BREAKING:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও হাফিজ শিরাজি: দুই সভ্যতার কাব্যিক সংলাপ কলকাতা পুলিশ কমিশনারের দায়িত্ব নিয়ে কড়া বার্তা সুপ্রতীম সরকারের অমর্ত্য সেন, মহম্মদ শামিরা কি ঘুসপেটিয়া? প্রশ্ন অভিষেকের বাংলায় বিজেপি সরকার গড়ার ডাক শাহর মহারাষ্ট্রে প্রথম মহিলা উপ-মুখ্যমন্ত্রী তেলেঙ্গানায় পরিকল্পিত মেরুকরণ নিশানায় আদিবাসী, মুসলিম ও দলিতরা আর্থিক সমীক্ষা রিপোর্ট আর্থিক সংকটে রাষ্ট্রসংঘ বকেয়া চেয়ে সব দেশকে চিঠি নিয়মরক্ষার ম্যাচেও নির্দয় সূর্য, ঈশানরা; বোলিংয়ে নজর কাড়লেন অর্শদীপ বিশ্বকাপের আগে জোড়া ধাক্কা অজি শিবিরে, খুশির হাওয়া পাকিস্তানে মালতিপুরে শিশুদের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ফের এসআইআর আতঙ্কে মৃত্যুর অভিযোগ সংরক্ষিত জঙ্গল পরিষ্কার রাখতে তৎপর নাথুয়া রেঞ্জের বনদপ্তর.! এসএফআই-এর বিকাশভবন অভিযানে ধুন্ধুমার কাণ্ড রেজিনগরে বিপুল জনসমাবেশ, এক মঞ্চে এসডিপিআই-মিম সাম্প্রদায়িক শক্তির সঙ্গে সিপিএম জোট করবে না সেলিম-হুমায়ুন বৈঠক নিয়ে কান্তি গাঙ্গুলির প্রতিক্রিয়া বদলির ক্ষেত্রে কমিশনের নির্দেশ মানল না নবান্ন পুনর্বিবেচনার আর্জি জানিয়ে পাল্টা চিঠি রাজ্যের সিপিএম-জেইউপি কি জোটের পথে? সেলিম-হুমায়ুন বৈঠক ঘিরে বাড়ছে জল্পনা লালগোলায় চালু হল ভূমি সাব-রেজিস্ট্রার দফতর ধূপগুড়িতে দুঃসাহসিক চুরি, বাড়িতে লোক থাকা সত্ত্বেও নগদ টাকা ও সোনা নিয়ে পালাল চোর শনিবার ভোররাতে পানুরিয়া বাস স্ট্যান্ডের কাছে ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনা, মুখোমুখি সংঘর্ষে জ্বলে উঠল দুটি ডাম্পার এসআইআর চক্রান্তের বিরুদ্ধে মালদায় তৃণমূল কংগ্রেস সংখ্যালঘু সেলের সাংগঠনিক আলোচনা সভা নীল নদের হারানো শাখা নদী আবিষ্কার হল চার হাজার বছর পর এবার কোপ আরটিআই আইনে মানুষ সব তথ্য জানলে কাজে অসুবিধা হচ্ছে প্রয়াত অজিতের দফতর দাবি এনসিপি-র মহারাষ্ট্রে মুখ্যমন্ত্রীর দরবারে প্রফুল-ভুজবলরা সরকারি কর্মীদের সমাজমাধ্যম ব্যবহারে রাশ বিহারে আসামের মিয়ারা বিশ্বশর্মার নৌকা ডুবিয়ে দেবে: আজমল পৃথিবীর বিকল্প বাসযোগ্য নতুন গ্রহের সন্ধান কলাপাতায় খাওয়ার উপকারিতা ২০০ বছরে রাশিয়ায় রেকর্ড তুষারপাত এরদোগান যেভাবে ট্রাম্পকে ইরানের সঙ্গে বৈঠকে রাজি করিয়েছেন? সামরিক শক্তিতে কতটা এগিয়ে ইরান? চীনের সঙ্গে সম্পর্ক না রাখা বোকামি: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তিউনিসিয়ায় সূর্যের আলোয় বিপ্লব গাড়িশিল্পে মশা কেন কিছু মানুষকে বেশি কামড়ায়? মাদক কারবারের বিরুদ্ধে প্রশাসন–সমাজের যৌথ লড়াই পুলিশের নির্বাচন কমিশন ও এসআইআর নথির ভুলে হেয়ারিংয়ের নোটিশ, মুম্বাই থেকে সিউড়ীতে এসে অসুস্থ মহিলা পরিযায়ী শ্রমিক সম্প্রীতির সংবিধান, ঘৃণার রাজনীতি ও ধর্মনিরপেক্ষতার সংকট ভুয়া এসটি সার্টিফিকেট রুখতে ১০ দফা দাবিতে আদিবাসী অধিকার মঞ্চের ডেপুটেশন করিমপুরে রেল সংযোগের দাবিতে বাইক র‍্যালিতে উত্তাল সীমান্ত এলাকা নটে গাছটি মুড়োল পখন্না মেলার সংস্কৃতি মঞ্চে সাইবার সচেতনতার বার্তা অমিত শাহ’র মিছিল ঘিরে যানজট, অসমে ভোগান্তি বাংলার সিরিজের শেষ ম্যাচে নজরে সঞ্জু, নিউজিল্যান্ড পরখ করতে পারে ফিন অ্যালেনকে শাহবাজের ঘূর্ণি আর আকাশের আগুনে ছারখার হরিয়ানা, গ্রুপ শীর্ষে বাংলা সন্দেশখালিতে পাইকারি হারে ‘বে-নাগরিক’ ঘোষণা এলাকায় জামাআতে ইসলামী হিন্দের রাজ্য প্রতিনিধি দল ৭০ হাজার ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছি, স্বীকার করল ইসরাইল বইমেলায় রক্তদানের মানবিক নজির সাগরদিঘীতে বালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা বিজেপির সভার চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিবাদ সভা কুলতলীতে সন্দেশখালিতে হাজার হাজার বৈধ নাগরিককে ‘Not Indian Citizen’ ঘোষণার অভিযোগ বিশুদ্ধ ও আয়রন-মুক্ত পানীয় জলের দাবিতে ধূপগুড়িতে পথ অবরোধ, বিক্ষোভে মহিলা ও মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা আশাকর্মীদের ৩৯ দিনের আন্দোলনের ঢেউ এবার চুঁচুড়ায় এসে পড়ল ১,২০০ সিপিআই(এম) নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা রুজু করল মালদহ জেলা পুলিশ কংগ্রেসের ডিএম অফিস অভিযানে উত্তাল মালদহ প্রশাসনিক ভবন মালদা শহরে কংগ্রেসের শক্তি প্রদর্শন ‘কুরআন ও বিজ্ঞান’ বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন দিল্লিতে হিংসার বাজারে শান্তির দোকান জামাআতে ইসলামীর অভিনব উদ্যোগ এসআইআর: মানুষকে আতঙ্কিত ও হয়রানির প্রতিবাদে রাজ্য নির্বাচন কমিশন অফিসে নওসাদ বইমেলায় বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগ ঢালাও বেসরকারিকরণের পথেই বাজেট? ঈশ্বরপুরে গ্রেফতারের প্রতিবাদে আকুই ফাঁড়ির সামনে বিজেপির বিক্ষোভ দেশে নিষিদ্ধ হবে শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার? সোনামুখীতে বিজেপি বিধায়কের উপর হামলার ঘটনায় পাল্টা অবরোধ তৃণমূলের নাজিরাবাদ অগ্নিকাণ্ডে মানবাধিকার ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিমের ঘটনাস্থল পরিদর্শন সাগরদিঘীতে শান্তি-সম্প্রীতির বার্তা ও শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি নবাবপুরে তিন দিনব্যাপী দিবারাত্রি ক্রিকেট প্রতিযোগিতা কালিয়াচকে DYFI–এর স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবির ও