মালদা জেলা আন্তঃকলেজ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা: জয়ের আবহে নামল পর্দা
নতুন পয়গাম, মালদা: খেলাধুলার প্রাণবন্ত পরিবেশ ও প্রতিযোগিতার উত্তেজনায় পর্দা নামল মালদা জেলার তিনদিনব্যাপী ‘ইন্টার-কলেজ স্টেট স্পোর্টস অ্যান্ড গেমস চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৫–২৬’ (জেলা স্তর)। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উচ্চশিক্ষা দপ্তর ও ডিরেক্টরেট অব পাবলিক ইনস্ট্রাকশনের পৃষ্ঠপোষকতা ও নির্দেশনায় আয়োজিত এই প্রতিযোগিতা ১৯ জানুয়ারি শুরু হয়ে ২১ জানুয়ারি সফলভাবে সমাপ্ত হয়। মোজামপুর ফুটবল মাঠে অনুষ্ঠিত টানা তিনদিনের এই ক্রীড়া আসর আবারও প্রমাণ করল— খেলাধুলা শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ, যা ছাত্রছাত্রীদের শারীরিক সক্ষমতা, শৃঙ্খলা, দলগত মনোভাব, নেতৃত্বগুণ ও নিয়ম-শৃঙ্খলার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ গড়ে তোলে। কালিয়াচক কলেজ, সুলতানগঞ্জের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই চ্যাম্পিয়নশিপে মালদা জেলার মোট ১১টি কলেজ অংশগ্রহণ করে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আয়োজক কলেজের অধ্যক্ষ ড. নজীবর রহমান। উপস্থিত ছিলেন ড. অচিন্ত ব্যানার্জি (প্রফেসর, গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় ও আয়োজক কলেজের গভর্নিং বডির সদস্য), ভাষাবিদ ড. সাদিক আলি (গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের আধিকারিক) এবং গভর্নিং বডির সদস্য সামিউদ্দিন আহমেদ।
সোমবার অধ্যক্ষ ড. নজীবর রহমানের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে প্রতিযোগিতার সূচনা হয়। এরপর এনসিসি ও খেলোয়াড়দের মার্চপাস্ট এবং ফ্লেম রিলে উদ্বোধনী আয়োজনকে উৎসবমুখর করে তোলে। প্রতিটি ইভেন্ট ও ম্যাচে শৃঙ্খলা ও ফেয়ার প্লে বজায় থাকায় প্রতিযোগিতাগুলি সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়। অ্যাথলেটিক্স বিভাগে ছেলেদের বিভাগে কালিয়াচক কলেজ এবং মেয়েদের বিভাগে মানিকচক কলেজ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। দ্বিতীয় দিনের মূল আকর্ষণ ছিল ছাত্রদের ফুটবল ও ছাত্রীদের খোখো প্রতিযোগিতা। ফুটবলে আটটি দল অংশ নেয়। উত্তেজনাপূর্ণ লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে কালিয়াচক কলেজ, গৌড় মহাবিদ্যালয়, মানিকচক কলেজ ও পাকুয়াহাট ডিগ্রি কলেজ সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয়। খোখো বিভাগে গৌড় মহাবিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন হয় এবং আয়োজক কালিয়াচক কলেজ রানার্স-আপ হয়ে প্রশংসা কুড়ায়— যা জেলার কলেজ পড়ুয়া ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে খোখো খেলাটির জনপ্রিয়তা ও প্রতিযোগিতামূলক মানের উন্নতির স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।
ফুটবল প্রতিযোগিতায় চূড়ান্ত লড়াই শেষে পাকুয়াহাট ডিগ্রি কলেজ শিরোপা জয় করে এবং গৌড় মহাবিদ্যালয় কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর রানার্স-আপ হয়। ২১ জানুয়ারির সমাপনী অনুষ্ঠানে খেলোয়াড়, কোচ ও বিভিন্ন কলেজের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে বিজয়ী ও ফাইনালিস্ট দলগুলিকে সংবর্ধনা জানানো হয়। গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর অশীষ ভট্টাচার্য প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পাকুয়াহাট ডিগ্রি কলেজের হাতে ফুটবলের চ্যাম্পিয়ন ট্রফি তুলে দেন। সমাপনী বক্তব্যে তিনি খেলোয়াড়দের শৃঙ্খলা ও প্রতিযোগিতামনস্কতার প্রশংসা করেন এবং নিয়মিত খেলাধুলার মাধ্যমে চরিত্র গঠনের গুরুত্ব তুলে ধরে জেলার কলেজগুলিকে আরও শক্তিশালী ক্রীড়া-সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
ফুটবলের রানার্স-আপ ট্রফি গৌড় মহাবিদ্যালয়ের হাতে তুলে দেন কালিয়াচক কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর নজীবর রহমান। তিনি অংশগ্রহণকারী সব কলেজকে ধন্যবাদ জানান এবং আয়োজন সফল করতে শিক্ষক-অশিক্ষক কর্মী, এনসিসি/এনএসএস স্বেচ্ছাসেবক ও কলেজের গভর্নিং বডির সহযোগিতার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি সরকারি পর্যবেক্ষক ড. এম.ডি. আলাউদ্দিন শাইখের তত্ত্বাবধান ও ভূমিকার কথাও স্মরণ করেন। অংশগ্রহণকারী ছাত্রছাত্রীদের প্রতিক্রিয়ায় প্রতিযোগিতার তীব্রতা ও ইতিবাচক পরিবেশের প্রতিফলন স্পষ্ট। পাকুয়াহাট ডিগ্রি কলেজের ফুটবল দলের সদস্যরা জানান, ফাইনাল ম্যাচ ছিল স্ট্যামিনা ও সমন্বয়ের কঠিন পরীক্ষা—শৃঙ্খলাবদ্ধ অনুশীলন ও টিমওয়ার্কই তাদের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। অন্যদিকে ফুটবলে রানার্স-আপ ও খোখোতে চ্যাম্পিয়ন হওয়া গৌড় মহাবিদ্যালয়ের খেলোয়াড়রা বলেন, এই টুর্নামেন্ট তাদের মূল্যবান অভিজ্ঞতা দিয়েছে এবং আন্তঃকলেজ সৌহার্দ্য আরও দৃঢ় করেছে। অনেক অংশগ্রহণকারীই মত দেন, জেলা স্তরের এ ধরনের প্রতিযোগিতা আত্মবিশ্বাস ও নেতৃত্ব গঠনে সহায়ক এবং ভবিষ্যতে উচ্চতর স্তরের প্রতিযোগিতার জন্য তরুণ ক্রীড়াবিদদের একটি শক্ত ভিত তৈরি করে।








