ট্রাম্পের ‘শান্তির ইস্তেহার’: ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ছায়াময় প্রতিশ্রুতি, গাজায় রক্তপাত অব্যাহত
নতুন পয়গাম, ওয়াশিংটন, ১ অক্টোবর:
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন ২০ দফা ‘শান্তি পরিকল্পনা’ গাজা সংকটের মাঝে আলোড়ন তুলেছে, কিন্তু ফিলিস্তিনিদের দীর্ঘকালীন স্বপ্ন — একটি স্বাধীন রাষ্ট্র, এখনও কুয়াশায় ঢাকা। যুগসঙ্গী সংগ্রামের পর বিশ্বব্যাপী সমর্থন জোরালো হলেও, ট্রাম্পের প্রস্তাবে এই বিষয়টি শর্তসাপেক্ষে এবং অস্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, এই অস্পষ্টতা সমগ্র পরিকল্পনাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিতে পারে, বিশেষ করে যখন গাজায় ইসরাইলি হামলা অবিরত চলছে।
সোমবার হোয়াইট হাউসে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প সাংবাদিক সম্মেলনে এই ‘মাস্টার-প্ল্যান’ এর কথা ঘোষণা করেন। নেতানিয়াহুকে পাশে দাঁড় করিয়ে ট্রাম্প বলেন, “কয়েকটি দেশ বোকার মতো ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়েছে। তারা ক্লান্ত হয়ে পড়েছে।” প্রস্তাবে গাজার উন্নয়ন এবং ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ বা পিএলও-র ‘সংস্কার’কে শর্ত করা হয়েছে, যার পর হয়তো একটি রাষ্ট্র গঠনের আলোচনা শুরু হতে পারে। কিন্তু বাস্তবায়নের রোডম্যাপ? সেটা অনুপস্থিত। আল-জাজিরা নিউজের প্রতিবেদন অনুসারে, এই অস্পষ্টতা পরিকল্পনাকে ‘কাগুজে বাঘ’ বানিয়েছে।
হামাস এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি, যদিও ট্রাম্প তাদের তিন-চার দিনের ডেটলাইন দিয়ে স্পষ্ট বলেছে, না মানলে ‘চরম পরিণতি’ হবে। অথচ গাজায় শান্তির কথা বলার পরও ইসরাইলি সেনারা বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে! গতকাল বুধবারও ৪২ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা হয়েছে। প্রতি মিনিটে বিস্ফোরণের কানফাটা আওয়াজ শোনা যাচ্ছে, যা ট্রাম্পের ‘যুদ্ধবিরতি’ প্রতিশ্রুতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
অন্যদিকে নেতানিয়াহুর টেলিগ্রাম পোস্টে স্পষ্ট বলা হয়েছে, বৈঠকে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি নিয়ে কোনো আলোচনাই হয়নি। সাংবাদিকের তিনি লেন, “না, কোনোভাবেই নয়। প্রস্তাবে এমন কিছু নেই।” বিশ্লেষকরা বলছেন, নেতানিয়াহুর রক্ষণশীল অতি ডানপন্থী ও দক্ষিণপন্থী জোট এবং সাংঘর্ষিক অবস্থান পরিকল্পনাকে থামিয়ে দিতে পারে। হামাস যদি অতীতের মতো ‘মেনে নিলাম, কিন্তু…’ বলে, তাহলে সব শেষ।
প্রস্তাবের মূলে: উভয় পক্ষ মেনে নিলে যুদ্ধ তৎক্ষণাৎ বন্ধ, ৭২ ঘণ্টায় জিম্মিদের জীবিত অথবা মৃত ফিরিয়ে দেওয়া, ফিলিস্তিনি বন্দী মুক্তি। গাজা উপত্যকা শাসন করবে টেকনোক্র্যাট সরকার, আন্তর্জাতিক ‘বোর্ড অব পিস’-এর তত্ত্বাবধানে, যেখানে হামাসের কোনো ঠাঁই নেই। ইসরাইল গাজা দখল বা অ্যানেক্স করবে না।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া মিশ্র। ইউরোপ, রাশিয়া, চীন, সৌদি, তুরস্ক, ফিলিস্তিন, মিসর ও কাতার ইতিবাচক। কিন্তু কাতার সতর্ক, এখনই সাফল্যের আশা করছে না। রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব আন্টোনিও গুটেরেস সবাইকে অঙ্গীকারের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, “দুর্দশা লাঘবই আমাদের অগ্রাধিকার। এটি দুই-রাষ্ট্র সমাধানের পথ খুলতে পারে।” বিশ্বজনমত ফিলিস্তিনের পক্ষে, কিন্তু ট্রাম্পের এই ‘শান্তি খেলা’ কতদূর যাবে? গাজার ধোঁয়ায় সেই উত্তর হারিয়ে যাচ্ছে।