বাৎসরিক ক্যালেন্ডার প্রকাশ ডব্লুপিএলে ফাইনালে বাঙালি কন্যা রিচার বেঙ্গালুরুর কাজে এল না বার্টলেটের অলরাউন্ড পারফরম্যান্স,পাকিস্তানের কাছে হার অজিদের নিয়মরক্ষার ম্যাচে চাপে বাংলা, লড়ছেন একা সুদীপ খয়রামারি হাই স্কুলে ৩০তম বাৎসরিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা রাজ্য জুড়ে আশাকর্মীদের কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ সভা ফুলের মালা দিয়ে নথির বোঝা মাথায় নিয়ে হেয়ারিংয়ে ভাঙড়ের যুবক, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিনব প্রতিবাদ প্রাক্তন সেনা ক্যাপ্টেনকে শুনানির নোটিশ  তৃণমূল ছেড়ে জাতীয় কংগ্রেসে যোগদান করলেন জঙ্গিপুরের সমাজসেবী ইমরান আলি কীর্ণাহারে দুঃসাহসিক ডাকাতি; সোনার দোকানে লুটপাট করে বোমাবাজি জলঢাকা নদীর বিসর্জন ঘাট দখল করে বেআইনি বালি-পাথর মজুদ, বিপদের আশঙ্কা এসআইআর শুনানি কেন্দ্রে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে অসুস্থ মহিলা, চাঞ্চল্য ধূপগুড়ি বিডিও অফিসে বাইসনের হামলা, গুরুতর আহত দুই সাইকেল আরোহী মাদকবিরোধী অভিযানে বড় সাফল্য, ব্রাউন সুগারসহ গ্রেফতার ৫ যুবক সিঙ্গুর থেকে ঘোষিত ‘বাংলার বাড়ি’- প্রকল্পে বদলাচ্ছে হাজারো পরিবারের জীবন ভয়েস পাবলিক স্কুলে প্রতিষ্ঠা দিবস উদযাপন স্কুলে যাওয়ার কথা বলে সমুদ্র শহরে পাড়ি, দীঘা থেকে দুই নাবালককে উদ্ধার শিক্ষকের বদলির সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ পড়ুয়ারা, মঙ্গলবার বীরভূম জেলা স্কুলে পোস্টার-বিক্ষোভ হাজি মহম্মদ মহসীনের নামে অডিটোরিয়াম ও  খেলার মাঠ গড়ে তোলার দাবি জগদীশ বসু ন্যাশনাল সায়েন্স ট্যালেন্ট সার্চে সাফল্য আরবি শিক্ষক নিয়োগ বিলম্বের প্রতিবাদে আন্দোলন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে হতাহত ১৮ লক্ষাধিক সেনা রাজারহাটে প্রজাতন্ত্র দিবসে এডুকেশনাল সেমিনার ও গুণীজন সংবর্ধনা সিঙ্গুরের সভা থেকে ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্বের শুভ সূচনা যামিনী রায় গ্রামীণ মেলায় একাধিক সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মসূচি শেরশাবাদিয়া বিকাশ পরিষদের এসআইআর-এর প্রতিবাদ নিয়ম রক্ষার ম্যাচে পয়েন্ট নষ্ট করলো বাংলা কাজে এল না দুবের দুরন্ত ইনিংস, চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে হার ভারতের পরকীয়া, ভালবাসা ও দাদাঠাকুর শরৎচন্দ্র পণ্ডিত প্রজাতন্ত্র-অনুষ্ঠানে গান্ধীকে নিয়ে কুরুচিকর গান বিতর্কে মধ্যপ্রদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভিসা বাতিল: কেরলে মঞ্চস্থ হল না ফিলিস্তিনিপন্থী ইসরাইলি নাটক

পরকীয়া, ভালবাসা ও দাদাঠাকুর শরৎচন্দ্র পণ্ডিত

