযাপন করতে। তাই পলাশীর যুদ্ধের বিজয় উৎসব হিসাবে রাজা নবকৃষ্ণ দেব আয়োজন করলেন দুর্গাপূজার। গড়ে উঠল বিরাট একচালা প্রতিমা। প্রতিমার গা ভর্তি সোনার গয়না ঝলমল করে উঠল।

আরও পড়ুন:

অদ্ভুত হলেও সত্যি, মূর্তিপূজার বিরোধী খ্রিস্টান লর্ড ক্লাইভও সেই পূজায় হাজির ছিলেন। শুধু উপস্থিতই নন, তিনি পুজো উপলক্ষে ১০১ টাকা দক্ষিণা ও ঝুড়ি ভরা ফলমূল পাঠিয়েছিলেন। এমনকি ক্লাইভ পশুবলি-সহ নিজেও পুজো দিয়েছিলেন। তাঁর এই অংশগ্রহণ নিছক ধর্মীয় কারণে নয়, বরং হিন্দুদের মন জয়ের লক্ষ্যে ব্রিটিশের রাজনৈতিক কৌশল ছিল। রাজা নবকৃষ্ণ দেব বুঝেছিলেন, কেবলমাত্র দুর্গাপূজার আচার দেখিয়ে ক্লাইভকে সন্তুষ্ট করা যাবে না। তাই তিনি পূজার পাশাপাশি আয়োজন করেছিলেন মদ-মাংসের ভোজ, বিদেশ থেকে আনা নর্তকী বাঈয়ের নাচ এবং লাটসাহেব ও গণ্যমান্যদের জন্য এক বর্ণাঢ্য বিনোদনমূলক আসর। একপ্রান্তে ঠাকুরদালান, অন্যপ্রান্তে নাচঘর – এই দ্বৈত আয়োজনই প্রমাণ করে, দেবী দুর্গার পূজা ছিল কেবল উপলক্ষ্য, আসল লক্ষ্য ছিল ইংরেজ শাসকদের মনোরঞ্জন করে নিজের প্রভাব প্রতিপত্তি বাড়ানো।

আরও পড়ুন:

১৭৫৭ সালে নবকৃষ্ণ দেবের দুর্গাপূজা কলকাতার নবোদিত বণিকশ্রেণির মধ্যে এক নতুন রীতি প্রতিষ্ঠা করে। দুর্গাপূজা হয়ে ওঠে সামাজিক প্রতিপত্তি, ঐশ্বর্য এবং ক্ষমতার প্রতীক। কে কত জাঁকজমকের সঙ্গে পূজার আয়োজন করতে পারে এবং সর্বোপরি ইংরেজ সাহেবদের কতটা কাছে টানতে পারে – সেটাই হয়ে দাঁড়াল মর্যাদার মাপকাঠি। শোভাবাজার রাজবাড়ির দুর্গাপূজা ধীরে ধীরে কলকাতার অন্যতম প্রধান আকর্ষণে পরিণত হয়। আগে যেখানে কেবল গণ্যমান্য ব্যক্তিরাই আসতেন, সেখানে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ মানুষের ভিড় বাড়তে থাকল। ভরে গেল ঠাকুরদালান। ব্রাহ্মণদের চণ্ডীপাঠ, নবপত্রিকার বাগবাজার ঘাটে স্নান, সন্ধিক্ষণের পূজা, কনকাঞ্জলি, দর্পণ বিসর্জন – সব আচারই কঠোর নিয়ম মেনে পালিত হলেও, আড়ম্বরের আড়ালে লুকিয়ে থাকত রাজনীতি ও কূটনৈতিক উদ্দেশ্য।

আরও পড়ুন:

রাজা নবকৃষ্ণ দেবের সূচিত এই দুর্গাপূজা শুধু একটি পারিবারিক উৎসব ছিল না, এটি ছিল বাংলার ইতিহাসে এক সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক মাইলফলক। ধর্মীয় আচার, ইংরেজদের রাজনৈতিক স্বার্থ এবং বণিক শ্রেণির সামাজিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা – এই তিনের মিলনে দুর্গাপূজা পায় নতুন মাত্রা।

আরও পড়ুন:

১৭৫৭ সালে শুরু হওয়া এই দুর্গাপূজা পরবর্তী শতাব্দী জুড়ে বজায় ছিল। শুধুমাত্র ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের সময় এক বছরের জন্য বন্ধ ছিল, পরে পুনরায় মহাসমারোহে শুরু হয়। নবকৃষ্ণ দেবের পৌত্রেরা পরবর্তীকালে ক্লাইভের সমসাময়িক ইংরেজদের বংশধরদের স্বাগত জানানোর সময় এই ঐতিহাসিক দুর্গাপূজার ধারাবাহিকতাকে গৌরবের সঙ্গে স্মরণ করেছিলেন।

আরও পড়ুন:

শোভাবাজার রাজবাড়ির দুর্গাপূজা কেবল একটি পারিবারিক বা ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং বাংলার রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। পলাশীর যুদ্ধের বিজয়োৎসবকে কেন্দ্র করে নবকৃষ্ণ দেব যে দুর্গাপূজার সূচনা করেছিলেন, তা ছিল ইংরেজদের মনোরঞ্জনের এক নিপুণ কৌশল এবং কলকাতার বণিক শ্রেণির আভিজাত্যের প্রতীক।

আরও পড়ুন:

(মতামত লেখকের নিজস্ব)

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder