মটরশুঁটির উপকারিতা
নতুন পয়গাম: মটরশুঁটি প্রোটিন, ফাইবার এবং পুষ্টির এক চমৎকার উৎস। এটি খেতেও বেশ সুস্বাদু। শীতের মরশুমে মটরশুঁটি পাওয়া যায়। যদিও মটরশুঁটি আদতে সবজি নয়, এটি শিম জাতীয়। ছোলা, মসুর ডাল, এবং চিনাবাদামের মতো একই পরিবারের অন্তর্ভুক্ত মটরশুঁটি। তবুও, বেশিরভাগ মানুষ মটরশুঁটিকে সবজি হিসেবে গণ্য করে।
মটরশুঁটির পুষ্টিগুণ নির্ভর করে কীভাবে তা রান্না বা খাবার জন্য প্রস্তুত করা হয়, তার উপর। যেমন মাখন বা তেল দিয়ে মটরশুঁটি রান্না করলে চর্বি বৃদ্ধি পায়। তাই ভাজা বা সিদ্ধ করার চেয়ে ভাপিয়ে বেশি পুষ্টি সংরক্ষণ করা যায়। তবে ভাজা বা রান্না না করেও কাঁচা মটরশুঁটি খাওয়া যায়। লবণ ছাড়া এক কাপ সিদ্ধ মটরশুঁটিতে ১৩৪ ক্যালোরি থাকে।
প্রতি কাপ মটরশুঁটিতে ৮ গ্রাম প্রোটিন থাকে। এটি উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের এক দুর্দান্ত উৎস। যারা নিরামিষ খাবার পছন্দ করেন, তাদের জন্য মটরশুঁটি প্রোটিনের একটি ভাল উৎস হতে পারে। মটরশুঁটির প্রোটিন প্রাণীজ প্রোটিনের তুলনায় সহজপাচ্য বা হজম করা সহজ। প্রোটিন হল এক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাক্রো নিউট্রিয়েন্ট, যা পেশী, টিস্যু এবং অঙ্গ তৈরি এবং মেরামত করে। চুল, ত্বক, হাড় এবং পেশী গঠন করে। হরমোন এবং এনজাইম নিয়ন্ত্রণ করে। শক্তি সরবরাহ করে।
এক কাপ রান্না করা মটরশুঁটিতে প্রায় ৯ গ্রাম ফাইবার থাকে। এই ফাইবারের বেশিরভাগই অদ্রবণীয় হওয়ায় উপকারী। প্রতিদিন পর্যাপ্ত ফাইবার গ্রহণ করলে যন্ত্রণাদায়ক কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করা যায়। উদ্ভিদ উৎস থেকে প্রাপ্ত ফাইবার বা আঁশ প্রাকৃতিকভাবে অন্ত্রের স্বাস্থ্যেরও উন্নতি করতে পারে।
প্রোটিন এবং ফাইবার ভাঙতে শরীর বেশি সময় নেয়, তাই নিয়মিত মটরশুঁটি খাওয়ার অভ্যাস স্বাস্থ্যকর উপায়ে ওজন অর্জন করতে বা বজায় রাখতে সাহায্য করে। উচ্চ প্রোটিন, উচ্চ ফাইবারযুক্ত খাবার দীর্ঘক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখে। যে কারণে বাড়তি খাবার খাওয়ার আকাঙ্ক্ষা কমে আসে।
মটরশুঁটি উদ্ভিদভিত্তিক ফাইটো নিউট্রিয়েন্ট এবং পলিফেনলে ভরা। এই পুষ্টিগুলো প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সুবিধা প্রদান করে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হল শরীরের ফ্রি র্যা ডিকেলের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা, যা কোষ এবং টিস্যুকে ক্ষতি করতে পারে। ফ্রি র্যা ডিকেলের কারণে হৃদরোগ, ক্যান্সার এবং অন্যান্য দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্যগত অবস্থার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
মটরশুঁটিতে লুটেইন এবং জিএক্সানথিনও বেশি থাকে। এই ক্যারোটিনয়েডগুলো মটরশুঁটিকে উজ্জ্বল সবুজ রঙ দেয়। গবেষণায় দেখা গেছে, লুটেইন এবং জিএক্সানথিন ক্ষতিকারক নীল আলো থেকে রক্ষা করে, যা দৃষ্টিশক্তির ক্ষতি করতে পারে।