প্রকাশিত: ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, দুপুর ৩:২২ | আপডেট: ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, সকাল ১১:২০
পরিবার হল সমাজের একক। সামাজিক জীব হিসেবে মানুষই বিবাহের মাধ্যমে পরিবার গঠন করে। স্বামী-স্ত্রী পারস্পরিক ভালবাসার মধ্য দিয়ে পরিবার বা সংসারকে সুখময় স্বর্গে পরিণত করে। তাদের সেই ভালবাসা পরবর্তী প্রজন্ম, অর্থাৎ সন্তানের সার্বিক বিকাশে প্রধান অনুঘটক। ভালবাসা ও বিশ্বাস একই মুদ্রার দুটি পিঠ।

পাভেল আখতার:পরিবার হল সমাজের একক। সামাজিক জীব হিসেবে মানুষই বিবাহের মাধ্যমে পরিবার গঠন করে। স্বামী-স্ত্রী পারস্পরিক ভালবাসার মধ্য দিয়ে পরিবার বা সংসারকে সুখময় স্বর্গে পরিণত করে। তাদের সেই ভালবাসা পরবর্তী প্রজন্ম, অর্থাৎ সন্তানের সার্বিক বিকাশে প্রধান অনুঘটক। ভালবাসা ও বিশ্বাস একই মুদ্রার দুটি পিঠ। ‘পরকীয়া’ এই দুটি বস্তুর মর্মমূলেই কুঠারাঘাত করে। প্রথমেই স্বামী বা স্ত্রীর প্রতি ভালবাসা অন্তর্হিত হয়, অবশ্য সেটা যে আছে, তা দেখানোর ‘অভিনয়’ চলে, পরে স্বাভাবিকভাবে সন্দেহ ও অবিশ্বাস দানা বাঁধতে শুরু করে। ক্রমশ সংসার তথা পরিবার অশান্তির আগুনে দগ্ধ হতে থাকে। অনেকেই বলবেন, সে তো গোপনীয়তার জন্য, যে গোপনীয়তার আর প্রয়োজন নেই; সৌজন্যে মহামান্য আদালত কর্তৃক স্বীকৃতি! অর্থাৎ, স্বামী বা স্ত্রী এখন থেকে পরস্পরকে জানিয়েই ‘পরকীয়া প্রেম’ করবে। হাস্যকর কথা। অধিকারের আইনি স্বীকৃতি ও তার এ-জাতীয় ব্যাখ্যা এবং সমাজবাস্তবতা এক বস্তু নয়। পরকীয়ার সাথে গোপনীয়তার অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক, যা অনতিক্রম্য। মনে রাখতে হবে, ‘বিয়ে’ হল একটি পবিত্র সামাজিক চুক্তি, যার প্রেরণায় নারী ও পুরুষ অটুট ভালবাসার মাধ্যমে দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে পরস্পরের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ হয়ে সাংসারিক জীবনে পদার্পণ করে। ‘পরকীয়া’য় এসবের অস্তিত্ব নেই। আরেকটি কথা, ভালবাসা ও বিশ্বাসের সৌরভে প্রস্ফুটিত সুখী ও শান্তিপূর্ণ একটি পরিবারই কিন্তু সু-সন্তানের ও সু-নাগরিকের জন্ম দেয়; পরকীয়ার মাধ্যমে অসুখী ও ক্ষয়ে যাওয়া দাম্পত্য যা দিতে একেবারেই অক্ষম। উল্লেখ্য, পাশ্চাত্য সভ্যতার ‘ভাল’ দিকগুলো গ্রহণে আমাদের কোনও আগ্রহ নেই, কেবল তাদের বাহ্যিক চাকচিক্যময় কিন্তু পরিণামে ভয়ঙ্কর ব্যাধিগুলোকে স্বাগত জানাতে আমরা যেন ক্রমশ মানসিকভাবে প্রস্তুত হয়ে উঠছি! বলাই বাহুল্য, এ এক আত্মঘাতী প্রবণতা! জানি না, ‘আলেয়া’-কে ‘আলো’ ভেবে, ‘মরীচিকা’-কে ‘মরুদ্যান’ ভেবে যে আত্মঘাতী পথচলা সে-পথের শেষ কোথায়!
