পরনিন্দার ভয়াবহ পরিণাম
আলী হায়দার
গীবত বা পরনিন্দা কবিরা গুনাহ; মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়ার সমান অপরাধ। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমাদের কেউ যেন কারও গীবত না করে। কারণ, তোমাদের কেউ কি চায় যে, সে তার মৃত ভাইয়ের গোশত খাবে? তোমরা তো এটাকে ঘৃণা করে থাক।’ (সুরা হুজুরাত: ১২)।
নবীজি (সা.)-এর নিন্দা: আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, একবার আমরা রাসুল (সা.)-এর কাছে বসেছিলাম। এমন সময় একজন উঠে গেল। তার যাওয়ার পর আরেকজন তার সমালোচনা করল। তখন রাসুল (সা.) তাকে বললেন, ‘তোমার দাঁত খিলাল কর।’ লোকটি বলল, ‘কী কারণে? আমি তো কোনো গোশত খাইনি।’ রাসুল (সা.) বললেন, ‘তুমি তোমার ভাইয়ের গোশত খেয়েছ (গীবত করেছ)।’ (তাবারানি: ৪২৮)।
ভয়াবহ পরিণাম: মেরাজের রাতে রাসুল (সা.) এমন কিছু লোকের পাশ দিয়ে গিয়েছিলেন, যাদের নখগুলি পিতলের তৈরি। তারা তা দিয়ে নিজেদের মুখ ও বুক খামচে ধরছিল। রাসুল (সা.) জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে জিবরাইল (আ.), এরা কারা?’ জিবরাইল (আ.) বললেন, ‘এরা সেইসব লোক, যারা দুনিয়ায় মানুষের গোশত খেত (পরনিন্দা করত) এবং তাদের ইজ্জত-আব্রু বিনষ্ট করত।’ (সুনানে আবি দাউদ: ৪৮৭৮)।

ব্যভিচার অপেক্ষা জঘন্য: রাসুল (সা.) বলেন, ‘গীবত বা পরনিন্দা ব্যভিচার থেকেও মারাত্মক অপরাধ।’ সাহাবায়ে কেরাম (রা.) জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল, সেটা কীভাবে?’ রাসুল (সা.) বললেন, ‘ব্যভিচারকারী তাওবাহ করলে আল্লাহ তা কবুল করেন এবং তাকে ক্ষমা করে দেন। আর গীবতকারীর তাওবাহও কবুল হয় না, যতক্ষণ পর্যন্ত যার সম্পর্কে গীবত করেছে, সেই ব্যক্তি ক্ষমা না করে।’ (মিশকাতুল মাসাবিহ: ৪৮৭৩)।
শোনাও অপরাধ: একবার আবদুল্লাহ ইবনে মোবারক (রহ.)-এর মজলিসে এক লোক ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর গীবত করা শুরু করল। আবদুল্লাহ ইবনে মোবারক (রহ.) তাকে থামিয়ে দিয়ে বললেন, ‘আবু হানিফা (রহ.)-এর গীবত করছ? অথচ আল্লাহর কাছে তার মর্যাদা অনেক বেশি।’ এক লোক হাসান বসরি (রহ.)-এর কাছে এসে বলল, ‘একজন আপনার গীবত করেছে।’ তিনি সেই গীবতকারীর জন্য থালাভর্তি মিষ্টি-খেজুর নিয়ে বললেন, ‘শুনলাম, আপনি আপনার ভাল আমলগুলো আমাকে উপহার হিসেবে দিয়েছেন। এই নেন, আমি আপনার ঋণ পরিশোধ করতে এসেছি। ঋণ পরিশোধে ঘাটতি হলে দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দেবেন।’ (তাম্বিহুল গাফেলিন)।
বাঁচার উপায়: এর জন্য সর্বপ্রথম মহান আল্লাহর দরবারে ক্ষমা চাইতে হবে এবং খালেস দিল থেকে তাওবাহ ইস্তেগফার করতে হবে। এরপর যার গীবত বা পরনিন্দা করা হয়েছে, তার কাছে গিয়ে ক্ষমা চাওয়া জরুরি। এতে যদি ফিতনার সম্ভাবনা থাকে, তাহলে তার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা চাই। রাসুল (সা.) বলেন, ‘গীবতের কাফফারা হল- তুমি যার গীবত করেছ, তার জন্য মাগফিরাতের দোয়া করবে। তুমি দোয়া এভাবে করবে যে, হে আল্লাহ! তুমি আমার এবং তার গুনাহসমূহ মাফ করে দাও।’ (মিশকাতুল মাসাবিহ: ৪৮৭৬)।








