এই সেই চুক্তি, যাতে হামাস ও ইসরাইল সই করেছে
মোসাব আবু তোহা
যাতে লেখা আছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা যুদ্ধের পূর্ণাঙ্গ সমাপ্তি প্রস্তাব ও তা বাস্তবায়নের ধাপসমূহ:
১) প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা উপত্যকায় যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা করবেন এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ এই লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সম্মত হবে।
২) যুদ্ধ ইসরায়েলি সরকারের অনুমোদনের পরপরই বন্ধ হবে। সমস্ত সামরিক অভিযান — যেমন বিমান হামলা, আর্টিলারি গোলাবর্ষণ ও লক্ষ্যভিত্তিক আক্রমণ ইথ্যাদি তাৎক্ষণিকভাবে স্থগিত থাকবে। এই সময়ে, অর্থাৎ ৭২ ঘণ্টার জন্য, ইসরায়েলি বাহিনী যে অঞ্চলগুলো থেকে সরে যাবে সেখানে কোনো আকাশপথে নজরদারি (এরিয়াল সার্ভেইলেন্স) পরিচালিত হবে না।
৩) মানবিক সহায়তা ও ত্রাণ সরবরাহ অবিলম্বে শুরু হবে, যা ১৯ জানুয়ারি ২০২৫ সালের মানবিক সহায়তা চুক্তির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকবে। এই সহায়তা কার্যক্রমের ধাপসমূহ নথির সঙ্গে সংযুক্ত রয়েছে।
৪) ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী IDF ‘মানচিত্র X’-এ নির্ধারিত সীমারেখা পর্যন্ত সরে যাবে। এই প্রত্যাহার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘোষণার পরপরই শুরু হবে এবং ইসরায়েলি সরকারের অনুমোদনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সম্পন্ন হবে। হামাস যদি চুক্তির শর্তগুলো সম্পূর্ণরূপে মেনে চলে, তবে IDF পুনরায় সেই অঞ্চলগুলোতে আর ফিরে যাবে না।
৫) ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহারের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে গাজায় আটক সব ইসরায়েলি জিম্মিকে জীবিত ও মৃত উভয়কেই মুক্তি দেওয়া হবে (সংযুক্ত তালিকা অনুযায়ী)।
IDF বা ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার শেষ হওয়ার সাথে সাথেই হামাস জিম্মিদের অবস্থা যাচাই করবে এবং প্রাপ্ত তথ্য সংগ্রহ করে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে জানাবে।
ইসরায়েল গাজা অঞ্চলে আটক ফিলিস্তিনি বন্দিদের সম্পর্কিত তথ্য সরবরাহ করবে।
৭২ ঘণ্টার মধ্যে হামাস নিহত ইসরায়েলি জিম্মিদের দেহাবশেষ হস্তান্তর করবে, যার মধ্যে অন্যান্য ফিলিস্তিনি সংগঠনের হেফাজতে থাকা মরদেহও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
হামাস একই সময়ের মধ্যে জিম্মিদের সম্পর্কে সংগৃহীত সব তথ্য ভাগাভাগি বা বিনিময় করবে, আর ইসরায়েল জানাবে নিহত ফিলিস্তিনিদের দেহাবশেষ কোথায় রয়েছে।
উভয় পক্ষের মধ্যে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস (ICRC) ও মধ্যস্থতাকারীদের সহায়তায় তথ্য বিনিময় প্রক্রিয়া হবে। এর মাধ্যমে দেহাবশেষ শনাক্ত, উত্তোলন ও নিরাপদে হস্তান্তর নিশ্চিত করা হবে। হামাস অঙ্গীকার করবে যে, এই প্রতিশ্রুতিগুলো দ্রুততম সময়ে পূরণ করা হবে।
হামাস যখন সব ইসরায়েলি জিম্মিদেরকে মুক্তি দেবে, ইসরায়েলও একই সঙ্গে তালিকাভুক্ত ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি দেবে।
জিম্মি ও বন্দি বিনিময় প্রক্রিয়া মধ্যস্থতাকারীদের উপস্থিতিতে ও আন্তর্জাতিক রেড ক্রসের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হবে। এ বিষয়ে কোনো প্রকাশ্য অনুষ্ঠান বা সংবাদমাধ্যমের কাভারেজ থাকবে না।
৬) একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হবে, যেখানে আমেরিকা, কাতার, মিশর, তুরস্ক এবং অন্যান্য সম্মত দেশগুলোর প্রতিনিধি থাকবে। এই দল চুক্তির বাস্তবায়ন তদারকি করবে এবং উভয় পক্ষের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় বজায় রাখবে।
এই চুক্তিপত্রের নীচে পাঁচজন প্রতিনিধির স্বাক্ষর রয়েছে, যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উদ্যোগে প্রণীত ‘গাজা যুদ্ধের পূর্ণাঙ্গ সমাপ্তি’ প্রস্তাবের বাস্তবায়ন কাঠামোর অংশ।
(লেখাটি পুলিৎজার জয়ী কবি মোসাব আবু তোহা-র টাইম লাইন থেকে নেওয়া)