বুদ্ধিদীপ্ত রসিকতায় যদি নোবেল পুরস্কার দেওয়ার প্রথা থাকত, তাহলে তার প্রথম প্রাপক হতেন দাদাঠাকুর শরৎচন্দ্র পণ্ডিত। জঙ্গিপুর তথা মুর্শিদাবাদের ভূমিপুত্র এই মানুষটি আজীবন দারিদ্রের সাথে লড়াই করেছেন, কিন্তু তাঁর প্রখর আত্মসম্মানবোধ ও স্বাধীনচেতা মনটি সেই দারিদ্রের কাছে কোনদিনই পরাজিত হয়নি। অত্যন্ত আটপৌরে জীবনে তিনি ছিলেন সব অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী, সততা ও স্পষ্টবাদিতার মূর্ত প্রতীক। এহেন মানুষটি নিতান্ত অনিচ্ছা সত্ত্বেও কৃষ্ণনগরের রাজপ্রাসাদে একদিন এসেছেন দ্বিপ্রাহরিক নেমন্তন্ন রক্ষা করতে। তাঁর গুণমুগ্ধা রানি অত্যন্ত সমাদরে তাঁর সামনে পরিবেশন করছেন বিভিন্ন দামি পাত্রে নানা ব্যঞ্জন। দাদাঠাকুর ধীরকণ্ঠে অনুরোধ করলেন একটি ‘অন্য থালা ও বাটি’ আনার জন্য। প্রশ্ন না করে কিঞ্চিৎ বিস্ময় নিয়ে রানি সেসব আনালেন। তারপর বহুমূল্যের পাত্রগুলিতে পরিবেশিত ব্যঞ্জনগুলি থেকে খুব সামান্য ভাত, একটু শুক্তো ও অল্প ডাল তুলে নিয়ে তিনি বিনম্র বচনে বললেন, ‘এই আমার খাবার।’ এবার রানি আর্তনাদ করে উঠলেন। নিজের হাতে যত্ন করে তিনি এসব রান্না করেছেন, অথচ…! দাদাঠাকুর বিনীত কণ্ঠে বললেন, ‘আপনি দুঃখ পাবেন না। আসলে দুপুরের ঠিক এই সময়টাতেই আমার বাড়িতে আমার স্ত্রী ঠিক এই খাবারটাই খাচ্ছে। ওই খাবারগুলো আমার মুখ দিয়ে ঢুকবে না। আমাকে ক্ষমা করবেন।’ রানি বিস্মিত ও নির্বাক। এবং, তাঁর চোখে জল-না, তাঁর রন্ধনশিল্প ব্যর্থ নমস্কারে ফিরে এল সেজন্য নয়, একটি আশ্চর্য অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হওয়ায়!
