ঋতুর সঙ্গে রং বদলায় এই শিয়াল
নতুন পয়গাম: পৃথিবীতে এক ধরনের শিয়াল রয়েছে, যারা ঋতুর সঙ্গে নিজেদের শরীরের রং বদলায়। এই বিশেষ প্রজাতির শিয়ালের নাম আর্কটিক। এটি আকারে ছোট, ঠান্ডা-সহনশীল মাংসাশী স্তন্যপায়ী প্রাণী এরা। যা প্রধানত উত্তর গোলার্ধের আর্কটিক অঞ্চলেই পাওয়া যায়। শীতকালে এই শিয়ালের পশম সম্পূর্ণ সাদা হয়ে যায়। বরফের মধ্যে মিশে থাকার জন্য এটি তাদের প্রধান কৌশল। গ্রীষ্মকালে বরফ গলে গেলে এদের পশম হালকা বাদামি, ধূসর বা নীলাভ-ধূসর রং ধারণ করে। এই রং তাদের চারপাশের পরিবেশের সঙ্গে মিশে যেতে সাহায্য করে।

আর্কটিক শিয়ালের গড় ওজন ৩ থেকে ৯ কেজি এবং দৈর্ঘ্য প্রায় ৪০ থেকে ৬৮ সেমি. বা ১৬ থেকে ২৭ ইঞ্চি হয়। এরা শীত থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য পা ও মাথা শক্ত করে কুঁজো করে শরীরের নিচে কিংবা লোমশ লেজের পেছনে আটকে রাখে। আর্কটিক শিয়াল লেমিংস, সামুদ্রিক উদ্ভিদ, মাছ, জলপাখি এবং সামুদ্রিক পাখি শিকার করে। কিন্তু গ্রীষ্মকালে খাদ্য এবং শিকারের জন্য প্রচুর জীবজন্তু থাকে। শীতকালে প্রায় সবকিছুই বরফের নিচে চাপা পড়ে থাকে। ফলে শীতে এদের খাদ্য সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
![Why Do Arctic Foxes Change Color? [Summer vs Winter Coat] - Polar Guidebook](https://polarguidebook.com/wp-content/uploads/2021/07/Arctic-Foxes-Summer-vs-Winter.jpg)
এই শিয়ালগুলো বিভিন্ন ধরনের আওয়াজ, গর্জন, চিৎকার এবং শরীরের অঙ্গভঙ্গি ও গন্ধের মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করে। আর্কটিক শিয়াল সাধারণত একা থাকতেই পছন্দ করে। এরা দলবদ্ধ হয়ে ঘোরাঘুরি করে না। প্রতি বছর একবার শীতের শেষে বা বসন্তের শুরুতে এরা প্রজনন করে।
আর্কটিক শিয়াল প্রকৃতির এক অনন্য সৃষ্টি, যা চরম পরিবেশেও বেঁচে থাকার অসাধারণ ক্ষমতা রাখে। তাদের অভিযোজন, খাদ্যাভ্যাস এবং রং পরিবর্তনের ক্ষমতা প্রকৃতির বৈচিত্র্যকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।