আমাদের চোখ দুটিও কি ভিজে যায় না? অবশ্যই যায়। এই অসামান্য ও অপার্থিব ভালবাসাকে ব্যাখ্যা করার মতো শব্দ কি অভিধানে সত্যিই আছে? মনে হয় না। পরকীয়া প্রেমের গুণকীর্তনে ব্যস্ত রথী-মহারথীরা এই ভালবাসার কাছে নেহাতই শিশু — এই ভালবাসা থেকে তাদের অবস্থান বহু আলোকবর্ষ দূরে! আজকাল দেখি ‘ভালবাসা ভালবাসা’ করে এত কথার খই ফোটে, অথচ সেইসব ভালবাসার আয়ু দু’দিন বৈ তো নয়! আসলে উচ্চরবে নিনাদিত এই ভালবাসাবাসিগুলি হচ্ছে নিছক ‘মোহ’! আজ এই ডালে, তো কাল ওই ডালে — ইহার নাম তো ‘ভালবাসা’ নহে!
অভিজ্ঞতার আলোয় আজ বোঝা গেছে যে, ‘যথার্থ ভালবাসা’ কেবল বিবাহ-পরবর্তী জীবনেই দৃশ্যমান হওয়া সম্ভব। অনেক ‘যৌক্তিক কারণ’ আছে। দৃশ্যত ভালবাসার বহু ঢাকঢোল পিটিয়ে যে বিয়ে হ’ল, আর দু’দিন পরেই জানালা দিয়ে সেই ভালবাসা পালিয়েও গেল, তাদের উদ্দেশেই কি রবীন্দ্রনাথ এই গানটি লিখেছিলেন: “সখী, ভালবাসা কারে কয়?”
একটি মানুষকে ভালবাসলে তার সবকিছুই ভালবাসতে হয়। ধর্ম, বিশ্বাস, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ইত্যাদি সবকিছুই। কথিত ‘ভালবাসা’ আসলে একটি মানুষের ‘স্বাতন্ত্র্য’ বা ‘নিজস্বতা’-কে স্বীকৃতি ও সম্মান জানানো। মানুষটাকে ভালবাসি, অথচ তার ‘নিজস্বতার জায়গাগুলি’-কে নয়, সেই ভালবাসার দাবি অর্থহীন ও ফাঁকিসর্বস্ব। কারণ, স্বতন্ত্রতাকে স্বীকৃতি বা সম্মান জানাতে না-পারার অর্থ একটি মানুষকে ‘খণ্ডিত’ করে দেখা। সেই খণ্ডিত, জীর্ণ দেখায় ‘ভালবাসা’র মতো পবিত্র বস্তুটিও খণ্ডিত হতে বাধ্য। এমনকি সেখানে ভালবাসার অস্তিত্ব আদৌ না-থাকারও সম্ভাবনা প্রবল। স্বীকার্য সত্য হ’ল এই যে, মানুষকে কখনও ‘খণ্ডিত’ করা যায় না। একটি গাছকে ভালবাসার অর্থ গাছের শিকড়, শাখা ও প্রশাখা, পাতা, ফুল ও ফল-সহ গোটা গাছটাকেই ভালবাসা। মানুষও তো গাছের মতোই। আরেকটি কথা। ‘উদার’ শব্দটি আজকাল খুব চর্চিত হয়। বস্তুত, ‘যথার্থ ভালবাসা’র সঙ্গেই সত্যিকারের ‘উদারতা’র নিবিড় ও নিকট সম্পর্ক আছে। অর্থাৎ, ‘উদার’ না-হলে ভালবাসা যায় না, আর ভালবাসলে ‘উদার’ হতেই হয়। এই যে মাঝেমধ্যে শোনা যায় ‘ছদ্ম-উদারতা’র গল্প, অর্থাৎ কি না একজন ‘উদার’ নন; বরং ‘উদারতার ভাব’ করেন, সেটা ‘ভালবাসা’র মতো মৌলিক গুণটি আসলে অর্জন করতে না-পারার জন্যই।
মজার বিষয় হ’ল, এমন মানুষও সমাজে বিস্তর, যারা আবার ‘নিজেকে সম্মান’ করার মতো ‘মহার্ঘ কথা’টিও বিস্মৃত। সেজন্যই ‘স্বতন্ত্রতা’ বা ‘নিজস্বতা’ বিসর্জন দিতেও তারা কুণ্ঠাহীন। বস্তুত, এটা ‘গৌরবের’ কথা নয়; বরং ‘লজ্জার’ কথা। নিন্দুকেরা বলে থাকেন, ‘ছদ্ম-উদার’দের প্রিয়পাত্র হওয়ার জন্যই নাকি এই ‘আত্ম-অবমাননা’র চর্যা বেছে নেওয়া। ‘পরানুকরণে মত্ত’ হওয়া। কিন্তু, তাদের মনে রাখা উচিত, যেখানে ‘ভালবাসা’ থাকে না (যেহেতু সেখানে ‘উদারতা’ও অনুপস্থিত), সেখানে ‘প্রিয়পাত্র’ হওয়ার কোনও গল্পও রচিত হওয়া অসম্ভব। নিজেকে ভালবাসতে না-পারলে বা সম্মান করতে না-পারলে অন্যকে ভালবাসা ‘অলীক’। এবং, অনভিপ্রেত ‘হীনম্মন্যতা’র ছিদ্রপথে আগত ‘আত্ম-অবমাননা’র উৎস আসলে নিজেকে ভালবাসতে না-পারা। আর, ‘হীনম্মন্যতা’ বস্তুটা যে নিতান্ত ‘অসার’, সেকথাই সম্ভবত রবীন্দ্রনাথ ”জোনাকি কী সুখে এই ডানা দুটি মেলেছ” এই অপরূপ গীতিনির্ঝরে ভাসিয়ে দিয়েছেন এভাবে: ”তোমার যা আছে তা তোমার আছে, তুমি নও গো ঋণী কারও কাছে, তোমার অন্তরে যে শক্তি আছে, তারই আদেশ পেলেছ…!” উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ‘বড়ত্বের অহমিকা’র বিপ্রতীপে তথাকথিত ‘ছোটত্বের গৌরবগাথা’! আসলে ‘ছোট’ বলে কিছু হয় না। সেটা কেবল একটা ‘নির্মাণ’ মাত্র। বুঝতে হবে।
১৪ ফেব্রুয়ারি অধুনা ‘প্রেম দিবস’ হিসেবে বহুল চর্চিত! এর কয়েকদিন আগে থেকেই মহা-আদিখ্যেতা শুরু হয়ে যায়! বস্তুত, ‘ভালবাসা’ নিয়ে উচ্ছ্বাস বিপুল, অনিয়ন্ত্রিত। ‘ভালবাসা’ নিয়ে নানা কাব্যকথা, দর্শন, অভিব্যক্তির শেষ নেই। কিন্তু, ‘ভাল বাসা’? তা নিয়ে কেউ ভাবিত নয়। ভাবার মতো যেন কোনও বিষয়ই নয়! অথচ, ‘ভাল বাসা’র উপর ‘ভালবাসা’ অনেকটাই নির্ভরশীল। কীভাবে? খুবই সহজ ব্যাপার। আগে জেনে বা বুঝে নিতে হবে যে, একটি ‘ভাল বাসা’ কারে কয়। একটি বা দুটি কথায় ব্যাখ্যা করা মুশকিল। শুধু বলা যায়, যে বাসাটিতে সুস্থ, মনোরম মূল্যবোধের অনুশীলন হয়, যেখানে সকলের মধ্যে উদার, আনন্দঘন, প্রীতিপূর্ণ ও মধুর সম্পর্ক ইত্যাদি বজায় থাকে, সেই বাসাটিকেই বলা যায় ‘ভাল বাসা’। এমন একটি বাসায় একটি শিশুর মানসিক স্বাস্থ্য সঠিকভাবে গঠিত ও বিকশিত হয়। ক্রমান্বয়ে সে একটি সম্পূর্ণ সুস্থ ও সুন্দর মানুষ হয়ে ওঠে। এবং, ‘ভালবাসা’র নিহিত ব্যঞ্জনাটি তখন তাকে আর শেখাতে হয় না। সে সহজেই বুঝতে পারে যে, ‘ভালবাসা’ একটি ছোট্ট, সংকীর্ণ ‘কুঁয়ো’র জল নয়; বরং তা ‘মহাসমুদ্রের’ বিপুল জলরাশি! আর, একথা বলার প্রয়োজন নেই যে, এই শুদ্ধতম অনুভূতির জাতক হ’ল ওই ‘ভাল বাসা’!
নারী ও পুরুষের ‘প্রেম’ নিয়ে জগৎ-সংসারে এত বেশি শব্দ, বাক্য, সুর প্রবাহিত হয়েছে এবং আজও হয় যে, এই বৃত্তের বাইরে আমরা তাকাতেই ভুলে যাই! কথিত ‘প্রেম’ আমাদের দৃষ্টি, মনন, চেতনাকে এত গভীরভাবে আচ্ছন্ন করে রেখেছে যে, আমরা ‘বৃহৎ সত্যের’ প্রতি অভিনিবিষ্ট তেমনভাবে হতে পারিনি। নর-নারীর প্রেম উৎসারিত রোমান্টিক মাধুর্য দু’জন মানুষের মধ্যেই শুধু সীমাবদ্ধ। সমস্ত ‘লাভ-ক্ষতি’ও নিছক দুই ব্যক্তিকেন্দ্রিক। উপরন্তু, একদা প্রেমের সবুজ আভা কালক্রমে ধূসর, ফিকে হওয়ার আখ্যান আছে। কিন্তু, ‘বৃহৎ সত্যের প্রতি প্রেম’-এর দীপ্তি কোনদিনই ম্লান হয় না। জীবনকে দীপ্ত গরিমা দেয়, অর্থপূর্ণ করে তোলে মহার্ঘ কিছু বোধ, আদর্শ ইত্যাদি; যার একদিকে যদি ব্যক্তি থাকে, তাহলে অপরদিকে বৃহৎ বিশ্বমানবের অস্তিত্ব। ক্ষুদ্র বৃহতের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করার মাধ্যমে সীমা ও অসীম যেন একসূত্রে গ্রথিত হয়। সার্থক হয় এই শুদ্ধ রাবীন্দ্রিকতা: ”জীবনে জীবন যোগ করা নইলে কৃত্রিম পণ্যে ব্যর্থ হবে গানের পসরা!”
মানবজীবন খড়-কুটোর মতো ‘তুচ্ছ’ নয়। তাই ‘তুচ্ছ প্রেমেই’ কি তার জীবনাবসান হতে পারে? নর-নারীর প্রেমে কোনও ‘মহিমা’ নেই। অতএব, তা তো ‘তুচ্ছই’। প্রশ্ন এই যে, নর-নারীর প্রেম কি বৃহত্তর মানবচেতনায় প্রাণিত করে তোলে? যদি উত্তর ‘হ্যাঁ’-বাচক হয়, তাহলে ঠিক আছে। অন্ধকার থেকে আলোয়, অজ্ঞানতা থেকে জ্ঞানে, মৃত্যু থেকে মৃত্যু-উত্তর অমিয় চেতনায় পৌঁছনোই এই জীবনের সারকথা ও সার্থকতা; সংকীর্ণ গণ্ডিবদ্ধ হওয়াতে নয়। বুদ্ধ, যীশু, মহম্মদ (সা.), চৈতন্য প্রমুখ যেমন সেই গণ্ডি অতিক্রম করে গিয়েছিলেন জগতের সব মানুষকে ভালবেসে!
দেখতে পাচ্ছি, দাদাঠাকুর শরৎচন্দ্রের কাছে নিতান্ত কাঙাল হৃদয় নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে আজকের তাবৎ প্রেম বা ভালবাসাবিলাসী নারী-পুরুষ!

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder